15/03/2017
দীর্ঘশ্বাষ:::::: নোংরামীর জন্য আমরা আর কত নিচে নামব::::::
ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া যমুনা টিভির একটা ক্লিপ দেখলাম। আমি ভিডিওটা দেখে স্রেফ আঁতকে উঠলাম। স্রেফ আঁতকে।
ধর্ম যার যার, উৎসব সবার - কথাটার মানেও শিখলাম নতুন করে। আচ্ছা এই কথাটার প্রবক্তা কে? কার অসাধারণ মস্তিষ্ক থেকে এক কথাটা এসেছে??
আমরা যারা মুসলিম। তাদের প্রধান দুটি উৎসব হলো ঈদুল ফিতর আর ঈদুল আজহা। আমাদের এই উৎসবের বিশেষত্ব কি? স্পেশালি ঈদুল ফিতরের? নামাজ পড়া একত্রিত হয়ে। নতুন জামাকাপড় পড়ে ঘুরে বেড়ানো, গরীব দুখিদের মধ্যে আনন্দ ভাগ করা - এইতো?? কখনো কোনো অন্য ধর্মের কাউকে আমি নামাজে দেখলাম না। তাহলে এই উৎসব তারা কীভাবে পালন করে? আমার খুব কাছের বন্ধুদের মধ্যে কিছু অন্য ধর্মের মানুষ আছেন, তাদের নতুন জামাকাপড় কেনা তো দূরের কথা - দাওয়াত দিয়ে বাসায়ও আনতে পারিনি। তাহলে এই উৎসবে তারা কীভাবে শামিল হয় - আমার অল্পবয়সী মস্তিষ্ক আজও ধরতে পারেনি।
ঈদুল আজহায় আমরা পশু কুরবানি করি। সৃষ্টিকর্তার খুশির উদ্দেশ্যে, নিজের মনের পশুকে বিসর্জনের উদ্দেশ্যে আমরা পশু কুরবানি দেই। গোশত তিন ভাগে ভাগ করে বিলিয়ে দেই। কই এই উৎসবেও কখনো কোনো অমুসলিমকে আমি অংশগ্রহণ করতে দেখিনি।
ধর্ম যার যার - উৎসব সবার! এই কথাটা আসলে কোন ভিত্তিতে দাড় করানো হয়েছে??
আমি ঢাকায় বড় হয়েছি। হোলি উৎসব সম্পর্কে তেমন ধারণাও আমার ছিলো না। এমনকি ঢাকায় আসার পরের পর্যন্ত আমার হোলি কেবল বলিউড ফিতার সেলুলয়েডে বন্দী একটা রং খেলা মনে হয়েছে। আমাদের দেশের সনাতন ধর্মালম্বীরা হয়তো এটা অনেক আগে থাকতেই পালন করে আসছেন, আমি যেহেতু আমার এলাকায় আমার হিন্দু বন্ধুদের করতে দেখিনি - তাই এগুলো আমার জ্ঞানের বাইরে ছিলো এতদিন। গত দুই তিন বছর ধরে ফেসবুক খুললেই দেখছি হিন্দুদের পাশাপাশি আমাদের মুসলিমদের অনেকেই এই উৎসবে সমান ভাবে অংশগ্রহণ করছেন।জি গত বছর আমিও উৎসাহীত হয়ে যাওয়ার প্লান করছিলাম কিন্তু অতদুর যাওয়ার সাহস পাইনি।
এই ব্যাপারে যতটুকু জানি তা হলো, হিন্দু কোনো রাজার অত্যাচারের স্বীকার হওয়া তার বোনের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিয়েছিলেন কোনো এক দেবতা। সেই প্রতিশোধের মূহুর্তকে স্মরণ করতে সনাতন ধর্মালম্বীরা ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে আবীর মেখে একে অপরের গায়ে, দেবতাকে ধন্যবাদ জানান।
আমরা যেহেতু খুবই অকামের সুযোগসন্ধানী জাতি, তাই রং চং মাখার এই উৎসবে সবাই একসাথে ঢলে পড়ি। আসলে কি আমরা মুসলিমরা দেবতাকে ধন্যবাদ দিতে যাই? নাকি আমাদের উদ্দেশ্য থাকে ভিন্ন??
এই অবাধ রং চং মাখার উৎসবে সবচেয়ে বড় ফায়দা নিচ্ছে একদল মস্তিষ্ক বিকৃত যৌন আসক্তিতে আক্রান্ত যুবক। যাদের কাজ হলো, ভীড়ের মধ্যে মেয়েদের গায়ে হাত দেয়া! এরা মার্কেটে ভিড়ের মধ্যে মেয়েদের পিছনে হাত দেয়, বাসে ঝাকি খেয়ে মেয়েদের কোলে ঘেষে পড়ে। এরা পহেলা বৈশাখে মেয়েদের ঘিরে রেখে ভীড়ের মধ্যে সেক্সুয়াল হ্যারাজমেন্ট করে! হোলি উৎসব এসেছে তাদের কাছে সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হিসেবে!
কাল যমুনা টিভির ওই ক্লিপে দেখলাম, রাস্তায় হেটে যাওয়া পথচারী, স্কুল কলেজের পিচ্চি পিচ্চি মেয়েদের টেনে হিচড়ে রিক্সা থেকে নামিয়ে গায়ে রং মেখে দিচ্ছে! একটা মেয়ে যমুনা টিভির রিপোর্টারের সাথে কথা বলার সময়ে, সেই রিপোর্টারের সামনেই মেয়ের মুখে বিশ্রীভাবে হাত দিয়ে রং মাখিয়ে দিচ্ছে এক যুবক। মেয়েটা হতাশায়, ঘৃনায় স্রেফ তাকিয়ে রইলো! এটা কোন ধরণের উৎসব?
"ধর্ম যার যার - উৎসব সবার", এই স্লোগানের আসল মানে কি?? বর্বরতা, নোংরামি, যৌনতা?? ধর্ম যার যার, উৎসব সবার - এই কথাটাকে এভাবেও তো প্রকাশ করা যায়, 'সকল ধর্মের মানুষেরা নিরাপদে যার যার মতো করে উৎসব পালন করবে।' কারো ধর্ম পালনে কোনো বাধা থাকবে না। সবার সকল নিরাপত্তা থাকবে।
এভাবে জাপ্টে ধরে, অনুমতি ছাড়া টেনে হিচড়ে গায়ে রং মাখানো দিয়ে নোংরামি হতে পারে, বিকৃত যৌনতার খায়েশ মিটতে পারে, বদমাইশি হতে পারে - উৎসব পালন হইতে পারেনা। এটাকে অংশগ্রহণ বলে না।
"ধর্ম যার যার - উৎসব সবার" - এই জিকিরের নামে মেয়েদের বুকে পিঠে হাত না দিয়ে সনাতন ধর্মালম্বীরা হোলি খেলা কীভাবে বাঁধাহীনভাবে পালন করতে পারে - সেদিকে খেয়াল দিন।
Collected