Muxic Cover
Un release
Unofficial
Fan made
Vocal
Untracked
Featuring
Concert of superstars
New
Heart to

07/07/2015

শেষ বিকেলে মেঘেরা হঠাৎ করেই
উড়ে এসে জুড়ে বসে। কিছু উদাস মন তখন
নড়েচড়ে বসে। চাপা আতঙ্ক থাকে
তাদের ভেতরে।এই মনে হয়
বৃষ্টি এলো। মনের মালিকদের এই
আতঙ্কের কারণ হলো এই বৃষ্টিতে মনের
ভয়াবহ ক্ষতি হয়ে যাবে।
বৃষ্টির সাথে সাথে মনটা খারাপ হয়ে
যাবে, বিকল হয়ে যাবে মন। এদিকে মন
খারাপের ওপর কোন বীমা হয় না,হলে
মানুষ তাকে মনবীমা বলে ডাকতো।
মনবীমার বীমাযোগ্য স্বার্থ কি হতো
সেটাও ভাবনার বিষয়।
এরচেয়ে বড় কথা মন খারাপের পরিমাণ
মাপার একক এখনো আবিস্কার হয়নি।
এতো বিজ্ঞানী এতো কিছু আবিস্কার
করলো মন খারাপের একক কেউ আবিস্কার
করতে পারলোনা।মন খারাপের
পরিমাণ মাপার যন্ত্র থাকলে
ধানমন্ডি লেকে মানুষ লাইন দিয়ে
মনটেস্ট করতো। ভ্যাটসহ ২ টাকা প্রতিজন।
মন যেমন বীমা এবং পরিমাপের একক
হতে বঞ্চিত তেমনি মনের সার্ভিসিং
ব্যয় অনেক বেশি।কিছু মনের মেরামত
করতে জানে শুধু
একজন কারিগর, দুনিয়ার অন্য
কারো পক্ষে সেই মন মেরামত
সম্ভব নয়। কিছু মন আবার কখনোই মেরামত
করা যায়না। মন যদি গাড়ির মত হতো
তাহলে নিশ্চয়ই এসব মন
ধোলাইখালে বিক্রি হয়ে যেতো।
কিন্তু মন গাড়ি না। নষ্ট মনগুলোর জন্য
কোন ধোলাইখালও নেই।
মন মনই। মনের ওজন নেই, আকার নেই,
পরিমাপের একক নেই, বীমা নেই তবুও মন
একটি বস্তু যা খারাপ থাকলে মানুষ
দিশেহারা হয়ে যায়। যা
অকারণে খারাপ হয়ে যায়। কখনো
আকাশে মেঘ দেখে, কখনো কারো চোখ
দেখে। অদ্ভুত সেই চোখ, যে চোখে
তাকিয়ে হাসতে হাসতে শেষ
নিঃশ্বাস ফেলা যায়।
-Fahim Hossain(ফাল্লু)

07/07/2015

::::::::: আমায়, দুরে ঠেলে দিবে না তো? :::::::::.
মোবাইলের শব্দে, ঘুমটা ভাঙল আবিদের.... বিরক্তি ভরা
চোখে, মোবাইল স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখে.... অনি
ভাইয়ের ফোন.....
::- আবিদ!! তুই কই!!!
:-এইতো! বাসায়, কেন? কি হইছে ভাই?? কোন সমস্যা
হইছে??
::- ভাই তুই একটু সিটি হসপিটালে আসতে পারবি?? তোর
রক্তের গ্রুপ এ পজেটিভ না!! আমার এক কাজিনের মেয়ে
এক্সিডেন্ট করেছে, রক্ত দরকার! কিন্তু এখনও জোগাড়
হয়নি.....
:- ভাই!! আমি এক্ষুনি আসছি, একটু অপেক্ষা করেন......
তরিঘড়ি করে, বাসা থেকে বেরিয়ে, যত দ্রুত সম্ভব,
হসপিটালে পৌছায় সে... তারপর, বেডে গিয়ে রক্ত
দিয়ে আসে সে... রক্ত দেওয়ার পর দেখা হতেই অনি ভাই
বলল,
:::- তুই আমায় আজ বড় বাঁচা বাঁচিয়ে দিলি..... তুই না
থাকলে, আজ কি যে হত!!
:- আরে ভাই!! দুঃসময়ে, মানুষই তো মানুষের কাজে
আসবে.... চলেন, আপনার কাজিনের মেয়েকে দেখে
আসি!!!
হসপিটালের ধবধবে, সাদা বিছানায়, যে মেয়েটি শুয়ে
আছে, ওর নাম তমা, অপূর্ব মায়াবী চেহারা.... নিষ্পাপ
ছোট্ট মুখটার দিকে তাকালেই, মনটা ভাল হয়ে যায়.....
এমন একটা ছোট্ট নিষ্পাপ প্রাণ বাঁচাতে পেরে,
আবিদের নিজেকে ধন্য মনে হচ্ছে!! তমাকে আবিদের
দেওয়া রক্ত ও স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে, কাছে গিয়ে আদর
করে দিতেই, আবিদের মন অজানা কারণে হঠাৎ থমকে
যায়, তমার চোখদুটো!!! এত্ত সুন্দর কেন!! কেন জানিনা
মনে হচ্ছে চোখগুলো তার অনেক দিনের চেনা..... তমার
কপালে, আলতো ঠোঁটের স্পর্শ দিয়ে বেরিয়ে আসার
সময়, এক ভদ্রলোক, আবিদকে জরিয়ে ধরে ধন্যবাদ দিতে
থাকে, ইনি সম্ভবত তমার বাবা, তাকে কোনমতে শান্ত
করে বাইরে বেরিয়ে, আসতে চাইলে উনি বললেন, ::-
ভাই!! একটু কষ্ট করে, আমার স্ত্রীর সাথে দেখা করে
যেতে পারবেন? আপনি তমাকে রক্ত দিয়েছেন জেনে, ও
আমায়, ওকে আপনার সাথে, দেখা করিয়ে দিতে
বলেছে... প্লিজ ভাই?
হ্যা সূচক উওর দিয়ে আবিদ, ওয়েটিং রুমের দিকর হাঁটতে
লাগল..... ওয়েটিং রুমে, ডোকামাত্র, আবিদের পা
নিশ্চল হতে লাগল......
কারণ, ওয়েটিং রুমের, বিষ্ময়ভরা যে চোখদুটো আবিদের
দিকে, তাকিয়ে আছে ওগুলো দেখতে হবহু, তমার মত.....
আরে!! এ তো সেই চোখগুলোই!! যে চোখের দিকে
তাকিয়ে একসময় আবিদ.... নিজেকে হারিয়ে ফেলত!! যে
চোখের লুকানো কথাগুলো পড়ার জন্য একসময়, আবিদের
নির্ঘুম রাত কাটত... এ তো সেই!!
এই বিষ্ময়ভরা দৃষ্টির সুন্দর চোখগুলো রিশার!!
হুম!! রিশা!!! আবিদের জীবনের একটা অংশ!
ভার্সিটিতে একই ইয়ারে পড়ত দুজন!! একদিন এই মায়াবী
চোখগুলোর প্রেমেই পড়েছিল আবিদ....
দুজনই- দুজনকে খুব ভালবাসত, কিন্তু বাস্তবতা তাদের
ভালবাসাকে মেনে নেয়নি, উচ্চবিত্ত রিশার পরিবার
মেনে নেয়নি আবিদকে....... রিশা অবশ্য প্রতিবাদ
করেছিল, কিন্তু তা আর বেশি দীর্ঘস্থায়ী হতে
পারেনি. সেদিন, পরিবারের কঠোর বন্ধন হতে, মুক্ত হয়ে
রিশা পারেনি, আবিদের ভালবাসায় সিক্ত হাতদুটো
ধরতে...... তাকে বাধ্য হয়েই ধরতে হয়েছিল, অন্য দুটি
অচেনা হাত....... ঘোর কাটতেই, রিশার কথায়, ভাবনায়
ছেদ পড়ে আবিদের......
:::;- তুমি এখানে!!!
:-- হুম!! আসলাম! আসলাম, তোমায় সাহায্য করতে!!
:::- আমায়!!! তাহলে তুমিই সে!! তুমিই তমাকে রক্ত
দিয়েছ!!!
:-- হুম! আমিই সেই হতভাগ্য!! আমার কথাগুলো এত
তাড়াতাড়ি ভুলে গেলা? আমি ত সবসময়ই তোমায়
বলতাম, যখনই বিপদে পড়বে বা কষ্টে থাকবে, চোখ বন্ধ
করে মন থেকে একটিবার তুমি আমায় ডেকো, আমি অবশ্যই
তোমার ডাকে সাড়া দিব.......
:::-......... (নিশ্চুপ)
:- আচ্ছা আমি আসি....
:::- আমায় তুমি মাফ করে দিও....
:- মাফ!! পাপ তো আমি করছি, আমিই তো মধ্যবিত্ত
হিসেবে জন্মেছিলাম.... আর তোমায়........ থাক সে কথা,
আমি আসি......
বলেই, হাঁটতে শুরু করল আবিদ... কথাগুলো ওর অবচেতন মন
বলছিল.......
::-- রিশা!! তোমায় আজও ভালবাসি, রিশা! মধ্যবিত্ত
বলে, সমাজ একদিন আমাকে তোমার থেকে দূরে সরিয়ে
দিয়েছিল.... কিন্তু আজ দেখ! আমি তোমার কত কাছে!!
তমার নিষ্পাপ হাতের ভেতর বয়ে চলা আমার রক্ত
বিন্দুগুলো আজ থেকে সবসময় তোমায় ছুঁয়ে দিবে........
তোমায় আদর করবে, তখন তুমি আমার রক্ত বিন্দুগুলোকে
অস্বীকার করবে না তো?? মধ্যবিত্ত হয়ে জন্ম নিয়ে আমি
অপরাধ করেছি, কিন্তু আমার রক্তবিন্দুগুলো ত নির্দোষ!!
ওরা এখনো তোমার কথাই ভাবে, আর এখনও শুধু তোমাকেই
ভালবাসে, তাদের প্লিজ দুরে ঠেলে দিও না....
পিছন ফিরে তাকালে হয়ত, আবিদ, রিশার সেই মায়াবী
চোখের কোণে, শিশিরকণাগুলো দেখতে পেত!! কিন্তু
সে তাকায়নি, পৃথিবীর সব কান্না দেখতে হয় না....
হঠাৎ, আবিদ, ওর হাতের রক্ত নেওয়ার স্থানে লাগানো
ব্যান্ডেজটা টেনে তুলে ফেলল, রক্ত নেওয়ার স্থান হতে
দরদর করে বেরিয়ে আসছে রক্ত.... লাল, লাল রক্ত, যা হাত
বেয়ে টপটপ করে মাটিতে পড়ছে......
এ রক্ত মধ্যবিত্তের রক্ত!! যারা শুধুই মন থেকে অন্যকে
ভালবাসতে জানে, যেখানে থাকে না কোন
কৃত্রিমতা..... এরাই পৃথিবীতে ভালবাসা নামক সম্পদের
নিঃস্বার্থ বিক্রেতা............
Written By:::: Alonely Anik (nill)

