08/04/2024
রাগি মেয়ে যখন বিজনেসম্যান বউ
মন হৃদয় গল্প
পর্বঃ ১
( আসসালামু আলাইকুম, এটা আমার পেজ না, এই আমার বন্ধু পেজ ধন্যবাদ, পেজ নাম চেন্জ করে যাই না তাই।)
আব্বু আম্মুর কথায় হৃদয় আজকে রেস্টুরেন্টে আসছে, হ্যাঁ ঠিকিই ধরেছেন কারো সাথে দেখা করতে। বেশ কিছুক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছে হৃদয় , শুধু আব্বু আম্মুর কথা ভেবেই ওকে আজকে আসতে হয়েছে, নাহলে আসার কোনো ইচ্ছে ছিলোনা ওর। আধঘন্টা যাবত ওয়েট করছে কিন্তু কারো আসার নামই নেই। আপনারা কি ভাবছেন কার সাথে দেখা করতে আসছে, একটা মেয়ের সাথে। আর মেয়েটাকে আব্বু আম্মু ওর জন্য পছন্দের করেছে। হৃদয় প্রথমে কিছুতেই এখানে আসতে চাচ্ছিলো না, তারপর আব্বু আম্মু কথা ভেবে আসতে হয়েছে, আপনারা হয়তো ভাবছেন কি হচ্ছে এখানে? হুটহাট রেস্টুরেন্ট থেকে কেনো শুরু করলাম। আচ্ছা আগে পরিচয়টা দিয়ে নেয় বাদ বাকিটা গল্পের সাথে থাকলেই জানতে পারবেন। যে এতোক্ষন ধরে বসে আছে সে আব্বু আম্মুর একমাত্র সন্তান, হৃদয় আহমেদ , পড়ালেখা শেষ করে একটা ভালো জব করছে।
বেশ কিছুদিন ধরেই আব্বু আম্মু বিয়ের কথা বলছে, কিন্তু হৃদয়ে ওদের বারবার এড়িয়ে যাচ্ছে। কারণ ও চায়না জীবনে আর অন্য কাউকে জড়াতে আর চাইলেও জড়াতে পারবে না। আপনাদের সাথে কথা বলছি এর মাঝে কেউ একজন এসে হৃদয়ে সামনে দাড়ালো, মাথা নিচু করে কথাগুলো ভাবছিলো হৃদয়ে।
সামিয়া – এসকিউজমি।
- কারো কথার শব্দে হৃদয়ে সামনের দিকে তাকাতেই দেখে একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে, ও কথা বলছে না তাই মেয়েটা আবার বললো।
সামিয়া – আপনি হৃদয়ে?
হৃদয়ে – জ্বি, আপনি নিশ্চয়ই সামিয়া।
সামিয়া – হ্যাঁ...।
সামিয়া বসতে বসতে বললো কথাটা, হৃদয়ে ওয়েটারকে ডাকতে গেলে সামিয়া ওকে থামিয়ে দিলো।
সামিয়া – (রেগে) আমি এখানে আপনার সাথে কফি খেতে বা আড্ডা দিতে আসিনি, জাস্ট আব্বু আম্মু বললো তাই তাদের মন রাখতে আসছি। সবকিছু শোনার পর আমার মনে হয়েছে এখানে এসে আপনার সাথে কথা বলার দরকার।
হৃদয়ে - হ্যাঁ আমার ঠিক তেমনটায় মনে হয়েছে।
