06/01/2022
গতরাতে একজন ভাই বললেন, উনি ডিপ্রেশনে আছেন।
জানতে চাইলাম কারণ কী?
“প্রথম দিকে আমি অনেক কাজ পেয়েছি। তারপর আমার ফ্রেন্ড একজনকে হ্যাল্প করেছিলাম (হ্যাল্প বলতে উনার ক্লাইন্ট খোঁজার প্রসেস দেখিয়েছেন)। পরে দেখি সে ভালোই কাজ পাচ্ছে, কিন্তু আমার অবস্থা অবনতির দিকে প্রায়। এমনকি আমার পুরনো ক্লাইন্টও কাজ দিচ্ছে না। কোনো রিপ্লাই দেয় না আর রিপ্লাই দিলে বলে পরে জানাবে”।
উপরের লিখাটি অগোছালো লাগবে। কারণ, সম্পূর্ণ কথাগুলো তুলে ধরা সম্ভব না তাই মূল কথাগুলো উল্লেখ করেছি, পুরো লিখাটি পড়লে বুঝতে পারবেন আশাকরি।
কীভাবে ক্লাইন্টকে কাজের জন্য অফার করবেন?
আপনি যখন একটি কোর্স করেন তখন আপনাকে শিখিয়ে দেওয়া হয় কীভাবে কাজ করবেন এবং কীভাবে ক্লাইন্ট খুঁজে বের করবেন। তো, মূল ব্যাপারটি হচ্ছে আপনি কীভাবে ক্লাইন্টকে কাজের জন্য অফার করবেন? সেটাও ভালো করে শিখিয়ে দেওয়া হয়। তবে এখানে যে সমস্যা হয় তা হলো, একটি ব্যাচে ৩০ জন স্টুডেন্ট থাকেন, সবাইকে একই প্রসেস দেখিয়ে দেওয়া হয়। তারপর বলা হয় যে, “আপনারা নিজের মতো করে অফার বা রিকোয়েস্টটি লিখবেন বা সাজাবেন। আমি কেবল ধারণা দিলাম। কপি করবেন না”। এখানে কী হয়, হাতে গুণা কয়েকজন পরে সবাই ওই অফার বা রিকোয়েস্টটি নিয়ে কাজে নেমে পড়েন। যার কারণে নিজেদের মধ্যে ক্ল্যাস হয়ে যায়। আর ক্লাইন্টও বিভ্রান্তিতে পড়ে যায়। তাই আপনি আপনার মতো করে কাজের জন্য অফারটি গুছিয়ে লিখুন।
প্রোফাইল পিকচার
অনেকেই দেখি মেন্টরের চেয়ারে বসে আর ল্যাপটপ নিয়ে ছবি তুলে প্রোফাইল পিকচার দিয়ে রাখেন। একই টেবিলে, একই চেয়ারে, একই রুমে! এসব এড়িয়ে চলুন। একে তো নিজেদের মধ্যে ক্ল্যাস হয় তার উপর প্রোফাইল পিকচার সবার একই, শুধু চেহারা ভিন্ন আরকি। ক্লাইন্ট তো বিভ্রান্ত হবেই। বুঝিয়ে বলি; ধরুন, করিম এবং রহিম দুজনের প্রোফাইল পিকচার একই দেখতে, শুধু চেহারা ভিন্ন। করিম অফার করল একটি ক্লাইন্টকে কাজের জন্য। কোনো কারণে করিমকে ক্লাইন্ট রিজেক্ট করল। আবার রহিমও ওই ক্লাইন্টকে অফার করল, তখন ক্লাইন্ট কাজের অফারটি না দেখে প্রোফাইল পিকচার দেখে বলবে যে, ও আবারও অফার করেছে ওর টিমের মেম্বার দিয়ে। এই ভেবে রহিমের অফারটি সে আর দেখলই না। আশাকরি বুঝতে পেরেছেন।
ক্লাইন্টের সাথে কীভাবে কথা বলবেন?
