People Views24-জনতার দৃশ্যপ্ট

People Views24-জনতার দৃশ্যপ্ট Kontaktinformationen, Karte und Wegbeschreibungen, Kontaktformulare, Öffnungszeiten, Dienstleistungen, Bewertungen, Fotos, Videos und Ankündigungen von People Views24-জনতার দৃশ্যপ্ট, Social Media-Agentur, New York, Brittnau.

জনতার কণ্ঠস্বর, সত্যের দৃশ্যপট।
আমরা তুলে আনি সমাজের না বলা কথা, ভাঙি নীরবতা।
নিউজ, ডকুমেন্টারি, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন—সব কিছু এক প্ল্যাটফর্মে,
যোগ দিন আমাদের সাথে—সচেতনতার জন্য, ন্যায়ের জন্য।

PeopleViews24 – কারণ "ভিউ" শুধু সংখ্যার নয়, মানুষের চিন্তারও।

12/09/2026

দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান ২০২৬-এর উদ্বোধন

ঢাকা: দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করা হয়েছে।

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

অনুষ্ঠানে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তি, পরিবার ও সামাজিক পর্যায়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি নিজ নিজ বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান ২০২৬ সফল করতে জনসাধারণের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

#ডেঙ্গুপ্রতিরোধ #পরিচ্ছন্নতাঅভিযান #ডেঙ্গু২০২৬ #জাতীয়সংসদ #দক্ষিণপ্লাজা #ঢাকা #জনসচেতনতা

10/09/2026

আনন্দবাজারের আনন্দে তো আমি নাই,
আমি আছি আমার দেশের আনন্দে...🇧🇩❤️🔥
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ছয় মাসে সরকারের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন কতটা?নিজস্ব প্রতিবেদকচলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর...
10/09/2026

ছয় মাসে সরকারের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন কতটা?

নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসে দেশের অর্থনীতি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামো খাতে বেশ কিছু পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে নীতিগত সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়নও শুরু হয়েছে। তবে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যগুলোর বড় অংশ এখনও বাস্তবায়নাধীন।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকার উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৪০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামো সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

তবে প্রথম ছয় মাসেই এ খাতে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে গ্যাসের ঘাটতি, আমদানিনির্ভর জ্বালানি এবং লোডশেডিং। সংকট মোকাবিলায় বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও চাহিদা ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে গুরুত্ব

জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০২৬–২০৩০ সময়ের জন্য জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র গ্রহণ, সরকারি জমিতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের নীতিমালা এবং রুফটপ সোলার ব্যবহারে প্রণোদনার মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকারের লক্ষ্য হলো দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বাড়ানো এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো।

কর্মসংস্থান ও যুব উন্নয়ন

সরকারের অন্যতম বড় অগ্রাধিকার কর্মসংস্থান সৃষ্টি। নির্বাচনী ইশতেহারে বিপুলসংখ্যক কর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি যুবকদের দক্ষতা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

তবে এই খাতে ছয় মাসের বাস্তব অগ্রগতি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শুধু ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রা নয়, কতজন নতুন চাকরি পেয়েছেন, কতজন প্রশিক্ষণ পেয়েছেন এবং বেসরকারি খাতে নতুন কর্মসংস্থান কতটা বেড়েছে—এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

শিক্ষা খাতে পরিকল্পনা

শিক্ষা খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, শিক্ষকদের সহায়তা এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য মিড-ডে মিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে এসব উদ্যোগের সবগুলোকে ছয় মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হয়েছে—এমন দাবি করার সুযোগ নেই। অনেক কর্মসূচিই দীর্ঘমেয়াদি এবং ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়।

স্বাস্থ্যসেবায় পরিবর্তনের উদ্যোগ

স্বাস্থ্য খাতেও জনবল বৃদ্ধি ও চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তবে সাধারণ মানুষের জন্য এর বাস্তব সুফল কতটা পৌঁছেছে, তা নির্ধারণে হাসপাতালভিত্তিক জনবল, চিকিৎসাসেবা, ওষুধ সরবরাহ ও রোগীর সেবা পাওয়ার সময়—এসব সূচক দিয়ে মূল্যায়ন প্রয়োজন।

কৃষকের জন্য সহায়তা

কৃষি খাতে কৃষকের কাছে সরকারি সহায়তা আরও সরাসরি পৌঁছে দিতে ফার্মার কার্ড, কৃষিঋণ এবং কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থার উন্নয়নের মতো পরিকল্পনা রয়েছে।

এক্ষেত্রে সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে কৃষকের কাছে প্রকৃত সুবিধা পৌঁছানো এবং উৎপাদন ব্যয় কমানো। কৃষকের হাতে কার্ড বা সুবিধা পৌঁছানোর পাশাপাশি এর মাধ্যমে কৃষকের আয় ও উৎপাদন খরচে কী পরিবর্তন হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

পরিবেশ ও পানি ব্যবস্থাপনা

পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ এবং খাল পুনঃখননের মতো কর্মসূচিও সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় রয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে জলাবদ্ধতা কমানো, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে এ ক্ষেত্রেও পরিকল্পনার পাশাপাশি বাস্তবে কতটি খাল পুনরুদ্ধার হয়েছে এবং লাগানো গাছের কতটি টিকে আছে—তার হিসাব প্রয়োজন।

অর্থনীতি ও বিনিয়োগ

অর্থনীতিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রাজস্ব আয় বাড়ানো এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।

তবে মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, বিনিয়োগকারীদের আস্থা এবং ব্যাংকিং খাতের বিভিন্ন সমস্যা অর্থনীতির জন্য এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। এসব ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার প্রয়োজন।

ছয় মাসের মূল্যায়ন

সরকারের প্রথম ছয় মাসের কার্যক্রম বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি খাতে পরিকল্পনা ও নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে বাস্তবায়নও শুরু হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ-জ্বালানি, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও অর্থনীতির বড় লক্ষ্যগুলোর বেশিরভাগই দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় ছয় মাসের মধ্যে সেগুলোর পূর্ণ ফলাফল পাওয়া সম্ভব নয়।

তাই সরকারের প্রথম ছয় মাসের সাফল্য বিচার করতে হলে শুধু নতুন প্রকল্প বা ঘোষণার সংখ্যা নয়, বরং কতটি সিদ্ধান্ত বাস্তবে কার্যকর হয়েছে, কত টাকা ব্যয় হয়েছে, কত মানুষ সুবিধা পেয়েছেন এবং মানুষের জীবনযাত্রায় কী ধরনের পরিবর্তন এসেছে—এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে।

সরকারের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ঘোষিত পরিকল্পনাগুলো দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা। কারণ জনগণের কাছে শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনার চেয়ে বাস্তব ফলাফলই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

#জনতারদৃশ্যপট #বাংলাদেশ #সরকার #ছয়মাস #উন্নয়ন #বিদ্যুৎ #জ্বালানি #লোডশেডিং #কর্মসংস্থান #কৃষি #শিক্ষা #স্বাস্থ্য #অর্থনীতি #নবায়নযোগ্যজ্বালানি

৬ মাসে জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিং মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়ন হচ্ছে?নিজস্ব প্রতিবেদকজ্বালানি সংকট ও লোডশেডি...
10/09/2026

৬ মাসে জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিং মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়ন হচ্ছে?

নিজস্ব প্রতিবেদক

জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিং মোকাবিলায় গত ছয় মাসে সরকার স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছে। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৪০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামো সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

সরকারের পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণ। গ্যাসের পাশাপাশি কয়লা, সৌরবিদ্যুৎ, অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং আমদানিকৃত বিদ্যুতের সমন্বয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে গুরুত্ব

জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে ২০২৬–২০৩০ সময়ের জন্য জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি জমিতে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন এবং রুফটপ সোলার ব্যবহারে নীতিগত পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।

নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রাহকের নিজস্ব সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সুযোগও রাখা হয়েছে।

গ্যাস সংকট এখনো বড় বাধা

বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় অংশ গ্যাসভিত্তিক হওয়ায় গ্যাস সরবরাহ কমে গেলে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদনও কমে যায়। ফলে নতুন গ্যাস অনুসন্ধান, দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো এবং LNG সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়টি সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর একটি বড় অংশ আমদানিকৃত কয়লার ওপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক বাজার, ডলার সংকট, এলসি, পরিবহন ও বন্দর ব্যবস্থায় কোনো সমস্যা তৈরি হলে এসব কেন্দ্রের উৎপাদনেও প্রভাব পড়তে পারে।

শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্র বাড়ালেই সমাধান নয়

বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহ, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা জরুরি। কারণ উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও পর্যাপ্ত গ্যাস বা কয়লা না থাকলে বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো সম্ভব নয়।

একইভাবে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে গ্রাহকের কাছেও পৌঁছানো সম্ভব নাও হতে পারে।

সরকারের সামনে বড় প্রশ্ন

গত ছয় মাসে সরকার জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন নীতি ও পরিকল্পনা গ্রহণ করলেও এসব পরিকল্পনার বাস্তব ফল কত দ্রুত পাওয়া যাবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণ, আমদানিনির্ভর জ্বালানির ঝুঁকি কমানো, বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ সক্ষমতা বৃদ্ধি—এই চার ক্ষেত্রেই দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে পারলেই দীর্ঘমেয়াদে লোডশেডিংয়ের চাপ কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন থাকছে—বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সরকার কি নিরবচ্ছিন্ন ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারবে?

#জনতারদৃশ্যপট #জ্বালানিসংকট #লোডশেডিং #বিদ্যুৎ #গ্যাসসংকট #কয়লা #নবায়নযোগ্যজ্বালানি #সৌরবিদ্যুৎ #বাংলাদেশ #বিদ্যুৎখাত

দেশে কয়লা আছে, তবুও আমদানিনির্ভর বিদ্যুৎ—লোডশেডিংয়ের ঝুঁকি কোথায়?নিজস্ব প্রতিবেদকবাংলাদেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ...
10/09/2026

দেশে কয়লা আছে, তবুও আমদানিনির্ভর বিদ্যুৎ—লোডশেডিংয়ের ঝুঁকি কোথায়?

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বর্তমানে ৮ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। এর বড় অংশই আমদানিকৃত কয়লার ওপর নির্ভরশীল। অথচ দেশের মাটির নিচে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কয়লার মজুত রয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—দেশে কয়লা থাকা সত্ত্বেও কেন বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য বিদেশ থেকে কয়লা আমদানি করতে হচ্ছে?

বিশেষজ্ঞ ও সরকারি বিভিন্ন নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, এর মূল কারণ দেশে কয়লা নেই—এমন নয়। বরং দেশীয় কয়লা উত্তোলন সীমিত, নতুন কয়লাখনি উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে নীতিগত ও পরিবেশগত বিতর্ক রয়েছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে নির্মিত বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর অধিকাংশই আমদানিকৃত কয়লাকে জ্বালানি হিসেবে বিবেচনা করেই নির্মাণ করা হয়েছে।

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কতটি?