07/07/2015

এ কেমন ভালোবাসা?
লেখকঃ সিদ্বি বাবা।
অনুপমা (ছন্দনাম) বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। হঠাৎ তার
মায়ের গুরুতর এক্সিডেন্ট হয়, চিকিৎসার সুবাদে তার মা
কে ইন্ডিয়া নিয়ে যাওয়া হয়, সাথে তার বাবা কেও
যেতে হয়। পড়াশোনার তাগিদে তাকে রেখে যাওয়া
হয় একটা ছাত্রীবাসে। অনুপমার দেখাশোনার দায়িত্ব
দিয়ে দিয়ে যাওয়া হয় তার মায়ের এক বোনের ছেলে
ইনজামামুল হক শিপলু র কাছে।
শিপলু কে দিয়ে যাওয়া হয় অনুপমার দেখাশোনার
দায়িত্ব। শিপলু অনুপমার সম্পর্কে খালোতো ভাই। অনুপমা
কে স্কুল, কোচিং এ নেয়া আনা এবং সকল দেখাশোনার
দায়িত্ব পালন করতো সে। অনুপমা কে সুকুলে দিয়ে
বাহিরে তার জন্য ওয়েট করতে হতো স্কুলে কোচিং
শেষে ছাত্রী বাসে দিয়ে বাসায় ব্যাক করতো শিপলু।
শিপলু H.S.C রেজাল্ট খারাপ একটু খারাপ করায়, বাসা
থেকে রাগ করে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকায় চলে আসে,
নেক্সট ইয়ার মান উন্নয়ন এক্সাম দেয়ার জন্য অপেক্ষা
করছিল শিপলু। তখত তার উপর এসে যায় এই দায়িত্ব
বিনিয়ে ময়ে তার যাবতিয় খরচ বহন করতো অনুপমার
পরিবার।
অতঃপর তাদের মাঝে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে গড়ে উঠে।
অনুপমার মায়ের সুস্থ হতে লেগে যায় প্রায় দের বছর, তার
বাবা মাঝে মধ্যে এসে মেয়ের খোজ নিয়ে যেত।
তাদের মাঝে চলতে থাকে প্রেম। অল্প দিনের প্রেমে
বিয়ে করে তারা। বিয়ের বছর খানেকে বেবি হয়
তাদের। নাম রাখা হয় সারা।
অনুপমার বাবা মা ফিরে আসে দেশে, এতোদিন তাদের
সব কিছু গোপন ছিল। ফেমিলি আসায় অনুপমা বাসায়
তাদের সম্পর্ক জানায়। প্রথম বাসায় মানতে না চাইলেও
মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে, তাদের নাতনীর দিকে
তাকিয়ে মেনে নেয় তাদের সমর্পক। তারা মানলেও
মেনে নেয়নি শিপলুর পরিবার। তার স্টাডি প্রায় অফ
হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু অনুপমা তা হতে দেয়নি। তার
পড়াশোনার দায়িত্ব নেয় অনুপমা।
শিপলুর ইচ্ছে ছিল ইঞ্জিনিয়ার হবে, রেজাল্ট খারাপ
হওয়ায় সে ভেংগে পড়ে স্টাডি ছেড়ে দেয়ার
সিধান্ত নেয়, কিন্তু অনুপমা তা হতে দেয়নি। যদিও
ততোদিনে শিপলুর ভার্সিটি তে এডমিশন নেয়ার সময়
শেষ হয়ে যায়।
অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে শিপলু কে নেক্সট ইয়ারে Dhaka
International University ভর্তি করায়। অনুপমার বাসায় থেকেই
স্টাডি চালায় শিপলু। সেমিষ্টার পার হয় ততোদিনে
শিপলুকে মেনে নেয় তার পরিবার। দুজন স্টাডি
চালিয়ে যায়। ফেমিলি গত ভাবে নতুন আত্মিয়তা গড়ে
উঠে দুই পরিবারে।
শিপলুর বড় ভাই মিলনের শুবাদে এক হয় তাদের পরিবার।
অনুপামা কে নিয়ে যাওয়া হয় তার শশুর বাড়ি কুষ্টিয়ার,
ই. বি থানার - শান্তি ডাংগা গ্রামে।
শান্তি ডাংগা থেকে তারা ঢাকা ফিরে আসে।
কিছুদিন পড়ে শিপলুর চাচা মোঃ বশির উদ্দিন শিপলুকে
থানা স্ট্যান্ড, সাভার, এনাম মেডিক্যাল এর পাশে যে
বাসায় থাকে ডেকে পাঠায়। তখন শিপলুকে বুদ্ধি দেয়
শশুর এর বিজনেস থেকে টাকা বিয়ে তুই বিজিনেস কর।
সে বাসায় এসে অনুপমা কে ইমোশনাল ভাবে প্রেশার
দেয় টাকার জন্য। যেহুতু অনুপমা শিপলুকে অনেক
ভালোবাসে ইভেন সে তার হাসব্যান্ড, অনুপমা তার
বাবা কে বুঝিয়ে ৪ লাখ টাকা নিয়ে দেয় বিজনেস
করার করার জন্য। টাকা নেওয়ার পর থেকে অনুপমা এবং
তার পরিবারের সাথে খারাপ ব্যাবহার শুরু করে, এবং
অনুপমার গায়ে অল্প কথাতেই হাত ও তুলে মাঝে মাঝে।
হঠাৎ অনুপমার বাবার বিজনেস এ লস হয়ে যায়। তখন সে
শিপলুর ফেমিকে বলে শিপলুর স্টাডি এর দায়িত্ব নিতে,
শিপলু তাদের বাসায় থাকবে কিন্তু স্টাডি এর কষ্ট
তাদের বেয়ার করতে কিন্তু শিপলুর বাবা নেকবর আলী
তা মেনে নেয়না। শিপলু কে তারা একটা মেসে উঠতে
বলে। শিপলু হাতিরঝিল এলাকায় একটা মেসে ওঠে।
তখনো অনুপমার বাসায় যাওয়া আসা করতো শিপলু, মেসে
ছয় মাস ভালোভাবেই চলছিল তাদের সময়। আস্তে আস্তে
বাসায় আসা যাওয়া কমিয়ে দেয় শিপলু। হঠাৎ আনুপমা
জানতে পারে নতুন কোন মেয়ের সাথে রিলেশনে
জরিয়ে গেছে শিপলু। তার সাথে অবৈধ্য সম্পর্ক গড়ে
তুলেছে।
এসব শুনে একেবারেই ভেঙে পড়ে অনুপমা। তাকে
অনেকভাবে ঠিক করার চেষ্টা করেও শুধরাতে পারেনি
বরং একাধিক মেয়ের সাথে অবৈধ্য কাজে লিপ্ত হয়ে
পড়ে শিপলু। শিপলুর ফেমিলিতে এসব জানালেও