অনেকেই ভাবেন যে ক্লাইন্টকে প্রথমে কাজের কথা না বলে নরমালি কথা বলা শুরু করি তারপর কাজের বিষয় নিয়ে আলোচনা করব। যারা অতি চালাক উনারা এমন করেন কিন্তু আমার কাছে ভাই এত সময় নাই। সোজা ক্লাইন্টকে কাজের ব্যাপারে বলি। তবে কীভাবে কাজ করব একদম ডিটেইলে বলি না। কারণ আমি যদি সম্পূর্ণ ডিটেইলে বলে ফেলি তাহলে ক্লাইন্ট আমার রিপ্লাই দিবে না, এখানে যথেষ্ট কারণ আছে। আপনি এমনভাবে কাজের জন্য অফার করুন যে, ক্লাইন্ট আপনার লিখার মধ্যেই বুঝতে পারে আপনি কাজ জানেন বা সে যা চাইছে আপনি সেটাই তাকে দিতে চাচ্ছেন। এই জন্য বলি ক্লাইন্টকে অফার বা রিকোয়েস্ট পাঠানোর আগে তার সম্পর্কে জানুন, সে কী চায় বুঝুন, আর আপনি তাকে যা দিতে চাচ্ছেন সে কেনই বা আপনার থেকে নিবে এসব নিয়ে ঘাটাঘাটি করুন তারপর কাজের অফারটি পাঠান। এই জন্য আপনাকে ধৈর্য ধরে কাজ করতে হবে।
এখানে একটি উদাহরণ দিই, সাতমাস আগে আমি একটি ক্লাইন্টকে অফার করেছিলাম। কিন্তু তখন কোনো রেসপন্স পাইনি তাঁর থেকে। হয়তো আমি যে কাজের জন্য বলেছিলাম তখন সে বুঝতে পারেনি। কিন্তু ঠিক দুইমাস আগে সে নিজেই এসে আমাকে কাজটি দিয়েছে। এটা বলার কারণ, ধৈর্য হারাবেন না। একটি মানুষ যখন কোনো বিষয় নিয়ে সমস্যায় ভোগে তখনই তার প্রতিকার খুঁজে, মাথায় রাখবেন।
নতুন ক্লাইন্ট পাওয়ার পর
নতুন ক্লাইন্ট পাওয়ার পর আপনি তাঁর যে কাজটির অর্ডার পেয়েছেন কেবল সেই কাজে ফোকাস রাখবেন। এবং কাজ চলাকালীন প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে কাজের একটি আপডেট দিবেন। তার যে কাজ গুলো আপনি ফ্রিতে করে দিতে পারবেন সেগুলো করে দিবেন তবে আগে অনুমতি চেয়ে নিবেন। এই অনুমতি চাওয়াটার মধ্যে আপনি দেখবেন ক্লাইন্ট আপনাকে নিয়ে কতটুকু সিরিয়াস হয়ে উঠছে। আরো অনেক ছোট ছোট বিষয় রয়েছে যেগুলোর মাধ্যমে আপনি ক্লাইন্টের পুরো আস্থা আপনার উপর নিয়ে আসতে পারেন। (আমি ফ্রি কাজ কখনোই করে দিই না তবে কিছু কাজ আছে যেগুলো ২-৩ মিনিটে করা যায় সেগুলো করে দিই। কারণ এগুলোর জন্য চার্জ করতে নিজের কাছেই বেমানান লাগে।)
তবে এখানে যে ভুল হয়ে থাকে, আপনি কখনোই অর্ডার পাওয়ার পর ক্লাইন্টকে অন্য কোনো কাজের বিষয় নিয়ে কথা বলবেন না। যতক্ষণ না অবধি আপনার পাওয়া অর্ডারটি ডেলিভারি দিচ্ছেন। আপনি কি ভাবেন? আপনার কাজের অফারটি দেখে ক্লাইন্ট আপনার প্রোফাইল চেক করেনি? অবশ্যই চেক করেই আপনার সাথে কথা বলছে। তাই, প্রথমে আপনি কাজটি ডেলিভারি দিন। যদি আপনার কাজে ক্লাইন্ট সন্তুষ্ট হয় তাহলে সে নিজে থেকেই আপনার সাথে যোগাযোগ করবে অন্যান্য কাজগুলো নিয়ে। এটা একটি কমনসেন্সের বিষয়, আপনি কাজ ডেলিভারি দিলেন সেটার রেজাল্ট ক্লাইন্ট দেখল না আর আপনি তাকে আরেকটি কাজের জন্য বলে ফেললেন! ক্লাইন্টের জায়গায় নিজেকে বসিয়ে এই ব্যাপারটি নিয়ে চিন্তা করুন, আশাকরি বুঝতে পারবেন।
