Politics Begins Where the Land Ends

Politics Begins Where the Land Ends Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Politics Begins Where the Land Ends, Social Media Agency, Gabura, Shyamnagar.

30/03/2026

Md Ashikur Rahman "Politics Begins Where the Land Ends" এই পেইজে নিচের লেখাটি পাবলিশ করার জন্য দিয়েছে। পড়ে দেখতে পারেন। আপনাদের সবাইকে গাবুরা নিয়ে আপনার ভাবনা, মতামত লিখে জানাতে পারেন। আশিক লিখেছে-

গাবুরার বতর্মানে প্রেক্ষাপটে ফেসবুক সমলোচনার জন্য গাবুরার ঐতিহ্য এবং ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। বতর্মান যুব সমাজ সামাজিক মাধ্যমকেই সমাধানের পথ হিসেবে দেখতেছে, যেটির ফলাফল বাইরের মানুষের কাছে গাবুরা এবং গাবুরার মানুষের প্রতি নেগেটিভ ধারণা তৈরি হচ্ছে।

যেকোনো সমস্যায় আমরা যদি সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে অবহিত করে সেখানে সমাধানের পথ খুজি, আমার মনে হয় সেটি পজিটিভ রেসপন্স আমরা পাবো।

জনপ্রতিনিধিদের ভুল না ধরে তাদের সাথে আলোচনাপূর্বক সমাধানের পথ খুজে বের করাটাই আমাদের জন্য সবচেয়ে ভালো হবে।

ইকোট‍্যুরিজমকে আমি গাবুরার আগামী সম্ভাবনা হিসেবে দেখি। দেশ এবং দেশের বাইরে জলবায়ু পরিবর্তন এবং নদীভাঙন ও সুন্দরবনের কোলঘেষা দ্বীপ জনপদ হিসেবে গাবুরার বেশ পরিচিতি রয়েছে।

এই সুযোগটাকে কাজে লাগে, দৃষ্টিনন্দন এবং ডুমুরিয়া খেয়াঘাট সহ গাবুরার বিভিন্নপ্রান্তকে ট‍্যুরিজম নিয়ে ভাবলে সেটিও গাবুরার জন্য ভালো হবে।

গাবুরার বতর্মান যুব সমাজ অনলাইন জুয়ায় জড়িয়ে পড়ছে। এটির ক্ষতিকর প্রভাবে, আর্থিকভাবে ঐসকল পরিবারগুলো বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে। এই সকল যুব সমাজকে আমরা সঠিকপথে ফিরিয়ে আনতে না পারলে, সেটির প্রভাবে পারিবারিক কলহ, চুরি, আর্থিক অনটন এগুলো বেড়ে যাবে।

বতর্মানে গাবুরা কেন্দ্রীক কর্মসংস্থানের অভাবে গাবুরার অধিকাংশ পুরুষ মানুষ ইটভাটার কাজে দেশের বিভিন্নপ্রান্তে চলে যাচ্ছে। সেখানে গিয়েও এই সকল মানুষ বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনা শিকার হচ্ছে। অনেকের অঙ্গহানীও হচ্ছে। এবং দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক অসুস্থতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

সুন্দরবনের দস‍্যুতা, অধিকাংশ বন অভায়রণ‍্য, বাঘের আক্রমণে মৃত্যু, সুন্দরবনের নদীতে মাছ, কাঁকড়া কমে যাওয়া। এইসব সংকটের কারণে ধীরে ধীরে সুন্দরবন কেন্দ্রীক পেশায় মানুষের জীবন জীবিকা দুর্ভিষহ হয়ে উঠছে।

বতর্মানে গাবুরার মানুষ NGO নির্ভরতা থেকে বের হতে পারিনি। আইলা পরবর্তী সময়ে NGO গুলো উন্নয়নমূলক কাজ করলেও সেটির খারাপ একটি প্রভাব হিসেবে গাবুরার মানুষ লোভী হয়ে গেছে।

বিকল্প কর্মসংস্থানের উদ‍্যোগ নিতে হবে। গাবুরার মানুষ যেভাবে লবণাক্ততা কাটিয়ে ধান এবং ফসলের চাষে ঝুকছে সেটি কাজে লাগিয়ে লবণাক্ততা কমানোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

লবণাক্ততার খারাপ প্রভাবে স্বাস্থ্যগত, অর্থনৈতিক, কর্মসংস্থানের অভাব এগুলো সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে।

সুপেয় পানি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, যাতায়াত ব‍্যবস্থা, নদী পারাপার সহ যোগাযোগ ব‍্যবস্থার উন্নতির লক্ষে একযোগে সবাইকে সবার যায়গা থেকে এগিয়ে আসতে হবে।

শুধু সমলোচনায় সংকটগুলোর সমাধান সম্ভব নয়। আলোচনা দরকার, পজিটিভ চিন্তার দরকার। গাবুরার প্রশ্নে সবাইকে এক হতে হবে।

সম্প্রতি গাবুরার জনকল্যাণে, বিশেষ করে রাস্তাঘাট নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। তা যেমন হচ্ছে গাবুরায়, তেমনি সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং ...
30/03/2026

