01/02/2020
#বাংলাদেশের_স্বাধীনতার_পরবর্তী_চলচ্চিত্রের_বিষয়বস্তুঃ
স্বাধীনতার পরে আবির্ভূত চলচ্চিত্র পরিচালকদের মধ্যে আলমগীর কবির (১৯৩৮-১৯৮৯) উল্লেখযোগ্য। তার নির্মিত চলচ্চিত্র হলো 'ধীরে বহে মেঘনা' (১৯৭৩), সূর্য কন্যা (১৯৭৬), সীমানা পেরিয়ে (১৯৭৭), রূপালী সৈকতে (১৯৭৯), মোহনা (১৯৮২),পরিণীতা (১৯৮৬) ও মহানায়ক (১৯৮৪)।
স্বাধীনতার বছর ১৯৭১ সালে এদেশে ৮টি চলচ্চিত্র মুক্তি পায়। এর মধ্যে নজরুল ইসলামের 'স্বরলিপি', অশোক ঘোষের 'নাচের পুতুল', আলমগীর 'কুমকুমের স্মৃতিটুকু থাক' এবং খান আতাউর রহমানের 'সুখ দুঃখ' সামাজিক চলচ্চিত্র হিসেবে উল্লেখযোগ্য।
১৯৭২ সালে আলমগীর কবিরের 'ধীরে বহে মেঘনা', জহিরুল হকের 'রংবাজ', সুভাষ দত্তের 'বলাকা মন', ঋত্বিক ঘটকের 'তিতাস একটি নদীর নাম' বাংলা চলচ্চিত্রকে বিশেষ মানে উন্নীত করে। এই সুস্থ ও সৃজনশীল ধারায় ১৯৭৪ সালে নির্মিত হয় নারায়ণ ঘোষ মিতার 'আলোর মিছিল'। ১৯৭৫ সালে নারায়ণ ঘোষ মিতার 'লাঠিয়াল', খান আতার 'সুজন সখী' এই ধারারই প্রবাহ। ১৯৭৬ সালে ছয়টি চলচ্চিত্র বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ধারণাকেই পাল্টে দেয়। যেমন রাজেন তরফদারের 'পালঙ্ক', হারুনর রশীদের 'মেঘের অনেক রঙ', আলমগীর কবিরের 'সূর্য কন্যা', কবীর আনোয়ারের 'সুপ্রভাত', আবদুস সামাদের 'সূর্যগ্রহণ' এবং আমজাদ হোসেনের 'নয়নমনি'। ১৯৭৭ সালে আলমগীর কবিরের 'সীমানা পেরিয়ে', সুভাষ দত্তের 'বসুন্ধরা' পরিচ্ছন্নতা ও সুস্থতার দাবিদার। ১৯৭৮ সালে আমজাদ হোসেনের 'গোলাপী এখন ট্রেনে' এবং আবদুল্লাহ আল মামুনের 'সারেং বৌ' শিল্পসফল চলচ্চিত্র হিসেবে নন্দিত। স্বাধীন বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোচিত চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয় ১৯৭৯ সালে। মসিউদ্দিন শাকের ও শেখ নিয়ামত আলীর যৌথ নির্মাণ 'সূর্য দীঘল বাড়ি' বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচয় করিয়ে দেয়। আলমগীর কবিরের 'রূপালী সৈকতে'ও এই সময়ের উৎকৃষ্ট চলচ্চিত্র। সত্তর দশক ও আশির শুরুতে সময়ে নির্মিত চলচ্চিত্র জহিরুল হকের 'রংবাজ' (১৯৭৬), প্রাণসজনী (১৯৮২), রুহুল আমিনের 'বেইমান' (১৯৭৪), অশোক ঘোষের 'নাচের পুতুল' (১৯৭১), সিবি জামানের 'শুভরাত্রি' (১৯৮৫), বেবী ইসলামের 'চরিত্রহীন' (১৯৭৫), নজরুল ইসলামের 'স্বরলিপি' (১৯৭১), আবদুল রতিফ বাচ্চুর 'যাদুর বাঁশি' (১৯৭৭), আবদুল্লাহ আল মামুনের 'সখি তুমি কার' (১৯৮০), এখনই সময় (১৯৮০), সৈয়দ হাসান ইমামের 'লাল সবুজের পালা' (১৯৮০) প্রভৃতি । ১৯৮০ সালে আমজাদ হোসেনের 'কসাই', দিলীপ সোমের 'স্মৃতি তুমি বেদনা' দর্শকপ্রিয়তা লাভ করতে সমর্থ হয়।
১৯৮১ সালে আমজাদ হোসেনের 'জন্ম থেকে জ্বলছি' চলচ্চিত্রের সুস্থ মেজাজ বজায় রাখে। ১৯৮২ সালে চাষী নজরুল ইসলামের 'দেবদাস', মোস্তফা আনোয়ারের 'কাজল লতা', আবদুস সামাদ খোকনের 'বড় বাড়ীর মেয়ে', মতিন রহমানের 'লাল কাজল', আলমগীর কবিরের 'মোহনা' সকল অর্থে সুস্থধারার সামাজিক চলচ্চিত্র। ১৯৮৩ সালে সিবি জামানের পুরস্কার ও এজে মিন্টুর মান সম্মান, সুভাষ দত্তের 'নাজমা' চলচ্চিত্র চলনসই।
১৯৮৪ সালে আখতারুজ্জামানের 'প্রিন্সেস টিনা খান', কাজী হায়াৎ-এর 'রাজবাড়ি', কামাল আহমেদের 'গৃহলক্ষ্মী', সুভাষ দত্তের 'সকাল সন্ধ্যা', চাষী নজরুল ইসলামের 'চন্দ্রনাথ', আমজাদ হোসেনের 'সখিনার যুদ্ধ ও ভাত দে। ১৯৮৫ সালে 'শক্তি সামন্ত' ও সৈয়দ হাসান ইমামের 'অবিচার', শেখ নিয়ামত আলীর 'দহন', রাজ্জাকের সৎভাই ও শহিদুল আমিনের রামের সুমতি দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়। আশির দশকের শেষার্ধে সুভাষ দত্তের 'ফুলশয্যা' (১৯৮৬), আলমগীর কবিরের 'পরিণীতা' (১৯৮৬), চাষী নজরুল ইসলামের 'শুভদা', বুলবুল আহমেদের 'রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত' (১৯৮৭), নারায়ণ ঘোষ মিতার 'হারানো সুর' (১৯৮৭), আফতাব খান টুলুর 'দায়ী কে' (১৯৮৭), কবীর আনোয়ারের 'তোলপাড়' (১৯৮৮), মহিউদ্দিন ফারুকের 'বিরাজ বৌ' (১৯৮৮) এবং নব্বই দশকের প্রথমার্ধে সৈয়দ সালাহ্উদ্দিন জাকীর 'আয়না বিবির পালা' (১৯৯১), এহতেশামের 'চাঁদনী' (১৯৯১) প্রভৃতি চলচ্চিত্র আলোচিত হয়েছে।
চাষী নজরুল ইসলামের 'হাসন রাজা', তানভীর মোকাম্মেলের 'লালন' (২০০৪), মোরশেদুল ইসলামের 'দুখাই', 'লালসালু', আখতারুজ্জামানের 'পোকামাকড়ের ঘরবসতি', তারেক মাসুদের 'মাটির ময়না' (২০০২), কাজী মোরশেদের 'ঘানি' (২০০৮) উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। সামজিক বিষয়কে অবলম্বন করে নির্মিত এই চলচ্চিত্রগুলো নির্মাণ-কুশলতায় বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে।