17/08/2026
«هُدًى لِّلْمُتَّقِينَ» (হুদাললিল মুত্তাকীন) পবিত্র কুরআনের দ্বিতীয় সূরা, সূরা আল-বাক্বারার ২ নম্বর আয়াতের একটি অংশ।
💡 অর্থ:
"মুত্তাকীদের (পরহেজগার/আল্লাহভীরুদের) জন্য পথপ্রদর্শক।"
📖 বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
শব্দটিকে ভালোভাবে বোঝার জন্য এর দুটি প্রধান অংশকে আলাদা করে দেখা যাক:
هُدًى (হুদা): এর অর্থ পথপ্রদর্শন, হেদায়েত বা সঠিক রাস্তার দিশা।
لِّلْمُتَّقِينَ (লিল-মুত্তাকীন): 'লিল' মানে 'জন্য' এবং 'মুত্তাকীন' শব্দটি এসেছে 'তাকওয়া' (تقوى) থেকে। মুত্তাকীন বলতে বোঝায় যারা আল্লাহকে ভয় করে, তাঁর আদেশ মেনে চলে এবং নিষেধকৃত বিষয়গুলো থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখে (পরহেজগার)।
১. কুরআন কি কেবল মুত্তাকীদের জন্যই?
কুরআন মূলত সমগ্র মানবজাতির জন্যই হেদায়েত বা পথের দিশা। কিন্তু এই আয়াতে বিশেষভাবে "মুত্তাকীদের জন্য হেদায়েত" বলা হয়েছে কারণ:
কুরআনের আলো থেকে সেই ব্যক্তিই প্রকৃত উপকার পায়, যার অন্তরে সত্যকে মেনে নেওয়ার মানসিকতা এবং খোদাভীতি (তাকওয়া) আছে।
একজন অহংকারী বা সত্যবিমুখ মানুষ কুরআন পড়লেও তা থেকে হেদায়েত গ্রহণ করতে পারে না, কিন্তু একজন মুত্তাকী ব্যক্তি এর প্রতিটি বাণী থেকে নিজের জীবন পরিচালনার পথ খুঁজে পান।
২. 'তাকওয়া' বা মুত্তাকীর পরিচয়:
হযরত ওমর ফারুক (রাঃ) একবার উবাই ইবনে কাব (রাঃ)-কে 'তাকওয়া' সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। উবাই (রাঃ) উল্টো প্রশ্ন করলেন, "আপনি কি কখনো কাঁটাযুক্ত সংকীর্ণ পথ দিয়ে হেঁটেছেন?" ওমর (রাঃ) বললেন, "হ্যাঁ।" তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, "তখন আপনি কীভাবে হেঁটেছিলেন?" ওমর (রাঃ) জবাব দিলেন, "আমি কাপডসোপ গুটিয়ে খুব সাবধানে হেঁটেছি যাতে কাঁটা গায়ে না লাগে।" উবাই (রাঃ) বললেন, "পাপের মধ্য দিয়ে পূর্ণ সতর্কতার সাথে জীবন পরিচালনা করাই হলো তাকওয়া।"
সংক্ষেপে: কুরআন সবাইকে আলোর দাওয়াত দেয়, কিন্তু সেই আলো থেকে জীবনকে সুন্দর ও সৎপথে পরিচালিত করার সৌভাগ্য তারাই লাভ করে, যারা আল্লাহকে ভয় করে সাবধানে জীবন যাপন করে—অর্থাৎ মুত্তাকীনগণ।
#কোরআন #ফুলতলী