17/05/2022
#ছাগলের_কৃমি_এবং_চর্মরোগ
ছাগলের সেক্টরটি বর্তমানে বাংলাদেশে খুবই সম্ভাবনাময় একটি সেক্টর কিন্তু আমাদের দেশের সবচাইতে বড় সমস্যা হল এই প্রাণীর সঠিক নিয়মে কৃমি মুক্ত করতে না পারা । কৃমির কারনেই বেশির ভাগ রোগ হয় এদের । সঠিক নিয়মে কৃমি মুক্ত রাখলে আল্লাহর রহমতে কোন সমস্যা থাকে না। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি বাণিজ্যিক ভাবে বড় বড় ছাগলের খামার প্রতিষ্ঠিত হয় নাই যেমন বড় বড় পোল্টি, গরুর খামার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ইতিপুর্বে । আর ডাক্তার গন সরাসরি ছাগলের বিভিন্ন চিকিৎসা করার ক্ষেত্রে আগ্রহী হন না চিকিৎসা সেবার মূল্য কম থাকার কারনে তাই প্রাকটিস করার অভিজ্ঞতা কম । তবে আমরা যা কিছু শিখেছি তা প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভাবে কোন না কোন ডাক্তারদের কাছ থেকেই শিখেছি কিন্তু ১-২ জন না অনেক ডাক্তারদের পরামর্শ থেকে শিখেছি আর শিখেছি এখনো । অনেক ডাক্তারদের পরামর্শ কাজে লেগেছে আবার অনেকের কোন কাজ হয় নাই এখান থেকে সফলতা আর ব্যর্থতা দুটিই শিক্ষা নিচ্ছি ।
(১) ১-৪ মাস পর্যন্ত বাচ্চা দের কৃমি মুক্ত করার পদ্ধতি (২) গাভীন সহ বড় ছাগলের কৃমি মুক্ত করার পদ্ধতি ।
#বাচ্চা_ছাগল :-
বাচ্চা ১ মাস হলে নিওট্যাক্স , বা এক্সট্রাস মানুষের সিরাপ জেনেরিক নেইম লিভামিসোল প্রতি কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ১ এমএল হিসেবে যতটুকু হয় খাওয়াতে হবে ।
২ মাস পূর্ন হলে এলটিভেট জেনেরিক নেইম লিভামিসোল + ট্রাইক্লাবেন্ডাজল ৪০ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ১ টি ট্যাবলেট হিসেবে যতটুকু হয় ।
৩ মাস হলে এমেকটিন প্লাস জেনেরিক নেইম আইভারমেকটিন + ক্লোরসুলন ২৫ কেজি হিসেবে ১ এমএল চামড়ার নীচে ইন্জেকশন নিতে হবে ।
৪ মাস হলে প্যারাক্লিয়র ফেনবেন্ডাজল গ্রুপের ট্যাবলেট ১০-২০ কেজির জন্য ১ টি । তার ৭-৮ মাস পূর্ণ হলে বড় ছাগলের রুটিনে কৃমি মুক্ত করতে হবে । বাচ্চা ছাগলের ক্ষেত্রে যেহেতু ১-২ মাসের অধিক সময় পর্যন্ত মায়ের দুধ পান করে তাই কৃমির ঔষুধ খাওয়ানোর পর লিভারটনিক না খাওয়াতে পারলে তেমন কোন সমস্যা হবে না আর ৩-৪ মাসে কৃমির ঔষুধের দেওয়ার পর লিভারটনিক খাওয়াতে হবে ।
াগলের_ক্ষেত্রে :- কৃমি , বাহ্যিক পরজীবী আক্রান্ত পশুর উদাহরণ এমন যদি আপনি কোন কলসিতে পানি রাখেন এবং কলসির তলাতে চিদ্র থাকে তখন কিন্তু আপনি যতই পানি দিয়ে কলসি পুর্ণ করে রাখেন তা পানি বের হয়ে হয়ে খালি হয়ে যাবেই । তেমনি ভিতরে এবং বাহিরের পরজীবী মুক্ত না করতে পারলে আপনার পশুগুলো যদিও বেছে থাকে তার পরেও এই পশু থেকে লাভ করতে পারবেন না কোন সময় ।
কৃমির কারনে পশু দিন দিন শুকিয়ে যায় খাওয়া দাওয়ার রুচি কমে ।
শরীরে রক্ত স্বল্পতা দেখা দেয় । ঘন ঘন পাতলাখানা, পেঠফাপা, শরীর দূর্বল হয় । লোম ফেকাসে হয়ে যায় , থেলাজিয়া কৃমির কারনে চোঁখ দিয়ে পানি ঝড়তে দেখা যায় । অতিরিক্ত ফুসফুস কৃমিতে আক্রান্ত হলে নাকের নিচে সর্দি লেগে থাকে সবসময় এবং কেন চিকিৎসা দিয়েও সর্দি কাশি ভাল করা যায় না । প্রজনন ক্ষমতা কমে যাওয়া হিটে না আসা, বিভিন্ন চর্মরোগ দেখা দেওয়া, ইত্যাদি আরো অনেক সমস্যা দেখা দেয় । কিন্তু নিয়মিত কিছু ঔষুধ ব্যবহার করলে এই সকল সমস্যা থাকবে না এবং পশু গুলোর খুবই ভাল থাকবে আর উৎপাদনশীলতা বজায় থাকবে ।
#কি_কি_ঔষুধ_ব্যবহার_করা_হলে_যাবতীয়_পরজীবী_মুক্ত_রাখা_যাবে :-
আমাদের অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে যে কৃমির ঔষুধ তো যে কোন একটি হলেই চলে এখানে এত খোজে লাভ কি ?
এর উওর আসলে এই পশু গুলোর শরীরে ভিতরে এবং বাহিরে ২০-৩০ জাতের বেশি পরজীবী থাকে যেখানে ২-১ টি নিদৃষ্ট ঔষুধে সব গুলোকে দমন করা সম্ভব না । আবার একই কাজের ভিন্ন ভিন্ন গ্রুপের ঔষুধ ব্যবহার করা হয় এই কারনে যেখানে কিছু ঔষুধ নিয়মিত ব্যবহার করার ফলে পরজীবী গুলো বিরুদ্ধে সঠিক ভাবে কাজ করতে পারে না । তাই সঠিক ফলাফলের জন্য পরজীবী একই কিন্তু চিকিৎসা ভিন্ন হলে সঠিক কার্যকারীতা পাওয়া যায় ।
েনভেন্ডাজল :- প্যারাক্লিয়ার টেকনো , ফেনাজল একমি আরো বিভিন্ন নামে বিভিন্ন কোম্পানি এটি বাজার জাত করে যে কোন কোম্পানিরই কিনেন ৩ মাস বয়স থেকে যে কোন বয়সের ছাগল, গাড়লের গোল কৃমি , ফিতা কৃমি, ফুসফুস কৃমি ইত্যাদির জন্য ১০-২০ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ১ টি ২১-৫০ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ২ টি ৫১-১০০+ কেজি দৈহিক ওজনের ছাগ, গাড়লের জন্য ৩ টি ট্যাবলেট খাওয়াতে হবে ।
িভামিসোল_ও_ট্রাইক্লাবেন্ডাজল :- এলটিভেট একমি, এন্টিওয়ার্ম ভেট এসিআই, এখানে মূলত দুটি গ্রুপের ঔষুধ একসাথে পাওয়া যায় তাই আমি এটি পচন্দ করি কারন একটি ঔষুধ খাওয়ালে দুটি গ্রুপ থাকার কারনে বিভিন্ন প্রকার কৃমির গোল কৃমি , ফিতা কৃমি,কলিজা কৃমি, ফুসফুস কৃমি, পাকস্থলীর কৃমি ইত্যাদির বিরুদ্ধে কাজ করে । যে কোন কোম্পানিরই কিনেন ৪০ কেজি দৈহিক ওজনের হিসেবে ১ টি ট্যাবলেট খাওয়াতে হবে । আর ৪০ কেজির বেশি হলে ৪১-১০০+ হলে ১.৫ টি ট্যাবলেট।
াইট্রক্সিল_ইন্জেকশন :