বাংলাদেশে বড় ও উল্লেখযোগ্য কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া, পটুয়াখালীর পায়রা, বাগেরহাটের রামপাল, কক্সবাজারের মাতারবাড়ী এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালীর এসএস পাওয়ার প্রকল্প।

বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা প্রায় ৫২৫ মেগাওয়াট এবং এটি দেশীয় বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ওপর নির্ভরশীল।

পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট। এটি আমদানিকৃত কয়লা ব্যবহার করে।

রামপাল মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্টের সক্ষমতা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট এবং এটিও আমদানিকৃত কয়লানির্ভর।

মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট।

অন্যদিকে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এসএস পাওয়ারের সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে শুধু BPDB-এর নিজস্ব/নিয়ন্ত্রিত কেন্দ্রগুলোর কয়লাভিত্তিক স্থাপিত সক্ষমতা ছিল ৬ হাজার ৬০৪ মেগাওয়াট। দেশের অন্যান্য বেসরকারি ও যৌথ উদ্যোগের কেন্দ্র যুক্ত করলে মোট কয়লাভিত্তিক সক্ষমতা ৮ হাজার মেগাওয়াটের বেশি।

দেশে কয়লা আছে, তাহলে আমদানি কেন?

বাংলাদেশে বড়পুকুরিয়া, ফুলবাড়ী, দীঘিপাড়া, খালাশপীর ও জামালগঞ্জসহ একাধিক কয়লাক্ষেত্র রয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের মাটির নিচে কয়লার মজুত রয়েছে।

কিন্তু এসব কয়লাক্ষেত্রের অধিকাংশে বর্তমানে বড় পরিসরে বাণিজ্যিক উত্তোলন হচ্ছে না। কার্যকরভাবে উৎপাদন করছে মূলত দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি।

বড়পুকুরিয়ার কয়লা দিয়ে পাশের বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানো হয়। খনি থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের দূরত্ব কম হওয়ায় কয়লা পরিবহনের খরচও তুলনামূলক কম।

কিন্তু বড়পুকুরিয়ার উৎপাদন দিয়ে দেশের ৮ হাজার মেগাওয়াটের বেশি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার জ্বালানি চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়।

ফলে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য বিদেশ থেকে কয়লা আমদানি করতে হয়।

দেশীয় কয়লা উত্তোলন বাড়ানো হচ্ছে না কেন?

দেশীয় কয়লা উত্তোলনের ক্ষেত্রে কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

কয়লা অনেক গভীরে

বাংলাদেশের অনেক কয়লাক্ষেত্রে কয়লার স্তর মাটির অনেক নিচে অবস্থিত। সেখানে খনি তৈরি করতে বড় ধরনের বিনিয়োগ, উন্নত প্রযুক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।

কৃষিজমি ও পরিবেশের প্রশ্ন

কিছু কয়লাক্ষেত্রে ওপেন-পিট বা উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের প্রস্তাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে।

বিশেষ করে ফুলবাড়ী কয়লাখনি প্রকল্পকে কেন্দ্র করে কৃষিজমি, বসতবাড়ি, ভূগর্ভস্থ পানি, পরিবেশ ও মানুষের পুনর্বাসন নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

বাংলাদেশ ঘনবসতিপূর্ণ এবং কৃষিনির্ভর দেশ হওয়ায় বড় আকারে জমি অধিগ্রহণ ও মানুষের পুনর্বাসন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

নতুন কয়লাখনি নিয়ে নীতিগত সিদ্ধান্তের অভাব

দেশীয় কয়লার বড় মজুত থাকলেও নতুন বড় কয়লাখনি উন্নয়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নীতিগত বিতর্ক রয়েছে। ফলে সম্ভাব্য কয়লাক্ষেত্রগুলো থেকে ব্যাপক উৎপাদন শুরু হয়নি।

বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো আমদানিকৃত কয়লানির্ভর কেন?

এখানে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর অবস্থান ও নকশা গুরুত্বপূর্ণ।

পায়রা, রামপাল ও মাতারবাড়ীর মতো বড় কেন্দ্রগুলো উপকূলীয় বা বন্দরসংলগ্ন এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে। ফলে সমুদ্রপথে বড় জাহাজে কয়লা এনে বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ করা তুলনামূলক সহজ।

অর্থাৎ এসব প্রকল্পের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার একটি বড় অংশ শুরু থেকেই আমদানিকৃত কয়লাকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত।

অন্যদিকে বড়পুকুরিয়া হচ্ছে mine-mouth power plant—অর্থাৎ কয়লাখনির কাছেই বিদ্যুৎকেন্দ্র। তাই দেশীয় কয়লা সরাসরি ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে।

দেশীয় কয়লা কি নিম্নমানের?

