15/07/2026
একটি প্রফেশনাল ওয়েবসাইট বা ল্যান্ডিং পেজ তৈরি করতে মোট কত খরচ হবে, তা মূলত নির্ভর করে আপনার প্রয়োজন, ডিজাইনের জটিলতা এবং আপনি কার কাছ থেকে কাজটি করাচ্ছেন (ফ্রিল্যান্সার নাকি কোনো এজেন্সি/কোম্পানি) তার ওপর।
নিচে প্রতিটি খাতের বর্তমান বাজারমূল্য (২০২৬ সালের সর্বশেষ রেট অনুযায়ী) এবং একটি কোম্পানি কোন কাজের জন্য কত টাকা চার্জ করতে পারে, তার একটি বিস্তারিত এবং স্বচ্ছ ধারণা দেওয়া হলো।
১. ডোমেইন ও হোস্টিং কেনার খরচ (বাৎসরিক খরচ)
ওয়েবসাইট বানাতে গেলে এই খরচটি আপনাকে প্রতি বছর দিতে হবে (রিনিউয়াল ফি)।
* ডোমেইন (Domain) খরচ: একটি বিশ্বস্ত .com ডোমেইন কিনতে সাধারণত প্রতি বছর ১,০০০ থেকে ১,৩০০ টাকা খরচ হয়। (অন্যান্য এক্সটেনশন যেমন .net, .org বা .info-র দাম কিছুটা কম-বেশি হতে পারে)।
* হোস্টিং (Hosting) খরচ: এটি আপনার ওয়েবসাইটের সাইজের ওপর নির্ভর করে।
* নতুন বা ছোট সাইটের জন্য (Shared/WordPress Hosting): বছরে ১,৫০০ থেকে ৩,৫০০ টাকা (১ থেকে ৫ জিবি স্পেস)।
* মাঝারি বা ই-কমার্স সাইটের জন্য (BDIX / Premium Hosting): বছরে ৪,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা।
* বড় বা ভারী সাইটের জন্য (VPS / Cloud Server): মাসে ১,৫০০ থেকে ৫,০০০+ টাকা (বছরে ১৮,০০০ টাকা বা তার বেশি)।
> নোট: অনেক কোম্পানি বা হোস্ট প্রোভাইডার প্রথম বছরের জন্য ডোমেইন এবং হোস্টিং একসাথে প্যাকেজ আকারে দিলে কিছু ছাড় দিয়ে থাকে।
>
২. ল্যান্ডিং পেজ (Landing Page) তৈরির খরচ
যেহেতু ল্যান্ডিং পেজ মূলত একটি সিঙ্গেল পেজ (এক পাতার ওয়েবসাইট) এবং এটি নির্দিষ্ট কোনো অফার বা প্রোডাক্ট বিক্রির জন্য তৈরি হয়, তাই এর খরচ তুলনামূলক কম।
* সাধারণ বা টেমপ্লেট ভিত্তিক ল্যান্ডিং পেজ: ৩,০০০ থেকে ৬,০০০ টাকা। (যেখানে আপনি নিজেই টেক্সট ও ছবি দেবেন এবং তারা একটি রেডিমেড ডিজাইন কাস্টমাইজ করে দেবে)।
* প্রিমিয়াম ও কাস্টম ল্যান্ডিং পেজ (Conversion Focused): ৭,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা। (এখানে ফেসবুক পিক্সেল সেটআপ, বিকাশ/নগদ পেমেন্ট বাটন, অর্ডার ফর্ম, কুরিয়ার সফটওয়্যার ইন্টিগ্রেশন এবং আকর্ষণীয় কাস্টম ইউজার ইন্টারফেস ডিজাইন অন্তর্ভুক্ত থাকে)।
৩. সম্পূর্ণ ওয়েবসাইট বানানোর খরচ (Multi-page Website)
একটি পূর্ণাঙ্গ ওয়েবসাইট (যেখানে হোম, আমাদের সম্পর্কে, সার্ভিস, ব্লগ এবং কন্টাক্ট পেজ থাকে) তৈরির খরচ ফিচারের ওপর নির্ভর করে কয়েক ধাপে বিভক্ত:
| ওয়েবসাইটের ধরন | আনুমানিক খরচ (টাকা) | কাদের জন্য উপযোগী |
|---|---|---|
| পার্সোনাল / পোর্টফোলিও সাইট | ১০,০০০ – ২০,০০০ | ফ্রিল্যান্সার, ট্রাভেলার বা ইনফ্লুয়েন্সার |
| স্মল বিজনেস বা কর্পোরেট সাইট | ২০,০০০ – ৫০,০০০ | ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান, কনসালটেন্সি ফার্ম |
| বেসিক ই-কমার্স সাইট (অনলাইন শপ) | ২৫,০০০ – ৬০,০০০ | ফেসবুক পেজ বা ছোট ব্র্যান্ড যারা অনলাইনে প্রোডাক্ট বেচেন |
| অ্যাডভান্সড ই-কমার্স বা কাস্টম পোর্টাল | ৭০,০০০ – ২,০০,০০০+ | বড় ব্র্যান্ড, মাল্টি-ভেন্ডার মার্কেটপ্লেস বা কাস্টম সফটওয়্যার |
৪. একটি আইটি কোম্পানি বা এজেন্সি আসলে কীসের জন্য কত চার্জ করে?