সম্প্রতি গাবুরার জনকল্যাণে, বিশেষ করে রাস্তাঘাট নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। তা যেমন হচ্ছে গাবুরায়, তেমনি সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং সংসদেও। কিন্তু এই তিন জায়গাতেই কিছু যৌক্তিকতার নিরিখে বলতে গেলে অসঙ্গতি হচ্ছে, যেগুলি নিয়ে কেউই কিছু বলছেন না। এই অসঙ্গতি হবার কারণ হল- আমাদের কথাটা বলার আগে কোন গঠনমূলক ভাবনা-চিন্তা নেই, অধ্যয়ন নেই, অনেকটা মুখে এল আর বলে দিলাম, এমন ভাবে করা হচ্ছে বলে আমার বিশ্বাস। কাউকে শ্রেফ ঘায়েল করা, অপদস্ত করার অভিপ্রায় আছে কি না, সেটাও ভেবে দেখা দরকার। তাই বলে তার অর্থ কিন্তু মোটেও এই নয় যে, প্রতিবাদ বা সমালোচনা করা যাবে না, ভুল হলেও তা জন সমক্ষে উত্থাপন করা যাবে না- এমন ভাববার কোনই অবকাশ নেই। আমি আজ এখানে যে বিষয়গুলির অবতারনা করছি, সেই বিষয়গুলির সাথে আমাদের দুইজন জন প্রতিনিধি বিশেষ করে মাননীয় সংসদ সদস্য এবং মাননীয় ইউপি চেয়ারম্যান উভয়ই সম্পৃক্ত। তারা উভয়ই গাবুরার কৃতি সন্তান বলেই বার বার আপনাদের রায় পেয়েছে। যে কাজ করে না, তার কোন ভুল হয় না। তারা কাজ করছেন, তাই তাঁদেরও ভুল হতে পারে। আমার এই প্রয়াস শ্রেফ সংশোধনের নিমিত্তে। আমি উভয়কেই এই আলোচনায় ট্যাগ করছি, যাতে এই আলোচনা তাঁদের নজরে আসে-
১। লেবুবুনিয়ায় টেকসই বেড়িবাঁধের উপর দিয়ে পাইপের মাধ্যমে লোনা পানি তোলার চেষ্টা গাবুরার জন্য সুস্পষ্টভাবে আত্মঘাতী। এই বিষয়ে প্রথমে চেয়ারম্যান মহোদয় এবং অবশ্যই এমপি মহোদয়কে কোনপ্রকার কালক্ষেপণ না করে ব্যবস্থা গ্রহণের আহবান জানাই। যে টেকসই বেড়িবাঁধ আমাদের জীবন রক্ষা করবে, সেটা সম্পাদনের আগেই এই প্রয়াস উদ্বেগজনক;
২। হেরিংবন্ড রাস্তায় বালু ব্যবহার না করা সম্ভবত একটি "ওয়ার্ক অর্ডার" এর সুনির্দিষ্ট ধারা লঙ্ঘনের কাজ। এটা করা হয়ে থাকলে তা মারাত্মক অপরাধ এবং গাবুরার স্বার্থ বিরোধী। চেয়ারম্যান মহোদয় এই অন্যায় কাজ সংশোধনের উদ্যোগ নিবেন, এটাই আমাদের সকলের প্রত্যাশা। আপনি যদি কোন কারণে অপারগ হন, তাহলে সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করুন। তাতেও না হলে আপনাদের সবাইকে নিয়ে আমরা সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে পারব ইনশাল্লাহ;
৩। মাননীয় সংসদ সদস্য, আপনি নির্বাচন প্রচারণার সময় একটি ভিডিও বার্তায় বলেছিলেন- ডুমুরিয়া খেয়াঘাট থেকে একটা বড় রাস্তা চকবারা হয়ে গাবুরা-বেদকাশি খেয়াঘাট নিতে চান এবং এর মাধ্যমে আপনি "ইকোট্যুরিজম" পরিকল্পনা করতে চান। এবার সংসদেও আপনি আরেকটি প্রকল্পের কথা বলেছেন- নোয়াবেকি-পাখিমারা-চউদ্দরশি-চকবারা-বুড়িগোয়ালিনি (ফেরি)-মুন্সিগঞ্জ হাইওয়ে করতে চান। আপনি গাবুরাকে সংসদে তুলে ধরছেন, গাবুরার সন্তান হিসেবে কৃতিত্বের দাবিদার। যদিও এই দুই পরিকল্পনা নিয়েই একটি যৌক্তিক আলোচনার অবকাশ আছে বলে মনে করি। এই বিষয়ে আমার কিছু সুনির্দিষ্ট আলোচনা আছে, যা নিচে উপস্থাপন করছি। আমি বিষয়টি নিয়ে ভেবেছি, অধ্যয়নও করেছি, তারপর আপনাকে বলছি, তবুও কোন পয়েন্ট অযৌক্তিক মনে হলে আশা করি আমাকে সংশোধন করবেন-
"ইকোট্যুরিজম" এর উদ্দেশ্যে ডুমুরিয়া-গাবুরা খেয়াঘাট রাস্তাঃ-
এই আলোচনার আগে "ইকোট্যুরিজম" কি সেটা একটু দেখা যেতে পারে- Ecotourism হলো প্রাকৃতিক ও সাধারণত সংরক্ষিত এলাকায় দায়িত্বশীল ভ্রমণ ব্যবস্থা, যার মূল উদ্দেশ্য পরিবেশ সংরক্ষণ, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং পর্যটকদের মধ্যে পরিবেশ ও সংস্কৃতি বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা। এটি Low-Impact এবং Small-scale পর্যটনকে উৎসাহিত করে, যাতে জীববৈচিত্র্য রক্ষা পায় এবং স্থানীয় সম্প্রদায় পর্যটন থেকে সরাসরি লাভবান হয়। এখানে Ecotourism অবশ্যই টেকসই, শিক্ষামূলক এবং পরিবেশবান্ধব হতে হয়। তবে সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকলে Ecotourism-এর ফলে পরিবেশগত ক্ষতি, বন্যপ্রাণীর ওপর চাপ, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ক্ষতি এবং Greenwashing বা মিথ্যা পরিবেশ বান্ধব দাবি’র মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
* (গুগল বা অনেক মাধ্যম আছে, যে কোন পাঠক আমার বক্তব্য যাচাই করার জন্য পড়তে পারেন)