দেশীয় কয়লা মানহীন—এমন ধারণাও পুরোপুরি সঠিক নয়।

বাংলাদেশের কিছু কয়লার তাপ উৎপাদন ক্ষমতা বা calorific value তুলনামূলকভাবে ভালো। শিল্পখাতের বিভিন্ন বিশ্লেষণে দেশীয় কয়লার উচ্চ তাপমূল্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থাৎ শুধু কয়লার মানের কারণে বাংলাদেশকে কয়লা আমদানি করতে হচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।

মূল সমস্যা হচ্ছে কয়লা উত্তোলনের সক্ষমতা, খনি উন্নয়ন, বিনিয়োগ, পরিবেশগত ঝুঁকি, অবকাঠামো এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত।

আমদানিনির্ভর কয়লা ও লোডশেডিংয়ের সম্পর্ক

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রা ও আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও নির্ভরতা তৈরি হয়েছে।

একটি সরল সরবরাহ চক্র হলো—

ডলার/এলসি সংকট → কয়লা আমদানিতে সমস্যা → কয়লার মজুত কমে যাওয়া → বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়া বা কেন্দ্র বন্ধ → জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ ঘাটতি → লোডশেডিংয়ের ঝুঁকি।

অতীতে কয়লা সরবরাহ ও অর্থায়নসংক্রান্ত সমস্যার কারণে পায়রা ও রামপালসহ বিভিন্ন কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

২০২৬ সালের এপ্রিলেও BPDB-এর দৈনিক উৎপাদন প্রতিবেদনে পটুয়াখালীর ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কেন্দ্রের উৎপাদন সমস্যার কারণ হিসেবে “Coal Shortage” উল্লেখ করা হয়েছিল।

তবে সব লোডশেডিংয়ের জন্য কি কয়লা দায়ী?

না।

লোডশেডিংয়ের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে।

এর মধ্যে রয়েছে—

- গ্যাসের ঘাটতি
- কয়লার ঘাটতি
- তেল সরবরাহের সমস্যা
- বিদ্যুৎকেন্দ্রের যান্ত্রিক ত্রুটি
- রক্ষণাবেক্ষণ
- বিদ্যুৎ আমদানিতে সমস্যা
- সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা
- অতিরিক্ত চাহিদা
- বিদ্যুৎকেন্দ্রের বকেয়া বিল
- বৈদেশিক মুদ্রার সংকট

তাই নির্দিষ্ট সময়ে লোডশেডিংয়ের প্রকৃত কারণ জানতে হলে ওই সময়ের কেন্দ্রভিত্তিক উৎপাদন ও জ্বালানি সরবরাহের তথ্য বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

দেশীয় কয়লা ব্যবহার করলে কি বিদ্যুতের দাম কমবে?

এ প্রশ্নের উত্তর সরাসরি হ্যাঁ বা না বলা যায় না।

দেশীয় কয়লা ব্যবহার করলে বিদেশ থেকে কয়লা কেনার জন্য প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রার চাপ কমতে পারে। জাহাজভাড়া, আন্তর্জাতিক পরিবহন ও আমদানি-সংক্রান্ত কিছু খরচও কমতে পারে।

তবে দেশীয় কয়লা উত্তোলনের জন্যও বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন। খনি নির্মাণ, যন্ত্রপাতি, শ্রম, জমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন, পরিবেশ সুরক্ষা ও অবকাঠামোর খরচ রয়েছে।

তাই দেশীয় কয়লার প্রকৃত অর্থনৈতিক সুবিধা নির্ধারণ করতে হলে খনি থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্র পর্যন্ত পুরো সরবরাহব্যবস্থার ব্যয় হিসাব করতে হবে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—বাংলাদেশ কি দেশীয় কয়লায় নির্ভরশীল হতে পারবে?

তাৎক্ষণিকভাবে দেশের সব কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে দেশীয় কয়লায় চালানো সম্ভব নয়।

কারণ বর্তমান দেশীয় কয়লা উত্তোলনের সক্ষমতা দেশের মোট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার তুলনায় অনেক কম।

তবে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে দেশীয় কয়লার মজুত নিয়ে নতুন করে বৈজ্ঞানিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত মূল্যায়ন করা যেতে পারে।

যেসব এলাকায় পরিবেশগত ক্ষতি কমিয়ে অর্থনৈতিকভাবে কয়লা উত্তোলন সম্ভব, সেসব ক্ষেত্রে সম্ভাব্যতা যাচাই করা এবং একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও অন্যান্য জ্বালানি উৎস বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে।

উপসংহার

বাংলাদেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের বাস্তবতা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে।

দেশে কয়লা আছে, কিন্তু বড় পরিসরে দেশীয় কয়লা উত্তোলন হচ্ছে না।

অন্যদিকে গত কয়েক বছরে নির্মিত বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর অধিকাংশই আমদানিকৃত কয়লার ওপর নির্ভরশীল।

ফলে আন্তর্জাতিক বাজার, ডলার, এলসি, কয়লার দাম, জাহাজ ও বন্দর ব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি অংশ সরাসরি যুক্ত হয়ে গেছে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে বর্তমান লোডশেডিংয়ের একমাত্র কারণ কয়লা সংকট। বিদ্যুৎ খাতের সামগ্রিক চিত্রে গ্যাস, তেল, বিদ্যুৎ আমদানি, উৎপাদন সক্ষমতা, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থাসহ একাধিক বিষয় বিবেচনা করতে হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—বাংলাদেশের জ্বালানি নীতি নির্ধারণে শুধু “আমদানি করব” বা “দেশীয় কয়লা তুলব”—এই দুইয়ের মধ্যে একটি বেছে নেওয়ার পরিবর্তে অর্থনৈতিক ব্যয়, পরিবেশগত ক্ষতি, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা—সবগুলো বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করা।

বাংলাদেশে কয়লা নেই—এ কারণে আমদানি করতে হয়, বিষয়টি এমন নয়। বরং পর্যাপ্ত দেশীয় কয়লা উত্তোলন না হওয়ায় এবং বিদ্যমান বড় কেন্দ্রগুলো আমদানিকৃত কয়লানির্ভর হওয়ায় বাংলাদেশকে বড় পরিসরে কয়লা আমদানি করতে হচ্ছে।

