22/05/2026
শিশু ধর্ষন ও ধর্ষনকারীদের নিয়ে ২০১৫ তে মুক্তি পাওয়া একটা অস্ট্রেলিয়ান শর্ট ফিল্ম আছে- ‘The Disappearance of Willie Bingham’.
সিনেমার মূল চরিত্র উইলি বিংহাম, একজন অপরাধী, যে একটি নিষ্পাপ বাচ্চা মেয়েকে ধর্ষণ ও নির্মমভাবে খু*ন করে। কিন্তু আদালত তাকে মৃত্যুদন্ড দেয় না কারণ ঐ দেশ থেকে মৃত্যুদন্ডের শাস্তি তুলে নেওয়া হয়েছে। সে জেলেই থাকবে এবং ভালোই থাকবে। তাই হয়তো আদালতে সে নির্বিকার, অপরাধবোধহীণ ছিল। কিন্তু আদালত এবং আইন চাইছিলো না এমন এক অপরাধীকে দৃষ্টান্তমূলক কোনো শাস্তি না দিয়ে শুধু জেলে রাখতে।
তখন সেদেশের আইন নতুন এক শাস্তি প্রনয়ন করলো। যে শাস্তি পৃথিবীতে আগে কখনো হয়নি। এবং এই শাস্তির ফলাফল অপরাধীদের মধ্যে কি হয় তা দেখতে চাইলো।
নতুন আইন অনুযায়ী, তার শাস্তি হলো— ‘এক এক করে অঙ্গচ্ছেদ', তবে ব্যাথাহীনভাবে, সার্জারীর মাধ্যমে।
ভুক্তভোগী পরিবারের ইচ্ছানুযায়ী ঠিক করা হলো অপরাধীর শরীরের ঠিক কোন অংশটি কখন কেটে ফেলা হবে! মেয়েটির পরিবার এই আইনে রাজি হলো। সেখান থেকেই সিনেমার শুরু।
জেলের অন্ধকার কুঠুরিতে বসে ছিল উইলি। হঠাৎ ভারী বুটের আওয়াজ এগিয়ে এল। দরজা খুলে ভেতরে ঢুকলেন জর্জ মরটন নামের এক সরকারি কর্মকর্তা। শান্ত গলায় তিনি উইলিকে শোনালেন তার ওপর নেমে আসতে চলা সেই শাস্তির কথা।
এবার শাস্তি শুনে উইলির মুখে সেই নির্বিকার ভাব আর থাকলো না। নিজের ভবিষ্যৎ শুনে ভয়ে-আতঙ্কে ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল উইলির, সেখানেই সে বমি করে দিল। সে চিৎকার করে মিনতি করল—তাকে যেন একবারে মেরে ফেলা হয়, বিষ দেওয়া হয় বা ফাঁসি দেওয়া হয়। কিন্তু তার মৃত্যুর আবেদন সরাসরি খারিজ হয়ে গেল।কারণ মৃত্যুদন্ড নিষিদ্ধ।
শুরু হলো প্রথম অস্ত্রোপচার। অবশ করার পর কেটে বাদ দেওয়া হলো তার বাম হাত। অপারেশনটি গ্লাসের অপর পাশ দিয়ে দেখলো ধর্ষিত ও মৃত বাচ্চাটির পুরো পরিবার।
এই পঙ্গু শরীর নিয়েই কয়েক মাস ধরে তাকে হুইলচেয়ারে করে নিয়ে যাওয়া হতে লাগল বিভিন্ন অবাধ্য ও বখাটে কিশোরদের সামনে। ক্ষতবিক্ষত উইলিকে দিয়ে দেওয়ানো হলো বক্তৃতা—যাতে তার এই পরিণতি দেখে অন্য কোনো কিশোর অপরাধ করার সাহস না পায়।
তবে উইলি বিংহামের সাহস তখনো অবশিষ্ট ছিলো। সে জোর দিয়ে কথা বলতো, হাসতো, জেদ দেখাতো। কিন্তু শাস্তি তো কেবল শুরু হয়েছিল। কয়েক মাসের ব্যবধানে একে একে কেটে ফেলা হলো তার ডান পা, একটা কিডনি, এমনকি ফুসফুসের একটা অংশও!