অতএব, ডুমুরিয়া-গাবুরা খেয়াঘাট রাস্তায় ইকোট্যুরিজমের দূরতম কোন সম্ভাবনা আছে কি না, তা উপরের ইকোট্যুরিজম এর আলোচনার ভিত্তিতে আমরা ভেবে দেখতে পারি। তবে ইকোট্যুরিজম নয়, গতিপথ একটু পরিবর্তন করে এই রাস্তাটির ভিন্ন একটি প্রেক্ষাপট তৈরি করে রাস্তাটিকে যৌক্তিক ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তোলা যায়। সেই আলোচনায় একটু পরে আসছি যখন আমি আমার প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনা করবো সেখানে।
এবার নোয়াবেকি-পাখিমারা-চৌদ্দরশি-চকবারা-বুড়িগোয়ালিনি (ফেরি)-মুন্সিগঞ্জ হাইওয়ে নিয়ে বলি। এই পরিকল্পটিরও প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে যৌক্তিক আলোচনার সুযোগ রয়েছে। যে রাস্তাই হোক, পরিকল্পনার আগে গাবুরার পরিবেশ, সম্ভাবনা, গুরুত্ব বিবেচনা প্রথমেই করতে হবে। গাবুরার প্রধান সড়ক বাল্যকাল থেকে দেখে আসছি চৌদ্দরশি-চাঁদনীমুখা। এটি হলে সুন্দরবন ভিত্তিক "ইকোট্যুরিজম" এর সম্ভাবনা তৈরি হবে। শুধু তাই নয়, গাবুরা নদী-ভাঙ্গন প্রবণ এলাকা। ভবিষ্যৎ ভাবতে হবে আমাদের। এই রাস্তাটি অপেক্ষাকৃত উঁচু করতে পারলে ইউনিয়ন দুই ভাগে বা ক্লাস্টারে বিভক্ত করা যাবে। একপাশে ভেঙ্গে গেলেও অন্যপাশ সুরক্ষিত থাকবে। আমার প্রস্তাবনায় আরও ২টি রাস্তা আছে, সেগুলিও যদি একই উচ্চতায় করা যায়, তবে পুরা ইউনিয়ন ৬টি ক্ষুদ্র ক্লাস্টারে বিভক্ত হবে। তখন কোথাও বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গেলে ছোট্ট একটা অংশ প্লাবিত হলেও বাকি এলাকা সুরক্ষিত থাকবে। দয়াকরে সংযুক্ত ছবিটি দেখুন।
(লেখাটা বড় হয়ে যাচ্ছে বলে অনুরোধ করছি সম্পূর্ণটা পড়বেন দয়াকরে। এটা গাবুরার জন্য অনেকটা সময় ব্যয় করে আমি তৈরি করেছি। বিশেষ করে আমাদের এমপি মহোদয়, জনাব মনিরুজ্জামান মহোদয়, চেয়ারম্যান মহোদয় এবং অন্যান্য বিশেষ ব্যক্তি বর্গের জন্য, যারা গাবুরা ও উপকূল নিয়ে ভাবেন কিংবা গবেষণা করেন যাতে সবাই মিলে রাজনীতির উরধে উঠে সুন্দর উপকূল গড়তে পারি)
আমার প্রস্তাবঃ
আমার ৮ বছরের বৈশ্বিক প্রকল্পের অভিজ্ঞতা, গবেষণালব্ধ অধ্যয়ন থেকে অর্জিত জ্ঞান একত্রিত করে আমার কথাগুলি প্রথমে ছবিতে এঁকেছি। এবার সেই স্বপক্ষে যুক্তি তুলে ধরছি (এই ৬ ক্লাস্টারের পরিকল্পনায় স্নেহাস্পদ Gazi Nur Md. Bulbul আমাকে সহায়তা করেছিল, কৃতজ্ঞতা তার প্রতি)-
১। প্রথমে সবুজ রঙে আঁকা রাস্তাটি হাইওয়ের সাথে যুক্ত করা দরকার। পাখিমারা-চৌদ্দরশি-গাইনবাড়ি হয়ে চকবারা নয়, চাঁদনীমুখা যাওয়া দরকার। কেন দরকার সেটা ২ নং প্রস্তাবে পরিস্কার হবে বলে আশা করি। কারণ এর গুরুত্ব, গাবুরার পরিবেশ, এবং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ভিত্তিতে এই প্রস্তাব করছি। দীর্ঘ মেয়াদি ভাবনা ও পরিকল্পনা দরকার আমাদের। আমাদের প্রতিটি পরিকল্পনায় বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে বিবেচনায় নিয়ে না করলে ক্ষতিগ্রস্ত হবো আমারাই, গাবুরাবাসি।
২। হলুদ ও নীল রঙের রাস্তা দুটিও একই উচ্চতায় ডুমুরিয়া খেয়াঘাট থেকে চকবারা-গাইনবাড়ি হয়ে লেবুবুনিয়া পর্যন্ত এবং ডুমুরিয়া খেয়াঘাট থেকে অপর রাস্তাটি হরিসখালি হয়ে পার্শ্বেমারি স্কুল পর্যন্ত। ব্যস, তবেই ইউনিয়ন ৬ ক্লাস্টারে বিভক্ত হলে ভবিষ্যতে নদী ভাঙ্গন থেকে সৃষ্ট প্লাবনকে আমরা একটা ক্ষুদ্র এলাকায় আটকে রাখতে পারব ইনশাল্লাহ।
৩। যদি গাবুরাভিত্তিক ইকোট্যুরিজমের পরিকল্পনা করা হয়, তবে গোলাপি রঙের রাস্তাগুলি করার দরকার হবে। আমার জানা মতে যেখানে চর আছে, ভাঙনপ্রবণ নয়, সেগুলি এই পরিল্পনার আওতায় আসতে পারে। যেমন ১নম্বরে আসবে দৃষ্টিনন্দন, এভাবে জেলিয়াখালি, খোলপেটুয়া, চাঁদনীমুখা, পার্শ্বেমারী ইত্যাদি (অন্য এলাকায় চর থাকলে সেটিও যুক্ত হতে পারে)। এখানে প্রটেকশন নির্মাণ করে পরিকল্পিতভাবে ম্যানগ্রোভ গাছ রোপণ, ঝুঁকিপূর্ণ নয় এমন বন্য প্রাণী প্রজনন করে গড়ে তোলা যেতে পারে। মৌসুমে অতিথি পাখির আগমন ঘটবে।
৪। আমার মতে সমগ্র বেড়িবাঁধ এর উপর দিয়ে কারপেটিং রাস্তা করা সম্ভব হলে সেটা বেড়িবাঁধকে আরও দীর্ঘস্থায়ী করে তুলবে। যা ইকোট্যুরিজম করা হলে সেখানেও কাজে লাগবে।
৫। শ্যামনগর থেকে মুন্সিগঞ্জ হয়ে নীল্ডুমুর পর্যন্ত রাস্তাটিও অত্যন্ত জরুরী।
৬। স্থায়িভাবে গাবুরাকে লবণ পানি মুক্ত করে পর্যাপ্ত খাল খনন করে একই জমিতে ২-৪ ফসল করা যেতে পারে। সে জন্য পরিকল্পিত পানি ব্যবস্থাপনা করার প্লান করতে হবে, যা এই স্বল্প পরিসরে আলোচনা করা যাবে না।
৭। গাবুরার বাজারগুলিকে বিজনেস নেটওয়ার্কের আওতায় এনে এলাকার অর্থনৈতিক হাব হিসেবে গড়ে তোলা যেতে পারে।
@