তথ্যসূত্র

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (BPDB), বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের নথি, সরকারি জ্বালানি পরিকল্পনা, The Daily Star, The Business Standard, The Financial Express এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প বিশ্লেষণ।

#কয়লাভিত্তিকবিদ্যুৎ #বিদ্যুৎ #লোডশেডিং #কয়লাসংকট #জ্বালানিনিরাপত্তা #দেশীয়কয়লা #আমদানিকৃতকয়লা #বাংলাদেশ #বিদ্যুৎকেন্দ্র

রুমিন ফারহানা সংসদে যা বলেছেন, তার কতটা সত্য?সংসদে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার অধিকার সবার আছে। সরকারের সমালোচনাও গণতন্ত্রের...
09/09/2026

রুমিন ফারহানা সংসদে যা বলেছেন, তার কতটা সত্য?

সংসদে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার অধিকার সবার আছে। সরকারের সমালোচনাও গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ। কিন্তু সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় তথ্য উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—তথ্যটি সঠিক কি না এবং তার প্রেক্ষাপট কী।

রুমিন ফারহানার সাম্প্রতিক বক্তব্যের কয়েকটি বিষয় তাই তথ্যের আলোকে দেখা জরুরি।

প্রথমত, ঋণখেলাপির হিসাব

গত ১৮ জুন সংসদে রুমিন ফারহানা বলেন, দেশের মোট নন-পারফর্মিং লোন বা খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা; পুনঃতফসিল, অবলোপন ও আদালতে বিচারাধীন ঋণ যুক্ত করলে পরিমাণ ১১ লাখ কোটি টাকা ছাড়ায়।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—দেশের ব্যাংকিং খাতের মোট খেলাপি ঋণকে সরাসরি ‘বিএনপির ৬ লাখ কোটি টাকার ঋণখেলাপি’ হিসেবে উপস্থাপন করা হলে তার সঙ্গে কোন সময়ের ঋণ, কোন সরকারের সময়ের সিদ্ধান্ত এবং কোন শ্রেণির ঋণ অন্তর্ভুক্ত—তা পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

অর্থাৎ রাষ্ট্রের ব্যাংকিং খাতের মোট খেলাপি ঋণ আর একটি রাজনৈতিক দলের নিজস্ব ঋণ—দুটি এক বিষয় নয়।

দ্বিতীয়ত, ‘দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন’ প্রসঙ্গ

এই জায়গাতেই ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি অপব্যাখ্যা হয়েছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের ২০০১ সালের Corruption Perceptions Index-এ বাংলাদেশ ০.৪ স্কোর পেয়ে ৯১টি দেশের মধ্যে সর্বশেষ অবস্থানে ছিল। অর্থাৎ ওই বছরের সূচকে বাংলাদেশ ছিল সবচেয়ে নিচের অবস্থানে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো—২০০১ সালের CPI প্রকাশের সময় বিএনপি সরকার ক্ষমতায় ছিল না। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেয় ২০০১ সালের অক্টোবর মাসে।

এরপর CPI-তে বাংলাদেশের স্কোর ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকে:

২০০১ — ০.৪
২০০২ — ১.২
২০০৩ — ১.৩
২০০৪ — ১.৫
২০০৫ — ১.৭
২০০৬ — ২.০

টিআইবির নিজস্ব প্রকাশিত তথ্যেও এই পরিসংখ্যান পাওয়া যায়।

এই সূচকে ১০ ছিল তুলনামূলকভাবে ‘পরিষ্কার’ অবস্থানের দিকে এবং ০ ছিল সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত অবস্থানের দিকে। ফলে ০.৪ থেকে ২.০-তে ওঠা মানে সূচকের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের perceived corruption পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছিল।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা আছে—CPI কোনো সরকারের দুর্নীতির সরাসরি পরিমাপ নয়; এটি ব্যবসায়ী, বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে সরকারি খাতের দুর্নীতির ধারণাভিত্তিক সূচক। তাই শুধু CPI দিয়ে কোনো সরকারকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত বা সম্পূর্ণ দুর্নীতিগ্রস্ত ঘোষণা করাও সঠিক পদ্ধতি নয়।

তবু একটি বিষয় অস্বীকার করার সুযোগ নেই—২০০১ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত বাংলাদেশ CPI-তে সর্বশেষ অবস্থানে ছিল এবং ২০০৬ সালে অবস্থান তিন ধাপ ওপরে ওঠে।

সুতরাং ‘বিএনপি সরকারই বাংলাদেশকে প্রথমবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছিল’—এমন সরলীকৃত বক্তব্য ইতিহাসের পুরো সময়রেখার সঙ্গে মেলে না।

তৃতীয়ত, দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রসঙ্গ

বিএনপি সরকারের সময় ২০০৪ সালে দুর্নীতি দমন ব্যুরোর পরিবর্তে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার কমিশনকে আরও সক্রিয় ও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয়।

অতএব বিএনপি সরকারের দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করতে হলে যেমন তাদের ব্যর্থতা ও বিতর্ক তুলে ধরা উচিত, তেমনি দুদক প্রতিষ্ঠার মতো প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপও আলোচনায় আসা উচিত।

চতুর্থত, কারখানা বন্ধ ও CPD-এর তথ্য

এখানেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে।

আগস্ট ২০২৬-এ CPD-এর একটি উপস্থাপনায় দাবি করা হয়েছিল, জানুয়ারি থেকে আগস্টের মধ্যে গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী এলাকায় ৯৫টি কারখানা বন্ধ হয়ে ৬১ হাজার ৮৮১ জন কর্মহীন হয়েছেন।

পরে CPD নিজেই স্বীকার করে যে তারা একটি সংবাদ প্রতিবেদনের তথ্য মূল উৎস যাচাই না করেই ব্যবহার করেছিল এবং এ কারণে দুঃখ প্রকাশ করে।

এখানে প্রশ্ন উঠতেই পারে—যে তথ্যের উৎস পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান নিজেই ভুল বলে স্বীকার করেছে, সেই তথ্য সংসদে উদ্ধৃত করার আগে তা যাচাই করা হয়েছিল কি না?

