24/09/2026
এখানে সকাল মানেই দায়িত্ব,
দিন মানেই কাজ,
আর রাত মানেই ক্লান্ত শরীর নিয়ে
আরেকটা দিন পার করার প্রস্তুতি।
ব্যস্ততার ভিড়ে কখন যে ঘণ্টা শেষ হয়ে যায়,
কখন সপ্তাহ পেরিয়ে মাস হয়ে যায়—
টেরই পাওয়া যায় না।
শুধু একটা জিনিস বদলায় না—
দিন যতই বিদেশের হোক,
মনের একটা অংশ প্রতিদিন বাড়িতেই থাকে।
কাজের ফাঁকে হঠাৎ মায়ের কথা মনে পড়ে,
কোনো পরিচিত গন্ধে পুরোনো উঠানটা চোখের সামনে ভেসে ওঠে,
ছুটির দিনে অন্যদের আনন্দ দেখলে
মনে হয়—
এই সময়টুকু যদি আপন মানুষগুলোর সঙ্গে কাটাতে পারতাম!
সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার জানো?
প্রবাসে এসে মানুষ ভবিষ্যতের জন্য
বর্তমানটাকে বিসর্জন দেয়।
যে মানুষগুলোর জন্য টাকা জমাই,
তাদের কাছেই সময় দিতে পারি না।
যাদের মুখে হাসি দেখার জন্য
এত দূরে থাকি,
তাদের হাসিটাও অনেক সময়
ফোনের স্ক্রিনে দেখতে হয়।
তবুও অভিযোগ করি না।
কারণ এই দূরত্বটা স্বেচ্ছায় বেছে নিইনি—
আপন মানুষগুলোর আগামীকালটা একটু সুন্দর হবে বলেই
আজ নিজের আজটাকে দূরে রেখে এসেছি।
একদিন ফিরব।
সেদিন হয়তো হাতে বড় কোনো অর্জন থাকবে না,
শুধু একটা ক্লান্ত শরীর,
কিছু জমে থাকা গল্প
আর বুকভরা একটা শান্তি থাকবে—
“এবার আর ফোনে নয়,
সামনাসামনি বলব—আমি বাড়ি এসেছি।”
প্রবাসের আসল কষ্টটা দূরত্ব নয়;
কষ্টটা হলো—জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মানুষগুলোর জন্য ভবিষ্যৎ বানাতে বানাতে, তাদের সঙ্গে বর্তমানটা বাঁচতে না পারা। 🕊️🤍🏠✈️