পুরনো ক্লাইন্ট রিপ্লাই দিচ্ছে না
আমি যখন নতুন ক্লাইন্টের সাথে কাজ করি তখন সেই কাজের পরে অন্য কোনো কাজ পাওয়ার আশা রাখি না। আমি তার উপর কখনই নির্ভরশীল হই না যে পরের কাজও আমাকে দিবে। সে যদি সন্তুষ্ট হয় তাহলে নিজেই যোগাযোগ করবে, আর সন্তুষ্ট না হলে যোগাযোগ করবে না। এখানে আবার আরেকটি কারণ আছে, অনেক সময় ক্লাইন্ট কাজ করাতে ইচ্ছুক থাকলেও তখন তার কাছে টাকা নাও থাকতে পারে। তারা অনেক হিসেবি সেটা মাথায় রাখবেন। সুতরাং তাদের অবস্থাও বুঝতে হবে। তাই বারবার ক্লাইন্টকে কাজের বিষয়ে ম্যাসেজ দেওয়া বা ইমেইল দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। তবে এমনি মাঝেমধ্যে কথা বলুন তার দিনকাল কেমন যাচ্ছে এসব নিয়ে।
টিম নিয়ে কাজ করি
এখানে অনেকেই না বুঝে শুরুতে বলে ফেলেন যে আমি একটি টিম নিয়ে কাজ করি। এমনটি করবেন না। আপনি কথার শুরুতেই কথার মাধ্যমে আপনার কাজের স্কিল বা দক্ষতা ক্লাইন্টকে দেখান বা বোঝান। যখন দেখবেন সে আপনার সাথে কাজ করতে আগ্রহী তখন আপনি এভাবে বলতে পারেন যে, আমি চেষ্টা করব আমার টিম নিয়ে আপনার কাজটি সুন্দরভাবে করে দিতে এবং আপনি যাতে আমাদের কাজে সন্তুষ্ট হোন সেদিকে আমরা লক্ষ্য রাখব। এতটুকুই যথেষ্ট। ক্লাইন্টের সাথে যখন কথা বলবেন তখন প্রত্যেকটি কথায় নতুন এবং ইন্টারেস্টিং কথা রাখবেন।
ব্যাচমেট সাহায্য চাইলে কী করবেন?
নিজের কাজের সম্পর্কে কখনো কিছুই বলবেন না। আপনি কীভাবে কাজ করছেন, আপনি কোথায় ক্লাইন্ট খুঁজে পাচ্ছেন, আপনি কীভাবে অফার করেন, আপনি কোন কাজের পারিশ্রমিক কত করে রাখেন ইত্যাদি কখনোই শেয়ার করবেন না। অনেকেই বলতে পারেন এটা কী বললেন ভাই! ভাই, প্রত্যেকের কাজের একটি নিজস্বতা রয়েছে। যে এত পরিশ্রম করে নিজেকে তৈরি করল আর আপনি তার নিজস্বতাকে নিয়ে নিবেন? ক্লাসে তো সবাইকে একই প্রসেস দেখানো হয়েছে। হ্যাঁ, কাজের ক্ষেত্রে আপনি হ্যাল্প চাইতেই পারেন। এক্ষেত্রে একে অন্যকে সাহায্য করা আমাদের উচিত।
শেষে যে কথা বলতে চাই, প্রতিদিন নতুন ক্লাইন্ট পাওয়ার চেষ্টা করুন। যে ক্লাইন্টগুলো আপনার আছে তাদের উপর নির্ভরশীল হবেন না। আর যারা হতাশ, হতাশ করে ম্যাসেজ দিয়েছিলেন আশাকরি আপনাদের হতাশা দূর হবে।
ভালো থাকুন,
ধন্যবাদ।
(বি.দ্রি. এই লিখাটি সম্পূর্ণ আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে লিখেছি। অনেকের দ্বিমত থাকতে পারে। যদি দ্বিমত থাকে তাহলে কমেন্ট করুন বা পেজে পোস্ট করুন সেই সাথে আপনারও অভিজ্ঞতা তুলে ধরুন। আপনার অভিজ্ঞতা থেকে হয়তো আমিও নতুন কিছু জানতে বা শিখতে পারি।)