03/04/2026
একবার চোখ বন্ধ করে কল্পনা করুন
ইরানে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে হঠাৎ করেই আপনার দেশ অন্ধকারে ডুবে গেছে। সবকিছু থেমে গেছে। শহর, গ্রাম সব জায়গায় এক অচল অবস্থা।
শুনতে অবাস্তব লাগছে, তাই না?
কিন্তু বাস্তবতা ঠিক এতটাই কঠিন হতে পারে।
সম্প্রতি The Telegraph-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের এক সরকারি কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন
“এই পরিস্থিতি যদি আরও কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হয়, দেশ কার্যত অচল হয়ে পড়বে।”
অন্যদিকে, একদিন আগেই সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল
“জ্বালানির কোনো সংকট নেই।”
কিন্তু এর ঠিক পরদিন The Independent-এর প্রতিবেদনে উঠে আসে ভিন্ন চিত্র
একই সরকারের আরেক কর্মকর্তা জানাচ্ছেন,
“বর্তমান অবস্থা অন্তত সংকটাপন্ন। হাতে জ্বালানি আছে মাত্র ৯–১০ দিনের।”
মার্চের শেষ দিকে বাংলাদেশের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে প্রায় ৮০ হাজার টন অপরিশোধিত তেল মজুত ছিল—যা ছিল মাত্র দুই সপ্তাহের জন্য যথেষ্ট। সময়ের সাথে সেই মজুদ দ্রুত কমে আসছে। ডিজেলের অবস্থাও প্রায় একই।
সরকার চেষ্টা থামায়নি।
ভারত থেকে পাইপলাইনে তেল আনা হয়েছে, বিভিন্ন দেশ থেকে এলএনজি কার্গো এসেছে।
এমনকি ঘরের গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে প্রায় আড়াই গুণ দামে এলএনজি কিনতে হচ্ছে।
একজন কর্মকর্তা স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন
“এইভাবে কেনাকাটা করতে গিয়ে আমাদের রিজার্ভ ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আর কোনো বিকল্প নেই।”
রাশিয়া থেকে ৬ লাখ টন ডিজেল আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।
এছাড়াও সিঙ্গাপুর, কাজাখস্তান, মালয়েশিয়া, আজারবাইজান, নাইজেরিয়া সব দিকেই চেষ্টা চলছে।
কিন্তু শুধু জ্বালানি জোগাড় করাই এখন চ্যালেঞ্জ না
উচ্চমূল্যে কিনতে গিয়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও দ্রুত কমে যাচ্ছে।
আজ হয়তো আপনি পাম্পের সামনে লম্বা লাইন দেখে অবাক হচ্ছেন,
কিংবা কোথাও মানুষকে রাত কাটাতে দেখলে হাসছেন।
কিন্তু যদি এই সংকট দীর্ঘায়িত হয়
তাহলে সামনে যা আসতে পারে, তা অনেক বেশি কঠিন।
জ্বালানি না থাকলে যানবাহন বন্ধ হয়ে যাবে।
অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ সবকিছু থেমে যাবে।
হয়তো শুধু হাসপাতাল ও জরুরি সেবাগুলো চালু রাখা হবে সীমিতভাবে।
সবচেয়ে বড় ভয়টা অন্য জায়গায়
যদি শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যায়,
তাহলে দেশের অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা খাবে।
রিজার্ভ আরও কমে যাবে, এবং ধীরে ধীরে একটি বড় অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে দেশ।
এটা শুধু একটি দেশের সমস্যা না
পুরো বিশ্বই এখন একই সংকটের মুখোমুখি।
সম্প্রতি ৩৫টি দেশ একত্র হয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করতে
কিভাবে Hormuz Strait আবার সচল করা যায়।
মাত্র ২১ মাইলের এই ছোট্ট সমুদ্রপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাব দেখুন
বিশ্বে তেলের দাম বেড়েছে ৫০–৫৫%
খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে প্রায় ২০%
ইউরিয়া সারের দাম বেড়েছে ৫০%
এলএনজির দাম বেড়েছে ৩০–৪০%
ভাবুন, কী ভয়াবহ পরিস্থিতি!
বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেলের মজুদ থাকা সত্ত্বেও Venezuela বা Cuba-এর মতো দেশও জ্বালানি সংকটে অন্ধকারে ডুবে গেছে।
আজকের পৃথিবীতে অর্থনীতি, খাদ্য, জ্বালানি—সবকিছুই একে অপরের সাথে গভীরভাবে যুক্ত।
একটি জায়গার অস্থিরতা পুরো বিশ্বের ভারসাম্য নষ্ট করে দিতে পারে।
সবচেয়ে কঠিন সত্যটা হলো
এই পরিস্থিতির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখন কারও হাতে নেই।
তাই এখনই সময় সচেতন হওয়ার,
বাস্তবতা বোঝার,
এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হওয়ার।
(ছবিটা হয়তো Ai দিয়ে করা কিন্তু বাস্তবতা বেশি দুর না)