এড়িয়ে যায় তারা। শিপলুর মা [ মনোয়ারা বেগম]
উল্টো অনুপমা কে বাজে কথা শুনায়। তাকে নোংরা
ভাষায় গালাগালি করে। অনুপমা তখনো তার
ফেমিলিকে এসব জানায় নি। নীরবে চোখের পানি
ফেলেছে কারন সেতো নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করেছিল।
কোন মুখ নিয়ে সে বলবে তাদের। অনুপমা দেখা করতে
চাইলেও দেখা করেনা শিপলু, না বাহানায় এডিয়ে
চলে শিপলু। তবুও অনুপমা হাল ছাড়েনি, সে তার
ভালোবাসার মানুষ কে এসব থেকে ফিরিয়ে আনার
চেষ্টা করছে।হঠাত করে শিপলু মেস বদলে ফেলে। তাকে
খুজে পায়না সেখানে জানতে পারে মেস ছেড়ে
দিছে। অনুপমা তখন পাগল প্রায়। দিশেহারা হয়ে গেছে।
কি হবে তার কি হবে তার মেয়ের ভবিষ্যৎ।
পাগলের মতো খুজে ফেরে শিপলু কে। দুইমাস পড়ে
জানতে পারে তার মেসের ঠিকানা সে এখন
[শুক্রাবাদে] একটা মেসে থাকে। গোপনে তার খবর
নিতে থাকে। অনুপনা জানতে পারে শিপলু এখন নেশায়
আসক্ত নানা রকম নেসা করে সে,ড্রাক্স এর নেয়ায় ভিবর
হয়ে থাকে, মেয়েদের নিয়ে বাজে কাজ করে। মেসে
মেয়েদের এনে নোংরামি করে। শিপলুর নোংরামির
শিকার আরো মেয়ে যাদের সাথে ফিজিক্যাল
রিলেশন করে, আপত্তিকর ছবি তুলে, তাদের ব্লাকমেইল
করে টাকা হাতিয়ে দেয়। এসবো জানতে পারে
অনুপমা।
শিপলু এখনো Dhaka International university স্টাডিরত। অথচো
তাকে খুজে কখনো পায়নি অনুপমা, তার ফ্রেন্ড রাও তার
সম্পর্কে কিছু বলতে নারাজ। শিপলু নানা নামে
উপস্থাপন করে সাগর, আল আমীন এসব মানুষের কাছে সে
পরিচিত।
সে শুক্রাবাদ থাকে জানতে পেরেও তাকে খুজে
পায়না অনুপমা। নিজেকে ছদ্মবেশে লুকিয়ে রাখে।
ফোনে দিলেও সে তখন নাম্বার করে দেয়, শুধু মাত্র এই
নাম্বার অনুপমা জানে। এছাড়া সে আরো অনেক
নাম্বার ইউজ করে। হঠাৎ ফোন রিসিভ করলেও নোংরা
ভাষায় বকাবাজি করে আর হুমকি দিতে থাকে তাকে।
এবং দেখা করতে চাইলে অনুপমা হত্যার হুমকি দেয়।
অনেক চেষ্টা করে তাকে ফেরাতে, শিপলু এখন
একেবারেই উগ্র হয়ে উঠেছে। অনুপমা কে হত্যার হুমকি
দিতে থাকে আমাকে ডিভোর্স দে না হলে তোকে
মেরে ফেলবো। তোর ছবি এডিট করে নোংরা যায়গায়
দিব।
অনুপমা আজ নিঃশ্ব, যাকে এতোটা ভালোবাসে যে
আজ এসব করতে চাচ্ছে। নিরবে সয়ে যাচ্ছে সে। কিছুই
বলতে পারছেনা তাকে। শুধু আল্লাহ্ র কাছে প্রার্থনা
করছে শিপলু কে ফিরিয়ে দিতে তাকে ভালো করে
দিতে। আনুপমা এখনো চায় সে ফিরে আসুক, তাকে
নিয়ে সে সুন্দর জীবন গড়তে। তার ছোট্ট মেয়েকে নিয়ে
সংসার করতে।
এ কেমন ভালোবাসা? ভালোবাসা তো মানুষের জীবন
গড়ে। তাহলে কেন এমন হচ্ছে অনুপমার সাথে। কি অপরাধ
করেছে সে। ভালোবেসে সে কি কোন পাপ করেছে?
সারা প্রতিদিন খুজে ফেরে তার বাবাকে, বাবা
কোথায়, আমি বাবার কাছে যাবো, বাবা চকলেট
কিনে দিবে। কিন্তু না বাবা আসেনা। পিচ্চি
মেয়েটাকে জিজ্ঞেস করলে এখন বলে বাবা মারা
গেছে।
যার জন্য অনুপমা এতো কিছু করলো, সে আজ এভাবে তার
প্রতিদান দিচ্ছে। ভালোবাসার প্রতিদানে দিচ্ছে
যন্ত্রণা। আজ অনুপমা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? অনুপমার
ছোট্ট মেয়েটির ভবিষ্যৎ কি?

07/07/2015

নীলাভ জোছনায় মানব-মানবীরা
লেখা : Md Abdul Aziz Hridoy ( রাতের তারা )

সাজু এখন যশোরে । তার প্রিয় সজ্জা
আপু , তার বিয়ের দাওয়াতে এসেছে
সে ।
সাথে করে অবশ্য অধরাকে আনতে বলা
হয়েছে । কিন্তু , সে আনে নি , তাই
তার আপু তার সাথে রাগ করেছে ।
দুদিন পর বিয়ে , আজকেই আমি এসে
বসে আছি । আপু রাগের সাথে সাথে
একটু বিব্রত ও ।
এমনিতেই বাড়িতে লোকের অভাব
নেই , তার উপর আমি এসে বসে আছি ,
আসলে দুরের আত্মীয়কে এই জন্যই
দাওয়াত দিতে হয় না । একজন দাওয়াত
দিলে বিয়ের তিন দিন আগে
সপরিবারে এসে বিয়ের তিন দিন
পরে
যাবে !
আমি চুপ করে আপুর কান্নার কথা শুনছি ।
আপু একটা টিস্যুর বক্স হাতে নিয়ে নাক
মুছছেন আর আমাকে
তার পোড়া কপালের কথা বলছেন ।
-" দেখলি সাজু ? তকে যা বলেছি তাই
হল । আবির কে বারবার না করেছি
যৌতুক চাইতে , তবুও সে যৌতুক চেয়ে
বসে আছে , তাও যা-তা যৌতুক না ,
একটা পালসার , ৩ লক্ষ টাকা , আর একটা
ইংলিশ খাট । "
আমার কাছে হাস্যকর লাগছে , কিন্তু
হাসলে আপা কেঁদেই দিবে , তাই
হাসলাম না ।
যশোর ত বেশ আধুনিক এলাকা বলেই
জানতাম !
-" তবে তোমার আব্বুকে দিয়ে দিতে
বললেই পার । না করেছে কে ? আমিও
না হয় আঙ্কেলের সাথে মার্কেটে
যাব , আমার এক চেনা লোক আছে ,
সেকেন্ড হ্যান্ড জিনিসের ব্যবসা
করে

