01/02/2025
😳 আমেরিকার মার্কেটে ১ ট্রিলিয়ন USD মানে ১২১,৫৯৭,০০০,০০০০০ টাকা লস হয়েছে! ⚠️
এই নাম্বার আপনি ক্যালকুলেটর তুলতে পারবেন? 😅
জানুয়ারি ২০২৫ এর শেষ সপ্তাহে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা Ai এর দুনিয়ায় একটা ঝড় বয়ে গেছে যা খুব নিকট ভবিষ্যতে সম্পূর্ণ নতুন দুনিয়ার একটা ধারণা দেয়।
গত ২৭ জানুয়ারি, আমেরিকার বড় বড় টেক কোম্পানির গুলোর বাজার শেয়ারমূল্যে বড় ধরনের লস হয়েছে।
কারণ, চাইনিজ কোম্পানি 'ডিপসিক' এর নতুন মডেল r1 অ্যাপস্টােরে আসার সাথে সাথে ব্যাপক ডাউনলোড হবার মাধ্যমে জনপ্রিয়তার শীর্ষে চলে আসে।✅ USA, UK ও China অ্যাপস্টোরে দ্বিতীয় অবস্থানে চলে যায় আমেরিকান কোম্পানি ' ওপেনএআই' এর চ্যাটজিপিটি।
এর ফলে ২০২৫ এ রাজত্ব করা পৃথিবীর সবচেয়ে ভ্যালুঅ্যাভেল কোম্পানি Nvidia এর শেয়ারমূল্য ১৭% কমে যায় যার মূল্য প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলার ⚠️⚠️ ফলস্বরূপ র্যাকিং-এর এক নম্বর থেকে তিন নম্বরে ধপাস!
শুধু এনভিডিয়া নয়, বড় বড় টেক জায়ান্ট মাইক্রোসফট, ফেসবুক, গুগল, আমাজন,অ্যাডোবি, ওপেনএআই, ওরাকল, ব্রডকম বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার লসের সম্মুখীন হয়েছে। শেয়ারের এই বড় পতনের ঢেউ শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নয়, এশিয়া আর ইউরোপেও পৌঁছে গেছে। জাপানের SoftBank এবং ইউরোপের ASML-এর মতো বড় কোম্পানির শেয়ারের দামও অনেক কমেছে। এ ঘটনার ফলে ডেটা সেন্টারের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দামও কমে গেছে। কারণ বিনিয়োগকারীরা ভাবছেন, নতুন এই সস্তা AI মডেলের জন্য বড় ডেটা সেন্টার বা বিদ্যুতের এত চাহিদা থাকবে না। একারণে Vistra এবং Constellation Energy-র শেয়ারের দাম ও অনেক কমে গেছে।
অথচ এই Deepseek Ai একটা ওপেন সোর্স 'সাইড প্রজেক্ট'। ৪০ বছর বয়সী লিয়াং ওয়েনফ্যাং, ৩৫ বছরের কম বয়সী ২০০ জনের টিম নিয়ে তৈরি করেছেন এই সাইড প্রজেক্টটি। এটি একটি LLM (Large Language Model)।
লিয়াং একটা কোয়ান্ট ট্রেডিং হেজ ফান্ডের মালিক। তারা মুলত এই মডেল বানিয়েছিলো ওদের কোয়ান্ট ট্রেডিংয়ের কিছু গাণিতিক কাজ এআই'কে দিয়ে করানোর জন্য, পরবর্তীতে যখন মডেল দাড়িয়ে গেছে এবং অন্যান্য মডেলকে আউট পারফর্ম করেছে তখন ওরা এটা উন্মুক্ত করে দিয়েছে সবার জন্য। এই মডেল বানানোর পিছনের ম্যাথমেটিকাল ব্রেইনগুলো চায়নার অন্যতম সেরা দুই বিশ্ববিদ্যালয়- পিকিং ইউনিভার্সিটি এবং সিংহুয়া ইউনিভার্সিটির। এই মডেল যে 'বানাতে বানাতে হয়ে গেছে' টাইপের কিছু না, এর পিছনে খুব শার্প কিছু মানুষ রয়েছে।
আমেরিকার বড় টেক কোম্পানিগুলা প্রত্যেকে প্রতিবছর ৫০-৮০ বিলিয়ন ডলার এআই'তে বিনিয়োগ করে। ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পরই ৫০০ বিলিয়নের 'Stargate' প্রজেক্ট ঘোষণা করছে OpenAI, Oracle আর Softbank কে নিয়ে। এই প্রজেক্ট সিনেট থেকে পাশ করাইছে মেইনলি মাইক্রোসফট। যেখানে গুগল, মাইক্রোসফট, ওপেনএআই এর একেকটা মডেল ট্রেইন করতে ১০০ মিলিয়ন থেকে ১ বিলিয়ন ডলার লাগে, সেখানে ৬ মিলিয়ন ডলারে মডেল ট্রেইন করে ডিপসিক পুরা ইন্ডাস্ট্রিকেই এখন চ্যালেঞ্জে ফেলে দিয়েছে।
সম্প্রতি DeepSeek নতুন একটা মডেল রিলিজ দিয়েছে যেটার নাম Janus-Pro. এটা ইমেজ জেনারেট করতে পারবে এবং ভিজুয়াল আউটপুটকে আরো বেটার করবে!! যারা টেস্ট করেছে তাদের থেকে জেনেছি এটা ChatGPT এর Dall e ইমেজ জেনারেশন থেকে বেটার!