27/02/2026

ডেলটা ফিউচার্স- এর এই (নিচে উল্লিখিত) চ্যাপ্টার পড়তে গিয়ে অনেকটা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলাম। আমরা বাঁধের জন্য যে আন্দোলন করেছিলাম, সেই বিষয়টি অধ্যাপক জেসন- এর দৃষ্টি এড়িয়ে যায় নি। বিশেষ করে "ত্রাণ চাই না, বাঁধ চাই" এই শ্লোগানটি আমি আমার টাইম লাইনে প্রথম শেয়ার করার পর "গাবুরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি"র মাধ্যমে তা কপোতাক্ষ-খোলপেটুয়া পার হয়ে উপকূলের শ্লোগান হয়ে উঠেছিল সেই সময়। আরটিভি'র যে ২/৩টি টকশো'তে অংশগ্রহণ করেছিলাম, সেখানেও তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলাম, যা আপনাদের অনেকেরই হয়তো মনে আছে। আপনাদের সাথেও তাই সেই চ্যাপ্টারটির অনুবাদ শেয়ার করছি। আমার বিশ্বাস যারা এই আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছিলেন, তারা এই অংশটুকু হৃদয় দিয়ে অনুভব করতে পারবেন। জেসন লিখেছেন-

চ্যাপ্টার শিরোনাম- বেড়িবাঁধের রাজনীতি (EMBANKED POLITICS)

"গাবুরার অনেক বাসিন্দা যেমনটা লক্ষ্য করেন, নড়বড়ে বেড়িবাঁধ হলো সমষ্টিগত ঝুঁকির উৎস, কোনো একক ব্যক্তির নয়। আর এনজিও-র হস্তক্ষেপ, এমনকি জলবায়ু-স্মার্ট ঘরগুলোও মানুষকে তাদের জায়গায় ধরে রাখতে খুব সামান্যই ভূমিকা রাখতে পারে যদি তাদের জমি স্থায়ীভাবে বা আধা-স্থায়ীভাবে নোনা পানিতে ডুবে থাকে। আমাদের বন্ধু মুসা—যার ছোট জমিটি একদা একটি স্থানীয় এনজিও জলবায়ু-সহিষ্ণু সবজি চাষের পরীক্ষামূলক প্লট হিসেবে ব্যবহার করেছিল—তিনি যেমনটা বলেন: “এই ছাইপাশ এনজিওরা এটা-সেটা দেয়। কিন্তু ওয়াপদা যদি ভেঙে যায় আর আমাদের জমি যদি পানির নিচে থাকে, তবে এগুলা কী কাজে আসবে?”

সরকারের পক্ষ থেকে অবকাঠামোগত বিনিয়োগের অভাব নিয়ে এই ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ কেবল বাসিন্দাদের জন্যই নয়, বরং স্থানীয় রাজনীতিকদের জন্যও সমস্যা তৈরি করে। বাসিন্দারা প্রায়ই এই রাজনীতিকদের—এবং প্রায়ই তা সঠিকভাবে—এনজিও-র সহায়তার বণ্টক হিসেবে দেখেন। কারা সুবিধা পাবে সে বিষয়ে স্থানীয় রাজনীতিকদের বড় ভূমিকা থাকে। তবে তারা সেই রাজনৈতিক পার্থক্য সম্পর্কেও তীব্রভাবে সচেতন যে, কোনো হস্তক্ষেপ গুটি কয়েক মানুষের উপকারে আসে নাকি আপামর জনসাধারণের। ২০২০ সালে গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের একজন সদস্য আমাদের বলেছিলেন, “আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করি, ‘এনজিওদের এখান থেকে দূরে রাখুন।’ ওরা ঝামেলা ছাড়া আর কিছুই তৈরি করে না। আমি ওয়াপদার কাছ থেকে বেড়িবাঁধ চাই।” তিনি আরও বলেন, “মাঝে মাঝে মানুষ ত্রাণ দেয়, কিন্তু ত্রাণ কোনো সমাধান নয়। গাবুরায় এখন মানুষ একটি বাক্যই বারবার বলছে: ‘আমরা ত্রাণ চাই না, বাঁধ চাই!’ [Tran chai na, baad chai!]।” এই “ত্রাণ চাই না, বাঁধ চাই” ডাকটি গাবুরায় বেড়িবাঁধ পুনর্নির্মাণের দাবিতে গড়ে ওঠা একটি আন্দোলনের সিগনেচার স্লোগানে পরিণত হয়েছে। প্রতিটি ঝড়ের পর দ্বীপ জুড়ে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিলে প্লেকার্ডের স্লোগান ও স্লোগান হিসেবে এটি শোনা যায়। বাসিন্দারা এখন ক্রমবর্ধমানভাবে এই বিষয়ে অনড় যে, তাদের ঝুঁকির সমাধান ‘সহনশীল উন্নয়ন’-এ নয়, বরং অবকাঠামোগত হস্তক্ষেপে নিহিত। এবং প্রকৃতপক্ষে, এই দাবিগুলো কিছুটা সাফল্য পেয়েছে বলে মনে হয়। ২০২২ সালে সরকার একটি নতুন ওয়াপদা বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ করেছে। ১৮ ফুট উঁচু এই বাঁধটির নির্মাণকাজ ২০২৬ সালে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে, যা দ্বীপের বর্তমান জরাজীর্ণ বাঁধের চেয়ে ৪ ফুট বেশি উঁচু হবে। অন্য সব প্রকল্পের মতো, এই বাঁধগুলোও ব-দ্বীপের পলি-নিসর্গের ধীর ও অলক্ষ্য পরিবর্তনের শিকার হবে। তবে এগুলো অন্তত কিছু সময়ের জন্য হলেও গাবুরার বাসিন্দাদের ক্রমবর্ধমান জোয়ার এবং ঘনঘন ঝড় থেকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দেয়।

