10/06/2026
গোসল করতে গিয়ে নিঁখোজ জাহানারা ফিরে এসেছে।
এলাকাবাসী বলছে সব জ্বীনের কান্ড
আতিকুর রহমান টিপু
মুন্সিগঞ্জে পদ্মায় গোসল করতে নিঁখোজের একদিন পর চাঁদপুর জেলা থেকে উদ্ধারের কাহিনী এখন জেলায় ঝড় তুলেছে।জাহানারা।বয়স প্রায় ৫০ কাছাকাছি।তিন সন্তানের জননী।এক ছেলে দুই কন্যা তার।স্বামী মোঃ সেন্টু শেখ গত হয়েছেন অনেক বছর হলো।বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ি উপজেলার দিঘিরপাড় ইউনিয়নের। ছেলের মোঃ রাব্বি। বয়স ২৮।প্রথম কন্যা লাভনী।২৫ ছুঁই ছুঁই। বিয়ে হয়েছে।ছোট কন্যা সিনথিয়া (১৯)।সদ্য শ্বশুর বাড়ি গিয়েছে।বেশ সুখের সংসার।স্বামী মারা যাওয়ার পর শক্ত হাতে সংসারের হাল ধরেছিলেন।এখনো ছায়া দিয়ে যাচ্ছেন সংসারে।তিনি ৮ জুন বিকেল সাড়ে চারটায় বাড়ি থেকে গোসল করতে পদ্মার শাখা নদীতে যান।কিন্ত সময়মত বাড়িতে না ফেরায় তার সন্তান রাব্বি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন।তৎক্ষনাত টঙ্গীবাড়ি উপজেলার ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ঘটনাস্থলে ছুটে আসে।।তারা নিঁখোজ হবার স্পটসহ আশপাশ এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালায়।এতে আরো যুক্ত হয় মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি চৌকষ টিম।তারা রাত ৯ টা পর্যন্ত চেষ্ঠা করেও ব্যর্থ হয়।
যেভাবে উদ্ধার হলো রওশন আরা
৯ জুন সকাল ৮ টার দিকে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে
ফোন আসে তার ছেলে রাব্বির কাছে।ফোনে অপরিচিত ব্যাক্তি তাকে জানায় তার মা চাঁদপুর জেলার চাঁদপুর লঞ্চ ষ্টেশনের কাছে রয়েছে।তারা যেনো এসে তার মাকে নিয়ে যায়।এ সংবাদ পেয়ে পরিবারের বেশ কয়কজন ইঞ্জিন চালিত ট্রলার ঠিক করে সকাল ১১ টায় চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে
রওয়ানা দেয় এবং জাহানারা কে নিয়ে বিকেল ৪ টায় ফিরে আসে বলে জানায়।তবে তার মা কথা বলতে পারছেনা।
০মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর উপ- পরিচালক মেহাম্মদ শফিকুল ইসলাম যা বলেন
তিনি বলেন ৮ জুন সোমবার আমরা ৯৯৯ এ ফোন পেয়েই ঘটনাস্থলে যাই এবং উদ্ধার অভিযান শুরু করি।আমাদের টঙ্গীবাড়ি ফায়ার টিম ও মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরীর একটি দক্ষ টিম উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়।
প্রতিকূল পরিবেশেও আমাদের ডুবুরীরা ৩০ থেকে ৪০ ফিট পানির নীচেও ডুবূদিয়ে উদ্ধার অভিযান চালায়।
আমরা নঙ্গলবার ৮টায় উদ্ধার অভিযানে যাবার প্রস্তুতিকালে তার ছেলে রাব্বি জানায় তার মা জীবিত।তার সন্ধান মিলেছে।বর্তমানে চাঁদপুর লঞ্চষ্টেশন সংলগ্ন জায়গায়
অবস্থান করছে।মাকে আনতে তারা যাচ্ছে।
তবে কিভাবে পদ্না ও মেঘনা পাড়ি দিয়ে চাঁদপুর গেলো তা নিয়ে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।
এলাকাবাসী বলছে এটি জ্বীনের কাজ
এলাকাবাসী এ অবিশ্বাস্য ঘটনাকে জ্বীনের কাজ বলছেন।
বলছেন জ্বীন তাকে নদী থেকে সেখানে নিয়ে গেছে।নইলে এটি সম্ভব নয়।কেননা রওশন আরার কাপড় ও জুতো অক্ষত ছিলো।
শরীরে কোন ক্ষতি হয়নি।সবই স্বাভাবিক।তাই জ্বীনের কাজ।তাছাড়া পদ্মা ও মেঘনাইবা কিভাবে পাড়ি দিলো?
কথা বলছেন না জাহানারা
কথা বলছেন না তিনি।একদম চুপচাপ।কেবল ৬ মাসের নাতিকে কোলে করে পরিবারের সদস্যদের ঘিরে বসে আছেন।ইশারায় কথা বলছেন।তবে চিন্তামক্ত ও স্বাভাবিকই
মনে হচ্ছে তাকে।তবে কেন কথা বলছেন না তা পরিবারের
কেউ বলতেও পারছেন না।
প্রকৃত ঘটনা কি
আসলে এটা কি জ্বীনের কাজ? আূধুনিক সময়টা এই বিষয়টা বিশ্বাস করেনা।তবে কেমন করে পদ্মা মেঘনা পাড়ি দিলেন সেটিও কথা।
তবে পরিবারের কারো সাথে মানঅভিমান করে গোসলের
উছিলায় সেখানে গিয়ে পরে সংসারের মায়ায় ফিরে আসা কিনা সেটিও ফেলে দেয়া যায়না।লজ্জায় হয়তো কথা বলছেন না।বিষয়টা অনেকটা এমাজিন।