আপনি যখন কোনো প্রফেশনাল কোম্পানির কাছে যাবেন, তারা তাদের কাজের মান, টিম সাপোর্ট এবং অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে একটি সার্ভিস চার্জ বা ডেভেলপমেন্ট ফি নির্ধারণ করে। কোম্পানিগুলোর চার্জের সাধারণ ব্রেকডাউন নিচে দেওয়া হলো:
* ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট ফি (লেবার কস্ট): এটি তাদের মূল চার্জ। একটি সাধারণ ৫ পাতার ওয়েবসাইটের জন্য একটি কোম্পানির নিজস্ব কোডিং বা ওয়ার্ডপ্রেস কাস্টমাইজেশনের সার্ভিস চার্জ ১৫,০০০ থেকে ৩৫,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
* ফিচার ইন্টিগ্রেশন চার্জ:
* পেমেন্ট গেটওয়ে (bKash, Nagad, Visa/Mastercard): ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা (যদি রেডিমেড প্লাগইনের বাইরে কাস্টম এপিআই কানেক্ট করতে হয়)।
* কুরিয়ার বা এসএমএস গেটওয়ে: ২,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা।
* প্রিমিয়াম থিম ও প্লাগইন: অনেক সময় ওয়েবসাইটকে সুন্দর ও সুরক্ষিত করতে প্রিমিয়াম লাইসেন্স কিনতে হয়। কোম্পানিগুলো ক্লায়েন্টের প্রয়োজন অনুযায়ী এর জন্য আলাদা ৩,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা চার্জ করতে পারে (যদি প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত না থাকে)।
* মেইনটেইন্যান্স ও সাপোর্ট ফি: ওয়েবসাইট তৈরি শেষ হওয়ার পর সাধারণত কোম্পানিগুলো ৩ থেকে ৬ মাস ফ্রিতে টেকনিক্যাল সাপোর্ট দেয়। এরপর প্রতি বছর ওয়েবসাইট দেখভাল করা, ব্যাকআপ রাখা এবং সিকিউরিটি চেক করার জন্য তারা বছরে ৫,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত একটি মেইনটেইন্যান্স চার্জ করতে পারে।
একটি বাস্তব উদাহরণ (বাজেট আইডিয়া)
ধরে নিন, আপনি একটি মাঝারি সাইজের ই-কমার্স ওয়েবসাইট বানাবেন একটি ভালো আইটি কোম্পানি থেকে। আপনার আনুমানিক খরচ দাঁড়াবে:
১. ডোমেইন + হোস্টিং (১ বছর): ~৪,০০০ টাকা
২. প্রফেশনাল কোম্পানির সার্ভিস চার্জ: ~৩০,০০০ টাকা
৩. পেমেন্ট ও কুরিয়ার সেটআপ: ~৫,০০০ টাকা
সর্বমোট আনুমানিক বাজেট: ৩৯,০০০ থেকে ৪৫,০০০ টাকা।
> পরামর্শ: কাজ শুরু করার আগে কোম্পানির কাছ থেকে স্পষ্টভাবে জেনে নেওয়া উচিত যে ডোমেইন-হোস্টিংয়ের দাম, প্রিমিয়াম থিমের লাইসেন্স এবং কতদিনের ফ্রি সাপোর্ট তাদের দেওয়া প্রাইসের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত আছে কি না। এতে পরবর্তীতে কোনো অতিরিক্ত বা লুকানো খরচের (Hidden Charges) ঝামেলা থাকে না।