এই বই লেখার সময় পর্যন্ত এই প্রকল্পের ফলাফল অজানা থাকলেও, গাবুরা এবং ব-দ্বীপের সমজাতীয় এলাকাগুলোতে বেড়িবাঁধ নিয়ে এই সংগ্রাম যেন ‘বায়োপাওয়ার’ (biopower) এবং ‘রাজনৈতিক সমাজ’-এর (political society) একটি আদর্শিক আখ্যান তুলে ধরে। মিশেল ফুকোর বিখ্যাত সংজ্ঞায়ন অনুযায়ী, বেড়িবাঁধগুলো নিঃসন্দেহে ‘বায়োপলিটিক্যাল’ প্রযুক্তি—এমন কিছু যা সরকার ‘বাঁচিয়ে রাখতে বা মরতে দিতে’ ব্যবহার করে।"

শেষ বাক্যটি খুবই সাহসি উচ্চারণ- ...যা সরকার ‘বাঁচিয়ে রাখতে বা মরতে দিতে’ ব্যবহার করে।

গাবুরার কারও একটু সহায়তা প্রয়োজন-গাবুরায় "পানি হাউস" নামের এই ঘরটি ওয়ার্ল্ড ফিশ নামে আন্তর্জাতিক সংস্থার অর্থায়নে নির্মি...
19/02/2026

গাবুরার কারও একটু সহায়তা প্রয়োজন-

গাবুরায় "পানি হাউস" নামের এই ঘরটি ওয়ার্ল্ড ফিশ নামে আন্তর্জাতিক সংস্থার অর্থায়নে নির্মিত হয়েছিলো। জেসন কন্স এমনটি লিখেছেন তাঁর বইতে যেটা আমি বলেছিলাম যে আমি পড়ে দেখছি। গাবুরার কেউ কি বলবেন এই ঘরটি ঠিক কোথায় নির্মিত হয়েছে (সম্ভবত ২০১৮ বা তারও আগে)? এবার গাবুরায় এসে আমি এই স্থানে গিয়ে দেখতে চাই। ঘরটি কি আজও টিকে আছে? থাকলে বর্তমানে এর কি কোন কার্যকারিতা আছে? দয়াকরে আমাকে তথ্য জানিয়ে সহায়তা করুন। ভিনদেশী এই লেখকের বিশ্লেষণ আপনাদের উদ্দেশ্যে এখানে তুলে ধরছি-

"প্রকল্পটি ছিল একটি ‘পাইলট’ বা পরীক্ষামূলক উদ্যোগ। প্রতিবেদনে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে, “ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জলবায়ু-সহিষ্ণু আবাসন নির্মাণে উৎসাহিত করতে সম্প্রদায়গুলোর উচিত সরকারি প্রতিনিধিদের সাথে কাজ করা।” কিন্তু যে ‘সম্প্রদায়’ বা কমিউনিটির কথা এখানে বলা হচ্ছে, তারা সম্ভবত এই ব-দ্বীপের মানুষ নয়। কারণ এই ব-দ্বীপে প্রতি পরিবারের জন্য ৬,০০০ ডলার ব্যয়ের একটি প্রকল্প ব্যাপকভাবে গ্রহণ করা কল্পনা করাও কঠিন, কারণ সেক্ষেত্রে খরচের পরিমাণ দ্রুতই বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে যাবে। প্রকৃতপক্ষে, আমার জানামতে গাবুরা বা ব-দ্বীপের অন্য কোথাও এই পানি হাউসের মডেলে আরও বাড়ি তৈরির কোনো সিরিয়াস আলোচনা হয়নি। বরং, এই বাড়িটিকে একটি বিমূর্ত পোর্টেবল প্রযুক্তি হিসেবে কল্পনা করা হয়েছিল, যা জলবায়ু বিপর্যয়ের শিকার অন্য যেকোনো এলাকায় মোতায়েন করার জন্য প্রস্তুত (যদিও তা হওয়ার সম্ভাবনা কম)। পানি হাউস—যা এর বাসিন্দাদের সম্ভাব্য জলবায়ু শরণার্থী থেকে সহনশীল কৃষকে রূপান্তরিত করে জলবায়ু নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি প্রযুক্তি ছিল—তা কল্পনা করার জন্য ভালো ছিল, কিন্তু বাস্তবে বড় পরিসরে কার্যকর করা অসম্ভব। একটি বিমূর্ত ধারণা হিসেবে, এটি ব-দ্বীপের মাটির চেয়ে পরিকল্পনাকারী এবং দাতাদের কল্পনাতেই বেশি ডালপালা মেলার জন্য তৈরি করা হয়েছিল।

পানি হাউসের বিভিন্ন প্রযুক্তিগুলোতে এর মধ্যেই ত্রুটি দেখা দিচ্ছিল। উদাহরণস্বরূপ, এর একটি বৈশিষ্ট্য ছিল জটিল ড্রিপ-সেচ ব্যবস্থা, যা লোনা মাটি থেকে আলাদা করে এবং প্লাবন সীমার উপরে জানালার বাক্সে সবজি চাষের সুযোগ দেওয়ার কথা ছিল। এই ব্যবস্থাটি প্লাস্টিকের ড্রিপ-কলের ওপর নির্ভরশীল ছিল, যার অনেকগুলোই ভেঙে গিয়েছিল এবং স্থানীয় বাজারে পাওয়া যায় এমন উপকরণ দিয়ে সেগুলো মেরামত করা সম্ভব ছিল না। দোতলায় ওঠার সিঁড়িগুলো ছিল লোহার তৈরি, যা ব-দ্বীপের লবণাক্ত পরিবেশে দ্রুত মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে যায়। প্রকৃতপক্ষে, পরবর্তী এক সফরে বাড়ির বাসিন্দা নাজমা এবং আক্কাস আমাকে জানিয়েছিলেন যে, নির্মাণের পর থেকে বাড়ির নকশায় বেশ কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। তাদের কাছে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ সংস্করণের জন্য কিছু বাস্তবসম্মত পরামর্শ ছিল, যেমন—ঘরের চালের কার্নিশ আরও বাড়ানো, যাতে বর্ষাকালে বৃষ্টির ছাঁট ভেতরে কম ঢোকে। আমি তাদের জিজ্ঞেস করেছিলাম ওয়ার্ল্ডফিশ তাদের কাছ থেকে এই ধরণের কোনো মতামত বা ফিডব্যাক নিয়েছে কি না। তারা বলেছিল যে, বাড়ি তৈরির পর থেকে নকশাকারদের সাথে তাদের আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। নাজমা যেমনটা বললেন: “তারা আমাদের এটি দিয়ে গেছে ঠিকই, কিন্তু আমরা যে এই সমস্যাগুলোর সম্মুখীন হচ্ছি, তা তাদের বলার কোনো সুযোগ নেই"।”