সামিয়া – (রেগে) আপনি কি করে ভাবতে পারলেন বলুন তো আপনার মতো একটা ছেলেকে আমি বিয়ে করবো? যে কিনা আগে একবার বিয়ে করেছিলো, তার মতো একটা ছেলেকে আমি বিয়ে করতে যাবো। আপনার ইচ্ছেটা দেখে আমি অবাক হয়ে যাচ্ছি। আমার মতো একটা মেয়েকে আপনি বিয়ে করতে চান কি করে। আপনার জায়গায় যদি আমার একবার বিয়ে হতো না তাহলে আপনারা ফিরেও তাকাতে না। আর আপনি, দ্বিতীয়বার আবার আমাকে বিয়ে করতে চাইছেন, কি ভাবে সম্ভাব বলুন তো? কি হয়েছিলো বলুনতো আপনাদের মাঝে যে, আপনার স্ত্রী আপনাকে ছেড়ে চলে গেলো।
- সামিয়া আব্বু আম্মুর জোরাজুরিতে এখানে আসতে বাধ্য হয়েছে। হ্যাঁ আপনারা ঠিকিই শুনেছেন হৃদয়ে আগে বিয়ে করেছিলো। সামিয়ার মুখে এমন কিছু শোনার সাথে সাথেই ও একটা তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বললো।
হৃদয়ে– আপনি রাগ করবেনা, আমি আপনাকে বলছি কেনো ও আমাকে ছেড়ে গেলো।
- হৃদয়ে কথাটা বলতেই সামিয়া একটু শান্ত হয় তখন ও বললো।
হৃদয়ে - ঠিকই বলেছেন ও আমাকে ছেড়ে চলে গেছে, কিন্তু অনেক দূরে চলে গেছে। যেখান থেকে আর চাইলেও ফিরে আসা সম্ভব না। আমাদের রিলেশনটা ছিলো এক মাসের। ও আমার জীবনে আসছিলো ঠিক ঝড়ের মতো আর ঠিক ঝড়ের মতোই হারিয়ে গেছিলো।
আচ্ছা আপনাদেরও তো জানতে ইচ্ছা করছে হৃদয়ে কেনো এমন কথা বলছে, ওর যদি বিয়ে হয়েই থাকে তাহলে সেই মেয়েটা কোথায়? এর জন্য আমাদের ফ্লাস ব্যাকে যেতে হবে। আমরা চলে যাই আজ থেকে ঠিক এক বছর আগে, দিনটা বৃষ্টির ছিলো মুখর। হৃদয়ে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে বাসার দিকে ফিরছিলো, এর মাঝেই প্রচন্ড বৃষ্টি শুরু হয়, তাই হৃদয়ে একটা ছাউনির নিচে গিয়ে দাঁড়ায়। তারপরও বৃষ্টির পানির ঝাপটা এসে গায়ে লাগছিলো। দেখতে দেখতে একটা ঘণ্টা পার হয়ে যায়, বৃষ্টি থামার কোনো নাম নেই। হৃদয়ে উপায় না পেয়ে ভাবে ভিজে ভিজেই বাড়ি যাবে ঠিক তখনিই খেয়াল করে কেউ একজন ছাতা নিয়ে ওর সামনে দিয়ে হেটে যাচ্ছে। ও আর কিছু না ভেবেই তাড়াহুড়ো করে ছাতার নিচে গিয়ে যে ব্যক্তি ছাতাটা ধরে আছে তার সাথে হাটতে লাগলো, আর একটা হাতে ছাতা ধরলো। হৃদয়ে ছাতাটা ধরতেই ওর হাতটা সেই ব্যক্তির হাতের উপর পড়তে সে হৃদয়ের দিকে তাকায়, আর সেখানেই দাড়িয়ে যায়, হৃদয়ে ওর দিকে তাকিয়ে দেখে ও একটা মেয়ে তখন ও মেয়েটাকে বলে।
হৃদয়ে – এভাবে দেখার কিছু নেই, আসলে বাসায় যাওয়ার মতো কোনো উপায় পাচ্ছি না, আপনাকে দেখলাম আপনি এদিক দিয়েই যাচ্ছেন তাই ভাবলাম আপনার সাথেই কিছুটা যায়।
- মেয়েটা কোনো কথা বলছে না তাই হৃদয়ে বললো।
হৃদয়ে - কি হলো কথা বলছেন না যে?