রাজনৈতিক বক্তব্যের ক্ষেত্রে এই যাচাই আরও জরুরি।

পঞ্চমত, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট

বর্তমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে সরকারের কঠোর সমালোচনা করা অবশ্যই সংসদ সদস্যদের অধিকার।

রুমিন ফারহানা সম্প্রতি সংসদে জ্বালানি সংকট, লোডশেডিং এবং কারখানা বন্ধ নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেছেন।

কিন্তু একটি দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সংকটকে কেবল একটি সরকারের ঘাড়ে চাপিয়ে দিলে পুরো বাস্তবতা ধরা পড়ে না। গ্যাসের সরবরাহ, বিদ্যুৎ উৎপাদন, জ্বালানি আমদানি, অবকাঠামো, বিনিয়োগ এবং পূর্ববর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত—সবকিছুর ধারাবাহিকতা বিবেচনায় নিতে হবে।

এমনকি ২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও সংসদে ৯২টি বা ২০০-৩০০টি কারখানা গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে বন্ধ হয়ে যাওয়ার দাবিকে নাকচ করেছেন।

তাহলে বিএনপির করণীয় কী?

রুমিন ফারহানার বক্তব্যকে ব্যক্তিগত আক্রমণ দিয়ে মোকাবিলা করার প্রয়োজন নেই।

বরং বিএনপির উচিত—

সংসদে তথ্য দিয়ে তথ্যের জবাব দেওয়া।
ভুল তথ্য হলে সংশোধিত তথ্য উপস্থাপন করা।
প্রতিটি পরিসংখ্যানের উৎস তুলে ধরা।
প্রয়োজনে সংসদের কার্যবিবরণীতে ভুল বক্তব্যের প্রতিবাদ জানানো।

কারণ একজন সংসদ সদস্যের বক্তব্যের জবাব আরেকজন সংসদ সদস্য তথ্য দিয়েই দেবেন—এটাই গণতান্ত্রিক রাজনীতির সৌন্দর্য।

আরেকটি বিষয়ও মনে রাখা দরকার—

সমালোচনা করার অধিকার যেমন রুমিন ফারহানার আছে, তেমনি তাঁর বক্তব্যের সমালোচনা করার অধিকারও বিএনপি ও দেশের জনগণের আছে।

কেউ বিএনপির সমালোচনা করলেই তাকে আওয়ামী লীগের ‘দালাল’ বলা যেমন ঠিক নয়, তেমনি বিএনপির পক্ষে কেউ কথা বললেই তার বক্তব্যকে প্রশ্নাতীত সত্য ধরে নেওয়াও ঠিক নয়।

রাজনীতিতে পক্ষ থাকবে, মতপার্থক্য থাকবে, তর্ক থাকবে।

কিন্তু ইতিহাসের জায়গায় ইতিহাস, পরিসংখ্যানের জায়গায় পরিসংখ্যান এবং রাজনৈতিক মতের জায়গায় রাজনৈতিক মত—এই সীমারেখা বজায় থাকাই গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে জরুরি।

প্রশ্নটা রুমিন ফারহানা বিএনপির সমালোচনা করেছেন কি না—তা নয়।
প্রশ্ন হলো, সংসদে তিনি যে তথ্য দিয়েছেন, সেই তথ্যের উৎস ও প্রেক্ষাপট কতটা সঠিক?

আর বিএনপির জন্যও বার্তা একটাই—

অভিযোগের জবাব গালি দিয়ে নয়, তথ্য দিয়ে দিন।
প্রচার দিয়ে নয়, প্রমাণ দিয়ে দিন।

Peopleviews24 – জনতার দৃশ্যপট

#জনতারদৃশ্যপট #রুমিনফারহানা #বিএনপি #জাতীয়সংসদ #বাংলাদেশরাজনীতি #দুর্নীতি #ঋণখেলাপি #গ্যাসসংকট #বিদ্যুৎসংকট #রাজনৈতিকবিশ্লেষণ

07/09/2026

সাভারে ছাত্র-জনতা হত্যা মামলার আসামি যুবলীগ নেতা আজগর আলী গ্রেপ্তার

ঢাকার সাভারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা এবং ছাত্র-জনতা হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি সাভার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি আজগর আলীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে সাভার পৌর এলাকার অন্ধ মার্কেটের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ৫ আগস্টের পর থেকে যুবলীগ নেতা আজগর আলী আত্মগোপনে ছিলেন। শনিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাভারের অন্ধ মার্কেট এলাকায় তার অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে তাকে আটক করা হয়।

সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আজগর আলীর বিরুদ্ধে গত জুলাই-আগস্টে সাভারে ছাত্র-জনতার ওপর সশস্ত্র হামলা এবং একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, আটকের পর আজগর আলীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। তাকে রোববার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর কথা রয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, সাভার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং বিভিন্ন মামলার আসামিদের আইনের আওতায় আনতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য, প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী আজগর আলীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকার কথা বলা হলেও নির্দিষ্ট মামলার নম্বর, মামলার বাদী বা কোন হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে—এসব বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। তাই যাচাই ছাড়া এসব তথ্য সংযোজন করা হচ্ছে না।

