19/09/2026
মেঘে বোনা বর্ণমালা
লেখক: শারমিন আক্তার মুন্নি
পর্ব ৯: আলো-ছায়ার আসর
অবশেষে সেই কাঙ্ক্ষিত শুক্রবার চলে এলো। চৌধুরী ভিলা আলো ঝলমলে আলোয় সেজে উঠেছে। শহরের বড় বড় ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত হয়েছেন। বর্ণমালাকে একটি লাল বেনারসি শাড়ি পরিয়ে ড্রয়িংরুমে নিয়ে আসা হয়েছে। তার মুখ ফ্যাকাশে, চোখে কোনো প্রাণ নেই, যেন একটি জীবন্ত লাশ। আবির স্যুট-বুট পরে বিজয়ের হাসি হেসে বর্ণমালার পাশে এসে দাঁড়াল। আশরাফ চৌধুরী ঘোষণা করলেন, "এবার আংটি বদলের পর্ব শুরু হবে।" ঠিক তখনই ড্রয়িংরুমের বিশাল প্রজেক্টর স্ক্রিনটি হঠাৎ চালু হয়ে গেল। অনুষ্ঠানস্থলের সব আলো নিভে গেল। সবাই অবাক হয়ে স্ক্রিনের দিকে তাকাল। স্ক্রিনে কোনো রোমান্টিক ভিডিও নয়, বরং ভেসে উঠল আবির এবং আশরাফ চৌধুরীর সেই গোপন মিটিংয়ের ভিডিও এবং অডিও রেকর্ড! পুরো হলরুমে আবিরের সেই অহঙ্কারী কণ্ঠস্বর প্রতিধ্বনিত হলো—"বর্ণাকে আমার হাতে তুলে দিলেই আপনার ওই জাল দলিলের ফাইল আমি পুড়িয়ে দেব..." উপস্থিত অতিথিদের মাঝে গুঞ্জন শুরু হয়ে গেল। আশরাফ চৌধুরী আর লতিফ সাহেবের মুখ মুহূর্তের মধ্যে কালো হয়ে গেল। আবির চিৎকার করে বলল, "এইসব মিথ্যা! প্রজেক্টর বন্ধ করো!" ঠিক তখনই হলরুমের মেইন দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকল সুস্ময়, তার সাথে সাংবাদিক আরিফ এবং পুলিশের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। সুস্ময় সোজা গিয়ে বর্ণমালার পাশে দাঁড়াল এবং তার হাতটা নিজের হাতে নিল। আরিফ মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে বলল, "সুধী মণ্ডলী, আজ এখানে কোনো বিয়ের উৎসব হচ্ছে না, বরং একটা নোংরা ব্ল্যাকমেইলিংয়ের চুক্তি হচ্ছিল। লতিফ সাহেব এবং তার ছেলে আবির অবৈধভাবে চৌধুরী সাহেবকে ব্ল্যাকমেইল করে এই বিয়ে ঠিক করেছিলেন, যার সমস্ত প্রমাণ পুলিশের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।"
পুলিশ কর্মকর্তা লতিফ সাহেব ও আবিরকে জালিয়াতি ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দিলেন। নিমেষেই উৎসবের বাড়ি বিষাদে রূপ নিল, আবিরের পরিবার মাথা নিচু করে পুলিশ ভ্যানে গিয়ে উঠল।
চলবে.........