29/10/2025
কোন প্রেক্ষিতে আপনার দেশের বাইরে যাওয়া উচিত বা উচিত না?
পাবলিক বাসে উঠার পর আমরা কিন্তু চাইনা নতুন কোন যাত্রী বাসে উঠুক।ঠিক তেমনি যারা দেশের বাইরে ইতিমধ্যে চলে গেছে তাদের মধ্যে কেউ কেউ চায় না আপনার এবং তার স্ট্যাটাস Same হোক।আবার কেউ কেউ মনে করে থাকে বাংলাদেশ থেকে অধিক পরিমাণে লোক আসলে হয়তো তার জবটি অন্য কেউ খেয়ে ফেলবে।এর প্রতিফলন গুলো আমরা দেখতে পাই যখন বিভিন্ন দেশ নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেই তখন যে কয়টা হা হা রিয়েক্ট পড়ে তার বেশিরভাগই দেশের বাইরে যারা থাকে তারাই দেয়।কমেন্টে এসে বলাবলি শুরু করবে জব নাই,বাসা ভাড়া পাওয়া যায় না,PR দেয় না ইত্যাদি ইত্যাদি নানান ধরনের সমস্যা।এই ধরনের সমস্যা কম বেশি সবাইকে ফেইস করতে হয় এটা True.কিন্তু এটাও তো আপনাকে মানতে হবে আমাদের এখানে পড়াশুনা শেষ করে একজন স্টুডেন্টকে জব পেতে কত টা বেগ পেতে হয়।মাস্টার্স শেষ করার পর একটা প্রাইভেট জব পেতে কারো করো ৬ মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত সময় লেগে যায়। আর Government জব যারা পায় তাদের কাছে একটু জিজ্ঞেস করে দেখেন কত বছর চাকরির পড়াশোনা করার পর তারা চাকরি টা পেয়েছে।তাহলে আমি আপনি যাওয়ার পরদিন থেকে জব না পেলে কেন পাগল হয়ে যাই!একটা নতুন দেশ, নতুন পরিবেশ ,নতুন মানুষজন,কিভাবে আপনি প্রত্যাশা করেন যাওয়ার পরদিন থেকেই চাকরি পাবেন।
চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে দুইটা বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।প্রথমত করো রেফারেন্স দ্বিতীয়ত হচ্ছে Language Skill.এই দুইটা যার আছে সে খুব দ্রুততম সময়ের ভিতরে চাকরি পেয়ে যায়।এখন PR এর কথা বলি।এই মুহূর্তে নিউজিল্যান্ড ছাড়া পৃথিবীর যে কোন দেশেই যান না কোন আর কোন দেশেই আপনি সহজে PR পাবেন না।Uk তে PR পেতে লাগবে ১০ বছর, সুইডেন, ডেনমার্কে কাগজে কলমে ৫ বছর কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন।Australia, USA তে কি অবস্থা সেটা যারা থাকে তাদের সাথে কথা বইলেন। কানাডার রুলস প্রতি নিয়ত কঠিন হচ্ছে।
কাজেই আপনি খুব সহজে PR পাবেন সেই প্রত্যাশাটা মাথা থেকে ফেলে দেন। এটা একটা Long Term Investment. দীর্ঘদিন সময়, শ্রম এবং মেধা Invest করার পর এটি ধরা দিবে।যে জিনিস পাওয়ার পর আপনার একটা পুরা প্রজন্মের ভাগ্য পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে সেটা তো এমনি এমনি আসার কথা না। বাইরে যাওয়ার আগে আমাদের যে জিনিসটা করতে হবে সেটা হচ্ছে আমাদের অতিরিক্ত প্রত্যাশা কমাতে হবে।বাইরে যাওয়ার পরদিন থেকে জব পেয়ে
যাবো,ডলার দেশে পাঠাতে পারবো এত Over expectation রাখবেন না।বিদেশ মানেই রাতারাতি ভাগ্যের উন্নয়ন নয়।তবে হ্যাঁ একটা নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পর অর্থবিত্ত, PR সবই ধরা দিবে।আপনার চারপাশে তাকান যারাই বাইরে গেছে তাদের অধিকাংশেরই ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটেছে।
আরেকটি পরামর্শ হলো যারা দেশের বাইরে যাওয়ার প্ল্যান করছেন তারা Financially কতটা স্ট্রং সে বিষয়টা বিবেচনা করে এরপর সিদ্ধান্ত নিবেন।একেবারে শূন্য হাতে কখনোই বিদেশ যাওয়া চিন্তা মাথায় আনবেন না।আপনি যে দেশেই যান না কেন হাতেগোনা ২/১ টা দেশ ছাড়া অধিকাংশ দেশেই টিউশনটির বড় একটি অংশ কিন্তু ফ্যামিলি থেকে সাপোর্ট নিয়ে দিতে হবে।আপনি যদি South Korea, USA, Australia,Denmark,Sweden ,Canada,Uk, Malaysia, এই সব দেশের কথা ধরেন সেখানে এক সেমিস্টারের টিউশন ফি দিয়ে যেতে পারলেও পরের সেমিস্টারের পুরো টিউশন ফি যে আপনে ইনকাম করে দিতে পারবেন সেটার গ্যারান্টি দেওয়া যায় না ।কারণ নতুন একটি দেশে গিয়েই যে জব পাবেন সেটার Guarantee দেওয়া যায় না। কারো কারো চাকরি পেতে দুই মাস লেগে যেতে পারে।সেক্ষেত্রে পরের সেমিস্টার আসার আগে আপনি হয়তো কাজ করার সুযোগ পাবেন ৪ মাস । এখন চিন্তা করে দেখেন এই চার মাসে আপনে নিজের থাকা খাওয়া বাদে বাকি টিউশন ফি দেওয়াটা কতটা চ্যালেঞ্জিং হবে। তবে এটাও সত্য এর মধ্যে আবার কেউ কেউ ম্যানেজও করে ফেলে। সেই সংখাটা খুব বেশি না।
সুতরাং এই দেশগুলোর কথা বিবেচনা করলে আপনাকে বাজেটের বিষয়টা মাথায় রেখে এরপর আগাতে হবে। কেউ কেউ বলার চেষ্টা করে শুধুমাত্র IELTS এর একটি স্কোর হলেই আপনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন।না শুধু
একটা স্কোর হলেই আপনি বাইরে যেতে পারবেন না ।এর সাথে অবশ্য অবশ্যই বাজেট এর বিষয়টিও আপনাকে আমলে নিতে হবে।তবে হ্যাঁ যদি আপনার IELTS এ ভালো একটি score থাকে তাহলে আপনার মনোবল বাড়বে এবং আপনি বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে অন্যদের থেকে একধাপ এগিয়ে যাবেন ।এই কথাগুলো দিয়ে আমি কাউকে বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করছি না আবার কাউকে Motivated ও করছি না।তবে এটা বলতে পারি আপনি যেখানেই যান ,যত কষ্টই হোক এখানকার থেকে ভালো থাকবেন। এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব আপনার.