মূলধারার রাজনীতি আর উপকূলের রাজনীতি এক নয়, এই বিষয়ে ধারাবাহিক লেখার ইচ্ছাটা আপাতত মুলতবী রাখছি নির্বাচনের কারণে। ঐ বিষয়ে...
08/02/2026

মূলধারার রাজনীতি আর উপকূলের রাজনীতি এক নয়, এই বিষয়ে ধারাবাহিক লেখার ইচ্ছাটা আপাতত মুলতবী রাখছি নির্বাচনের কারণে। ঐ বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত অন্য একটি আলোচনায় মনোযোগ দিতে চাই। বিষয়টি হলো, আমেরিকার টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক, নৃতাত্ত্বিক, গবেষকের সাথে কয়েকদিন আগে ২/১ টি ইমেল মাধ্যমে আলোচনা হয়েছে, যিনি বিশেষভাবে গাবুরা এবং উপকূলের আরও কিছু এলাকা, সুন্দরবন ভিজিট করেছিলেন একটি গবেষণার অংশ হিসেবে। সেই গবেষণার ভিত্তিতে তিনি তাঁর অভিজ্ঞতা একটি গ্রন্থ আকারে লিখেছেন, যার নাম দিয়েছেন "DELTA FUTURES" যা ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস থেকে প্রকাশিত হয়েছে অতি সম্প্রতি, ২০২৫ এর শেষের দিকে। তিনি জানতে পেরেছেন, আমি গাবুরার অধিবাসি, তাই তিনি অনুগ্রহ করে বইটির একটা পিডিএফ কপি আমাকে পড়তে দিয়েছেন। পড়া শুরু করেছি। উপকূলের সমস্যার অত্যন্ত গভীরের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে খুব নিরপেক্ষ ও নৃতাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গিতে সমস্যাগুলি বিশ্লেষণ করেছেন। সবথেকে ভাল লেগেছে যে বিষয়টি- তা হলো তাঁর লেখার ধরণ। গবেষণা গ্রন্থ হলেও গবেষণার কাঠখোট্টা ধরণ পরিত্যাগ করে তিনি ভ্রমণ কাহিনীর মত করে আলোচনা ও ব্যাখ্যা করেছেন যা একজন পাঠকের মনোযোগ ধরে রাখার জন্য যথেষ্ট। আজ আমি তাঁর গ্রন্থের ভূমিকায় আলোচিত বিষয়গুলির সারসংক্ষেপ তুলে ধরার চেষ্টা করছি-

জেসন কন্স তার 'Delta Futures: Life and Death on a Climate Frontier' গ্রন্থের ভূমিকায় (Introduction) মূলত জলবায়ু পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ব-দ্বীপ অঞ্চলের রূপান্তর, রাজনীতি এবং সেখানকার মানুষের যাপিত জীবনের এক জটিল চিত্র তুলে ধরেছেন। তার বইয়ের ভূমিকা আলোচনার প্রধান দিকগুলো নিচে দেওয়া হলো:

১. ব-দ্বীপকে 'জলবায়ু সীমান্ত' (Climate Frontier) হিসেবে দেখা
জেসন কন্স এই গ্রন্থের মূল প্রস্তাবনা হিসেবে ব-দ্বীপকে একটি 'ক্লাইমেট ফ্রন্টিয়ার' বা জলবায়ু সীমান্ত হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। তার মতে, সীমান্ত মানে কেবল একটি ভৌগোলিক শেষ সীমা নয়, বরং এটি এমন এক অস্থিতিশীল ক্ষেত্র যেখানে নতুন নতুন সম্ভাবনা, জবরদখল এবং পুঁজি বা শাসনের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলে। ব-দ্বীপ এখন এমন এক সীমান্তে পরিণত হয়েছে যেখানে ভবিষ্যৎ জলবায়ু বিপর্যয়ের দোহাই দিয়ে ভূমি দখল এবং সম্পদের পুনর্বিন্যাস ঘটছে।

২. বৈশ্বিক কল্পনা বনাম স্থানীয় বাস্তবতা (Captured Imaginations)
তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে বাংলাদেশের ব-দ্বীপ অঞ্চলটি জলবায়ু পরিবর্তনের একটি 'গ্রাউন্ড জিরো' বা বৈশ্বিক প্রতীকে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মিডিয়া এবং দাতাগোষ্ঠী প্রায়ই এখানকার নদীভাঙন বা বন্যার ছবি তুলে ধরে একটি 'বিপর্যয়ের বয়ান' তৈরি করে। লেখক একে 'ক্যাপচার্ড ইমাজিনেশন' বা বন্দি কল্পনা বলছেন, যা স্থানীয় মানুষের প্রকৃত দুঃখ-কষ্ট বা রাজনৈতিক সমস্যার চেয়ে বরং বিশ্ববাসীকে আতঙ্কিত করতেই বেশি ব্যবহৃত হয়।

৩. ব-দ্বীপের 'উভচর' বৈশিষ্ট্য (Amphibious Life)
লেখক ব-দ্বীপের পরিবেশকে 'অ্যামফিবিয়াস' বা উভচর হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এখানকার জীবন জল ও স্থলের এক নিরন্তর পরিবর্তনের মধ্যে আবর্তিত হয়। তিনি মনে করেন, কেবল কারিগরি বা প্রযুক্তিগত (Technopolitical) সমাধানের মাধ্যমে ব-দ্বীপকে বোঝা সম্ভব নয়, কারণ এখানকার জলতাত্ত্বিক ব্যবস্থা এবং মানুষের সামাজিক সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়ভাবে মিশে আছে।