আস্তে আস্তে তার ভয়াবহ আতংকিত কান্নাকাটি ও পঙ্গু শরীর বাচ্চা মেয়েটার পরিবারও সহ্য করতে পারছিলোনা। শুধু বাবা প্রতিবার আসছিলো, সাইন করছিলো অনুমতি পত্রে ও নির্বিকার চোখে কাচের অন্যপাশে দাঁড়িয়ে সার্জারী দেখছিলো।
৫ মাস পরের ঘটনা। এবার পঞ্চম অস্ত্রোপচারের পালা। যখন জানানো হলো এবার তার যৌনাঙ্গ কেটে ফেলা হবে, উইলি তখন কান্নায় ভেঙে পড়ল। পাগলের মতো কাকুতি-মিনতি করতে লাগল সে।
কিন্তু কাচের ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকা ভুক্তভোগী মেয়েটির বাবার চোখে তখন শুধুই প্রতিশোধের আগুন। তিনি ঠান্ডা মাথায় বুড়ো আঙুল উঁচিয়ে সম্মতি দিলেন। অ্যানেস্থেশিয়ার ইঞ্জেকশন পুশ করা হলো উইলির শরীরে... চিরতরে হারিয়ে গেল তার পুরুষত্ব।
এই অপারেশনের পর উইলির ভেতরের মানুষটা পুরোপুরি ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। সে আর কোনোদিন একটা শব্দও উচ্চারণ করেনি, তার চোখে-মুখে আর কোনোদিন কোনো অনুভূতির লেশমাত্র দেখা যায়নি। সে বেঁচে থেকেও একটা জ্যান্ত লাশে পরিণত হলো।
এরপরের সার্জারীর দিন যখন উপস্থিত হলো, তখন তার দুই কান, নাক এবং জিহ্বার অগ্রভাগ কেটে ফেলা হলো। লেজার দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হলো শরীরের অবশিষ্ট চামড়া। উইলি তখন যন্ত্রণারও অতীত। তার নিজের বলতে আর কোনো ইচ্ছাশক্তি অবশিষ্ট ছিল না। সে শুধু মনে মনে চাইছিল মৃত্যু।
অপারেশন থিয়েটারের টেবিলে পড়ে থাকা মাংসপিণ্ডটার দিকে তাকিয়ে অবশেষে তৃপ্ত হলেন সেই মৃত মেয়ের বাবা। এরপরের সার্জারীর জন্য সে অনুমতি দিলে উইলির হার্ট বা ব্রেন অপারেশন করা হবে। উইলির মৃত্যু ঘটবে, শাস্তি শেষ হবে।
কিন্তু না, বাবা আর পরবর্তী সার্জারীর জন্য অনুমতি দিলেন না। তিনি বললেন তিনি সন্তুষ্ট, এখন সার্জারি বন্ধ করতে চান। তিনি জর্জ মরটনের বাড়িয়ে দেওয়া ফাইলে সই করে জানিয়ে দিলেন—তিনি আর অস্ত্রোপচার বাড়াতে চান না। যাওয়ার আগে শেষবারের মতো এক তীব্র ঘৃণার দৃষ্টি ছুড়ে দিলেন উইলির দিকে।
আজ উইলি বিংহাম জেলের সবচেয়ে ওপরের তলার একটা ঘরে বন্দি। চব্বিশ ঘণ্টা তীব্র আলো জ্বলে সেই ঘরে, যেখানে অন্ধকারেরও কোনো অনুমতি নেই।
সে এখন এক জীবন্ত হুইলচেয়ারের সাথে চিরতরে আটকে যাওয়া এক মাংসের স্তূপ। সে শুনতে পায় না, ঘ্রাণ পায় না, স্বাদ পায় না, নড়াচড়া করার ক্ষমতা তো বহুদূরের কথা।
সারাদিন শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে ঘরের সিলিং এর দিকে। জর্জ মরটন তাকে হুইলচেয়ারে বসিয়ে ঠেলতে ঠেলতে নিয়ে যান বিভিন্ন হাইস্কুলে। অবাধ্য ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে এনে দাঁড় করান সেই বিকলাঙ্গ, বীভৎস অবয়বকে—অপরাধের এক জীবন্ত, ভয়ঙ্কর ও চিরন্তন স্মারক হিসেবে।
সবাই আতংকে আতকে ওঠে। তাদের শ্বাস প্রশ্বাস থেমে যায়। মাথায় চিরদিনের মতো গেঁথে যায় শিশু ধর্ষন ও হ*ত্যার শাস্তি।
[ধর্ষনের এরকম কোনো একটা শাস্তি বাংলাদেশে প্রনয়ন করা যায় না?]
COLLECTED