আজও ভালবাসি তোমায়, ফিরে আস হৃদয় এ।

  • Home
  • Bangladesh
  • Rangpur
  • আজও ভালবাসি তোমায়, ফিরে আস হৃদয় এ।

আজও ভালবাসি তোমায়, ফিরে আস হৃদয় এ। Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from আজও ভালবাসি তোমায়, ফিরে আস হৃদয় এ।, Rangpur.

~তুমিময়_নেশায়_আসক্ত  #পর্ব- ৮~Jannatul_ferdosi_rimi ❣️' আমাদের প্রফেসর এয়ারসি তোর নিজের বর? এতোদিন এই কথাটি কেন লুকিয়েছি...
01/06/2024

~তুমিময়_নেশায়_আসক্ত
#পর্ব- ৮
~Jannatul_ferdosi_rimi ❣️
' আমাদের প্রফেসর এয়ারসি তোর নিজের বর? এতোদিন এই কথাটি কেন লুকিয়েছিলে তুই?'
জয়িতার প্রশ্নে রিমি চুপ হয়ে যায়। অয়নের কেবিনে অয়নের এমন উদ্ভুট পাগলামি দেখে সেখানে আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারেনা রিমি। দ্রুত পায়ে অয়নের কেবিন থেকে বেড়িয়ে যায় সে। অয়ন কেন যেন রিমিকে আটকায়নি। শুধু চেয়ারে বসে রাগে ফুশফুশ করেছে। রিমি কেবিন থেকে বেড়োতেই রিমির দিকে জয়িতা প্রশ্ন ছুড়ে মারে। রিমি কিছুক্ষন চুপ থেকে জয়িতার হাত ধরে হসপিটালের বাইরের কেন্টিনে নিয়ে আসে। সেখানে দুইজন গিয়ে বসে পড়ে। জয়িতার মনে অনেক প্রশ্ন অনেক কৌতহল তা জয়িতাকে দেখে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে। রিমি সুদীর্ঘশ্বাস ফেলে শুরু থেকে সব খুলে বলে জয়িতাকে। সব শুনে জয়িতা মুখ হাত দিয়ে কিছুক্ষন বসে থাকে।অতঃপর উঠে দাঁড়িয়ে রিমির পাশে বসে রিমির হাতখানা শক্ত করে ধরে বলে,
' এতোকিছু হয়ে গেলো অথচ আমি কিছুই জানিনা?
তুই আমাকে বেস্টফ্রেন্ড বলিস অথচ কিচ্ছুটি বললি না? '
' সবকিছু এতেটা দ্রুত হয়ে গেলো যে তোকে আমি সবটা গুছিয়ে উঠে বলতেই পারেনি। আমি সত্যি অনেকটা শকড হয়ে পড়েছিলাম। ভাগ্য যে আমাকে এখানে দাঁড় করাবে আমি কখনো ভাবেনি। '
জয়িতা রিমির কথা শুনে কিছুটা উৎফুল্ল হয়ে রিমির গলা জড়িয়ে ধরে বলে,
' কিন্তু একটা জিনিস ভালো কি হয়েছে জানিস?
দ্যা গ্রেট হার্ট সার্জন ডক্টর এয়ারসি আমার জিজু হয়। ইসস জিজু যখন তোর পরিচয় সবার সামনে দিলো তখন শকড হলেও আমি বেশ খুশি হয়েছিলাম রে। মেয়েগুলো অবস্হা দেখলে তোর হাঁসি পেতো রে। '
জয়িতা হয়তো উৎসাহিত হয়ে আরো কিছু বলতে চাচ্ছিলো কিন্তু তাতে ব্যাঘাত ঘটিয়ে মুখে সম্পূর্ন গম্ভীরতা এটেঁ রিমি বলে,
' তোকে তো আমি আগেও বলেছি আমাদের বিয়েটা সাময়িক। আমার সম্মান রক্ষার্থে রুহানা চৌধূরী অয়ন চৌধুরীর সাথে আমার বিয়েটা করিয়েছিলেন।
কয়েকদিন বাদে আমাদের ডিভোর্স তারপরই বিখ্যাত মডেল পায়েলের সাথে ডক্টর এয়ারসি ওরফে অয়ন চৌধুরীর বিয়ে। '
জয়িতা আর কিছু বলতে পারলো না রিমিকে। আপনমনে বিড়বিড় করতে করতে বলতে লাগলো,
' জিজু যদি অন্য কাউকে বিয়ে করবে কয়েকদিন পরে তাহলে জিজু তোর প্রতি এতোটা পসিসিভ হচ্ছে কেন? তোকে কেউ টাচ করলে জিজু কেন সহ্য করতে পারেনা? তোর মনে কি প্রশ্ন জাগে না রিমি? '
জয়িতার মতো হয়তো রিমির মনের কুঠিয়েও প্রশ্নগুলো জমাট বেধে রয়েছে কিন্তু রিমি চাইলেও তার বহিঃপ্রকাশ করতে পারছে না। অয়ন লোকটা আসলেই চাইছে টা কী।
_____
অয়ন নিজের কেবিনে ইজি চেয়ারে বসে কপালে হাত রেখে কিছু একটা ভেবে চলেছে প্রতিক্ষন। মাথায় ধপ করে আগুন জ্বলে উঠছে তার।
অয়ন চাইলেও রাগটা সংযত করতে পারছে না। তাইতো রিমিকে তখন কেবিন থেকে যেতে দিয়েছিলো। কেননা অয়ন কিছুতেই চায়না তার দ্বারা রিমির কোনপ্রকার ক্ষতি হোক। অয়ন উঠে দাঁড়িয়ে তার কেবিনের পাশে ছোট্ট টেবিলের ড্রয়ার থেকে দ্রুত একটা ওষুধ নিয়ে খেয়ে ফেলে। অতঃপর চেয়ারে ধপ করে চোখ বন্ধ করে বসে পড়ে। অয়ন কিছুটা শান্ত হয় কিন্তু তবুও বার বার শুধু তার মাথায় একটা বিষয়ই ঝটলা পাকাচ্ছে রিমিকে অন্য কেউ স্পর্শ করেছে।সেই অন্য কাউকে নিঃশ্বেষ করে দিবে অয়ন। অয়ন কথাটি ভেবে আনমনেই বাঁকা হাসে। মেঝেতেই পড়ে আছে তার আইফোনটি।যা কিছুক্ষন আগে দেয়ালে ছুড়ে ফেলেছিলো। অয়ন উঠে দাঁড়িয়ে ফোনটি হাতে নিয়ে টেবিলে রেখে দিয়ে
কেবিন থেকে বেড়িয়ে যায়।
_______
অয়নকে অনেক্ষনযাবত ফোন করে যাচ্ছিলো রুহানা চৌধুরী। চতুর্থবার ফোন করাতে ফোনের অপাশ থেকে শুনতে পায় মেয়েলি গলায় কেউ বলছে,
' আপনার ডায়ালকৃত নাম্বারটি এই মুহুর্তে সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। '
অর্থাৎ অয়নের নাম্বার বন্ধ। রুহানা চৌধুরী কিছুটা চিন্তিত হয় বটে। অয়ন তো কখনো এমনটি করেনা। তিনি ফোন করার সঙ্গে সঙ্গে ফোন রিসিভ করে ফেলে অয়ন। কিন্তু আজ কি এমন হলো?
' কি হলো গ্রেন্ডমা? অয়ন ফোনটা ধরলো? '
রুহানা চৌধুরীর থেকে কোনপ্রকার জবাব না পেয়ে আশাহত হলো পায়েল। উঠে দাঁড়ালো সে।
' কোথায় যাচ্ছো তুমি? '
'অয়নের হসপিটালে যাচ্ছি। কয়েকদিন বাদে অয়নের সাথে বিয়ে কিন্তু অয়ন এইভাবে আমাকে
ইগ্নোর করে যাচ্ছে। যা আমি মোটেও সহ্য করতে পারছি না গ্রেন্ডমা। সো আমি যাচ্ছি। '
কথাটি বলে এই মুহুর্তও দাঁড়ায় না পায়েল। গটগট পায়ে বেডিয়ে যায় রুহানা চৌধুরীর অফিস থেকে।