বলে রাখা ভালো যে ওপেনএআইর রিজনিং মডেল ব্যবহার করতে মাসিক ২০০ ডলারের সাবস্ক্রিপশন ফি লাগে। আর ডিপসিকের এই মডেল এখনই ফ্রি-তে ব্যবহার করা যাচ্ছে।
আরো একটা ইন্টারেস্টিং ফ্যাক্ট হলো আমেরিকা চীনের উপর চিপসেটের নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় ডিপসিকের মডেল ট্রেইন করা হইছে সস্তা এবং পুরোনা এনভিডিয়া A100 কিংবা H800 চিপ দিয়ে তৈরি GPU দিয়ে। চায়না যাতে নিজেরা চিপ বানাতে না পারে সেজন্য পৃথিবীর সবচেয়ে বড় চিপ ম্যানুফ্যকচারার তাইওয়ানের TSMC (Taiwan Semiconductor Manufacturing Company Limited) এবং চিপ ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের সবচেয়ে সফিস্টিকেটেড টেক বানায় যারা, ডাচ কোম্পানি ASML, এদের উপরও নানা বিধিনিষেধ আছে আমেরিকার। এমনকি আমেরিকা অনেক আগেই এই চিপ রপ্তানি ব্যান করে রেখেছে!!
ডিপসিকের r1 মডেলের এই জনপ্রিয়তার দুই দিন পরেই টিকটকের মূল কোম্পানি ByteDance তাদের ফ্ল্যাগশিপ এআই মডেলের আপডেট প্রকাশ করেছে।
এরই মধ্যে গত ২৯ জানুয়ারি চায়না প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আলিবাবা তাদের এআই মডেল Qwen 2.5 উন্মোচন করেছে এবং তারা দাবী করেছে এটি ডিপসিকের সর্বশেষ ভার্সন V3 থেকে ও অসাধারণ পারফর্ম করছে।
চাইনিজ DeepSeek আর Qwen এআই কবলে পড়ে আমেরিকার প্রায় সবগুলো টেক কোম্পানির শেয়ারের দাম পড়লেও, অ্যাপলের শেয়ারের দাম কিন্তু গত শুক্রবার থেকে বাড়ছে! সেই সাথে ফেসবুকের শেয়ার মূল্যও বাড়ছে, তার একটা বড় কারণ হল তাদের এআই মডেল Llama হল চাইনিজ এআইগুলোর মতো ওপেনসোর্স মডেলে।
সবশেষে, নিঃসন্দেহে Deepseek এর এই কাজটা পৃথিবীর ইতিহাস একটা বড় মাইলস্টোন হয়ে থাকবে। কিভাবে 'যা আছে তাই নিয়ে' এমন অসাধারণ জিনিস বানানো সম্ভব যেটা পুরা দুনিয়াকে তাক লাগায়ে দিতে পারে তাও অনেক অনেক কম খরচে; ওরা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।
সরকারি চাকরি, পাবলিক- প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের তর্ক, কলেজগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয় বানানো আর এ+প্লাসের গন্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশ থেকে বিশ্বব্যাপী এরকম তাক লাগানো কাজ যে কবে হবে!! কবে আমরা নিজেদের উন্নতিতে বিনিয়োগ করা শুরু করবো?