অবশ্য , ৩ লক্ষ টাকা সেকেন্ড হ্যান্ড
জোগাড় করতে পারব না । ওটা ফার্স্ট
হ্যান্ডই দিতে হবে । "
আপার চোখে পানি জমে উঠল ,
-" তুই মজা নিচ্ছিস ? আর আমি কেঁদেই
মরছি , সকালে ও ফোন করে জানাল ,
আমি এখনও তুই ছাড়া কাউকে জানাই
নি । বাড়িতে জানলে হয়ত বিয়েই
ভেঙে যাবে । "
আমি উঠে দাঁড়ালাম ,
-" শোন আপু , তুমি এই খবর কাউকে
জানাবে না । ওরা যদি তোমার
পরিবারে জানায় , তুমি বলবে যেন
কোন ব্যাবস্থা
না করে , সব আমিই দেখছি , দু দিন
বিয়ে না ? আমি কাল এসে তোমায় সব
বলব । যদি ঠিক হয় ত ভাল ,
নয়ত বিয়ে বাতিল ।"
আপা হতভম্ব হয়ে আমার দিকে
তাকিয়ে রইল । আমি আর কিছুই না বলে
বেড়িয়ে পড়লাম । আপুর সামনে
থাকলে
ঘ্যানঘ্যান করতে থাকবে । পাগলের মত
কি না কি বলে এলাম , বিয়ে
বাতিল ! হাহাহা ........
আমি ছেলেটার ঠিকানা আগেই
জানতাম । বাসে উঠে পড়লাম । আর ,
বাম পাশে বসে জানালা খুলে
দিলাম ।
দখিনা হাওয়া আমার ছোট থেকেই
পছন্দ । চুল গুলো দেখছি উড়ার
পায়তারা
করছে ।
সামনের সিটে এক মেয়ে বসেছিল ।
সে বাইরে মাথা দিয়ে চুলের ব্যান্ড
খুলে দিল ।
বলাই বাহুল্য , চুল আমার মুখে এসে পড়ল ।
কয়েকটা চুল মুখের ভিতর ও প্রবেশ করল ।
যেহেতু চুল খাবার অভ্যাস নেই , তাই
অচিরেই খুক খুক করে কেশে উঠলাম ।
-" এই যে মিস কেশবতী , আপনার চুল একটু
সামলান । আমি এই দখিনা হাওয়ায় একটু
হেমন্ত স্যারের গান গাইতাম ।
মেয়েটি চুল গুলো হাতে ভিতরে
নিয়ে আমার দিকে ধীরলয়ে তাকাল ।
একেই কি বলে খুনে দৃষ্টি ? আমার
জায়গায় অন্য কেউ হলে এখনই বলে দিত ,
-" আমি সারাজীবন তোমার গোলাম
হয়ে থাকব ,শুধু ,,,
আমাকে ঐ চোখ দুটির চাহনি
আরেকবার দেখতে দাও । "
তবে , সে ভূমিকম্প যে আমার ভিত ও
নড়ায় নি , তা বলব না ।
-" সরি , আসলে অনেকক্ষণ বাসের
ভিতরে বসে ছিলাম ত , তাই একটু
বসন্তের পূবালী হাওয়া চুলে
লাগালাম ।"
আহা ! আমি কেন , রবি ঠাকুর ও যদি
দেখত এই চুলগুলো , তবে বলত , -" বাজিল
বুকে সুখের মত ব্যাথা ।"
-" না না , কোন সমস্যা নেই । আমি একটু
সাপহাটা গ্রামে যেতাম । এখন ঘুমাব ,
আপনি আপনার এলোকেশে
হাওয়া লাগান , দখিনা বাতাস চুলের
জন্য উপকারী । "
সুন্দরী মেয়েরা মনে প্রাণে বিশ্বাস
করে , তাদের সৌন্দর্য মানুষের উপর
প্রভাব ফেলে এবং , বেশি কথা বললে
প্রভাব টা বেড়ে
যেতে পারে । মেয়েটি কথা শুনে
আমার দিকে অবাক হয়ে তাকাল , তবে
, কিছু বলল না ।
তার কারণ টা বুঝতে পারলাম না, যদিও
পরে সেটা ক্লিয়ার হয় ।
আমি মুণ্ডুটা ভিতরে এনে পড়লাম । একটু
রেস্ট নাওয়া উচিত , সেই সকাল থেকে
বাসে ।

বাসের কন্ডাক্টর জোরে জোরে
ডাকছে , ' সাপহাটা ! সাপহাটা !'
শুনতেই ঘুম ভেঙে গেল । ধীরে ধীরে
চোখ মেললাম । পাশে এক
# অতি_স্বাস্থবতী আঙ্কেল বসে আছেন

তার দিকে তাকিয়ে
একটা মিষ্টি হাসি দিলাম । চাচা
আমার হাসি ধরতে পারলেন । তার
ঝুলন্ত ব্রিজের ন্যায় ভুঁড়িটা নিয়ে
বেড়িয়ে আমাকে জায়গা
দিল ।
বাস থেকে নেমেই দেখি , সামনে
কেশবতী । সাথে এক গাদা ব্যাগ ।
ঢাকা থেকে এসেছে মনে হয় ।
-' আমি কি আপনাকে কোন সাহায্য
করতে পারি ? '
অপরিচিত ছেলের সাহায্য নিতে
মেয়েরা খুবই অস্বস্তি বোধ করে ।
মেয়েটা হেসেই বলল ,
-' জী না । আমি একটা ভ্যান গাড়ি
নিয়ে নিব ।'
-' তবে আপনিই আমাকে সাহায্য করুন ।
ভুঁইয়া বাড়িটা কোন দিকে বলে দিন ।
অনেক দরকার । তাড়াতাড়ি না
গেলে খুনাখুনি হয়ে যাবে ।'
আমার কথা টা সে বিশ্বাস করে নি ,
বলাই বাহুল্য । যেভাবে সন্দেহ নিয়ে
তাকিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে
আছে , পুলিশের
হাতে তুলে দিলেও অবাক হব না ।
দুনিয়াটা অনেক সন্দেহজনক হয়ে
গেছে
। কখন কে কাকে খুন করে বসে !
-' ওই বাড়িতে আপনার কি দরকার ?'
-' আসলে , ঐ বাড়ির বড় ছেলে
আবিরের বিয়ে কদিন পর । ত , উনারা
চাচ্ছেন , আবিরের ছোট বোনের
বিয়ের ঝামেলা
টা ও সেরে ফেলতে ।'
-' ত ? আপনাকে দেখে ত ঘটক লাগছে
না । অবশ্য ঘটকের কম্পাউন্ডার ও হতে
পারেন ।' কপাল কুচকে বলে ফেলল
সে । কিছুটা রাগান্বিত ও ।
দুকান পর্যন্ত হেসে বললাম , -' জী না ,
আমি তাদের পছন্দের জামাই । সেই
বাড়ির ছোট মেয়ের সাথে আমার
বিয়ের কথা
চলছে । '
ছোট থেকেই আশা , বজ্রাহত মৃত ব্যক্তি
দেখব । আজ সেই আশা পূরণ হল । বেশ
কিছুক্ষণ সে বিস্ফোরিত নয়নে
আমাকে দেখছে ।
-' আপনি কি বাসাটা চিনেন ?'
-' জী , চলুন আমার সাথে । '
উনার বলা শেষ হতেই একটা ব্যাগ
হাতে নিয়ে নিলাম । উনাকে
সাহায্য করার ভঙ্গীতে হাসলাম ।
কিন্তু , স্পষ্ট বুঝতে
পারলাম , উনি বিরক্ত হয়ে ভ্রূ
কুচকালেন ।
-' তা ......... আপনি যাকে দেখতে
যাবেন , সেই মেয়ের নাম কি ?'
-'আমি কিছুই জানি না । শুধু জানি ,
সে ঢাকা ভার্সিটিতে পড়ে । নাম ন
দিয়ে শুরু । কি যেন ? ভুলে গেছি । '
-' হুম , বুঝলাম । আপনার বাসা ?'
-' ঝিনাইদহ । আপনার নাম ?'
-' ওহ , সরি । কত কথা বলে ফেললাম ।
নামটাই বলা হল না । আমি নীরা ।'
ভ্যান গাড়ি পেয়ে গেলাম । বাকি
রাস্তা উনি আমার খোঁজ খবর নিয়ে
পার করে দিলেন । বলে নেয়া ভাল ,
সব তথ্যই ভুল
দিলাম । যেমন , আমি কুদ্দুস ; কেরানির
চাকরি করি , ইত্যাদি ইত্যাদি ।
মেয়েটা আমার ব্যাপারে অতিরিক্ত
আগ্রহ দেখাচ্ছে । বিষয়টা
অস্বাভাবিক । জগতের নিয়ম হল , সবাই
সুন্দরীদের ক্ষেত্রে
আগ্রহ দেখাবে , এবং সুন্দরী মেয়েরা
সব কিছুতেই বিরক্ত হবে । বুদ্ধিমতী
মেয়েরা কখনও ছেলেদের ব্যাপারে
আগ্রহ
দেখায় না । কোথাও ভুল হয়েছে !
বিশাল বড় ভুল ...............!
একটা বিশাল প্রাসাদসম বাসার
সামনে ভ্যান গাড়ি থামল । নেমে
ভাড়া দিতে গেলাম , লোকটা বলে
উঠল ,
- ' নীরা আফার মেমান ( মেহমান )
আফনি , আফনার কাছ থে টাকা নিমু ?!!!
"
বুঝলাম , নীরা এবং তার পরিবার ,
এলাকায় ভালই প্রভাব বিস্তার করে ।
-' তা...... এটা ত আপনার বাসা । কিন্তু
আমার গন্তব্য টা কোথায় জানতে
পারি ?'
জবাব পাওয়ার আগেই একজন যুবক এসে
আমাদের সামনে দাঁড়াল । চেনা
চেনা লাগল ।
মস্তিষ্ক খুঁজে যে নাম আর ছবি পাওয়া
গেল , সেটা হল আবির ! সজ্জা আপুর
ভবিষ্যৎ স্বামী এখানে কি করে ?
-' কিরে নীরা ? ভাইয়ের বিয়েতে
আসতেও এত দেরি ? লেখাপড়া একটু কম
কর । আমার ত মনে হয় , তুই বাসর ঘরেও
বই নিয়ে ঢুকবি , আর তোর স্বামী বই
দেখেই প্রেমে গদগদ হয়ে ফিট খাবে ।'
তখনও আমার দিকে নজর পড়ে নি । নজর
পড়তেই নীরার দিকে জিজ্ঞাসু
দৃষ্টিতে তাকাল ।
নীরা ড্রাইভারকে ব্যাগ গুলো ধরতে
বলে বাসায় রওনা হল । আবির
সাহেবের কৌতূহল মিটল না ।
-' কেমন আছেন ?' দুকান হেসে বললাম ।
লোকটা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বলল -'
জী......... ভা...ল । আপনাকে ঠিক ...'
-' আমি সাজু , ভাল নাম সাজিদ ।
সজ্জার দূরসম্পর্কের ভাই হই ।একটা জরুরী
কথা বলতে এসেছি । আসার পথে
নীরার সাথে দেখা ।'
-' জ্বি চলুন । বাসায় এসে রেস্ট নিয়ে
সব বলবেন ।'
আসন্ন ভুঁড়িভোজ টা চোখের সামনে
এসে নাচতে লাগল । যদিও বেশি
খেতে পারি না । তবুও , বাঙালির
স্বভাব , লাভ ক্ষতি
হিসেব না করে ভাল কিছু পেলেই
খুশি থাকি ।
আমার মোবাইল টা খুবই বিরক্তিকর ।
গুণে গুণে যখন ব্যস্ত , তখনই কল আসে ।
পকেটে করে বাথরুমে গেলে
সেখানেও
কল আসে । মাঝে মাঝে গোসলের সময়
গান শুনি , তখনও কল আসে । মাছির মত
বিরক্তিকর ।
দীর্ঘ এক মিনিট আবির বিরক্তি
সহকারে দাড়িয়ে । ভদ্র হওয়ার এই এক
সমস্যা । এখন আমি সরি বললে হাসি
মুখে
বলতে হবে , -' না না , কোন সমস্যা নেই
। কল ত আসতেই পারে ।' যদিও চেহারা
দেখে বুঝতে পারছি , উনার মন চাইছে ,
আমাকে আমার মোবাইলসহ চাবিয়ে
পানি ছাড়া ক্যোঁৎ করে গিলে
ফেলতে ।
- ' একটু পথের দিকে চলুন । এখন বাসায়
যাওয়া সম্ভব নয় ।' মুচকি হেসে উনার
বিরক্তি বাড়িয়ে দিলাম ।
দুজন হেটে একটা পুকুর পারে এলাম ।
শান বাঁধানো ঘাঁট । সাথে চার
পাশে
নারকেল আর তাল গাছের সারি ।
পুকুরের জল
হালকা সবুজ । মাছ ঘাই দিচ্ছে ।
লোকটার বাবার ভালই সম্পদের
পাহাড়
। তবুও যৌতুক নিতে হবে । নয়ত
পাড়াপড়শি আত্মীয় স্বজনের কাছে মুখ
দেখানো
যাবে না ।
-' আপনি সজ্জাকে কতটা ভালবাসেন ?'
হঠাৎ এমন প্রশ্ন শুনলে মজনু ও বেশ কিছুক্ষণ
ভেবে নিত । এই যে এত রিলেশন , এত
প্রেম , এত ভালোবাসা , কজন
বুকে হাত রেখে সত্যি কথা টা বলতে
পারবে , যে -' আমি তোমাকে এত টুকু
ভালোবাসি ?'
কেউ ই না । সবাই সত্যি মিথ্যা
মিলিয়ে বলবে -' আমি তোমাকে
পৃথিবীর সবার চে বেশি
ভালোবাসি
।'
একটু ভুল আছে । 'তোমার' স্থানে
'আমার'
শব্দ টা হলেই সব ঠিক ।
-' আমি আমাকে পৃথিবীর সবার চে
বেশি ভালোবাসি ।'
- ' এই প্রশ্ন কেন করছেন ?'
-' এই প্রশ্ন এই কারণে করছি যে , আপনি
আগেই বলেছিলেন , বিয়ের আগে
হাড়ি পাতিল ডেকচী এই সব
হাবিজাবি ভিক্ষা
আপনি চাইবেন না ।'
-' হুম , এখনও ত বলছি । আমি ত চাই নি ।
চেয়েছে আমার বাবা ।'
ঠোঁট ঠেলে হাসি বেড়িয়ে যেতে
চাইছিল । মানুষ যুক্তি দিতে
ভালোবাসে । কেউ ভাল যুক্তি দেয় ,
কেউ খোঁড়া । আবির ২য়দের
দলে ।
-' ভাইয়া । খুবই মজার কথা শোনালেন ।
এখন আমার কথা মন দিয়ে শুনুন । আপনার
বাবাকে বলুন , আমার বোন
আপনার বাবাকে বিয়ে করবে না ।
কারণ তার একটা গুণধর ছেলে আছে ,
যে
কিনা বিয়ের সময় ও নিজের সিদ্ধান্ত
নিজে নিতে
পারে না । একটা পয়সা ও দেয়া হবে
না ।'
-' কি যা তা বলছেন ! বিয়ে আমার
বাবা করবে কেন ?'
-' যৌতুক যেহেতু তিনি চেয়েছেন ,
ভাবলাম তিনিই বিয়ে করবেন ।
সিদ্ধান্ত নিন । আমার বোনকে কোন
নাবালেগের
কাছে বিয়ে দিব না । হাজার ছেলে
লাইন ধরে আছে আপুকে বিয়ে করতে ।
তাও যৌতুক নিয়ে নয় , ভরি ভরি গয়না
দিয়ে ।
চলি ,খুবই খারাপ একটা খবর পেলাম ।
আপনাদের বিয়েতে থাকতে পারব
কিনা সন্দেহ । আর , আপনার বোনের
সাথে একটু
মিথ্যা কথা বলেছি । ওকে বলবেন দয়া
করে ক্ষমা করে দিতে । '
২ কদম হেটে আবারো ফিরে গেলাম ।
তিনি অবাক হয়ে আমার দিকে
তাকিয়ে ।
-' একটা কথা বলতে ভুলে গেছি ।
বিয়ের দিন ভুলেও ঐ বাসায় গিয়ে
বাথরুমে যেতে চাইবেন না । ওদের
২টা টয়লেট ।
একটা ভাল , আর একটা ব্রিটিশ আমলের

ক্লাইভ লয়েড ঐ টয়লেট উদ্বোধন করে
যায় । সেটায় গেলে এক্কে বারে...........!!!!!!!!!!'
মানুষকে বিভ্রান্ত করতে যে কি মজা ,
সেটা বলে প্রকাশ করা সম্ভব না ।
দুনিয়ার গুটি কয়েক হাই লেভেলের
সুখের মাঝে এটা একটা ।
অনেকে এটাকে মন নিয়ে খেলা ও
বলে । জগতের শ্রেষ্ঠ খেলা - মনের
খেলা ।
ওনাকে একটা আজগুবি গল্প বলে এলাম ।
আমার গল্প উনি ফালতু ভেবে ভুলে
যেতে চাইবেন । এবং , যতই ভুলতে
চাইবেন, ততই তাঁর
মস্তিষ্ক এটাকে কবিতার মত আবৃতি
করবে । বিয়ের দিন দেখা যাবে , কনে
বাড়িতে পৌঁছেই উনার টয়লেট
পেয়ে
গেল । জীবন বড়ই
আজব ............।
আবিরকে অথৈ নদীতে ফেলে দিয়ে
ঢাকায় রওনা হলাম । সাথে ২ টা
রাস্তা ও দেখানো আছে ।
১। ভালোবাসার রাস্তা
২ যৌতুকের রাস্তা ।
আশা করি , সে সঠিক রাস্তা টাই
ধরবে


অধরার মা পিজি হাসপাতালে ।
আবারো হিট স্ট্রোক । এবার কি হয় ,
কে
জানে । ডক্টর আগেই সাবধান হতে
বলেছে । কিন্তু , উনি
বাজারের ব্যাগ হাতে চলে গেলেন
কাঁচা বাজার । আব্দুল্লাহ স্যার নাকি
পচা মাছ কিনে আনেন । মাঝে
মাঝেই
স্যার সখ করে বাজার করেন ।
সেদিনই তাঁর উপর দিয়ে ৮ রিখটার
স্কেলের ভূমিকম্প হয় ।
এবার আন্টি নিজেই চলে গেলেন
কাঁচা বাজার । তাঁর নাকি টাকি
মাছের ভুনা খেতে মন চেয়েছিল ।
প্রচণ্ড গরমে কাঁচাবাজারের রাস্তা
ভেবে ভুল করে উপরের রাস্তা ধরে
ফেলেছিল ।
গিয়ে দেখি , অধরা শক্ত হয়ে বসে
আছে । মুখে কোন রকম অভিব্যক্তি নেই ।
মনে হল , পাবলো পিকাসোর আঁকা
কোন নির্বাক ছবি ।
নিঃশব্দে তাঁর পাশে গিয়ে বসলাম ।
তাঁর বাম হাত টা ডান হাতে নিলাম ।
এইবার মেয়েটা আমার দিকে তাকাল
। ভয় পাচ্ছি , নদীর নোনা জল না
জানি বাধ ভেঙে উপচে পড়ে ।
ভয় টা সত্যিতে পরিণত হল । অধরা
কেঁদে দিল । কান্না দেখে মনে হল ,
এখনও মেয়েটি কাঁদে নি । হয়ত সেই
পরিবেশ পায় নি ।
স্যার ভার্সিটিতে ক্লাস নিচ্ছে ।
আন্টি সুস্থ হয়ে এই খবর শুনলে নির্ঘাত
স্যারের ফাঁসি কার্যকর হবে ।
অধরাকে নিয়ে আন্টিকে দেখতে
গেলাম ।
আন্টি বাচ্চাদের মত ঘুমাচ্ছে । কে
বলবে , এই মহিলাটা যেকোন সময় মরে
যেতে পারত ?
ঘুমন্ত মানুষের চেহারায় এক ধরনের
মায়া থাকে । সিনেমার ডাকসাইটে
ভিলেনও ঘুমালে দেখা যাবে ,
তাকে আদুরে লাগছে ।
আন্টির একটা হাত আমার হাতে
নিলাম । মেয়েদের হাত
মাত্রাতিরিক্ত নরম । আন্টির হাত আরও
নরম । মনে হল , সদ্য প্রসূত কোন
বাচ্চার হাত ধরেছি ।
অপর পাশে অধরা মার বিছানায়
মাথা
রেখে ফুঁপিয়ে কাঁদছে ।
আমার কেন যেন খুব খারাপ লাগছে ।
এমন এক হৃদয়বিদারক পরিবেশ সৃষ্টি
হয়েছে , যেখানে পাষাণ হৃদয় ব্যক্তি ও
কেঁদে দিবে ।
আমি এত টা পাষাণ নই । তবুও কাঁদতে মন
চাইছে না । চিরাচরিত নিয়ম হল ,
মেয়েরা কাঁদবে , পুরুষরা বুকে পাথর
বাঁধবে ।
চোখ টলমল করছে । আবেগ নিয়ন্ত্রণ
করছি
। এই মহিলাটা কত বকা দিত । আদর খুব কমই
করেছে । তবুও , আজ সেগুলোই মনে
পড়ে যাচ্ছে ।
চোখ বন্ধ করে এসব ভাবছি । আন্টির হাত
যে কখন নড়ে উঠল বুঝলাম ই না ।
আন্টি তাঁর হাত টা আমার মুঠো থেকে
ছাড়ালেন । আন্টির জ্ঞান ফিরে
এসেছে ।
পরম স্নেহে অধরার মাথায় হাত
বুলিয়ে
দিচ্ছে সে । অধরা মাথা তুলে একবার
চাইল । তারপর আবার ফুঁপিয়ে কাঁদতে
লাগল ।
চোখের জলে চুল গুলো গালের সাথে
লেগে আছে ।
আন্টি এবার আমার দিকে চাইলেন ।
ভাবলাম , আমি হাত ধরায় আন্টি
বিরক্ত হয়েছে ।
আন্টি আমার ধারণা ভুল করে দিয়ে
আমার মাথায় পরম স্নেহে হাত রাখল ।
মার কথা মনে পড়ে গেল ।
ছুটে বেড়িয়ে গেলাম । কান্না টা
আর
সামলাতে পারলাম না ।
এক মিনিট পর আবার কেবিনে প্রবেশ
করলাম । চোখ টা ফোলা । আন্টির হাত
ধরে বসে পড়লাম । আন্টিও আমাদের
গভীর যত্নে
আঁকড়ে রাখলেন , ঠিক যেন কোন মা
পাখি তাঁর বাচ্চাকে ঝড়ের হাত
থেকে আগলে রাখছে ।

সজ্জা আপুর বিয়েতে আর যাওয়া হল
না ।
বিয়ের ২য় দিন পর্যন্ত মোবাইল বন্ধ ছিল
। ৩য় দিনের দিন কল দিলাম ।
মোবাইল ধরেই শুরু হল আন্তর্জাতিক
গালি প্রতিযোগিতার ফাইনাল
রাউন্ড । কান দুটির প্রাণ থাকলে
তারা এতক্ষণে আত্মহত্যা করত ।
গালি পর্ব শেষে শুরু হল ঝাড়ি পর্ব ।
অবশেষে ক্লান্ত হয়ে কাজের কথায়
আসে ।
-' তুই আমার কেউ না । আমার বিয়েতে
এসে কাউকে না বলেই চলে গেলি ।
ছি ! তোকে ভাই বলতেও আমার লজ্জা
হয় ।'
-' আপু , এত লজ্জা কোথায় রাখ ? একটা
ঝামেলায় পড়ে গেছিলাম ।
দুলাভাইয়ের কি খবর ।'
-' এই শয়তানের নাম নিস না । বেটা
বিয়ে করতে এসে হাগু গোসল করে
গেল ! বিয়ের মঞ্চে বসেই টয়লেট
টয়লেট শুরু করে ।
তারপর হঠাৎ ই কারেন্ট চলে গেল । এই
সময় এক বাচ্চা ওকে নতুন টয়লেট টা
দেখাল । ও কিনা সেটাতে না গিয়ে
আমাদের
বহু আগেই পরিত্যক্ত পাশের টয়লেটে
গেল । ব্যস ! টয়লেট ভেঙে নিচে !
বুঝতেই পারছিস ! বেচারা সাতার
জানে না , সাথে
ভয় আর দুর্গন্ধে একাকার হয়ে আর্ত
চিৎকার জুড়ে দিল ।
যখন উদ্ধার হল , তখন সে গু বাবা । পেটে
পিঠে গু । বাজার থেকে ৫ টা সাবান ,
৫ টা সুগন্ধি আতর কিনে আনা হল ।
তারপর তাকে সবাই মিলে গামলা
গোসল করাল । গামলায় বসিয়ে সাবান
ডলাডলি । সেই এক দৃশ্য । আমিও চুপিচুপি
দেখলাম ।
আমি সাফ জানিয়ে দিয়েছি ,
আগামী ১ বছর সে আমাকে ছুঁতে
পারবে না , বলদা কোথাকার ! আমার
কপাল ই খারাপ ।'
মেয়ে মানুষের কথার কোন ঠিক নেই ।
কখন কোথা থেকে কোথা যায় কে
জানে । আমাকে বকতে গিয়ে
স্বামীর
১৪ গুষ্টি উদ্ধার করল ।
মায়ের জাত , বড়ই রহস্যময় । তাদের
অভিমানের যেমন অভাব নেই , তেমনি
ভালোবাসার ও অভাব হয় না । তারা
বর্ষা কালের মেঘের
মত নিজেকে নিঃস্ব করে সব
বিলিয়ে
দেয় ।
নীরা আমার সাথে কথা বলতে চায় ,
সজ্জা আপুর কাছ থেকে আমার নাম্বার
নিয়ে কল দিয়েছিল । মোবাইল তখন বন্ধ