রুহানা৷ চৌধুরী চাইলেও আটকাতে পারেনা পায়েলকে।
______________
রিমি এবং জয়িতা হসপিটালের করিডোরে বসে নিজেদের মধ্যে কথা বলছিলো তখনি শুনতে পায় ডক্টর আসিফের অবস্হা নাকি বেশ খারাপ।
হসপিটালে ভর্তি হয়ে রয়েছে। রিমি এবং জয়িতা তাড়াতাড়ি করে আসিফের কেবিনের সামনে উপস্হিত হয়। সেখানে আরো কয়েকজন স্টুডেন্ট উপস্হিত হয়। ভিতরে অজ্ঞান অবস্হায় পড়ে আছে
আসিফ। মুখে অক্সিজেন এর মাস্ক। ডক্টররা চেকাপ করছে তাকে। জয়িতা একজনের কাছে প্রশ্ন করে জানতে পারে আসিফের হাতে যেই চাকুটি নিক্ষেপ করা হয়েছিলে সেই চাকুতে একপ্রকার বিষ ছিলো। যার বিষ ছড়িয়ে পড়েছে আস্তে আস্তে ডক্টরের আসিফের সর্বাঙ্গে। রিমি নিজেরই মাথাটা ঝিম ধরে যাচ্ছে। সে জানতো এমন কিছুই একটা করবে অয়ন। অয়ন তো উম্মাদ পাগল। মানুষকে মেরে ফেলতে তার হাত-পা কাঁপেনা।
_________________
অয়ন নিজের গাড়ির পাশে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো। রিমিকে তার দিকে এগিয়ে আসতে দেখে ঠোটের কোণে বাঁকা হাসি ফুটে উঠে তার। রিমি সেই হাঁসি দেখে কিছুক্ষন এর স্হীর হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে। লোকটার ফর্সা মুখশ্রীতে বাঁকা হাসি যেন লোকটার সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলে দ্বিগুনভাবে। নিজের উটকো ভাবনায় নিজেকেই দোষারপ করতে লাগল রিমি। এগিয়ে গেলো তার সামনে থাকা সাদা এপ্রোন পরিহিত সুদর্শন যুবকের দিকে। উদ্দেশ্য কয়েকটি কড়া কথা শুনানো। রিমি যুবকটির সামনে দাঁড়িয়েই তিক্ততার সুরে বলতে লাগলো,
' আপনি কী আদোও মানুষ নাকি সাইকো আপনি কোনটা? সামান্য একটা চিঠি দিয়েছে বলে আপনি লোকটার এমন অবস্হা করবেন? লোকটার তো জীবন -মরণ অবস্হা হয়ে রয়েছে। কি এমন করেছেন উনি? খুন নাকি ডাকাতি? '
রিমিকে আরো কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে, রিমির মুখ চেপে ধরে অয়ন দাঁতে দাঁত চেপে ধরে বলে,
' তার থেকেও বড় অন্যায় করেছে ওই রাস্কেলটা।
অয়ন চৌধুরীর রিমিপরীর দিকে হাত বাড়িয়েছে। এখনো যে নিঃশ্বাসটুকু নিচ্ছে এইটাই ওর সৌভাগ্য। '
রিমি ভালো করে লক্ষ্য করে দেখতে পারলো কথাগুলো বলার সময় অয়নের ললাটের রগ গুলো কেমন ফুলে উঠেছে যা ফর্সা কপালে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে। আখিজোড়া টকটকে লাল। অয়নের ভয়ংকর মুখশ্রী দেখে অয়নের থেকে রিমি নিজেকে ছাড়িয়ে খানিকটা দূরে সরে গিয়ে ভয়ার্থ সুরে বলে,
' আমি বাড়ি যাবো। '
রিমি কথাটি বলে সামনের দিকে পা বাড়ালে নিলে,পিছন থেকে অয়ন খুব শান্ত গলায় বলে,
' গাড়িতে উঠে পরো রিমিপরী। '
রিমি শুনলো না বরং বড় বড় পা ফেলে সামনের দিকে পা বাড়ালো। অয়ন রিমির কাজে ভিষন রেগে যায়। অয়ন চৌধুরীর কথাতে অবাধ্য হওয়ার গুরুতর অপরাধ করেছে রিমি। তার শাস্তি তো রিমিকে পেতেই হবে। অয়ন বাঁকা হেসে গাড়িতে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।
_______________
পায়েল অয়নের কেবিনে সামনে দাঁড়াতেই একজন মেয়ে নার্স এসে বলে,
' কাকে চাই ম্যাম? '
' ডক্টর এয়ারসিকে। আমি পায়েল রুজানা। নিশ্চই চিনেছেন? ডক্টর এয়ারসির হবু স্ত্রী। কোথায় এখন অয়ন? '
নার্স পায়েলের কথায় কিছুটা না বেশ অনেকটাই অবাক হয়। অবাকের সুরে বলে উঠে,
' কিন্তু ম্যাম উনি তো কিছুক্ষন আগেই উনার ওয়াইফ এর সাথে বেড়িয়ে গেলেন। '
পায়েল চিৎকার করে বলে,
' ওয়াট? '
___________
রিমি অনেক্ষনযাবত রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে। বার বার অটো কিংবা রিক্সাকে দাঁড়াতে বলছে কিন্তু তারা বরাবরই রিমিকে উপাক্ষান করে নিজেদের গন্তব্যের দিকে রওনা হচ্ছে। রিমি আশাহত হয়। আজ এমনটা হচ্ছে কেন? কেউই যেতে রাজি হচ্ছে না। সময় যত পেড়িয়ে যাচ্ছে তত রাত গভীর হচ্ছে। রিমির এইবার খানিক্টা ভয় হতে শুরু হলো। সামনের দিকে ধীর পায়ে পা বাড়াতে নিলে,পিছন থেকে কেউ তার হাত টেনে গাড়িতে বসিয়ে গাড়ির দরজা বন্ধ করে দেয়। হঠাৎ এমন আচরণে রিমি কিছুটা ভয় পেয়ে যায়। ঘাড় ঘুড়িয়ে অয়নকে দেখে সস্হির নিঃশ্বাস নেয়। পরক্ষনে আরেকদফা ভয় হতে শুরু করে। কেননা
অয়ন চোখমুখে ভয়ংকর রাগ ধারণ করে রেখেছে। রিমি অয়নের দিকে প্রশ্ন নিক্ষেপ করে বলে,
' কেউ আমাকে পৌঁছে দিতে চাইছিলো না কেন?
এইটাও নিশ্চয় আপনার কাজ? '
অয়ন রিমির কথার প্রেক্ষিতে হাত ভাজ করে বলে,
' এই না হলে ডক্টর এয়ারসির ওয়াইফ। সবকিছু বুঝে যাও তুমি। ডক্টর এয়ারসির ক্ষমতা সম্পর্কে তোমার
অনেক ধারনা নিতে হবে রিমিপরী। তুমি বড্ড বেশি অবাধ্য হয়ে যাচ্ছো। যারা ডক্টর এয়ারসির অবাধ্য হয় তাদের কিন্তু কঠিন থেকে কঠিনতম শাস্তি পেতে হয়। '
রিমি ঘামতে শুরু করে দেয়। এই সাইকো লোকটা আবার তাকে কি কঠিন শাস্তি দিবে?.............চলবে কী?
[ কেমন হয়েছে অবশ্যই জানাবেন। পারলে সবাই একটু ঘটনমূলক কমেন্ট করবেন 🙂। আমার জন্যে
একটু দোয়া করবেন। আমি কিছুটা অসুস্হ। ]

