09/05/2026
গত বৃহস্পতিবার বিরুনীয়া বাজারের হাটের দিনের একটি ঘটনা শুনলে যে কারো বুক ফেটে যাবে। একজন সাধারণ শুঁটকি বিক্রেতা, যিনি সারাদিন রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে দু-পয়সা আয় করেন, তাকে আজ রাজনীতির দাপটের বলি হতে হলো।
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ বর্তমানে বাজারে কোন ইজারা নেই স্থানীয় বিএনপি নেতারা এই বাজার থেকে খাজনা কালেক্ট করে থাকে এবং খাজনার একটি অংশ তারা ইউএনও অফিসে দিয়ে থাকে তাদের ইচ্ছে মতো। তবে মাঠ পর্যায়ে এর দখল নিয়ে চলে প্রভাবশালীদের টানাটানি।
গত বৃহস্পতিবার হাটের দিন বিএনপি নেতা শাহাদাত মন্ডল ওই অসহায় দোকানদারের কাছে গিয়ে ২০০ টাকা খাজনা দাবি করেন। বেচাকেনা কম হওয়ায় দোকানদার তাকে হাতজোড় করে ৫০ টাকা দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু নেতা সাহেব ২০০ টাকার জন্য তাঁর ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন।
উপায় না দেখে দোকানদার সবুজ নামের আরেক নেতার কাছে সাহায্য চান, যাঁর সহায়তায় তিনি ওই জায়গায় বসার সুযোগ পেয়েছিলেন। সবুজ এসে বাধা দিয়ে বলেন, ৫০ টাকার বেশি এক টাকাও দেওয়া যাবে না। এই নিয়ে দুই নেতার মধ্যে চলে প্রচণ্ড কথা কাটাকাটি।
তর্কের এক পর্যায়ে শাহাদাত মন্ডল দোকানদারকে কড়া সুরে জিজ্ঞেস করেন, তোমাকে এখানে দোকান বসাতে সাহায্য করেছে কে? দুই নেতার মাঝখানে পড়ে অসহায় মানুষটি ভয়ে উত্তর দিয়েছিলেন, "আপনারাই তো আমাকে এখানে বসিয়েছেন।
ব্যাস, এইটুকু বলাতেই সবুজ নামের ওই নেতা প্রচণ্ড খেপে যান। সবার সামনে নিজের পা থেকে জুতা খুলে ওই নিরীহ ব্যবসায়ীর মুখে ৪-৫টি বাড়ি মারেন!
এখন প্রশ্ন হলো: যে নেতাদের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথা, তাঁরা কীভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে একজন মানুষকে এভাবে জুতাপেটা করতে পারেন? ক্ষমতার দাপট কি সাধারণ মানুষের সম্মানের চেয়েও বড় হয়ে গেল?
আমরা এই অমানবিক ও ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।
Source : Beautiful Bhaluka