৪. জলবায়ু রাজনীতি ও নিরাপত্তা (Security and Risk)
ভূমিকায় লেখক আলোচনা করেছেন কীভাবে জলবায়ু পরিবর্তন এখন কেবল মানবিক সমস্যা নয়, বরং একটি নিরাপত্তা ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। গ্লোবাল নর্থ বা উন্নত দেশগুলো বাংলাদেশের জলবায়ু শরণার্থী নিয়ে আতঙ্কিত। এই আতঙ্ক থেকেই ব-দ্বীপে বিভিন্ন 'রেজিলিয়েন্স' বা সহনশীলতার প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে, যা অনেক সময় স্থানীয়দের উপকারের চেয়ে তাদের নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হয়ে উঠছে।

৫. বিপরীতমুখী দৃষ্টিভঙ্গি: বিপর্যয় বনাম উন্নয়ন
অধ্যাপক কন্স ব-দ্বীপকে নিয়ে দুটি বিপরীতধর্মী স্বপ্নের কথা বলেছেন:

• একদিকে এটিকে দেখা হয় একটি পরিত্যক্ত ভূমি (Wasteland) হিসেবে, যা অচিরেই তলিয়ে যাবে।

• অন্যদিকে, বাংলাদেশ রাষ্ট্র এটিকে 'সোনার বাংলা' গড়ার অংশ হিসেবে নতুন অর্থনৈতিক করিডোর, বন্দর ও শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে চাইছে। এই দুই বিপরীতমুখী ভবিষ্যতের টানাপোড়েনেই বর্তমান ব-দ্বীপ গঠিত হচ্ছে।

৬. সুন্দরবনের প্রান্তিক মানুষের অভিজ্ঞতা
তিনি তার গবেষণা সহকারী রিটনের সাথে ভ্রমণের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে জেলেদের (যেমন নুরুল বা জলিল-গাবুরার অধিবাসি) জীবন তুলে ধরেছেন। তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে পরিবেশ সংরক্ষণের দোহাই দিয়ে সুন্দরবনকে সাধারণ মানুষের জন্য ‘বন্ধ’ করে দেওয়া হচ্ছে (অক্সিজেন উৎপাদনের ব্যাপার- এই অজুহাতে), যা প্রকৃতপক্ষে প্রান্তিক মানুষের জীবিকাকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।
________________________________________
সহজ কথায়, জেসন কন্স বলতে চেয়েছেন যে- জলবায়ু পরিবর্তন কেবল একটি প্রাকৃতিক ঘটনা নয়, বরং এটি একটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া যা ব-দ্বীপের ভূমি, মানুষ এবং ভবিষ্যৎকে নতুনভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে।

31/12/2025

উপকূলের রাজনীতি মূলধারায় মিশে গেলে নয়, স্বতন্ত্রভাবে বোঝা ও স্বীকৃতি পেলেই ন্যায়বিচার সম্ভব।
প্রিয় উপকুলবাসী, একটা বিষয় নিয়ে ভাবা এই মুহূর্তে আমাদের জন্য খুব জরুরী। সেটা হল- মূলধারার রাজনীতি থেকে উপকূলের রাজনীতি কেন মৌলিকভাবে ভিন্ন, সেটা উপলব্ধি করা,—এটি কোনো আবেগী কথা নয়; এটি বাস্তবতা, অভিজ্ঞতা ও কাঠামোগত বৈষম্যের ফল। নিচে সংক্ষিপ্ত কিন্তু বলিষ্ঠ যুক্তিগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছি:
১. উপকূলের রাজনীতি হল "জীবন–মৃত্যুর প্রশ্ন"ঃ
মূলধারার রাজনীতিতে রাজনীতি মানে ক্ষমতা, নির্বাচন, উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি। আর উপকূলে রাজনীতি মানে— ভূমি থাকবে কি থাকবে না, ঘর ভাসবে কি না, পানি খাবারযোগ্য থাকবে কি না ইত্যাদি।
অপরদিকে বিশ্বাস করুন আর না করুন- জলোচ্ছ্বাস, ভাঙন, লবণাক্ততা—এসব “প্রাকৃতিক” নয়; এগুলো রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ফল।
২. উপকূল থেকে রাষ্ট্রের অবস্থান অনেক দূরে, কিন্তু ঝুঁকি আমাদের কাছেই অবস্থান করে।
উপকূলের মানুষ রাষ্ট্রকে দেখে মূলত দুর্যোগের সময়—ত্রাণদাতা হিসেবে।
কিন্তু মূলধারার রাজনীতিতে রাষ্ট্র প্রতিদিন, সব সময় উপস্থিত—সেবা, উন্নয়ন, নিরাপত্তার নামে।
"সিদ্ধান্ত হয় ঢাকায়, ক্ষতি হয় উপকূলে।" এই দূরত্বই উপকূলের রাজনীতিকে ভিন্ন করে তোলে। যেটা আমাদের উপকূলের রাজনীতিবিদগণ বুঝেন কি না, জানি না, তবে বুঝতে যে চেষ্টাই করেন না, এটা বলা যায় নিশ্চিত করে।
৩. উপকূলীয় মানুষ “ভোটার” নয়, “ডাটা”
মূলধারার রাজনীতিতে মানুষ ভোটব্যাংক। উপকূলে মানুষ হয়ে যায়—
ক। “ক্লাইমেট ভিকটিম” বা জলবায়ু ভুক্তভোগী;
খ। “ডিসপ্লেসড পপুলেশন” বা বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠী;
গ। “বেনিফিশিয়ারি” বা উপকারভোগী।
অর্থাৎ, নীতি–নির্ধারণে নয়, কিংবা নীতি–নির্ধারণের আলচনাতেও নয়, আমাদের উপকূলবাসির যায়গা পাকাপোক্ত হয় শুধুমাত্র রিপোর্টে বা প্রতিবেদনে, তথ্য বা ডাটা হিসেবে।
৪. উন্নয়ন এখানে আশীর্বাদ নয়, অনেক সময় হুমকি স্বরূপ
যেমন- রাস্তা, বাঁধ, চিংড়িঘের, শিল্পাঞ্চল— মূলধারায় এগুলো উন্নয়ন। কিন্তু উপকূলে এগুলো অনেক ক্ষেত্রেই—
ক। জীবিকা ধ্বংস করে
খ। পানি চলাচল বন্ধ করে
গ। ভূমি কেড়ে নেয়
টাই অবধারিতভাবে এখানে প্রশ্ন ওঠে: উন্নয়ন কার জন্য, আর কাকে বাদ দিয়ে?
৫. আমাদের উপকূলে জলবায়ু ভবিষ্যৎ নয়, বরং নির্মম বর্তমান
মূলধারার রাজনীতিতে জলবায়ু পরিবর্তন “আগামী প্রজন্মের সমস্যা”। আর আমাদের উপকূলে এটি আজকের বাস্তবতা। এখানে রাজনীতি মানে— অভিযোজন, টিকে থাকা, ন্যায্যতা।
৬. উপকূলের রাজনীতিতে প্রতিনিধিত্ব সংকট কাঠামোগতঃ
উপকূলের জনপ্রতিনিধিরা প্রায়শই—
ক। দলীয় আনুগত্যনির্ভর
খ। স্থানীয় মানুষের কাছে জবাবদিহিহীন
গ। কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বাহক মাত্র
ফলে উপকূলের রাজনীতি হয়ে ওঠে— প্রতিনিধিত্ব ছাড়া শাসন।
৭. উপকূল “প্রান্ত” নয়, ফ্রন্টলাইনঃ
মূলধারার রাজনীতি উপকূলকে দেখে প্রান্ত হিসেবে।
কিন্তু বাস্তবে উপকূল হলো— জলবায়ু সংকটের ফ্রন্টলাইন, রাষ্ট্রীয় পরীক্ষাগার।
মনে রাখতে হবে যে, আজ উপকূলে যা ঘটছে, সতর্ক না হলে আগামীকাল তা সারা দেশে ঘটবে।
অতএব, আমাদের মনে রাখা দরকার- উপকূলের রাজনীতি সম্পূর্ণভাবেই আলাদা কারণ—
* এটি ক্ষমতার রাজনীতি নয়, অস্তিত্বের রাজনীতি।
* এটি নির্বাচনকেন্দ্রিক নয়, জীবনকেন্দ্রিক।
👉 তাই উপকূলের রাজনীতি মূলধারায় মিশে গেলে নয়, স্বতন্ত্রভাবে বোঝা ও স্বীকৃতি পেলেই ন্যায়বিচার সম্ভব।
এখন নির্বাচন আসন্ন, রাজনীতি এখন আপনাদের দুয়ারে দুয়ারে ধরনা দিচ্ছে। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে তাদেরকে এভাবে আর পাবেন না। তাই এখনি সময়, এই বিষয়গুলি তাদের কাছে উপস্থাপন করুন।