নাইট্রকস -এ একমি , নাইট্রোক্সিল এসিআই , এটি কলিজা কৃমি ও গোল কৃমি ইত্যাদি ধ্বংস করার জন্য ব্যবহার করা হয় তবে এটি আমি বছরে ১ বার বর্ষা মৌসুম মে থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে একবার ব্যবহার করি । কারন ঐ সময়ে কলিজা কৃমির আক্রমন বেশি দেখা দেয় যার কারনে “বটল জ্ব” রোগটি হতে পারে । আর এই ইন্জেকশনটি ব্যবহারের সময় কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে হয় যেমন এর মূল উপাদান নাইট্রকজিল কিছু কোম্পানি ২৫% বাজার জাত করে আবার কিছু ৩৪% করে । এখানে যদি আপনি ৩৪% ব্যবহার কারীর মাত্রার পরামর্শে ২৫% টি ব্যবহার করেন তাহলে কিন্তু কাজ হবে না । তেমনি ২৫% ব্যবহার কারীর পরামর্শে যদি ৩৪% করেন তাহলে বেশি হবে । তাই আগে ইন্জেকশনটি কিনে নির্দেশিকা ভাল করে পড়ে কেজি প্রতি যে মাত্রা লেখা থাকে ঐ মাত্রা থেকে একটু বেশি ব্যবহার করবেন যদি লেখা থাকে ৫০ কেজির জন্য ২ সিসি তাহলে আপনি ২.৫ অথবা ৩ সিসি হিসেবে চামড়ার নীচে ইন্জেকশন ব্যবহার করলে ভাল ফলাফল পাওয়া যাবে । বেশি দূর্বল ছাগল , গাড়ল কে এই ইন্জেকশনটি ব্যবহার করার ৪ দিন আগে এবং ৪ দিন পর পর্যন্ত প্রতি ৪৮ ঘন্টা পর পর ১০ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ৩ সিসি করে মাংসে এমাইনো ভেট ইন্জেকশন দিতে হবে ।
ার_মেকটিন_ও_ক্লোরসুলন :
এমেকটিন প্লাস একমি কোম্পানিরটিই ব্যবহার করা ভালো কারন অন্যান্য কোম্পানির গুলো শুধু ১ টি উপাদান আইভারমেকটিন থাকে একমিরটি দুটি উপাদান থাকে এবং খুবই ভাল কাজ করে । এটি ২৫ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ১ সিসি হিসেবে চামড়ার নীচে ব্যবহার করি । এটি ব্যবহার করলে ফুসফুস কৃমি, কলিজা কৃমি, চোখের কৃমি , মাইট, আঁঠালী, নাকের মাছি ইত্যাদির বিরুদ্ধে খুব ভাল কাজ করে এবং পশুটি চর্মরোগ মুক্ত থাকবে ।
এই ইন্জেকশনটি খুবই সাবধানে পুশ করতে হয় এবং অভিজ্ঞ হলে নিজে অথবা অভিজ্ঞ কোন লোক দিয়ে করাতে হবে । ব্যবহারের পরে প্রথম ১-২ মিনিট চিল্লাচিল্লি বা মাঠিতে শুয়ে পড়া অথবা অস্বাভিক কোন আচরণ করলে ভয় পাবার কোন কারন নাই ছাগলের মাথা এবং শরীরে একটু পানি দিয়ে মেসেজ করে দিবেন দেখবেন ১-২ মিনিটে ১০০% স্বাভাবিক হয়ে যাবে ।
োন_ঔষুধ
সারা বছরে মোট ৬ বার কৃমি মুক্ত করার ঔষধ যেমন প্রথম ফেনভেন্ডাজল এবং একমাস পর বুষ্টার ডোজ
আইভারমেকটিন + ক্লোরসুলন ইন্জেকশন এমেকটিন প্লাস একমি কোম্পানিরটি ।
আবার ৩ মাস পর লিভামিসোল + ট্রাইক্লাবেন্ডাজল যুক্ত ট্যাবলেট এর ১মাস পর বুষ্টার ডোজ মে মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মাঝে রুটিনে নাট্রক্সিল ইন্জেকশন ।
আবার ৩মাস পর ফেনভেন্ডাজল এবং একমাস পর বুষ্টার ডোজ
আইভারমেকটিন + ক্লোরসুলন ইন্জেকশন এমেকটিন প্লাস একমি কোম্পানিরটি ।
