23/06/2021
একটু থামেন লাইক দিচ্ছেন দেয়ার আগে পোস্টটি ভালো করে পড়ে নিন।
আপনাকে বলছি আইডি সুরক্ষিত রাখতে চান তাহলে কয়েক বার পড়ুন।এবং কাজে লাগান।
আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখবেন যে ভাবে।
(১) আপনার আইডির পাসওয়ার্ড হিসেবে দুর্বল পাসওয়ার্ড যেমনঃ সাধারণ ও কমন পাসওয়ার্ড পরিহার করুন। পাসওয়ার্ড শক্তিশালী করতে পাসওয়ার্ডে Capital letter, Small letter, Number & Symbol মিলিয়ে জটিল শক্তিশালী পাসওয়ার্ড তৈরি করুন। আট ক্যারেক্টারের নীচে পাসওয়ার্ড না হওয়াই উত্তম। তবে অনেক সাইবার বিষেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে এমন অনেক সফটওয়ার রয়েছে যেগুলো দিয়ে জটিল শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ভেঙ্গে ফেলা সম্ভব। সেজন্য Two Factor Authentication চালু করাই উত্তম।
(২) ফিসিং সাইট হতে বাঁচার জন্য যদি আপনার ফেসবুকে যে কোনো অপরিচিত ই-মেইল লিঙ্ক আসে, সেটা মেসেঞ্জারের মাধ্যমেও হতে পারে-সেটা এড়িয়ে চলুন। কোনোভাবেই অপরিচিত লিঙ্কে ক্লিক করবেন না।
(৩) Two factor Authentication হচ্ছে সবচেয়ে কার্যকরী ধাপ। এই সেটিংস করে রাখলে হ্যাকার আপনার ফেসবুকের পাসওয়ার্ড জানলেও আপনার ফেসবুকে ঢুকে আপনার আইডির নিয়ন্ত্রন নিতে পারবে না। কেননা আপনার অ্যাকাউন্টে যদি কেউ অন্য ডিভাইস থেকে লগইন করার চেষ্টা করে তাহলে এই Two factor Authentication চালু রাখার ফলে আপনার মোবাইলে বা ই-মেইলে একটা কোড নোটিফিকেশন আসবে। একমাত্র সেই কোড ঢুকালেই আপনার আইডি খুলবে এবং এই কোড শুধুমাত্র আপনার মোবাইলেই আসবে। কাজেই কোনো হ্যাকার যদি সেই কোড না ঢুকাতে পারে তখন আপনি জানতে পারবেন আপনার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে অনেক সময় এই কোড মোবাইলে আসতে মাঝে মাঝে সময় অনেক বেশী নেয়, ফলে কোডের অপেক্ষায় বসে থাকা ছাড়া উপায় থাকেনা। তবে এক্ষেত্রে আরেকটি পদ্ধতি আছে যেটা খুবই কার্যকরী। সেটা হচ্ছে App Passwords। আমি App Passwords পদ্ধতিই চালু করে রেখেছি। প্রথমেই আমি আপনাদের Use two factor authentication পদ্ধতি চালু করার নিয়ম জানিয়ে দিচ্ছি-
facebook > setting > Security and Login > Two-Factor Authentication > Use two-factor authentication > Authentication App অথবা Text Message (SMS) > on
প্রথমে ফেসবুকের Settings-এ যেতে হবে। Settings ক্লিক করার পর যে উইনডো আসবে সেখানে সামান্য নিচে Security and Login পাবেন, সেটাতে ক্লিক করতে হবে। তাহলে আপনি Two-Factor Authentication পাবেন। এখানে তিনটি অপশন আছে, যেমনঃ
Use two-factor authentication
Authorized Logins
App passwords
আপনি ১ম অপশন Use two-factor authentication ক্লিক করবেন। এবার আপনার নিকট ফেসবুক পাসওয়ার্ড চাওতে পারে। আপনার পাসওয়ার্ড দিন। Two-Factor Authentication এখন On করে দিন। এরপরে আপনি আবারও তিনটি অপশন পাবেন, যেমনঃ
Text Message (SMS) অপশন
Authentication App
Recovery Codes
আপনি Use two-factor authentication-এর Text Message (SMS) অপশনে ক্লিক করলে ছবিতে দেয়া ১ম স্ক্রীনশটের মতো ভেসে উঠবে। সেখানে আপনাকে একটি মোবাইল নাম্বার এড করতে বলবে অথবা আপনি যদি আগে থেকেই আপনার ফেসবুক আইডিতে মোবাইল যোগ করে থাকেন সেটা show করবে। এখন সেই নাম্বার চয়েস করে continue বাটনে ক্লিক করলে আপনার মোবাইলের সেই নাম্বারে একটি ছয় অক্ষরের OTP পাসওয়ার্ড বা কোড চলে আসবে। আপনি সেই কোড আপনার ফেসবুক আইডিতে বসালেই কেবল আপনার ফেসবুক প্রোফাইল খুলবে--নতুবা নয়।