19/04/2023

হাদিসে এসেছে, "যে বিষয়টি মানুষকে সবচেয়ে বেশি জান্নাতে প্রবেশ করাবে তা হলো, আল্লাহর ভয় এবং সুন্দর আচরণ। আর সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি মানুষকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবে তা হলো, মুখ ও লজ্জাস্থান।"
[তিরমিযি: ৪/৩৬৩, মুসতাদরাক: ৪/৩৬০, সহিহ আত তারগিব: ২/১৪৮, ৩/৫; হাদিসটি সহিহ]

~তুমিময়_নেশায়_আসক্ত  #পর্ব- ৯~Jannatul_ferdosi_rimi ❣️যার সাথে কয়েকদিন পর পায়েলের বিয়ে সে তার বর্তমান স্ত্রীর সাথে ঘুড়ে ...
03/11/2022

~তুমিময়_নেশায়_আসক্ত
#পর্ব- ৯
~Jannatul_ferdosi_rimi ❣️
যার সাথে কয়েকদিন পর পায়েলের বিয়ে সে তার বর্তমান স্ত্রীর সাথে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে তা কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না পায়েল।
গালে যুবকের ঠোটের আলতো স্পর্শ পেয়ে রিমি স্হীর হয়ে বসে থাকে। শরীরে এক অদ্ভুদ স্রোত বয়ে যায় তার।যুবকটি এখনো রিমির খুব কাছাকাছি। নিঃশ্বাস উঠানামা করছে দুজনের দ্রুততার সাথে। রিমি চোখ পিটপিট করে খুলে অয়নকে নিজের কাছে দেখে দ্রুত সরে যেতে চায় কিন্তু বরাবর মতোই ব্যর্থ হয়। অয়ন রিমির গালে হাত রেখে শান্ত দৃষ্টি মেলে চেয়ে থাকে কিছুক্ষন তার ভয়ার্থ রিমিপরীর দিকে। অতঃপর খুব শীতল গলায় বলে উঠে,
' তোমাকে আমি আগেও বলেছিলাম রিমিপরী নিজের সজ্ঞানে আমি তোমাকে কখনোই আঘাত করতে পারবো না। অন্যদের ক্ষেত্রে শাস্তি কঠোরতম হলেও তোমার ক্ষেত্রে শাস্তিটা কিছুটা আলাদা কিছুটা বিশেষ। '
' কিন্তু কেন? '
রিমির অবুঝ প্রশ্নে অয়ন রাগ করেনা বরং মাথা নাড়িয়ে রিমির গালে হাত রেখেই বলে,
' রিমিপরী তুমি আমার কাছে বিশেষ এক নাম তাই।'
______________
গাড়িতে রিমি এবং অয়ন বসে আছে। অয়ন ড্রাইভ করছে, রিমি অয়নের পাশের সিটে বসে আছে।
শীতের রাত পিনপিন নিরবতা চারদিকে এখন। শীতের রাতে যুবক যুবতী গাড়িতে বসে আনমনে কিছু ভেবে চলেছে প্রতিক্ষন,কিন্তু আদোও তারা কি একে অপরের মনের অবস্হা বুঝতে পারছে? রিমির কাছে অয়ন চৌধুরী শুধুমাত্র এক রহস্যময় চরিত্র মনে হচ্ছে। যাকে বলে উপন্যাসের কেন্দ্রিয় রহস্যময় চরিত্র। রিমি নিজের গালে হাত ছুয়ালো অয়ন তখন
কঠিনতম শাস্তির কথা বলে যে তার গালে আলতো করে ঠোটের স্পর্শ দিবে তা কখনোই আশা করেনি রিমি। বার বার শুধু গালে হাত রেখে চোখ বন্ধ করে দৃশ্যটা কল্পনা করছে। তখন কেন সে অয়নকে আটকায় নি কেন? নিজের সাথে নিজেই যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে রিমি। রিমি গাড়ির আয়নার দিকে তাকিয়ে থাকে অয়ন খুব মনোযোগ সহকারে গাড়ি চালালেও,তার অধরের কোণে মুচকি হাসি বিদ্যমান। অর্থাৎ অয়ন এতোক্ষন ধরে রিমির সমস্ত কার্যকলাপ লক্ষ্য করছিলো। কথাটি ভেবেই লজ্জায় লাল হয়ে যায় রিমি। গৌর বর্নের মুখশ্রীতে এক টুকরো লজ্জার গাঢ় রং এসে হাতছানি দেয়। অয়ন তা ঠিকই লক্ষ্য করে। গাড়িতে হঠাৎ করে ব্রেক কষে যুবক। অয়নের এমন আচরণে কিছুটা হচকিয়ে যায় রিমি। তাতে গুরুত্ব না দিয়ে, অয়ন গাড়ির সিটে হেলান দিয়ে বসে বুকে হাত দিয়ে মুধুর কন্ঠে বলে উঠে,
' রিমিপরী তোমার লজ্জামাখা মুখশ্রী অয়ন চৌধুরীর বুকে আঘাত করতে যথেষ্ট । '
_________________
অয়ন চৌধুরী বাড়ির সামনে গাড়িটি থামাতেই,রিমি চটজলদি গাড়ি থেকে নেমে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে। অয়ন বাড়ির ভিতর ঢুকেনা বরং গাড়িটা পার্ক করতে পার্কিং এর জায়গায় যায়।বাড়ির ভিতরে ঢুকতেই রিমি খেয়াল করে পায়েল এবং রুহানা চৌধুরী ড্রইং রুমে বসে আছে। রিমিকে দেখতেই তারা কেমন সরু চোখে রিমির দিকে তাকায়। তাদের এমন চাহনীর মানে রিমি হঠাৎ বুঝতে পারলো না। রিমিকে দেখেই পায়েলের মাথায় আগুন ধরে যায়। পায়েল উঠে দাঁড়িয়েই রিমির সামনে দাঁড়িয়ে রিমির হাত জোড়ে চেপে ধরে বলে,
' অয়নের সাথে আজকাল তো বেশ ভালো ঘুড়ে বেড়াচ্ছো তুমি। আবার সবাইকে বলে বেড়াচ্ছো তুমি অয়নের ওয়াইফ। হাও ডেয়ার ইউ। '
পায়েল রিমির হাত অনেক শক্ত করে চেপে ধরেছে যার ফলে রিমি ব্যাথা পাচ্ছে। রিমি হাত ছাড়াতে ছাড়াতে বলে উঠে,
' আমি কাউকে কিচ্ছু বলেনি। তার আগে আপনি আমার হাতটা ছাড়ুন। '
পায়েল রিমির হাত ছাড়েনা বরং আরো শক্ত করে চেপে হুমকির সুরে বলে,
