23/01/2026
ভাবুন তো টয়লেটের পানি যদি আপনার গ্লাসে এসে পৌঁছায়! শুনতে অস্বস্তিকর লাগলেও সিঙ্গাপুরে এটি আতঙ্ক নয়, বরং জাতীয় গর্ব। টয়লেট ও ড্রেনের নোংরা পানি পরিশোধন করে সিঙ্গাপুর এমন পানি তৈরি করে, যা অনেক ক্ষেত্রে বোতলজাত পানির চেয়েও বেশি বিশুদ্ধ। এই পানির নাম—NEWater।
স্বাধীনতার পর সিঙ্গাপুর বুঝেছিল, পানি ছাড়া রাষ্ট্র টিকে থাকে না। নদী নেই, হ্রদ নেই, ভূগর্ভস্থ পানিও লবণাক্ত—অর্থাৎ প্রকৃতি তাদের পক্ষে ছিল না। তখন তারা সিদ্ধান্ত নেয়, পানি যেখানে আছে, সেখান থেকেই তা উদ্ধার করতে হবে। আর সেই “অবাঞ্ছিত” উৎসই হয়ে ওঠে ব্যবহৃত নোংরা পানি। NEWater মূলত অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে পরিশোধিত পুনর্ব্যবহৃত পানি। প্রথমে নোংরা পানিকে মাইক্রোফিল্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় বড় কণা ও ব্যাকটেরিয়া আলাদা করা হয়। এরপর রিভার্স অসমোসিস প্রযুক্তির মাধ্যমে অতি সূক্ষ্ম দূষক, লবণ ও ভাইরাস সরিয়ে ফেলা হয়। সবশেষে আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি ব্যবহার করে পানিকে সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত করা হয়। ফলাফল—এমন পানি, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর পানযোগ্য পানির সব গাইডলাইন পূরণ করে, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে তা ছাড়িয়ে যায়।
আজ সিঙ্গাপুরের মোট পানির চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ আসে এই NEWater থেকে। শিল্পকারখানা, ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন, ডেটা সেন্টারের কুলিং সিস্টেম—সবখানেই এই পানি ব্যবহৃত হয়। খরার সময় এটি সাধারণ পানির সাথে মিশিয়ে ঘরের কলেও সরবরাহ করা হয়। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল প্রযুক্তি নয়, মানুষের মানসিকতা। “নর্দমার পানি” খাওয়ার ধারণা সহজে মেনে নেওয়া যায় না। কিন্তু সরকার দীর্ঘদিন ধরে সচেতনতা তৈরি করেছে, মানুষকে ল্যাব দেখিয়েছে, পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেছে। ধীরে ধীরে ভয় বদলে গেছে বিশ্বাসে।
NEWater প্রমাণ করেছে বর্জ্য বলে কিছু নেই, আছে কেবল ভুল ব্যবস্থাপনা। সিঙ্গাপুর সেই ব্যবস্থাপনাকেই শক্তিতে রূপান্তর করেছে।