আপু আমাকে আগেই জানিয়ে
দিয়েছিল । আমিও পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে
মোবাইল নম্বর বদলে নিই ।
আপুরা নাকি হানিমুনে যাবে ।
কোথায় যাবে জিজ্ঞেস করতেই বলল ,
কুয়াকাটা । ঐ খানে নাকি চাঁদনী
রাত অনেক সুন্দর উপভোগ
করা যায় । সব ভুল গুলো শুধরে তারা
একটা সুন্দর সংসারের শুরু করছে । ২১
তারিখ ব্লু মুন ।
নীল চাঁদ বললেও চাঁদ কিন্তু নীল হয় না
। চাদের আলো টা হালকা নীলাভ হয় ।
রাতের বেলায় যখন আন্টির হাতে
ভাত
খেয়ে
ঘুমুতে যাই , চোখ বন্ধ করলে দেখতে
পাই , নীলাভ জোছনায় দুজন মানব
মানবী হাত ধরে সমুদ্রের পারে বসে
আছে ।
জোছনার আলোর সুতায় তাদের হৃদয় আজ
বাঁধা পড়বে ।

07/07/2015

"" FriEnDsHip iS tuRNeD iNt0 LoVE ""
কুয়াশাভেজা মিষ্টি একটা শীতের
সকাল বেলা । কুয়াশা কাটিয়ে সবে
মাত্র সূর্যের মিস্টি আলো চারিদিকে
আভা ছড়াচ্ছে । 'X' ইউনিভার্সিটির
সামনের একটা চায়ের টং-এ বসে খুব
মনোযোগ দিয়ে গরম চায়ে ভিজিয়ে
পাউরুটি খাচ্ছে অনি । হঠাত্ একটা
রিকশা এসে থামল টং টার পাশে ।
রিকশা থেকে নামছে তিথি । লাল
রংয়ের একটা শালে তিথিকে আজ অপূর্ব
লাগছে ।
-“কি ব্যাপার ক্লাসে যাবি না?”
তিথির কথায় অনির হুশ ফেরে ।
-“না রে, মুড নেই।” চায়ে চুমুক
দিতে দিতে বলল অনি ।
-“তোকে না বলছিলাম আমার একটা
স্কেচ আর্ট করে দিতে। করেছিস ঐটা ?”
-“না । টাইম কোথায় আমার?”
-“নদীকে যে করে দিলি।”
-“আরে ও আমাকে এর জন্য ২০০ টাকা
দিছে। তুই দে, তোকেও করে দিবো।”
-“টাকা নিয়ে ছবি আঁকবি? তুই না আমার
বেস্ট ফ্রেন্ড !!”
-“লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি পর্যন্ত টাকা
নিতেন। উনি বলেছেন, হে বৎস ছবি
এঁকে অবশ্যই টাকা নিবে। নইলে তোমার
মেধার মূল্য দিবে না কেউ। ”
-“লাগবে না তোর আর্ট । এখন ক্লাসে চল।”
-“তোকে না বললাম আজ ক্লাসে যাব না।
বাংলায় তো বলছি। নাকি বাংলা
ভাষা বুঝিস না। আর এখন এইখান থেকে
যা তো । আমাকে একটু শান্তিতে চা
খেতে দে !! ”
-“ওকে বাই। আমি গেলাম। আর তোর
সাখে কোনো দিন কথা বলব না”
মনে মনে অনেক রেগে গেছে তিথি।
ভাবছে আর কোনোদিন অনির সাথে
কথা বলবে না । ছেলেটা কেমন
জানি ? একটুও ভালো না । ওকে একটুও
বোঝে না । কিন্তু বেশীক্ষণ এই রাগ ও
ধরে রাখতে পারবে না এই শয়তান অনি
কেই যে ও সবচেয়ে বেশী ভালোবাসে
।। কিন্তু তিথি তা এখনও জানায়নি।
কারণ তার আত্মসম্মানবোধ প্রবল। আর অনি?
তার এতো টাইম নেই এইসব ভাবার। এই
হয়তো কোন ক্যান্সার রোগীর জন্যে
চাঁদা তুলে সাহায্য করছে। আবার এই
হয়তো টোকাইদের স্কুলে ফ্রি পড়াচ্ছে।
অনাথ আশ্রমের বাচ্চাদের চকলেট
বা ফুচকা খাওয়াচ্ছে । পথের অসুস্থ
ফকিরকে নিজের টিউশনির টাকাটা
দিয়ে কম্বল কিনে দিয়েছে ,
অথচ এই প্রচন্ড শীতে তার নিজেরই
কোনো শীতের পোশাক নেই ।
আজ তিথির জন্মদিন। খত কয়েক দিন ধরে
ও একটু অসুস্থ । তবে ফোন করে ওর
ভার্সিটির সব বন্ধুদের ইনভাইট করেছে ।
একটু আগে ফোন করেছে সবাই তার
বাসায় আসবে। নিশ্চয় অনিও আসবে।
সেটা ভেবেই অসুস্থের মধ্যেও উঠে
ফ্রেশ হয়ে রেডি হয়েছে তিথি।
কিন্তু সন্ধ্যায় দেখা গেল আসেনি অনি।
সে নাকি পথ শিশুদের শীতের ভাপা
পিঠা খাওয়ানো কার্যক্রমে গিয়েছে।
চোখে পানি এসে যাচ্ছিলো তিথির।
ও ঠিক করছে আর কখনো অনিকে নিয়ে
ভাববে না সে। যার তাকে দেখতে
আসার টাইম নেই। বন্ধুরা একটু পর চলে
গেল।
রাত এগারটায় হঠাৎ রুমে এসে হাজির
অনি। বন্ধু হিসেবে অনি কে চিনে
বাসার সবাই। তাই কেউ তাকে কিছু
বলে নি।
-“কি ব্যাপার, তুই নাকি অসুস্থ? এই ঢং
ধরা শিখলি কার থেকে?”
রুমে ঢুকেই বলল অনি।
-“তুই জানিস না মেয়েদের রুমে নক করে
ঢুকতে হয়?”
-“আরেব্বাস! তুই মেয়ে? জানতাম
নাতো? তো পার্টি কেমন হল? কেক টেক
কিছু রেখেছিস?”
-“এতো রাতে তোকে আসতে বলল কে?”
রাগ এখনও পড়ে নি তিথির।
-“আরে আমি তো পথ শিশুদের পিঠা
দিতে গেলাম। ভাবলাম
তোকে রাতে এসে দেখে যাবো।”
এর মধ্যে কেক নিয়ে ঢুকলো তিথির মা।
“থ্যাংকু আন্টি !"
খেয়ে ধেয়ে যাওয়ার সময় ব্যাগ
থেকে বের করে তিথিকে একটা
প্যাকেট দিল অনি।
“নে তোর বার্থডে গিফট। আমি যাওয়ার
পর খুলবি।”
অনি যাওয়ার পর প্যাকেট
খুললো তিথি। একটা ড্রয়িং খাতা।
খাতা খুলে অবাক তিথি। প্রত্যেকটা
পাতায় তিথির মুখের চমৎকার সব স্কেচ।
চোখে পানি এসে গেল তিথির। ইচ্ছে
হল খুশিতে চিৎকার করতে। শেষ পাতায়
একটা বাঁদরের ছবি। নিচে অনির একটা
চিঠি।
“এই যে উপরে বাঁদরের ছবিটা দেখছিস।
এইটাই কিন্তু তোর আসল ছবি। বাকি ছবি
গুলি তোর ফেসবুক অ্যালবাম থেকে
দেখে আঁকা। আর একটা কথা। সবাই
বলে,আমি নাকি লাগামহীন একটা
ছেলে। এমন একটা মেয়ে আমার দরকার,
যে আমার লাগামটা ধরবে। তুই কি এই
মহান দায়িত্বটা নিবি, প্লিজ? আমার
মনে হয় তুই এই কাজের জন্যে পারফেক্ট।
যদি দায়িত্বটা নিতে চাস, তাহলে
কোনো এক কুয়াশা মাখা সকালে
চিত্কার করে বলিস , "ভালোবাসি "
অথবা মোবাইলে টেক্সট করে দিস ।
চিঠিটা পড়ে মোবাইলটা হাতে নিল
তিথি। আবার চোখে পানি এসে
গেছে তার। "উফ, এতো পানিও আসতে
পারে আমার চোখে"-
ভাবতে ভাবতে মোবাইলে লেখা শুরু
করলো তিথি।
লিখা -- কাব্যপ্রেমী সন্দীপ (নিশ্চুপ
বালক)