' ছাড়বো না আমি। কী করবে তুমি? এই মেয়ে একটা কথা মাথায় ভালো করে ঢুকিয়ে নাও। একদম অয়নের ওয়াইফ হওয়ার চেস্টা করবে না। কয়েকদিন পর আমার এবং অয়নের বিয়ে। আমার অয়নের আশে-পাশেও যেন তোমাকে না দেখি। '
[লেখিকাঃ জান্নাতুল ফেরদৌসি রিমি]
অয়ন গাড়িটা পার্ক করে বাড়িতে ঢুকছিলো তখনি তার সামনের দিকে চোখ যায়। সঙ্গে সঙ্গে চোখদুটো রাগে টগবগ করতে থাকে। পায়েল শক্ত করে তার রিমিপরীর হাত চেপে ধরে আছে এমনকি শাসাচ্ছে।
একজন স্টাফ রুহানা চৌধুরীর জন্যে কফি নিয়ে যাচ্ছিলো। অয়ন স্টাফ এর থেকে সেই কফিটা নিয়ে দ্রুত এগিয়ে গিয়ে পায়েলের থেকে রিমির হাত ছাড়িয়ে, পায়েলের হাতে সেই গরম কফিটা ঢেলে দেয়। পায়েল ব্যাথায় চিৎকার করে উঠে। অয়নের এমন কাজে রিমিসহ সবাই হতবাক হয়ে যায়। রুহানা চৌধুরী উঠে দাঁড়ান। পায়েলের চিৎকারে মেঘ এবং রুজা চৌধুরীও বেড়িয়ে আসেন। পায়েল ব্যাথায় রিতিমত কেঁদে ফেলেছে। ফোসকা পড়ে গেছে তার হাতে। একদম গরম কফিটা অয়ন তার হাতে ঢেলে দিয়েছে। অয়ন পায়েলের সেই ফোসকা পড়া হাতটা চেপে ধরে। এতে পায়েল ব্যাথায় দ্বিগুনভাবে কুকড়ে উঠে। অয়ন পায়েলের হাত চেপে ধরেই ক্ষিপ্তসুরে বলে,
' আমার রিমিপরীকে টাচ করার সাহস পেলে কোথা থেকে তুমি? জাস্ট রিডিকিউলাস! তোমাকে আমি আগেও বলেছি একদম আমার প্রতি নিজের অধিকারবোধ দেখানোর সাহস দেখাবে না। তোমাকে জাস্ট গ্রেন্ডমার জন্যে বিয়েটা করতে যাচ্ছি আমি। '
পায়েল ছলছলে চোখে বলে,
' অয়ন তুমি এই দুইদিনের মেয়ের জন্যে আমার হাত গরম কফি ঢেলে দিলে? '
অয়ন পায়েলের হাত ছেড়ে শক্ত মুখে বলে,
' পারলে তো যেই হাত দিয়ে তুমি আমার রিমিপরীকে
টাচ করার সাহস দেখিয়েছো সেই হাতটাই ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিতাম এন্ড মুখ সামলে কথা বলো।দুইদিনের মেয়ে মানে? ও হচ্ছে মিসেস অয়ন চৌধুরী। এখনো কিন্তু আমাদের ডিভোর্সটা হয়নি। '
কথাটি বলেই রিমিকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে রিমির হাত ধরে সকলের সামনে অয়ন রিমিকে উপরে নিয়ে যেতে লাগলো। রুজা চৌধুরী হা হয়ে তাকিয়ে আছে। পায়েল ফোসকা পরা হাত নিয়ে অসহায় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মেঘ এইরকম দৃশ্য দেখে মুখ দিয়ে সিটি বাজিয়ে দেয়। এইসব কিছুর নিরব দর্শক হয়ে রইলেন রুহানা চৌধুরী। তিনি বুঝতেই পারছেন না অয়ন আসলে চাইছে টা কী? হঠাৎ এক ভয়ে মনে ঝেঁকে বসে রুহানা চৌধুরীর। তিনি যা ভাবছেন তা যদি সঠিক হয়, তাহলে তো সব শেষ!
______
অয়ন রিমির হাত ধরে নিজের ঘরে নিয়ে আসে দরজা খট করে বন্ধ করে দেয়। অয়নের হঠাৎ দরজা বন্ধ করে দেওয়ায় ভরকে যায় রিমি। ভয়ার্থ গলায় বলে উঠে,
' আপনি দরজা বন্ধ করলেন কেন? দরজা খুলুন বলছি। সবাই কি ভাব্বে? আপনি কি শুরু করেছেন হ্যা? আপনাকে না আমার পাগল ছাড়া আর কিচ্ছু মনে হচ্ছে না। নীচে কী কান্ড টা ঘটালেন আপনি?এইভাবে কেউ গরম কফি ঢেলে দেয়? '
অয়ন রিমির কথার গুরুত্ব দেয়না বরং ওয়াশরুমে গিয়ে মগে ঠান্ডা পানি নিয়ে এসে, রিমির হাতখানা আলতো করে ধরে রিমির হাতের লাল হওয়া জায়গাটিতে ঠান্ডা পানি দিতে থাকে। অয়ন জানে রিমি হাতে ব্যাথা পেয়েছে। রিমি চোখ বন্ধ করে ফেলে। রিমি ব্যাথা পাওয়াতে অয়নের কষ্ট লাগে তার থেকে বেশি রাগও উঠে। পায়েলকে সে কিছুতেই ছেড়ে দিবেনা। তার রিমিপরীকে যে বা যারা আঘাত করতে চাইবে সবাইকে নিঃশেষ করে দিবে অয়ন।
____________
রিমি এবং মেঘ বাড়ির বাগানের দোলনায় বসে নিজেদের মতো গল্প করছে। মেঘের একমাত্র গল্পের সঙ্গী হয়ে উঠেছে রিমি। রিমিরও বেশ ভালো লাগে মেঘকে। বেশ মিশুকে মেয়ে। গল্পের এক পর্যায়ে মেঘ রিমির দিকে প্রশ্ন ছুড়ে বলে,
' রিমিপু তুমি কী একটা জিনিস গভীরভাবে ভেবে দেখেছো? '
' কি ভাব্বো? '
' অয়ন ভাইয়া কেমন পসিসিভ হয়ে উঠেছে তোমার প্রতি। আজকে কেমন সকলের সামনে পায়েল আপুর হাতে গরম কফি ঢেলে দিলো। এইসব এর মানে কিছু বুঝতে পারছো তুমি? '
রিমি জানে মেঘ আসলে তাকে কি বলতে চাইছে। রিমি কিছু বলতে যাবে তখনি কেউ মেঘকে হাক ছেড়ে ডাকে। পুরুষের গলা পেয়ে রিমি এবং মেঘ একসাথে পিছনে ঘুড়ে তাকায়। ফারহান তাদের দিকে এগিয়ে আসছে। ফারহানকে দেখেই রিমির ভয়ে হাত-পা কাঁপতে থাকে। ফারহান তো তার দিকেই এগিয়ে আসছে। এখন যদি ফারহান রিমিকে দেখে ফেলে তখন তো ফারহান রিমিকে চিনে ফেলবে। কি হবে তখন? কি করবে রিমি?.....চলবে কী?

~তুমিময়_নেশায়_আসক্ত  #পর্ব- ৭~Jannatul_ferdosi_rimi ❣️রিমিকে অন্য কেউ স্পর্শ করেছে কথাটি ভাবলেই অয়নের মাথায় রক্তচড়ে বসে।...
01/11/2022

~তুমিময়_নেশায়_আসক্ত
#পর্ব- ৭
~Jannatul_ferdosi_rimi ❣️
রিমিকে অন্য কেউ স্পর্শ করেছে কথাটি ভাবলেই অয়নের মাথায় রক্তচড়ে বসে। রাগে কপালের ভাজ পড়ে যায়। অয়ন কপালে আঙ্গুল রেখে কিছু একটা ভেবে বাঁকা হাসে। আসিফ রিমির হাতে চিঠি গুজে দিলে, রিমি অবাক হয়ে আসিফের দিকে তাকাতেই,
আসিফ খুব আস্তে করে বলে,
' বাসায় গিয়ে পড়িও কেমন? '
আসিফ কথাটি বলার সাথে সাথে দূর থেকে একটা অপারেশন সুক্ষ্ম ধারালো চাকু তার হাতে এসে গেথে যায়। আসিফ ব্যাথায় কুকড়ে উঠে। আসিফের উপর হঠাৎ এমন আক্রমনে রিমিসহ ক্লাসের সবাই অবাকের শীর্ষে পৌঁছে যায়। রিমি ভয় পেয়ে যায় আসিফের অবস্হা দেখে। চাকুটা এমনভাবে নিক্ষেপ করা হয়েছে যার ফলে চাকুটা আসিফের হাতে গেথে রয়েছে। রক্ত অনাবরত গড়াচ্ছে। আসিফ ব্যাথায় রিতিমত কাঁতরাচ্ছে। রিমির চোখ যায় সামনে থাকা যুবকের দিকে। যুবকটির ঠোটের কোণে
বাঁকা হাসি বিদ্যমান। চোখদুটো টকটকে লাল আভা ধারণ করেছে। যে কেউ দেখলে ভয় পেয়ে যাবে।
আসিফের অবস্হা করুন হতে দেখে নার্সরা আগে এগিয়ে আসতে নিলে, যুবকটি তাদের হাতের ইশারায় মানা করে দেয়। ডক্টর এয়ারসির বাঁধা পেয়ে নার্সরাও আর এগিয়ে যেতে পারেনা। ডক্টর এয়ারসি আসিফের দিকে এগিয়ে যায়। অয়নকে দেখে রিমির বুঝতে বাকি থাকেনা কাজটা আর কেউ নয় বরং ইচ্ছেকৃতভাবে অয়ন নিজেই করেছে। অয়ন আসিফের হাত থেকে এক টান দিয়ে চাকুটা বের করে। এতে আসিফের হাত থেকে ফিনকি রক্ত গড়িয়ে পড়ে। চোখ মুখ খিচে বন্ধ করে ফেলে আসিফ। অয়ন চাকুটার দিকে তাঁকিয়ে অত্যান্ত ঠান্ডা গলায় বলে,
' ডক্টর আসিফ! ইউ নো? হাত সবসময় সামলিয়ে রাখতে হয়। নাহলে যখন তখন এক্সিডেন্ট হয়ে যেতে পারে। এই দেখুন না যেমন আমি আমার ছোট্ট নিশানার প্রেক্টিসটা করছিলাম ভুলবশত আপনার হাতে গিয়েই লেগে গেলো। কত ব্যাথা পাচ্ছেন আপনি। কতটা সাফার করছেন সামান্য ভুলের জন্যে।'
আসিফ অয়নের দিকে তাকাতেই, অয়ন রিমির দিকে ভয়ংকর দৃষ্টি নিক্ষেপ করে কাঠিন্য গলায় বলে উঠে,
' তাই বলছিযার তার উপর হাত বাড়ানোর আগে
তার পরিচয় সম্পর্কে সম্পূর্ন ধারণা রাখতে হবে।
নাহলে ছোট খাটো ভুলের মাশল সারাজীবন ধরে দিতে হয়। তখন চাইলেও ভুলটাকে সংশোধন করা যায় না। '
কথাটি বলেই, অয়ন বাঁকা হাঁসি দিয়ে কাউকে হাক ছেড়ে ডাকে। রিমির ভয়ে হাত পা কেমন একটা কাঁপছে। সেদিনের গার্ডের কথা মনে পড়ে য়ায়। লোকটার কি অবস্হা করেছিলো অয়ন। আসিফের অবস্হা নিশ্চয় আরো করুন হবে। এমনিতেও বেঁচারার হাতের অবস্হা একেবারেই করুন! অয়নের
আদেশে একজন লোক এসে হাজির হয়। তার থেকে আইডি কার্ডটা নিয়ে অয়ন রিমির দিকে এগিয়ে রিমির গলায় আইডি কার্ডটি ঝুলিয়ে বলে,
' নাও ইটস পার্ফেক্ট। তো মিস উপ্স মিসেস রিমি চৌধুরী এখন আপনার আইডি কার্ডটি পারফেক্ট তো? '
অয়নের কথাতে সকলের চোখ যায় রিমির আইডি কার্ডের দিকে। তাতে বড় বড় অক্ষরে লেখা,
' মিসেস রিমি চৌধুরী। '
সকলের বুঝতে আর বাকি রইলো না রিমি আর কেউ নয় বরং তাদের প্রফেসর ডক্টর এয়ারসির বউ। জয়িতা নিজেও যেন ঘোরের মাঝে আছে। রিমির স্বামী তাহলে স্বয়ং এয়ারসি,কিন্তু রিমি এই বিষয়টি এতোদিন গোপন করে রেখেছিলো কেন? রিমিও নিজেও হতবাক! সে কখনো ভাবেনি অয়ন এমন কাজ করে বসবে। হ্যা অয়ন কথাটি বলেছিলো কিন্তু অয়নের কথাকে তখন অতোটা গুরুত্ব দেইনি রিমি।
মেয়েরা অসহায় চোখে তাকিয়ে আছে। তাদের ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে যাকে নিয়ে তাদের এতো স্বপ্ন এতো কল্পনা সে বিবাহিত। আসিফ শুধু ঢুগ গিলছে। প্রফেসর এয়ারসির বউকে লাইন মারার ভয়াবহ সাহসীকতা দেখানোর ফল তাকে আজীবন ভোগ করতে হবে। অয়ন ঘাড় কাত করে আসিফের দিকে তীক্ন দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বলে,
' বলেছিলাম আমি কারো পরিচয় সম্পর্কে অজ্ঞাত হয়ে তার দিকে হাত বাড়ানোর শাস্তি আজীবন ভোগ করতে হবে। '
কথাটি বলেই ক্লাসের সকলের সামনে অয়ন রিমির হাত ধরে একপ্রকার টেনেই নিয়ে যায়।
রিমিকে কেবিনে নিয়ে এসে নিজের চেয়ারে রাগে ফুশফুশ করতে থাকে। হাতের সামনে ফুলদানীটা ছুড়ে ফেলে দেয়। সামনে যা পাচ্ছে তাই বার বার ছুড়ে মারছে। অয়নের এমন ভয়ংকর রাগ দেখে যথেষ্ট রিমি খুব ভয় পেলেও, রিমি কিছুটা সাহস যুগিয়ে অয়নের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে গম্ভীর গলায় বলে,
' এইসব কি শুরু করেছেন আপনি? সবকিছু ছুড়ে ছুড়ে ভেঙ্গে ফেলছেন কেন? আপনি তো একজন নামকড়া ডক্টর। তো ডক্টর এয়ারসি একজন ডক্টর হয়ে এইরকম পাগলের মতো জিনিস ছুড়াছুড়ি করা কী আপনার মানায়? আর আপনি সকলের সামনে প্রফেসর আসিফের হাতে ইচ্ছে করে চাকু বসিয়ে দিয়েছিলেন আমি জানি। কি অবস্হা করেছেন উনার হাতের দেখেছিলেন? '
অয়ন কাচের ফুলদানিটা হাতে নিয়ে রিমির দিকে এগোতে এগোতে বলে,
' কেন তোমার কী বেশি দরদ উতলে উঠেছিলো ওই রাস্কেল আসিফের জন্যে? '
অয়নকে এইভাবে কাচের ফুলদানি নিয়ে রিমি বেশ ঘাবড়ে গিয়ে পিছাতো থাকে। লোকটাকে তার কাছে বদ্ধ উম্মাদ মনে হচ্ছে। এখন কী তার মুখের উপর কথায় বলায় কাচের ফুলদানী দিয়ে রিমিকে কি মারবে নাকি? কথাটি মাথায় আসতেই রিমি দ্রুত পিছাতে শুরু করে। লোকটাকে দিয়ে ভরসা নেই তার।
_________
রুহানা চৌধুরী তার অফিসে বসে কিছু কাজ করেছিলো তখনি তার কেবিনে কেউ নক করে। রুহানা চৌধুরী তাকিয়ে দেখেন পায়েল দাঁড়িয়ে আছে। পায়েলকে দেখেই তিনি ভিতরে আসতে বলেন। পায়েল হাঁসিমুখে রুহানা চৌধুরীর বিপরীত চেয়ারে বসে পড়ে। রুহানা চৌধুরী পায়েলের দিকে প্রশ্ন নিক্ষেপ করে বলে,
' তা পায়েল কাল তো তোমাকে ক্যানাডা যেতে হবে।
তা প্রস্তুতি কেমন? '
' তা ভালো,কিন্তু। '
' কিন্তু কী? '
পায়েল মুখটা কালো করে জবাবা দিয়ে বলে,
' আমি এক সপ্তাহের জন্যে ক্যানাডা যাচ্ছি তাই ভাবছিলাম আজকের দিনটা অয়নের সাথে স্পেন্ড করবো, কিন্তু অয়ন তো আমাকে সহ্যই করতে পারেনা। '
রুহানা চৌধুরী পায়েলের কথার প্রেক্ষিতে মুচকি হেসে জবাব দেয়
' তাহলে এই ব্যাপার? দাঁড়াও আমি এখুনি অয়নকে ফোন করে বলে দিচ্ছি। আমার কথা ফেলতে পারবে না। '
পায়েলের চোখ-মুখে খুশির ঝিলিক চিকচিজ করতে থাকে।
অপরদিকে অয়নকে এগিয়ে আসতে দেখে রিমি পিছিয়ে যেতে নিলে, অয়ন রিমির হাত ধরে একেবারে রিমিকে নিজের কাছে টেনে নেয়। রিমি চোখবন্ধ করে নেয় ভয়ে এই বুঝি লোকটা তাকে ফুলের টপ নিয়ে মারবে। রিমির ধারণাকে সম্পূর্ন ভুল প্রমান করে দিয়ে, অয়ন রিমির কপালের সাথে নিজের কপাল মিশিয়ে নেয়। রিমি চোখ খুলে দেখে অয়ন এখনো রাগেও ফুশফুশ করছে। রিমি সরে যেতে নিলে অয়ন নিজের আখিজোড়া বন্ধ করে রিমির কপালের সাথে নিজের কপালে ঠেকিয়ে বলে,
'ছটফট করো না রিমিপরী। কিছুক্ষন স্হীর হয়ে আমাতে মিশে থাকো।'
রিমি তাই করলো চুপটি করে দাঁড়িয়ে থাকলো। অয়ন কিছুক্ষন নিরব থেকেই শীতল গলায় বললো,
' এই মুহুর্তে আমার রাগটা নিয়ন্ত্রন করা প্রয়োজন।
রাগের মাথায় আমি কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলি হয়তো তোমাকেও আঘাত করে ফেলতে পারি৷ তাই রাগটা সংযত করতে চাচ্ছি। আমি যে তোমায় আঘাত করতে পারবো না রিমিপরী। '
রিমি অবাক হয়ে অয়নের দিকে তাকায়। কিছুক্ষন তাদের মাঝে নিরবতা চলে। তাদের নিরবতার ব্যাঘাত ঘটায় অয়নের ফোনের রিংটন।অয়নের ফোন বেজে উঠলে রিমি দেখতে পায় অয়নের ফোনের স্ক্রিনে বড় বড় অক্ষরে লেখা,
' গ্রেন্ডমা। '
রিমি অয়নের থেকে নিজেকে ছাড়ানোর চেস্টা করে বলে,
' আমাকে ছাড়ুন। আপনার গ্রেন্ডমা ফোন করেছে। '
অয়ন রিমিকে ছাড়েনা বরং বিরক্ত হয়। রাগ হয় নিজের ফোনের প্রতি। এমন একটা মুহুর্তে বাজতে হলো।অয়ন রিমিকে নিজের থেকে ছাড়িয়ে ফোনটি হাত নিয়ে দেয়ালে ছুড়ে মারে।
চলবে.....কী?
[তাড়াহুড়ো করে পর্বটি লিখেছি তাই ভুল আছে এই পর্বে অনেক। সবাই ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন]

~তুমিময়_নেশায়_আসক্ত 🖤 #পর্ব- ৬~Jannatul_ferdosi_rimi ❣️ গম্ভীর পুরুষকন্ঠে কেউ রিমিকে হাক ছেড়ে ডাকতেইমেঘ দ্রুত গতিতে রিমি...
31/10/2022

~তুমিময়_নেশায়_আসক্ত 🖤
#পর্ব- ৬
~Jannatul_ferdosi_rimi ❣️
গম্ভীর পুরুষকন্ঠে কেউ রিমিকে হাক ছেড়ে ডাকতেই
মেঘ দ্রুত গতিতে রিমির থেকে সরে নীচে চলে যায়।
ছোটবেলা থেকেই অয়নকে খুব ভয় পায় মেঘ।অয়ন এসে রিমির পাশে দাঁড়ায়। পড়নে তার সাদা এপ্রোন। আজ অয়নকে অন্যরকম সুন্দর লাগছে।
ফর্সামুখে গাম্ভীর্য থাকলেও তাতে কৃত্রিম বাঁকা হাসি ঝুলছে। সাদা শার্টের হাতা কনুই পর্যন্ত ফ্লড করে রেখেছে। অয়ন মুখটা রিমির কানের কাছে নিয়ে অত্যান্ত শীতল গলায় বলে, ' আজকে থেকে কিন্তু তুমি আমার এসিস্টট্যান্ট। আমি লেট একদম পছন্দ করিনা। সো লেটস গো। '
অয়ন কথাটি বলেই রিমির থেকে সরে গিয়ে রুহানা চৌধুরীর থেকে বিদায় নিয়ে হসপিটালের উদ্দেশ্যে রওনা দিলো। রিমি ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। ধীর পায়ে সে ও বেড়িয়ে গেলো হসপিটালের উদ্দেশ্যে। রুহানা চৌধুরী এতোকিছুর মাঝে ঠিকই খেয়াল করেছে অয়ন কিছু একটা রিমির কানে কানে বলছিলো।
রিমি রাস্তার কাছে রিক্সার জন্যে অনেক্ষন ধরে অপেক্ষা করছে কিন্তু আজ কোন রিক্সাই সে পাচ্ছে না। বিরক্ত হচ্ছে তার সাথে প্রচন্ড রাগ ও তার মাথায় চড়ে বসেছে।আজকে যদি তার দেরী হয় তাহলে নিশ্চিত অয়ন তার খবর নিবে খুব ভালো করে। এমনিতেও কালকের রাতের পর থেকে অয়নকে তার কেমন ভয়ংকর পাগল মনে হচ্ছে। যাকে একপ্রকার
সাইকো বলে।
__________
রিমি অনেক্ষন ধরে অপেক্ষা করে সিদ্ধান্ত নিলো সে আর দাঁড়িয়ে থাকবে না। বরং হেটেই আজ কলেজে যাবে। যেই ভাবা সেই কাজ সে হাটতে শুরু করলো। রিমি হাটতে হাটতে খেয়াল করলো তাকে কেউ
সর্বোক্ষন নজরবন্দী করে রেখেছে। রিমি বুঝতে পারছে না হঠাৎ তার এমন মনে হচ্ছে কেন? রিমি একপলক পিছনে তাকিয়েই অবাক! পাঁচ ছয়জন
মহিলা তার পিছনে আসছে। পরনে তাদের কালো পোষাক। মহিলা গার্ড তারা কিন্তু তারা হঠাৎ রিমির পিছনে কেন আসছে? রিমি দ্রুত পায়ে হাটতে লাগলো। রিমির পিছনে মহিলা গার্ডগুলোও আসছে। রিমি একপ্রকার ভয় পেয়েই দ্রুত একটা সিএনজিতে চড়ে বসলো। তারপর ড্রাইভারকে বললো যত দ্রুত সম্ভব তাকে পৌছে দেওয়ার জন্যে।
ড্রাইভারটি তাই করলো তাকে মেডিকাল কলেজের সামনে পৌঁছে দিলো। রিমি কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে হাফ ছেড়ে বাঁচলো। পিছনে আরেকবার ঘুড়লো কিন্তু এখন সেই মহিলা গার্ডসগুলো নেই। রিমি নিশ্চিন্তে
হসপিটালে ঢুকলো কিন্তু একটা চিন্তা তার থেকেই যায়। মহিলা গার্ডগুলো হঠাৎ রিমির পিছনে আসছিলো কেন? রিমির ভাবনার মাঝেই রিমি ক্লাস রুমে ঢুকে যায়। অয়ন ক্লাসে লেকচার দিচ্ছিলো রিমিকে দেখে থেমে গিয়ে, হাতের ইশারায় রিমিকে সামনের বেঞ্চে বসতে বলে। রিমিও ভদ্র মেয়ের মতো বসে পড়ে কিন্তু কালকের মতো আজকের বেঞ্চেও কেউ নেই। রিমি একাই বসে আছে।
রিমি আড়চোখে দেখছে অয়ন কটমট দৃষ্টিতে দিকে তার দিকে তাকিয়ে আছে৷ হয়তো রিমির দেরী করে এসেছে তাই। অয়ন যথাসময়ে তার ক্লাস শেষে বেড়িয়ে যেতে নিলেও থেমে গিয়ে ঘাড় কাত করে একপলক রিমিকে দেখে নেয়। অতঃপর হঠাৎই
রিমির কাছে এসে রিমির হাত ধরে সোজা ক্লাস রুম থেকে বেড়িয়ে গেলো। ক্লাসের মেয়েরা হতবাক হয়ে যায়। জয়িতা নিজেও অবাক! অয়ন রিমিকে নিয়ে নিজের কেবিনে এনে হাতটা ছেড়ে দেয়। রিমি কাঠিন্য ভাব এনে বলে,
' আপনি আমাকে এখানে নিয়ে এলেন কেন? তাও আবার রানিং ক্লাসের মাঝে। সবাই কি ভাবছিলো।'
অয়ন শক্তমুখে জবাব দেয়,
' তুমি আমার এসিসট্যান্ট তা কী ভুলে গেলে?আজকে লেট করলে কেন? তার জবাবদিহি তো তোমাকে করতে হবে। '
' তাই বলে সবার সামনে এইভাবে হাত ধরে নিয়ে আসবেন? '
অয়ন অধরের কোণে বাঁকা হাসি ফুটিয়ে বললো,
'আমার হসপিটাল আমার বউ আমি যা ইচ্ছে করবো। কে কি ভাবলো আমার দেখার দরকার নেই।'
অয়ন কথাটি বলেই একটা বেশ ভাব নিয়ে একটা নিজের ইজি চেয়ারে বসে পড়লো। অয়নের এমন খাপছাড়া কথাতে মেজাজ বিঘড়ে যায় রিমির। অয়নের সামনে দাঁড়িয়ে বললো,
' কয়েকদিন পর আপনার বিয়ে সেইটা কি আপনি ভুলে গেলেন? আর আমি আপনার কিসের বউ?
কয়েকদিন পর আমাদের ডিভোর্স। '
অয়ন ফাইল দেখতে দেখতেই বললো,
' ডিভোর্স না হওয়া পর্যন্ত তুমি আমার ওয়াইফ। আমার পুরো রাইট আছে তোমার উপর। এখন দেখো কেবিনে এখন কেউ নেই। শুধু তুমি আর আমি।'
রিমি চোখ বড় বড় করে অয়নের দিকে তাকাতেই,
অয়ন চোখ টিপ মেরে বলে,
' ইউ নো রিমিপরী? সামনে সুন্দরী বউ থাকলে কন্ট্রোল করা বড্ড কঠিন। সামথিং নটি নটি ফিলিংস। '
রিমি অয়নের কথা শুনে কান দিয়ে ধোঁয়া বের হচ্ছে। লোকটার মাথা কি আদোও ঠিক আছে নাকি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। ঘড়ির দিকে রিমি তড়িঘড়ি করে বলে,
' আমার লেট হচ্ছে আমাকে যেতে হবে। আমি যাই কেমন? '
রিমি কথাটি বলে বাঁধ সাধে অয়ন। রিমির হাতজোড়া আলতো করে ধরে বলে,
' কিছুক্ষন থেকে যাও রিমিপরী। কাছে আসলেই এতো ছটফট করো কেন? '
' দুরেই তো চলে যাবেন তাহলে কাছে আসছেন কেন? '
রিমির নরম সুরে প্রশ্নটি ছুড়ে দেয় অয়নের পানে। রিমি জানেনা সে কেন কথাটি বললো কিন্তু তার বলতে বড্ড ইচ্ছে হলো। অয়ন হাঁসলো। কি সুপ্ত কি সুন্দর সেই হাঁসি।
' রিমিপরী কিছু প্রশ্নের জবাব অনুভবে কিছুটা উপলব্ধি করে বুঝে নিতে হয়। '
________________
রিমি অয়নের থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে দ্রুত বেড়িয়ে যায়। অয়ন কেমন আলাদা আবেগমিশ্রিত কন্ঠে তাকে প্রতিটা কথা বলে। যেকোন রমনী তাতে মন দিয়ে বসবে,কিন্তু রিমির তাতে কষ্ট হয়। প্রচন্ড কষ্ট যাকে বলে। আমান ও তাকে কতটা মায়া নিয়ে কতটা আবেগ নিয়ে কতটা ভালোবাসা দিয়ে প্রতিটা কথাটি বলতো কিন্তু কই সে তো মাঝপথে রিমিকে অসহায় করে ছেড়ে দিয়ে চলে গেলো। রিমি খেয়াল করলো আমানের কথা মনে পড়তেই, তার আখিজোড়া ছলছল করছে। কেমন কান্না পাচ্ছে। বুকের সব কষ্ট যেন নিমিষেই বের হতে চাইলো কিন্তু রিমি চাইলেও এই মুহুর্তে তা পারবে না। রিমি ভেজা গলায় বললো,
' এতো প্রতিশ্রুতি এতো আশার আলো দেখিয়ে মাঝপথে কেন চলে গেলেন আপনি আমান? '
_______________
অস্ট্রেলিয়ার এক বিশাল কক্ষে চেয়ারে আনমনে বসে কিছু ভাবছিলো যুবকের। বলিষ্ট গড়নের যুবকটির ফর্সা মুখটি শুকিয়ে কাঠ হয়ে রয়েছে। হাতড়ে যুবকটি ঢগঢগ করে পানি পান করলো। হাতের সামনে তার প্রেয়সীর হাঁসিমাখা এক ছবি।
যুবকটি ছবিটা হাতে নিলো। আনমনে বললো,
' তোমার শূন্যতা আমাকে বড্ড পোড়াচ্ছে রিমিপাখি।'
_______________
রিমি যথারিতিতে সব ক্লাসই করছে। রিমি আড়চোখে খেয়াল করছে ক্লাসের সবাই তার দিকে কেমন একটা অদ্ভুদ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। তাকানোটাই স্বাভাবিক অয়ন যা শুরু করেছে। জয়িতা রিমির পাশে বসে বলে,
' দোস্ত? এই কলেজের প্রফেসররা কী জানেনা তুই বিয়েত্তা? সবগুলা তোর লগে লাইন মারার জন্যে রেডি হচ্ছে। সকালে এয়ারসি তোকে সকলের সামনে হাত ধরে নিয়ে গেলো৷
আর এখন আসিফ স্যারও তোকে কেমন করে তাকাচ্ছে ক্লাসের ফাঁকে। আসিফ স্যার লাইন মারতেই পারে বাট এয়ারসি স্যার ও? '
জয়িতার কথায় এইবার ভালো করে লক্ষ্য করলো
তাদের প্রফেসর ডক্টর আসিফ অনেক্ষন যাবত
তার দিকে তাকিয়ে আছে।
ক্লাস শেষে সবাই যখন যাওয়ার জন্যে প্রস্তুত হচ্ছিলো তখনি ডক্টর আসিফ রিমির কাছে এসে
রিমির দিকে হাত বাড়িয়ে কলমটি এগিয়ে দিয়ে বলে,
' মিস রিমি আপনি কালকে আমাকে সাইন করার জন্যে কলমটি দিয়েছিলেন। তা ফেরত দেওয়া হয়নি। নিন এখন। '
রিমি হাত বাড়িয়ে কলমটি নিতে নিলে, আসিফ সকলের আড়ালে রিমির হাত ধরে কলমটির সাথে একটা চিঠিও গুজে দেয়।রিমি অবাক হয়ে আসিফের দিকে তাকায়।
অয়ন ওটির দিকে যাচ্ছিলো তখনি কাচের জানালা দিয়ে দৃশ্যটি তার চোখে পড়ে। মাথায় রক্ত চড়ে বসে অয়নের। হাত মুঠো হয়ে যায় অয়নের।
চলবে কী?
(আজকে গল্প লেখার মুড একদম ছিলো না। তাই আজকের পর্বটি অগোছালো হয়ে গেছে। সবাই ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।কেমন হয়েছে অবশ্যই জানাবেন 🖤)

~তুমিময়_নেশায়_আসক্ত #পর্ব- ৫~Jannatul_ferdosi_rimi ❣️গুলির শব্দে রিমি উঠে দাঁড়িয়ে দেখে অয়ন রক্তচক্ষু নিয়ে তার দিকে তাঁকি...
30/10/2022

~তুমিময়_নেশায়_আসক্ত
#পর্ব- ৫
~Jannatul_ferdosi_rimi ❣️
গুলির শব্দে রিমি উঠে দাঁড়িয়ে দেখে অয়ন রক্তচক্ষু নিয়ে তার দিকে তাঁকিয়ে আছে। হাতে তার বন্দুক। রিমি আতকে উঠে কেননা অয়নকে এইসময় তার কাছে ভয়ংকার লাগছে। অয়ন রাগে ফুশফুশ করছে তার শব্দ রিমির কানে এসেছে। রিমি ঘাড় ঘুড়িয়ে দেখে একজন গার্ড হাতে হাত দিয়ে ব্যাথায় কাতরাচ্ছে। রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। এই গার্ডটাকে রিমি আগেও খেয়াল করেছিলো প্রায় কুদৃষ্টিতে রিমির দিকে তাকিয়ে থাকতো। রিমি ভেবেছিলো লোকটা
আচ্ছামতো কাল কথা শুনিয়ে দিবে কিন্তু লোকটার করুন অবস্হা দেখে বেশ ভয় পেয়ে যায় রিমি।রিমি ভয়ে ভয়ে অয়নের দিকে তাকায়। অয়ন এখনো ভয়ানক দৃষ্টিতে তার দিকেই তাকিয়ে আছে। তারমানে গার্ডটাকে অয়নই গুলি করেছে কিন্তু কেন? রিমি কিছু বলার আগেই অয়ন প্রখর কঠোরতার সহিত বলে,
' ভিতরে যাও রিমিপরী। ডোন্ট টক। '
অয়নের আদেশের সুরে কথাটি শুনে রিমি কেন যেন
অমান্য করার সাহস পেলো না। ধীর পায়ে স্হান ত্যাগ করলো। সঙ্গে সঙ্গে আরেকটা গুলির আওয়াজ এলো এবং তার সঙ্গে ভেঁসে আসলো কারো চাপা
আর্তনাদ। রিমির এইবার নিজেকে ঘরে রাখতে পারছে না। অয়ন নিশ্চই লোকটাকে আবার গুলি করেছে কিন্তু কেন? না অয়নকে আটকাতে হবে
নাহলে লোকটাকে সম্পূর্ন মেরে ফেলবে। রিমি বেড়োতে নিলে, অয়নের ছোট কাকী রেজা চৌধূরী
সামনে আসেন। সন্দেহের গলায় বলে,
' এই মেয়ে এতো রাতে ঘর থেকে বেড়িয়ে কোথায় যাচ্ছো তুমি? '
' গুলির শব্দ এলো। আমাকে যেতে দিন। নাহলে উনি লোকটাকে মেরেই ফেলবে। '
রেজা চৌধূরী এইবার খানিক্টা মুখ বেকিয়েই বললেন,
'যত্তসব ঢং! বলি মেয়ে এইসব কিছু নতুন কিছু না।
অয়নের মাথায় একবার রক্ত চরে গেলে যা খুশি তাই করে। পাগল হিংস্র বাঘ একবার রেগে গেলে কি হয় জানো?একবার থাবা মারলে আর বেঁচে থাকার উপায় থাকেনা। অয়ন হচ্ছে সেই পাগল হিংস্র বাঘ।
এখন ওর ধারে কাছে যাওয়া মানে নিজ ইচ্ছেয়
বাঘের গর্তে ঢুকা। তাই বলছি নিজের ঘরে যাও তো মেয়ে। '
রেজা চৌধূরী কথাটি বলে নিজের ঘরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। রিমি দমে যায় না।অয়ন এইবার একটু বেশিই বাড়াবাড়ি করছে। তার কৈফিয়ত অয়নকে দিতেই হবে কেন সে এমন করছে।
অয়ন বন্দুক তাক করে গার্ডের চোখ বরাবর আরেকটি গুলিয়ে করে। গার্ডটি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। রক্তাক্ত হয়ে পড়েছে একপ্রকার। অয়ন অন্য গার্ডদের দিকে তাকিয়ে গর্জে উঠে বলে,
' এই নর্দমার কিটকে এখুনি বাইরে ছুড়ে ফেলে আয়।
চোখ একেবারে অন্ধ করে দিবি। যেন কারো দিকে চোখ তুলে তাকানোর আগে ওর হৃদয় কেঁপে উঠে। '
গার্ডরা সঙ্গে সঙ্গে সেই রক্তাক্ত গার্ডকে নিয়ে চলে যায়। অয়ন এখনো রাগে ফুশছে। সামনে যা পাচ্ছে তাই ছুড়ে ফেলছে। তার ইচ্ছে করছে নিজ হাতে ওই গার্ডের চোখটাকে উপড়ে ফেলে দিতে। কেমন বাজে দৃষ্টিতে তার রিমিপরীর দিকে তাকিয়ে ছিলো। অয়ন
চুল খামচে বিছানায় বসে থাকে কিছুক্ষন। রাগে এখনো ফুশছে সে। কারো পায়ের শব্দে অয়ন মাথা তুলে তাকিয়ে দেখে রিমি। রিমিকে দেখেই অয়নের মেজাজ বিগড়ে যায়। অয়ন উঠে দাঁড়িয়ে দরজা থেকে রিমিকে একপ্রকার টেনে ঘরের ভিতরে ঢুকিয়ে, ভিতরের দরজাটা বন্ধ করে দেয়। অতঃপর রিমিকে দেয়ালের সাথে চেপে ধরে। অয়নের তপ্ত নিঃশ্বাস রিমির গলায় উপচে পড়ছে। অয়ন রিমিকে চেপে উগ্র সুরে বলে,
' কেন গিয়েছিলে ছাঁদে? হ্যা কেন গিয়েছিলে তুমি?
তুমি জানো ওই ডাফারটা তোমাকে কত বাজে নজরে দেখছিলো।'
অয়ন যথেষ্ট রেগে আছে। রাগে তার ফর্সা কপালে
এতো শীতের মধ্যে ঘাম সৃষ্টি হয়েছে। রিমি কিছু চাইলেও বলতে পারেনা অয়নের রাগান্বিত চেহারা দেখে। রিমি ভয়ে গুটিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। অয়ন তা দেখে আলতো হাঁসে। এতোটা রাগের মাঝেও রিমির ভয়ার্থ মুখশ্রীর দিকে তাকালে আলাদা ভালোলাগা কাজ করে অয়নের। অয়ন চোখ বন্ধ করে ধীর কন্ঠে বলে,
' ভয় পেও না রিমিপরী। তোমার ভয়ার্থ মুখশ্রী আমার বুকে তোলপাড় সৃষ্টি করে। অদ্ভুদ ভালো লাগে সবকিছু। কিন্তু কেন? '
___________________
রিমি ধীর পায়ে রুমে ঢুকে সঙ্গে সঙ্গে দরজা বন্ধ করে জোড়ে জোড় নিঃশ্বাস নিতে থাকে। অয়নের ঘরে ঢুকেছিলো কয়েকটি কড়া কথা শুনিয়ে দেওয়ার জন্যে। কিন্তু অয়নের ধীর কন্ঠে কথাটি শুনে একমুহুর্তের জন্যে ঘোরে চলে গিয়েছিলো রিমি। কেমন আগোছালো লাগছিলো নিজেকে। অয়নকে যেই কথাটি বলত চেয়েছিলো তা বলতে গিয়েও বলতে পারলো না সে। কোন একটা জড়তা কাজ করছিলো তার ভিতর। অয়নের চাহনীতে অন্যরকম কিছু ছিলো। খুব সুক্ষ্ম দৃষ্টিতে সে রিমির দিকে তাকিয়ে কথাটি বলে দিয়েছিলো। রিমির কাছে নিজেকে খুব দূর্বল মনে হচ্ছিলো। রিমি রুমের চারদিকে পাইচারি করতে করতে নিজেই নিজেকে বলতে লাগলো,