মোট বার মাসে ৬ বার এই নিয়মে এই নিয়েমে বাস্তবে ব্যবহার করলে খুবই ভাল রেজাল্ট পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ।
নির্দিষ্ট মাত্রাতে ৬ বার ব্যবহার করলে লিভারে বা অন্য কোন রকম সমস্যা হয় না । বছরের যে কোন সময়ই এই নিয়মে শুরু করা যাবে ।
#নোট-১
উপরে মাত্রা উল্লেখ্য করা ইন্জেকশন গুলো সন্ধার পরে আমি ব্যবহার করা ভালো । আর মুখে যে ঔষুধ গুলো খাওয়াবেন সবগুলোই সকালে খালি পেঠে খাওয়াতে হবে আর খাওয়ানোর পর ২-৩ ঘন্টা যে কোন খাবার দেওয়া বন্ধ রাখতে হবে । আর ১-২ দিন পর থেকে লিভারটনিক দিতে হবে ৫-৭ দিন ।
#নোপ_২
যে যে ঔষধ আন্ত: এবং বহি:পরজীবী মুক্ত করার জন্য উপরে উল্লেখ্য করা হয়েছে এখানে সকল কৃমির ঔষুধই যেমন ফেনবেনডাজল, নাইট্রকজিল, লিভামিসোল, ট্রাইক্লাবেন্ডাজল, আইভারমেকটিন , ক্লোরসুলন , এই ঔষুধ গুলো যে কেন সময় গাভীন অবস্তায় ১০০% নিরাপদ । তা ছাড়া যে সকল কোম্পানি এটি প্রস্তুত করে তারা স্পস্ট নির্দেশিকাতে লিখে রেখেছে গাভীন পশুতে নিরাপদ, নির্দিষ্ট মাত্রাতে । যদি কোন ডাক্তার বা খামারী এই ঔষুধ গুলো গাভীন অবস্থায় নিরাপদ না বলে এটি তাদের মনগড়া কথা ।
উপরে যে যে ঔষুধ গুলোর কথা বলা হয়েছে বিভিন্ন ডাক্তারের পরামর্শ নিয়েই বলা হয়েছে।
তবে পশুটি গাভীন হলে প্রতিদিনই এর কোন না কোন শারিরীক পরিবর্তন হতে থাকে এমন অবস্হায় সাধারণত ব্রীড করানোর প্রথম ১ মাস এবং শেষের ১ মাস বিশেষ কোন প্রয়োজন ছাড়া কৃমি অথবা যে কোন ঔষুধ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকবেন যদি ভুল করেও প্রথম ১ মাস এবং শেষের ১ এর ভিতরে ব্যবহার করে ফেলেন তবে কোন সমস্যা হবে না ।
#নোট_৩
বাচ্চা প্রসবের পরে বিশেষ কোন কারন ছাড়া ১ মাসের আগে কৃমির ঔষুধ ব্যবহার করা উচিত নয় ।
যারা নিয়মিত কৃমি মুক্ত তাদের পশু গুলো বাচ্চা প্রসবের পরে কৃমি মুক্ত করতে হবে না যখন নিদৃষ্ট সময় হবে তখন কৃমি মুক্ত করলেই হবে এবং তাদের পিপির সহ যে কোন টীকা দেওয়ার আগেও কৃমি মুক্ত করার বাধ্যবাধকতা নাই ।
যারা নিয়মিত কৃমি মুক্ত না করেন তাদেরকে বলা হয় যাতে টীকা দেওয়ার পূর্বে কৃমি মুক্ত করতে কারন কৃমির কারনে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং আরো অনেক সমস্যা থাকে পশুটির শরিরে এমন অভস্থায় যে কোন টীকা দিলে তার কার্যক্ষমতা কমতে পারে তাই যে কোন টীকা দেবার পূর্বে ১০-১৫ দিন আগে কৃমি মুক্ত করলে টীকার কার্যকারীতা বৃদ্ধি পায় ।
আর কোন রকম ব্রডস্পেকট্রাম এন্টিবায়োটিক ব্যবহারের পূর্বের ৮-১০ দিন এবং পরের ৮-১০ দিন যে কোন কৃমির ঔষুধ ব্যবহার না করা ভাল ।