21/07/2026
আর্জেন্টিনার গাজোয়ারি ফুটবল তখন তুঙ্গে, হঠাৎ ক্যামেরা তাক করলো, গ্যালারিতে বসা লম্বা চুলের একটি মানুষকে। ফুটবল প্রেমীরা সকলেই তাঁকে চেনেন, ভালোবাসেন। তিনি আর কেউ নন, ২০১০-এর বিশ্বকাপ জয়ী স্প্যানিশ টিমের সদস্য পিওল। কিন্তু কেন তাঁকেই তাক করছিল ক্যামেরা? সেটাই তাৎপর্যপূর্ণ এবং অর্থবহ। কারণ এই ফুটবল সংস্কৃতির বিরুদ্ধেই ছিল তাঁর আজীবনের লড়াই। আর্জেন্টিনা বারবার বল প্রয়োগ করলেও স্পেন কিন্তু যতটা সম্ভব নিজেদের সংযত রেখেই লক্ষ্যে অবিচল থেকেছে। এই সংকৃতি তাদের টিমের গভীরে শেকড় গাড়ার পেছনে যার অবদান সর্বাধিক তিনিই পিওল।
আত্মসম্মান , মানবিক মূল্যবোধ , ভদ্রতা এবং প্রতিপক্ষের প্রতি সৌজন্য ছিল তাঁর শিল্প সুষমায় ভরা ফুটবলের মূল বিবৃতি। দীর্ঘ বছর তিনি দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। নেতৃত্ব দিয়েছেন বার্সিলোনা ক্লাবের। দেশকে বিশ্বকাপ যেমন দিয়েছেন তেমনি ক্লাবের ঘর উপচে পড়েছে ট্রফিতে। ২০১০ সালে তাঁর একমাত্র গোলে জার্মানিকে হারিয়ে প্রথমবারের জন্য বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছিল স্পেন। সেবার দলের অধিনায়ক ছিলেন ক্যাসিলাস। কিন্তু পিওল ছিলেন অলিখিত অধিনায়ক। তাঁর ব্যক্তিত্ব, শিক্ষা এবং নেতৃত্বের দক্ষতা তাঁকে পাকাপাকি ভাবেই ওই আসন দিয়ে রেখেছিল।
খেলতেন ডিফেন্ডার হিসাবে সেন্টার ব্যাকে। তাঁকে বলা হয়,স্পেনের সর্বকালের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার। অথচ জীবনে কোনও দিন প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করতে গিয়ে ফুটবল ব্যাকরণের বাইরে অন্য কোনও পথ অবলম্বন করেননি। সতীর্থদের উদ্বুদ্ধ করেছেন ফুটবলের অপর নজর স্থির রাখতে। প্রতিপক্ষকে সম্মান করতে এবং কোনও অবস্থায় ভদ্রতা এবং সৌজন্যবোধ না হারাতে। দলের প্লেয়াররা তাঁকে এতটাই ভালোবাসতেন যে, পিওলকে প্রতিপক্ষের কেউ ইচ্ছাকৃত আঘাত করলে কিংবা অসম্মান করলে রে রে ছুটে আসতেন সতীর্থরা। পিওল কিন্তু তাদের সামনে বাঁধার প্রাচীর হয়ে দাঁড়াতেন। বলতেন, "এসবে মাথা ঘামিও না। চলো আমাদের কাজ আমরা করি।"
তাঁর নেতৃত্ব দেবার কায়দা ছিল সকলের থেকে আলাদা। তিনি ভালোবাসতেন সতীর্থদের এগিয়ে দিতে আর নিজেকে পেছনে রাখতে। ২০১১ সাল, বার্সিলোনা UEFA কাপের ফাইনালে খেলছে এবং জয় প্রায় নিশ্চিত করে এনেছে, এমন সময় দেখা গেল পিওল তাঁর ক্যাপ্টেনের আর্মব্যান্ডটা খুলে পরিয়ে দিলেন এরিক আবেদিলের হাতে, যাতে বিজয়ীর কাপটা ক্লাবের হয়ে তিনি গ্রহন করতে পারেন। কারণ, আবেদিল দীর্ঘ অসুস্থতা কাটিয়ে এক লিভার সার্জারির পর সদ্য মাঠে ফিরেছেন, তাঁর এই স্পিরিটটা কে সম্মান জানাতে পিওলের এই মানবিক আচরণ মুগ্ধ করে দিয়েছিল ফুটবল প্রেমীদের। সেদিন গোটা স্টেডিয়াম কুর্নিশ করেছিল এই কিংবদন্তিকে। যিনি শিখিয়েছেন ফুটবল মানে, সৌজন্য, মূল্যবোধ আর ভালোবাসা।💝⚽♥️⚽
✍️Dipak Ghosh