09/03/2025
অনেক রোগীরা রোযা রাখেন, তখন রোযারত অবস্থায় কি কি চিকিৎসা ও টেস্ট করা যাবে তা নিয়ে বিভ্রান্তিতে থাকেন। এ সব বিভ্রান্তি দূর করার জন্য ১৯৯৭ সালের জুন মাসে মরক্কোতে অনুষ্ঠিত নবম ফিকাহ-চিকিৎসা সম্মেলন থেকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এই সম্মেলনে জেদ্দা ইসলামিক ফিকাহ একাডেমি, আল আজহার ইউনিভার্সিটি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আলেকজান্দ্রিয়া, মিসর এবং ইসলামিক শিক্ষা বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (আইএসইএসসিও) প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞ প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। এই সম্মেলনে মূল আলোচনার বিষয় ছিল— রোযা অবস্থায় যেসব পরীক্ষা- নিরীক্ষা এবং ওষুধ প্রয়োগে রোযা নষ্ট হবে না সে বিষয়ে একটা সঠিক দিক-নির্দেশনা দেওয়া। তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, অসুস্থ অবস্থায় যেসব ওষুধ গ্রহণে এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলে রোযার কোনো ক্ষতি হবে না বলে মত দেওয়া হয়েছে তা তুলে ধরা হলো—
* রোযা অবস্থায় চোখ, নাক ও কানের ড্রপ, স্প্রে, ইনহেলার ব্যবহার করা যাবে। হার্টের এনজাইনার সমস্যার জন্য হঠাৎ বুক ব্যথা উঠলে ব্যবহৃত নাইট্রোগ্লিসারিন ট্যাবলেট বা স্প্রে জিহ্বার নিচে ব্যবহার করলে রোযা নষ্ট হবে না।
* শিরাপথে খাদ্য উপাদান ছাড়া কোনো ওষুধ ত্বক, মাংসপেশি, হাড়ের জোড়ায় ইনজেকশন হিসেবে প্রয়োগ করলে রোযার কোনো ক্ষতি হবে না। তবে রোযা রাখা অবস্থায় স্যালাইন বা গ্লুকোজ জাতীয় কোনো তরল শিরাপথে গ্রহণ করা যাবে না।
* চিকিৎসার প্রয়োজনে রোযা রেখে অক্সিজেন কিংবা চেতনানাশক গ্যাস গ্রহণে রোযা নষ্ট হবে না। এছাড়া চিকিৎসার প্রয়োজনে ক্রিম, অয়েন্টমেন্ট, ব্যান্ডেজ, প্লাস্টার ইত্যাদি ব্যবহার করলে রোযার কোনো সমস্যা হবে না।
* রোযা রেখে জরুরি ভিত্তিতে দাঁত তোলা যাবে এবং দাঁতের ফিলিং করা যাবে এবং ড্রিল ব্যবহার করা যাবে।
* রোযা রেখে রক্ত পরীক্ষার জন্য রক্ত দিলে এবং কাউকে রক্ত দানেও কোনো বাঁধা নেই।
* রোযা রেখে চিকিৎসার জন্য যোনিপথে ট্যাবলেট কিংবা পায়ুপথে সাপোজিটরি ব্যবহারে রোযার কোনো ক্ষতি হয় না। এমনকি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য যোনিপথ কিংবা পায়ুপথে চিকিৎসক বা ধাত্রী আঙ্গুল প্রবেশ করালেও রোযা নষ্ট হবে না। এছাড়া রোযা রেখে জরায়ু পরীক্ষার জন্য হিস্টোরোস্কোপি এবং আইইউসিডি ব্যবহার করা যাবে।
* হার্ট কিংবা অন্য কোনো অঙ্গের এনজিওগ্রাফি করার জন্য কোনো রোগ নির্ণায়ক দ্রবণ শরীরে প্রবেশ করানো হলে তাতেও রোযার কোনো ক্ষতি হবে না। একইভাবে কোনো অঙ্গের অভ্যন্তরীণ চিত্রধারণের জন্য সেই অঙ্গের প্রবেশ পথে কোনো ক্যাথেটার বা নালির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তরল রঞ্জক প্রবেশ করালে রোযা নষ্ট হবে না।
* রোগ নির্ণয়ে Endoscopy করলেও রোযা নষ্ট হয় না। তবে এন্ডোস্কোপি বা গ্যাস্ট্রোস্কোপি করার সময় ভিতরে তরল কিংবা অন্য কোনো কিছু প্রবেশ করানো যাবে না, যার খাদ্যগুণ রয়েছে।
* রোযা রাখা অবস্থায় লিভারসহ অন্য যে কোনো অঙ্গের বায়োপসি করা যাবে। রোযা রাখা অবস্থায় পেরিটোনিয়াল কিংবা মেশিনে কিডনি ডায়ালাইসিস করা যাবে।
(তথ্য সূত্র: ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল।)
নামঃ মাহাবুব
ঠিকানাঃ ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ।