06/04/2026
আস্তাগফিরুল্লাহ!
বাবার সাথে ঝগড়া লেগে মা কিছুদিনের জন্যে বাড়ি থেকে অন্য জায়গায় গিয়েছিল। মেয়ে তখন মায়ের সাথে যায়নি ,বাড়িতেই ছিল। মেয়েটা ভেবেছিল বাবা তো বাড়িতে আছে তার সাথেই থাকি কোন সমস্যা হবে না।
কিন্তু রাতের দিকে মেয়েটা লক্ষ্য করে তার বাবা তার রুমে এসে অনেকক্ষণ যাবত বসে আছে। মেয়েটা ভেবেছিল হয়তো কোন দরকারে এসেছে। কোন দরকার আছে কিনা মেয়েটা জিজ্ঞেস করেছিল বাবাকে।
কিন্তু কোন উত্তর না দিয়েই বসে ছিল বাবা। তার কিছুক্ষণ পরই বাবা ইউসূফ মেয়ের উপর ঝাপিয়ে পড়ে। মেয়েটা কোনকিছু বুঝে উঠার আগেই তাকে পাষবিকভাবে ধ*র্ষণ করে তার আপন বাবা।
মেয়েটা প্রথমে বাঁধা দিতে চেয়েছিল কিন্তু বয়সে ছোট হওয়ায় বাবার সাথে আর পেরে উঠেনি। তাছাড়া চিৎকার করতেও চেয়েছিল কিন্তু বাবা তখন মেয়েটার মুখে কাপড় পেচিয়ে মুখটা বন্ধ করে রেখেছিল।
ওইদিন রাতে বাবাটা প্রথম ধ*র্ষণ করে মেয়েটাকে। প্রথমবার ধ*র্ষণের ঘটনাটা ঘটেছিল ২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। মেয়েটা ভেবেছিল মা আসলে মাকে সবকিছু বলে দিবে।
কিন্তু কয়েকদিন কেটে যাওয়ার পরও মা আসেনি। এজন্যে মেয়েটা ভেবেছিল পাশের বাসার চাচীকে সবকিছু বলবে কিন্তু নিজের বাবার সাথে এমন ঘটনা লজ্জায় বলতে পারেনি। তাছাড়া বাবা তাকে হুমকিও দিয়েছিল।
এভাবে মা যতদিন আসেনি ততদিন রাতে অমানুষিকভাবে নিজের মেয়েটাকে ধ*র্ষণ করতে থাকে বাবা ইউসূফ।
এর কিছুদিন পর মা বাড়িতে আসে। বাবা ইউসূফ বুঝে যায় মেয়ে এবারে মাকে সবকিছু বলে দিবে তাই সে দিনেরবেলা মেয়েকে নিজের রুমে ডেকে বলে- তোর মাকে যদি কিছু বলিস তাইলে তোরে কাইট্টা টুকরা টুকরা কইরা নদীতে ভাসাইয়া দিমু, তোরে মারেও ভাসাইয়া দিমু।
মেয়েটা লজ্জায় এবং ভয়ে মাকেও কিচ্ছু জানাতে পারে না।
মা বাড়িতে আসার পরও মেয়েটাকে ধ*র্ষণ করতো বাবা ইউসূফ। ঘর খালি পেলেই অমানুষিক নির্যাতন করতো মেয়েটাকে। লাগাতার ধ*র্ষণের কারণে মেয়েটা যাতে গর্ভবতী না হয় সেজন্যে জোর করে ঔষধও খাওয়াতো মেয়েটাকে।
এভাবে এ বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত মেয়েটাকে ধ*র্ষণ করে তার আপন বাবা। টানা ধ*র্ষণের কারণে ঔষধেও কাজ না হওয়ায় মেয়েটা গর্ভবতী হয়ে পড়ে।
এভাবে আরও কিছুদিন চলার পর মেয়েটার পেট বাড়তে থাকে এবং গর্ভধারণের লক্ষ্যণ মা তাসলিমা বুঝতে পারে। মা তখন জানতে চায় এবং মেয়েটা নিজ থেকেই পুরো ঘটনাটা মাকে বলে দেয়।
সাথে মেয়েটা এটাও বলে- সে যে মাকে এটা জানিয়েছে সেটা যাতে বাবাকে না জানায়। মেয়েটার মনে তখনও ভয় ছিল বাবা জানতে পারলে তাদের মা মেয়ে দুজনকেই কেটে নদীতে ভাসিয়ে দিবে।
মেয়েটা তখন ৭ মাসের প্রেগন্যান্ট। বাবা ইউসূফ যখন বুঝতে পারে মেয়েটা মাকে সবকিছু বলে দিয়েছে তখন সে তার স্ত্রীকে জোরাজোরি করতে থাকে মেয়েটার পেটের বাচ্চা নষ্ট করার জন্যে।
মা তখন রাগারাগি করে বাবাটার সাথে। তখন বাবাটা চুপ থাকার জন্যে তার স্ত্রীকেও হুমকি দেয়। তাকে নিয়ে সংসার করবে না, তালাক দিবে এসবও বলে। তাছাড়া কেউ যাতে কিচ্ছু জানতে না পারে সে ব্যবস্থাও করে বাবাটা।
পরিচিত এক মহিলার মাধ্যমে নিজের মেয়ের এবরশন করায়। তারপর গর্ভের ৭ মাসের বাচ্চাটাকে ফেলে দিয়ে আসে নর্দমার ড্রেনে।
এতকিছুর করার পর কয়েকদিন কেটে যায়। বাবাটা ভেবেছিল সবকিছু ধামাচাপা দিতে পেরেছে সে। কিন্তু এত ছোট্ট মেয়ের এবরশন করানোয় মেয়েটার পেটে প্রচন্ড ব্যথা শুরু হয়। তাই বাধ্য হয়েই মেয়েটাকে নিয়ে আসতে হয় উপজেলা হাসপাতালে।
বাবাটা ডাক্তারের কাছেও সবকিছু লুকিয়েছে, পেট ব্যথার সঠিক কারণটা জানায়নি। পরে ডাক্তাররা পরীক্ষা নিরিক্ষা করার পর বুঝতে পারে মেয়েটার এবরশন হয়েছে ,সেকারণেই পেটে প্রচন্ড ব্যথা হচ্ছে।
পরে ডাক্তারদের ভরসায় মেয়েটাও পুরো ঘটনা তাদের সাথে শেয়ার করে। ডাক্তাররা তখন মেয়ের মাকে থানায় গিয়ে মামলা করতে বলে। ডাক্তারদের ভরসায় মা গতকাল ভোলার চরফ্যাশন থানায় মামলা করে।
বাবা টা টের পেয়ে আগেভাগেই হাসপাতাল থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। আজকে সাড়াশি অভিযান চালিয়ে পুলিশ বাবাটাকে গ্রেফতার করেছে।
মেয়ের মা আজকে কেঁদে কেঁদে বলছিল - আমার এত ছোট মেয়েটারে ওর বাপের কাছে রাইখা গেছিলাম কিন্তু ওরা বাবাই ওর এত বড় সর্বনাশটা করল।
মেয়েটাও বলছিল- আমার বাবা আমার সাথে এত জঘন্য কাজ করবে আমি ভাবতেও পারি নাই। বলেই ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছিল মেয়েটা। এরপর আরও অনেক কিছু বলতে চেয়েছিল মেয়েটা কিন্তু কান্নার কারণে দম বন্ধ হয়ে আসছিল, বাকি কথাগুলো বলতে পারেনি।
আজকে বাবাটা ধরা পড়েছে কিন্তু কাল কিংবা পরশু ঠিকই টাকা দিয়ে জামিন নিয়ে বের হয়ে যাবে। কারণ এদেশের আইন, আদালত টাকার কাছে নিয়মতি বিক্রি হয়।
অন্যান্য মেয়েরা ধ*র্ষিত হলে তাদের বাবা-মা ভরসা দেয়, মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দেয় অথচ এই মেয়েটাকে সান্ত্বনা দেয়ার মতো মানুষটাই তাকে ধ*র্ষণ করেছে।
এই মেয়েটা এখন পরিবারের কাছে, সমাজের কাছে, বন্ধু-বান্ধবীদের কাছেও লাঞ্চিত হবে, লজ্জায় মুখ দেখাতে পারবে না।
ধ*র্ষক বাবাটা হয়তো ঠিকই মুক্তি পেয়ে যাবে কিন্তু এই ছোট্ট মেয়েটাকে আজীবন ধ*র্ষিতার কলঙ্ক বয়ে বেড়াতে হবে
লিংক কমেন্টে 👇