30/12/2025

“Politics Begins Where the Land Ends” এই বক্তব্যটি মূলধারার রাজনীতির ধারণাকে প্রশ্ন করে—যেখানে রাজনীতি শুধু রাজধানী, সংসদ বা নির্বাচনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। উপকূলীয় অঞ্চলে রাজনীতি প্রতিদিনের বাস্তবতা—ভাঙন, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ত পানি, বাঁধের ব্যর্থতা, বাস্তুচ্যুতি ও জীবিকা সংকটের মধ্য দিয়ে।

উপকূলে, দূরে বসে নেয়া সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করে কার জমি যাবে, কে ঘরছাড়া হবে, আর কাকে সুরক্ষা দেয়া হবে। জলবায়ু পরিবর্তন, উন্নয়ন প্রকল্প কিংবা রাষ্ট্রীয় অবহেলা কোনো প্রাকৃতিক দুর্ঘটনা নয়—এগুলো রাজনৈতিক ফলাফল। উপকূলের মানুষ কেবল ভুক্তভোগী নয়; তারা অধিকার, ন্যায্যতা ও স্বীকৃতির দাবিদার রাজনৈতিক সত্তা।

এটাই ফ্রন্টলাইনের রাজনীতি—যেখানে ভূমি শেষ হয়, কিন্তু জবাবদিহি শুরু হওয়া উচিত।

এই পেজটি মূলত এই বিষয়টি নিয়ে ক্রমাগত আলোচনা চালিয়ে যেতে চায়। আপনারা আপনাদের সুচিন্তিত মতামত দিয়ে আলোচনাগুলিকে আরো সমৃদ্ধ করবেন। মূলতঃ উপকূল ও উপকূলের রাজনীতি মূলধারার রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। মূলধারার রাজনীতি নিয়ে কথা বলার মানুষের অভাব নেই কিন্তু আমাদের উপকূলের রাজনীতি নিয়ে কথা বলার জন্য কোথাও কেউ নেই। নিয়মিতভাবে সেই আলোচনাই চলতে থাকবে এখানে। আপনিও অংশগ্রহণ করুন।
-----------------------------------------------------------------------
“Politics Begins Where the Land Ends” challenges the idea that politics is shaped only in capitals, parliaments, or election cycles. In coastal regions, politics is lived daily—through rising tides, eroding land, saline water, broken embankments, forced migration, and fragile livelihoods. Here, survival itself becomes political.

At the coast, decisions made far away determine who loses land, who is displaced, and who is protected. Climate change, development projects, and neglect are not natural events; they are political outcomes. Coastal communities are not passive victims—they are political subjects demanding rights, justice, and recognition.

This is politics from the frontline—where land ends, but accountability must begin.

This page basically wants to continue the discussion on this issue. You will enrich the discussions with your well-thought-out opinions. Basically, the politics of the coast is completely different from mainstream politics. There is no shortage of people to talk about mainstream politics but there is none to talk about our coastal politics. That discussion will continue here regularly. You too can participate.

Address

Gabura
Shyamnagar
9454

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Politics Begins Where the Land Ends posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share