আপনি যদি ২য় অপশন Authentication App সিলেক্ট করেন, তাহলে এটাকে ব্যবহারের জন্য গুগল প্লে স্টোর থেকে একটি অ্যাপ Google Authenticator or Duo Mobile ইন্সটল করতে হবে আপনার মোবাইলে। তারপর আপনার ফেসবুকে Use Authentication App-এ ক্লিক করলে ছবিতে দেয়া স্ক্রীনশটের মতো QR code ভেসে উঠবে। আপনার মোবাইলে ইন্সটল করা Google Authenticator or Duo Mobile এপটি খুলে ডানে নিচে দেখবেন + চিহ্ন আছে, সেটাতে ক্লিক করলেই Scan QR Code লেখা আসবে। সেটাতে ক্লিক করলেই একটা ঘরের মতো চারিদিকে বর্ডার করা অপশন আসবে। সেই বর্ডার করা ঘরটা আপনার পিসিতে ফেসবুক আইডির Two Factor Authentication-এর QR Code-এ ধরলেই অটো সিলেক্ট করে নিয়ে আপনাকে একটি কোড দিবে মোবাইলের Google Authenticator or Duo Mobile এপে। সেই কোড আপনি আপনার ফেসবুক একাউন্টে বসালেই আপনি শুধু ফেসবুক লগইন করতে পারবেন। কাজেই এটি করতে পারলে হ্যাকাররা কোনোদিনই আপনার আইডি হ্যাক করতে পারবে না।
Authentication App-এর মাধ্যমে সেট আপ করতে হলে প্রথমে একটি পিসি এবং আরেকটি মোবাইল হলে ভালো হয়। আপনি পিসি দিয়ে আপনার ফেসবুক আইডিতে ঢুকে Two Factor Authentication-এর Authentication App-এ ক্লিক করবেন, আর একটি মোবাইল দিয়ে আপনি Google Authenticator or Duo Mobile এপ খুলে সেখান থেকে ঢুকে QR Code পিসি থেকে স্ক্যান করে নিয়ে আসবেন। প্রসেসটি কঠিন মনে হলেও আপনি একটু চেষ্টা করলেই পেয়ে যাবেন। তারপরেও যদি সমস্যা মনে হয় আমাকে কমেন্ট করে জানায়েন। একটু কষ্ট করে আমরা যদি এই সেটিং-টা করে নিতে পারি তাহলে সারাজীবনের জন্য আপনার আইডি সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবে।
তবে এক্ষেত্রে আমি উপরের দুটি অপশনের মধ্যে ২য় অপশনটিকেই বেছে নিতে অনুরোধ করবো। কারণ ১ম অপশনের মাধ্যমে ফোন নাম্বার ব্যবহার করলে অনেক সময় ইউনিক কোডটি পেতে দেরী হয়--কখনও বা কয়েক ঘন্টা লেগে যেতে পারে কোডটি পেতে। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে আমি বলছি। এক্ষেত্রে Google Authenticator or Duo Mobile এপটির অন্যতম সুবিধা হলো আপনি যে কোনো নতুন ডিভাইস থেকে আপনার আইডিতে আপনার ফেসবুক পাসওয়ার্ড দেওয়ার পরে লগইন করলে আপনার ফোনের Google Authenticator or Duo Mobile-এ একটি ইউনিক OTP কোড চলে আসবে কোনো ইন্টারনেট কানেকশন ছাড়াই। এক্ষেত্রে ১ম অপশটার মতো কোড আসতে কোনো দেরী হয়না। সেই কোড বসালেই আপনার ফেসবুক আইডিতে সাথে সাথে ঢুকতে পারবেন।
আরেকটি কথা কোনো কারণে যদি আপনার Google Authenticator or Duo Mobile অ্যাপ কাজ না করে অথবা আপনার মোবাইলের সিম কোনো কারণে বন্ধ হয়ে গেলে কোড পাওয়া নিয়ে সমস্যায় পড়তে পারেন। সেক্ষেত্রে আপনি যদি Two-Factor Authentication-এর আরেকটি অপশন Recovery Codes-এর অপশন থেকে ১০টি ইউনিক সিকিউরিটি কোড ডাউনলোড করে নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করে রাখেন, তাহলে সেই ১০টি কোডের যে কোনো একটি ব্যবহার করে আপনি ফেসবুক আইডিতে প্রবেশ করতে পারবেন। তাহলে ১০টি কোড কীভাবে পাবেন?
Use two-factor authentication > Recovery Codes > Download
(৪) Trusted Contact এড করুনঃ আপনার পরিবারের ফেসবুক ফ্রেন্ড বা কাছের মানুষের ফেসবুক আইডিকে Trusted Contact-এ এড করে আপনি ফেসবুক আইডি নিরাপদ রাখতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনি ৩-৫ জন কাছের মানুষের ফেসবুক আইডিকে যোগ করতে পারেন। যদি আপনার ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়ে যায় তাহলে এই কাছের মানুষ যাদেরকে আপনি Trusted Contact-এ এড করেছিলেন তাদেরকে বলতে হবে Facebook.com/recover এই লিঙ্কে যেতে। তারা সেখানে আপনার আইডি রিকভার করার জন্য কোড পাবে। আর সে কোড ব্যবহার করেও আপনি আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট রিকভার করতে পারবেন। তাহলে কীভাবে Trusted Contact-এ ফ্রেন্ডের ফেসবুক আইডি যোগ করবেন?