' রিমি তুই কী ভুলে গেলি? তুই কেন এই বাড়িতে এসেছিস। তোর উদ্দেশ্য তো অয়ন চৌধূরী না। তাহলে অয়নের বিষয় তুই কেন এতো ভাবছিস। ফোকাস কর নিজের উদ্দেশ্যের উপর। যা করতে তুই এই বাড়িতে এসেছিস।'
উদ্দেশ্যের কথা মনে পড়তেই রিমির মুখশ্রীতে কাঠিন্যভাব চলে আসে। হাতজোড়া শক্ত হয়। চোখদুটো টলমল করে উঠে। মনে হচ্ছে এখুনি গড়িয়ে পড়বে তবুও রিমি তার অশ্রুকে হাতের উল্টোপিঠ দিয়ে মুছে নিয়ন্ত্রন করে নেয়। এখন তার কাঁদলে চলবে না। শক্ত হতে হবে। রিমির ভাবনার মাঝেই তার দরজায় কেউ শব্দ করে বাইরে থেকে। শব্দের উৎস পেতে রিমি উঠে দরজা খুলে দেখে
কম বয়সী হাঁসিখুশি মেয়ে তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। পড়নে তার লং স্কাট। মেয়েটাকে দেখেই মনে হচ্ছে পনেরো কিংবা ষোলো বছর বয়স হবে।মেয়েটি রিমিকে দেখেই মিষ্টি হেসে বললো,
' আমি মেঘলা। অয়ন ভাইয়ের ছোট বোন মানে
এই বাড়ির একমাত্র ছোট মেয়ে। যদিও সবাই আমাকে মেঘ বলেই ডাকে। তোমার সাথে দেখা করার খুব ইচ্ছে ছিলো জানো? আমি স্কুলের পিকনিকের একসপ্তাহের জন্যে সাজেক গিয়েছিলাম তাই তোমার সাথে আমার এতোদিন দেখা হয়নি। আজ কেবল আসলাম। এসেই তোমার সাথে দেখা করতে চলে এলাম। '
রিমি মেঘের কথার প্রেক্ষিতে মুচকি হেসে বলে,
' বাইরে দাঁড়িয়ে আছো কেন? তুমি ভিতরে এসো।'
মেঘ খুশিমনে ভিতরে ঢুকে গেলো। মেঘ হলো অয়নের ছোট কাকার একমাত্র মেয়ে। রুহানা চৌধূরীর একমাত্র ছোট নাতী। সবে টেনে উঠেছে।
বেশ মিশুকে স্বভাবের। রিমির সাথে প্রথম আলাপেই বেশ ভাব জমে গিয়েছে তার। সে তো মুখ ফুশকে বলেই উঠেছিলো,
' জানো রিমিপু? তুমি না ভাইয়ার জন্যে বেস্ট চয়েজ।
তুমি ভাইয়াকে ডিভোর্স দিও না। পায়েল আপু আমার ভাইয়াকে কখনো সু্খি রাখতে পারবে না। '
মেঘের কথা শুনে রিমি একপলক মেঘের দিকে তাকিয়ে কথাটি ঘুড়ানোর চেষ্টা করে বলে,
' দূর বোক কিসব যে বলো না। অয়ন চৌধুরীর বউ হওয়ার জন্যে আমি আসেনি। আমি তো কয়েকদিনের অতিথি মাত্র। তাছাড়া পায়েল আপু উনাকে ভালোবাসে। আমাকে বলেছো কিন্তু বাড়িতে কাউকে বলো না কিন্তু। '
রিমির কথায় মেঘ মুখটা ঘোমড়া করে মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানায়।
____________
ড্রাইনিং টেবিলে রুহানা চৌধূরী এবং তার ছোট ছেলে আশরাফ চৌধূরী ব্রেকফাস্ট করছে। রুজা চৌধুরী দাঁড়িয় সার্ভেন্টদের দিয়ে ব্রেকফাস্ট পরিবেশন করাচ্ছে। তখনি সেখানে ফারহানের
আগমন ঘটে। ফারহান চৌধুরী অয়নের বড় ভাই।
সবসময় পরিবার থেকে দূরত্ব বজিয়ে রেখে থাকে।
চৌধুরী কম্পানিতেও সে কোনপ্রকার যুক্ত থাকেনা।
আলাদা একটা কম্পানিতে বেশ বড় পদে সে চাকরী করে। ফোনে কারো সাথে কথা বলতে বলতে সে বেড়াচ্ছিলো তখনি রুহানা চৌধুরী তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন,
' ফারহান তুমি নাকি আজ নিজের ঘরে ব্রেকফাস্ট করো নি। না খেয়ে একদম অফিসে যাবে না তুমি
কাম মাই বয় টেক ইউর সিট। '
রুহানা চৌধুরীর কথায় তাচ্ছিল্যের হাঁসি ফুটে উঠে তার। তাচ্ছিল্যের সুরেই বলে,
' আমার জন্যে এতো কনসার্ন এর জন্যে থ্যাংকস গ্রান্ডমা। বাট আমার তোমার এতো কনর্সান লাগবে না। সো সরি গ্রেন্ডমা। '
ফারহাম আর দাঁড়ায় না। গটগট করে বেড়িয়ে যায়।
রুহানা চৌধুরী অপমানবোধ করেন। রিমি মেডিকাল এর বই পত্র গুছিয়ে সিড়ি থেকে নামছিলো কিন্তু ফারহানকে দেখে সে থেমে যায়। ফারহানের যাওয়ার পানে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষন।
সেই দৃষ্টিতে ছিলো একরাশ ঘৃণা কিন্তু কেন? মেঘ রিমির পাশে দাঁড়িয়ে একরাশ দুঃখ নিয়ে বলে,
' আমাদের বাড়িতে কি অদ্ভুদ তাইনা? সবাই কতটা
দূরে সরে যাচ্ছে একে অপরের থেকে। আমার ভাই থাকতেও নেই। অয়ন ভাইয়া তো ছোট থেকেই গ্রেন্ডমা ছাড়া কারো সাথে কথা বলতো না। ফারহান ভাইয়াই আমাকে আগলে রাখতো সবসময় কিন্তু এমন একটা এক্সিডেন্ট ভাইয়ের জীবনে ঘটলো যে ফারহান ভাইয়া সম্পূর্ন বদলে গেলো। কেমন একটা
গুটিয়ে নিলো নিজেকে। '
রিমি এইবার মেঘের দিকে প্রশ্ন ছুড়ে বলে,
' কিরকম এক্সিডেন্ট? '........চলবে কী?
[কেমন হয়েছে অবশ্যই জানাবেন। প্লিজ নাইস নেক্সট লিখবেন না। আপ্নারা নেক্সট না লিখলেও
আমি নেক্সট পার্ট দিবো। পারলে ঘটনমূলক কমেন্ট করবেন। ]

Address

Rangpur

Telephone

+8801784910673

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when আজও ভালবাসি তোমায়, ফিরে আস হৃদয় এ। posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to আজও ভালবাসি তোমায়, ফিরে আস হৃদয় এ।:

Share