রিয়া – না এমনি।
ওরা হাটতে লাগলো, হৃদয়ে বুঝতে পারলো মেয়েটার শরীর থেকে একটা মাতাল করা স্মেইল আসছে। স্মেইলটা ওকে একদম পাগল করে দিচ্ছিলো, তারপরও নিজেকে স্বাভাবিক রেখেছে। হৃদয়ে মেয়েটার মুখের দিকে তাকাতেই খেয়াল করলো, ওর মুখে অদ্ভুত এক মায়া আছে, বুঝতে পারলো মেয়েটা কেমন লজ্জা পাচ্ছে, তাই মাথা নিচু করে হাটছে তখন হৃদয়ে ওকে প্রশ্ন করে।
হৃদয়ে – আপনার নামটা জানতে পারি?
রিয়া - রিয়া আক্তার রিমি।
হৃদয়ে - বাহ বেশ মিষ্টি নাম, ঠিক আপনার মতো।
- মেয়েটা হৃদয়ে কথাতে আরো লজ্জা পেয়ে গেলো। হৃদয়ে মেয়েটার সাথে যতোই কথা বলার চেষ্টা করছিলো ও ততোটায় লজ্জা পাচ্ছিলো, হৃদয়ে বুঝতে পেরে বললো।
হৃদয়ে – আচ্ছা আপনার কি আমার সাথে কথা বলতে অসুবিধা হচ্ছে, নাকি আপনার সাথে আমি যাচ্ছি তাতে খারাপ লাগছে। আপনি তাহলে বলে দিতে পারেন আমি চলে যাচ্ছি।
রিয়া – এই না আমি কি বলেছি নাকি। আসলে কি বলবো বুঝে উঠতে পারছিনা, আপনার সাথেতো আমার আজকেই দেখা হলো তাই।
- হৃদয়ে রিয়ার সাথে নিজে থেকেই কথা বলতে লাগলো আর ও উত্তর দিতে লাগলো। একটু পর ওরা হৃদয়ে বাসার সামনে আসলে ও বলে।
হৃদয়ে– এটা আমার বাসা, আমি চলে যাচ্ছি আপনি ভালো থাকবেন, আর আমাকে হেল্প করার জন্য ধন্যবাদ। অন্য কোনোদিন দেখা হবে।
হৃদয়ে রিয়ার মুখের দিকে তাকাতে ও একটা মুচকি হাসি দিলো, তখন হৃদয়ে চলে গেলো। বাসায় গিয়ে ফ্রেশ হয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই আবারো রিয়ার কথা মনে পরে। হৃদয়ে চোখ বুজে রিয়ার কথা ভাবছিলো কেমন যেনো মায়া মায়া একটা ভাব আছে রিয়ার মাঝে। কি রকম অদ্ভুত ভাবে রিয়ার সাথে দেখা হলো, আর হবেই না বা কেনো হৃদয়ে কিরকম হুটহাট করেই রিয়ার ছাতার নিচে চলে গেলো, যখন ওর সাথে হাঁটছিলো, বুঝতে পারছিলো রিয়ার শরীর থেকে কি রকম একটা মাতাল করা স্মেইল আসছে, যেটা হৃদয়েকে পাগলো করে দিচ্ছিলো। এভাবেই চার পাঁচটা দিন কেটে গেলো, প্রত্যেকটা দিন হৃদয়ে রিয়ার কথা ভেবেছে, আর রিয়ারও হৃদয়ের কথা একটু একটু মনে পড়েছে। বেশ কয়েকটা দিন পর হৃদয়ে বাসে করে বাসার দিকে যাচ্ছিলো কিছুটা আসতেই বাসটা একটা স্ট্যান্ডে থামে, তখন বাসে একটা মেয়ে উঠে, বসার কোনো জায়গা না থাকায় মেয়েটা বাসের মাঝামাঝি গিয়ে দাড়াতেই হৃদয়ের চোখ পড়ে সেই মেয়েটার উপর।