Settings-এ ক্লিক করে আগের মতোই Security and login ক্লিক করলে নিচের দিকে দেখতে পাবেন Setting up extra security-এর অধীনে Choose 3 to 5 friends to contact if you are locked out অপশন আছে। সেখানে গিয়ে Choose friends ক্লিক করুন। নতুন উইনডো Choose Trusted Contacts আসবে। সেখানে আপনি যেসকল কাছের বন্ধুদের এড করবেন তাঁদের ফেসবুকে ব্যবহৃত আইডির নাম টাইপ করুন। দেখবে তার ছবিসহ আইডির নাম এসে হাজির হবে--আইডির নামের বা ছবির উপর ক্লিক করুন। এভাবে ৩ থেকে ৫ জন বন্ধু সিলেক্ট করে Confirm ক্লিক করুন। ব্যস হয়ে গেল।
Settings > Security and login Choose > 3 to 5 friends to contact if you are locked out > Choose friends > Choose Trusted Contacts > Confirm
(৫) অন্য কারোর ডিভাইস থেকে ফেসবুক ব্যবহার করে লগআউট করার পর ঐ ডিভাইসের ব্রাউজারের history, Cookies, Cashes, Saved Password ক্লিয়ার করে ফেলুন।
(৬) পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার করলে তাকে একটিভ করতে ক্র্যাক ফাইল ব্যবহারের সময় দেখেশুনে আরো সতর্ক হয়ে এগোবেন।
(৭) আপনার কম্পিউটারে অথবা মোবাইলে USB হিসেবে পেনড্রাইভ অথবা মেমোরি কার্ড ব্যবহার করলে সুরক্ষিত থাকার জন্য pendrive কম্পিউটারে প্রবেশ করিয়ে scan করবেন এবং pendrive-এ কোন batch file দেখলে ক্লিক করবেন না।
(৮) ফেসবুক আইডিতে যে ই-মেইল ব্যবহার করবেন সেই ই-মেইলের পাসওয়ার্ড আর ফেসবুক অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড একই দিবেন না। কারণ হ্যাকাররা যখন আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে তার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিবে, তখন সে প্রথমেই আপনার সংযুক্ত করা ফেসবুক ই-মেইলের পাসওয়ার্ড চেঞ্জ করে ফেলবে। তখন আপনি আর ঐ ই-মেইলের নিয়ন্ত্রণও হারাবেন। অথচ আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হবার পর ঐ ই-মেইল দিয়েই আপনি আপনার ফেসবুক আইডিকে ফিরে পাবার সম্ভাবনা থাকতো।
ফেসবুক নিরাপদ রাখতে হলে ফেসবুক ব্যবহারে আরো কিছু সচেতনতা অবলম্বন করা দরকার। যেমনঃ
(১) Get alerts about unrecognised logins অপশনে আপনি Notifications, Messenger, Email-এ ১ম অপশন চয়েস দিয়ে রাখবেন মানে Get notifications দিয়ে রাখবেন।
(২) আপনার আইডি হ্যাক হবার পর রিকভার করতে গেলে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ ভিকটিমের আইডি কার্ডের ছবি চায়। কিন্তু আপনার আইডি কার্ডে যে নাম ও জন্মতারিখ আছে তার সাথে ফেসবুকে দেয়া নাম ও জন্মতারিখ যদি না মিলে তাহলে আইডি রিকভার করা সম্ভব হয় না। এজন্য অবশ্যই আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রে যে নাম ও জন্মতারিখ দেয়া আছে তা হুবহু ব্যবহার করুন।
(৩) আপনার জন্মতারিখ সব সময় হাইড করে রাখুন। কারণ আপনার নাম ও জন্মতারিখ দেখে এক ধরণের হ্যাকার আছে তারা আপনার নাম ও জন্মতারিখের সাথে মিল রেখে মিথ্যা পরিচয়পত্র তৈরি করে আপনার মতোই ডুপ্লিকেট আইডি তৈরি করে আপনার মূল ফেসবুক আইডির কট্রোল নিয়ে নিতে চেষ্টা করবে। তাই কখনই আপনার জন্মতারিখ ওপেন রাখবেন না।
(৪) আপনার মেসেঞ্জারে আস কোনো অপরিচিত লিঙ্কে ক্লিক করবেন না। তবে একান্তই ক্লিক করার প্রয়োজন মনে হলে ভালোভাবে জেনে বুঝে তারপর ক্লিক করবেন।
(৫) ইমেইল এবং ফোন নম্বরের প্রাইভেসি সর্বদাই Only Me করে রাখবেন।
আসা করি সবার উপকারে আসবে এবং আইডি সুরক্ষিত থাকবে।
ধন্যবাদ সবাই কে।