07/07/2015

মনে পরে খুব
===========
চাঁদনি রাত। বেশ বড় হয়েই চাঁদ এসেছে আজ। অদ্ভুত এক
অনূভুতি। গভীর রাতে দেয়ালের অগ্রভাগে দাড়িয়ে
অনেকে হয়ত এই সুন্দর চাঁদটি দেখছে। ঠিক এই মুহুর্তে কেউ
হয়ত তার প্রিয় মানুষটির সাথে অথবা কেউ হয়ত অতীতের
সাথে কাঁটাকাঁটিতে ব্যস্ত। কিন্তু দিবা অন্যরকমভাবে
দেখছে চাঁদটা।
আরও একবার চাঁদটির দিকে তাকালো দিবা। হাতে
দাশটির মত ট্যাবলেট। এক এক করে উন্মুক্ত করে নিল সব।
হাতের তালুর উপর নিয়ে এক নিমিষে গিলে ফেলল।
আর কয়েক মুহুর্ত পর হয়ত সে এই স্বার্থপর দুনিয়ার মায়াজাল
ছেড়ে চলে যাবে।
আর কয়েক মুহুর্ত মাত্র। ভাবতেই কেমন যেন কাঁটা দিয়ে
উঠে। জানালা ছেড়ে নিজের বিছানায় এসে শুয়ে পরল
দিবা। এখন আর কিছু বাকি নেই। সব সম্পর্ক ছিন্ন করে
দিয়ে চলে যাবে দূরে যেখানে কেউ তাকে আর কষ্ট
দিতে পারবে না।
কিন্তু এখনও তো মরল না সে। হয়ত আরও কিছু সময় লাগবে।
তারপর তলিয়ে যাবে নষ্ট পৃথিবীর কষ্টতা পেরিয়ে। এই
সময় অতীত রোমন্থন করে কাঁটালে বেশ সুখকর হয়।
একটি ছোট্ট মেয়ে, তুলতুলে নরম পায়ে নূপুরের রিমঝিম
শব্দের সাথে তাল মিলিয়ে হাটছে। কাঁধে স্কুল ব্যাগ,
এক হাত উন্মুক্ত অন্য হাত মায়ের হাতের মুটোয়।
স্কুলে আজ প্রথমদিন। বয়স তখন ঠিক পাঁচ বছর। মা দু গালে
দুটো চুমু এঁকে স্কুলে ডুকিয়ে দিলেন। খুব মজার সময়
কেঁটেছিল ছোট্টবেলাটা। তারপর, একদিন একটি কাগজে
মোড়ানো উপহার দিয়ে মা বলল "শুভ জন্মদিন দিবা"।
উপহার পেয়ে সেদিন দিবা কত্ত খুশি হয়েছিল। হলুদ
রংয়ের একটি ডাইরি। এখনও দশ বছর পরও ডাইরিটা হলুদ ই
রয়ে গেল। আচ্ছা শুধু মানুষই পারে খুব তাড়াতাড়ি
তাদের ভিতর রং পাল্টাতে। খুব সহজেই, খুব কঠোর
ভাবে।
হঠাৎ একদিন মা মারা গেলেন।দিবার বয়স তখন সাতের
কোটা ছুয়ছুয়। বাড়ির মেজেতে লাশ শুয়ানো ছিল।
দিবা কাঁদছে। অঝোর ধারায় কাঁদছে। মৃত্যুর পর মানুষের
নিজস্ব কোনো নাম বা পরিচয় তাকে না, একটায় পরিচয়
লাশ।
দিবার মায়ের মৃত্যুর পর তাকে দেখাশোনার জন্য নতুন মা
আনা হয়। নতুন মা প্রথম প্রথম খুব আদর করত দিবাকে। ঘড়ির
কাঁটা ঘুড়ে আস্তে আস্তে যেন আদর মাখা সময়টা পিছনে
ফেলে এসেছে দিবা। ভালাবাসার ছেদনে
ভালবাসা যেন পরে যেতে থাকে। সে মুহুর্তটা যেন
দিবার মাইল ফলক স্মৃতি। তারপর আর আপন বলতে কেউ রইল
না। বাবাটাও কেমন যেন নিষ্টুর হয়ে গেল। মাসে
একবারও দেখা হয় কিনা তার মনে নেয়। একই ছাদের
নিছে বসবাস তবু যেন সেই চিরচেনা ছাদের নিছে এক
সাথে বসবাস করা মানুষগুলো কত দূরের।
দিবা হলুদ ডাইরিটা খুলে মায়ের ছবিটি তার হাতে
নিল। ছবিটা কেমন যেন ঝাপসা হয়ে গেল। নিজের
জামায় ছবিটি মুছে আবার চোখের সামনে ধরল। দুচোখ
বয়ে অশ্রুর অঢেল আনাগোনা। বাঁধ ভাঙ্গা বোবা
কান্না। কেউ শুনতে পায়না তার কান্না। একই ছাদের
নিছে বাস করেও কেউ তাকে বুঝল না, বুঝার চেষ্টাও
করল না। আপন বলতে তার কেউ নেই, সবাই থেকেও নেই।।
ডাইরিটা বন্ধ বুকে চেপে ধরে একবার তার রুমটি দেখে
নিল দিবা। এইত নীল রং। তার প্রিয় রং। মায়েরও প্রিয়
ছিল। মা ই তার মেয়ের রুমের দেয়ালে তার প্রিয় রং
একে দিল। কিন্তু আজ মা কত্ত দূরে।
হঠাৎ দিবার মনে হল তার প্রিয় রংয়ের দেয়ালটি তার
দিকে এগিয়ে আসছে। বিপরীত দেয়ালের সাথে এসে
মিলবে, উপরের ছাদ যেন ক্রমশ নিছে মেজের দিকে
তেড়ে আসছে। দুদিকের দুই দেয়াল মিলিত হচ্ছে
মাঝখানে দিবা।
মাথাটা চক্কর দিচ্ছে। পুরো পৃথিবী ঘুরছে। মা কে খুব
মনে পরছে তার। আর কোনো ফাঁদ নেই মার থেকে
আলাদা করার।
দিবা দুচোখ বন্ধ করে বলছে, "মা, আমি তোমার কাছে
আসছি মা, এইত এসে গেছি মা, আমি এসে গেছি".......
তারপর নিরবতা। স্বার্থপর পৃথিবীর কোনো দয়া নেই।
কেউ একজন চলে গেছে শুনেও এই স্বার্থপর পৃথিবীর চোখ
বেয়ে অশ্রু ঝরবে না। কারন তার থেকে হাজার হাজার
মানুষের আনাগোনা। কার জন্য কাঁদবে???
।।মনে পরে খুব।।
লেখা: গিটারের সুরে বাঁধা গোধলি

Address

DHAKA
Narayanganj
NARAYANGANJ

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Muxic posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share