21/01/2025
ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় বসার প্রথম দিনেই আচ করা গিয়েছে তার অধীনে বিশ্বরাজনীতি কোনদিকে যাচ্ছে আর ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্য ও ইজরায়েল ইস্যুতে তার অবস্থান অনেকটাই পরিস্কার। এজন্য ক্ষমতায় বসার ১ম দিনের ২টি ঘটনা পর্যালোচনা করা যায়।
১। এক্সিকিউটিভ অর্ডার সাইন করার ফাকে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন গাজাতে চলমান সংঘাত কি ট্রাম্প অবসান করবেন কিনা। জবাবে ট্রাম্প বলে যে, চলমান যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, আমেরিকার যুদ্ধ না। অর্থাৎ, ইজরায়েলের আগ্রাসনে নৈতিক সমর্থন দিয়েও এর কোনও দায় নিতে নারাজ ট্রাম্প। সাথে এটাও যুক্ত করেন যে এই সংঘাত বন্ধ করা কঠিন কারন এই পক্ষ দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবে বিকল্প (!) উপায়ে কিছু করা যেতে পারে। গাজার ব্যাপারে বলেন, গাজায় সংঘাত তিনি বন্ধ করতে পারেন কারন গাজাতে দারুণ কিছু আছে। সাগররের তীরে উন্নত জায়গা, চমৎকার পরিবেশের দিকে আলোকপাত করে বুঝিয়ে দেন যে এই স্বল্প পরিসারে বসবাসরত ২২-২৩ লক্ষ ফিলিস্তিনিদের জীবন নিয়ে তার কোনও মাথাব্যাথা নেই। বরং বিকল্প উপায় বলে খুব সম্ভব চলমান গনহত্যাকেই সমর্থন দিলেন।
১ বছর বা তার কিছু বেশি আগে তার জামাতা জারেড কুশনারও টিভিতে এসে গাজায় জায়গার দাম এবং তা নিয়ে রিয়েল এস্টেট বাণিজ্যের পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করে বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে ফিলিস্তিনিদের উৎখাত আর হত্যা করা তাদের জন্য দারুণ লাভজনক। একই মতকে ২য় বার উপস্থাপন করলো ট্রাম্প।
২। ১ম দিনেই ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে (ওয়েস্ট ব্যাংক) ইজরায়েলী দখলদার সেটলারদের আবাসন প্রতিষ্ঠায় নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। হোয়াইট হাউজের ওয়েবসাইটে সেটলারদের শান্তিপূর্ণ উল্লেখ করে তাদের উপর বাইডেন প্রশাসনের দেওয়া স্যাংকশন তুলে নিয়ে ট্রাম্প জানান দিলেন যে গোটা ইজরায়েলেই সব ধরণের সংঘাত, দখলদারীতা এবং আন্তর্জাতিক যুদ্ধপরাধের ঘটনায় পূর্ণ সমর্থন থাকবে নতুন নির্বাচিত মার্কিন রাষ্ট্রপতির।
প্রথম মেয়াদেই জেরুজালেমকে ইজরায়েলের রাজধানী ঘোষণাসহ বিভিন্ন কর্মকান্ডের মাধ্যমে রিপাবলিকানদের দৃষ্টিভঙ্গীকে সামনে এনেছিল ট্রাম্প। এবারও সেই নীতির উপর ভর করেই ক্ষমতায় এসে ১ম দিন থেকে কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে। অনেকে মনে করে প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনও যুদ্ধ শুরু না করায় সে বুঝি যুদ্ধের বিপক্ষে। কিন্তু আগ্রাসী ইজরায়েলের প্রশাসনকে পূর্ণ সমর্থন দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন তাদের ফিলিস্তিন, লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন আক্রমনে বৈধতা দেওয়ার পাশাপাশি সামনে ইরান আক্রমনেরও সাহস যোগান দিল। অস্ত্র বিক্রি এবং অর্থ সহায়তা যে দিবে তা তো বলার অপেক্ষাই রাখে না।