সূত্র: পুলিশ ও প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন।

#সাভার ী #যুবলীগ #গ্রেফতার #ছাত্রজনতা_হত্যা_মামলা #বৈষম্যবিরোধী_ছাত্র_আন্দোলন #সাভার_মডেল_থানা #সাভার_সংবাদ #ঢাকা #জনতার_দৃশ্যপট

06/09/2026

সাভারের শাহীবাগে লেগুনা-অটোরিকশা থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ, মইনুল আটক

ঢাকার সাভারের শাহীবাগ এলাকায় লেগুনা ও অটোরিকশা থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগে মইনুল নামের এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু।

জানা গেছে, শাহীবাগ এলাকায় লেগুনা ও অটোরিকশা থেকে চাঁদা আদায়ের সময় স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন সংসদ সদস্য। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মইনুলকে চাঁদা আদায়ের সময় আটক করা হয় বলে জানা গেছে।

আটকের পর তাকে সাভার মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাভারের বিভিন্ন সড়কে লেগুনা, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন থেকে অবৈধভাবে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এতে চালক ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।

এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তদন্ত করে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। #সাভার #সাভার_সংবাদ #চাঁদাবাজি িদ #চাঁদাবাজির_বিরুদ্ধে #রাজাশন #মজিদপুর #রাজারবাড়ি #সাভার_আপডেট #ঢাকা_জেলা #ব্রেকিং_নিউজ #সাভার_মডেল_থানা #জনতার_দৃশ্যপট

বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সিফাতের অভিযোগের সঙ্গে মিটার ও লেজারের হিসাবে মিলল ভিন্ন চিত্রঅতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ তুলে সামাজি...
06/09/2026

বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সিফাতের অভিযোগের সঙ্গে মিটার ও লেজারের হিসাবে মিলল ভিন্ন চিত্র

অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ ভাষায় ভিডিও প্রকাশ করা সিফাত আব্দুল্লাহর অভিযোগের সঙ্গে সরেজমিনে মিটার পরিদর্শন ও বিদ্যুৎ বিলের তথ্য পর্যালোচনায় ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সম্প্রতি সিফাত আব্দুল্লাহ নামে এক জামায়াত কর্মী নিজের বাসায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আসার অভিযোগ তুলে ফেসবুকে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওতে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে অশ্রাব্য ভাষায় বক্তব্য দেন। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরবর্তীতে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়।

সিফাত তার ভিডিওতে দাবি করেন, জুলাই ও আগস্ট—এই দুই মাসে তিনি প্রায় ১০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেছেন। এছাড়া একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, “এক মাসের বিদ্যুৎ বিল একটা পুরো পরিবারকে জিম্মি কইরা ফেলবো?”

তবে তার বাড়িতে সরেজমিনে গিয়ে মিটার পরিদর্শন, কাস্টমারের লেজার প্রিন্ট এবং গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দেওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সিফাত আব্দুল্লাহর পিতার নাম সিকান্দার আলী। গাজীপুর মহানগরীর ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে তাদের দোতলা বাড়িতে মোট তিনটি আবাসিক বিদ্যুৎ মিটার রয়েছে। বাড়িটিতে পরিবারের পাশাপাশি ভাড়াটিয়াও বসবাস করেন।

তিন মিটারে চার মাসের হিসাব

মিটার নং: S000433*7

- মে ২০২৬: ৪৫ ইউনিট — বিল ৩১৭ টাকা
- জুন ২০২৬: ৫০ ইউনিট — বিল ৩৪২ টাকা
- জুলাই ২০২৬: ১৫০ ইউনিট — বিল ১,১৮২ টাকা
- আগস্ট ২০২৬: ৭৫ ইউনিট — বিল ৫১৩ টাকা

চার মাসে মোট ব্যবহার: ৩২০ ইউনিট
মোট বিল: ২,৩৫৪ টাকা

মিটার নং: S000218*5

- মে ২০২৬: ২৫০ ইউনিট — বিল ১,৮১২ টাকা
- জুন ২০২৬: ২০০ ইউনিট — বিল ১,৫৮৪ টাকা
- জুলাই ২০২৬: ৪০০ ইউনিট — বিল ৩,৫৯৪ টাকা
- আগস্ট ২০২৬: ২৮৫ ইউনিট — বিল ২,৩৯৭ টাকা

চার মাসে মোট ব্যবহার: ১,১৩৫ ইউনিট
মোট বিল: ৯,৩৮৭ টাকা

মিটার নং: S000424*7

- মে ২০২৬: ১২৫ ইউনিট — বিল ৮৪৭ টাকা
- জুন ২০২৬: ১২০ ইউনিট — বিল ৬৯০ টাকা
- জুলাই ২০২৬: ২০৫ ইউনিট — বিল ১,৬৩৩ টাকা
- আগস্ট ২০২৬: ১৭৫ ইউনিট — বিল ১,৩৬২ টাকা

চার মাসে মোট ব্যবহার: ৬২৫ ইউনিট
মোট বিল: ৪,৫৩২ টাকা

হিসাব অনুযায়ী, মে থেকে আগস্ট ২০২৬—এই চার মাসে তিনটি আবাসিক মিটারে মোট ২,০৮০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে এবং মোট বিল এসেছে ১৬,২৭৩ টাকা।

এদিকে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বোর্ড বাজার জোনাল অফিসের কর্মকর্তারা সিফাত আব্দুল্লাহর বাড়িতে গিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের প্রকৃত তালিকা সংগ্রহ করতে চাইলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং গেট বন্ধ করে দেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বিদ্যুৎ বিল নিয়ে কোনো গ্রাহকের অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জানিয়ে মিটার পরীক্ষা, রিডিং যাচাই ও বিলের লেজার পর্যালোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। একজন নাগরিকের সেবা ব্যাহত হলে প্রতিবাদ করার অধিকার থাকলেও তা অবশ্যই শালীন ভাষা ও আইনসম্মত পদ্ধতিতে হওয়া উচিত।

বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বক্তব্য বা আবেগের চেয়ে মিটারের রিডিং, ব্যবহৃত ইউনিট এবং কাস্টমারের লেজার ও বিলের তথ্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

তথ্যসূত্র: K M Nazmul Haque, Press Secretary, Prime Minister’s Office (PMO)।
#বিদ্যুৎবিল #বিদ্যুৎ #সিফাতআব্দুল্লাহ #বিদ্যুৎবিলঅভিযোগ #গাজীপুর #গাজীপুরপল্লীবিদ্যুৎ #পল্লীবিদ্যুৎ #বিদ্যুৎমিটার #বিদ্যুৎবিলতদন্ত #সত্যউদঘাটন #তথ্যযাচাই #ভাইরালভিডিও #বাংলাদেশ #গাজীপুরনিউজ #জনতারদৃশ্যপট

বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সিফাতের অভিযোগের সঙ্গে মিটার ও লেজারের হিসাবে মিলল ভিন্ন চিত্রনিজস্ব প্রতিবেদক:অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অ...
05/09/2026

বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সিফাতের অভিযোগের সঙ্গে মিটার ও লেজারের হিসাবে মিলল ভিন্ন চিত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক:

অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ ভাষায় ভিডিও প্রকাশ করা সিফাত আব্দুল্লাহর অভিযোগের সঙ্গে সরেজমিনে মিটার পরিদর্শন ও বিদ্যুৎ বিলের তথ্য পর্যালোচনায় ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সম্প্রতি সিফাত আব্দুল্লাহ নামে এক জামায়াত কর্মী নিজের বাসায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আসার অভিযোগ তুলে ফেসবুকে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওতে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে অশ্রাব্য ভাষায় বক্তব্য দেন। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরবর্তীতে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়।

সিফাত তার ভিডিওতে দাবি করেন, জুলাই ও আগস্ট—এই দুই মাসে তিনি প্রায় ১০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেছেন। এছাড়া একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, “এক মাসের বিদ্যুৎ বিল একটা পুরো পরিবারকে জিম্মি কইরা ফেলবো?”

তবে তার বাড়িতে সরেজমিনে গিয়ে মিটার পরিদর্শন, কাস্টমারের লেজার প্রিন্ট এবং গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দেওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সিফাত আব্দুল্লাহর পিতার নাম সিকান্দার আলী। গাজীপুর মহানগরীর ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে তাদের দোতলা বাড়িতে মোট তিনটি আবাসিক বিদ্যুৎ মিটার রয়েছে। বাড়িটিতে পরিবারের পাশাপাশি ভাড়াটিয়াও বসবাস করেন।

তিন মিটারে চার মাসের হিসাব

মিটার নং: S000433*7

- মে ২০২৬: ৪৫ ইউনিট — বিল ৩১৭ টাকা
- জুন ২০২৬: ৫০ ইউনিট — বিল ৩৪২ টাকা
- জুলাই ২০২৬: ১৫০ ইউনিট — বিল ১,১৮২ টাকা
- আগস্ট ২০২৬: ৭৫ ইউনিট — বিল ৫১৩ টাকা

চার মাসে মোট ব্যবহার: ৩২০ ইউনিট
মোট বিল: ২,৩৫৪ টাকা

মিটার নং: S000218*5

- মে ২০২৬: ২৫০ ইউনিট — বিল ১,৮১২ টাকা
- জুন ২০২৬: ২০০ ইউনিট — বিল ১,৫৮৪ টাকা
- জুলাই ২০২৬: ৪০০ ইউনিট — বিল ৩,৫৯৪ টাকা
- আগস্ট ২০২৬: ২৮৫ ইউনিট — বিল ২,৩৯৭ টাকা

চার মাসে মোট ব্যবহার: ১,১৩৫ ইউনিট
মোট বিল: ৯,৩৮৭ টাকা

মিটার নং: S000424*7

- মে ২০২৬: ১২৫ ইউনিট — বিল ৮৪৭ টাকা
- জুন ২০২৬: ১২০ ইউনিট — বিল ৬৯০ টাকা
- জুলাই ২০২৬: ২০৫ ইউনিট — বিল ১,৬৩৩ টাকা
- আগস্ট ২০২৬: ১৭৫ ইউনিট — বিল ১,৩৬২ টাকা

চার মাসে মোট ব্যবহার: ৬২৫ ইউনিট
মোট বিল: ৪,৫৩২ টাকা

হিসাব অনুযায়ী, মে থেকে আগস্ট ২০২৬—এই চার মাসে তিনটি আবাসিক মিটারে মোট ২,০৮০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে এবং মোট বিল এসেছে ১৬,২৭৩ টাকা।

এদিকে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বোর্ড বাজার জোনাল অফিসের কর্মকর্তারা সিফাত আব্দুল্লাহর বাড়িতে গিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের প্রকৃত তালিকা সংগ্রহ করতে চাইলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং গেট বন্ধ করে দেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বিদ্যুৎ বিল নিয়ে কোনো গ্রাহকের অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জানিয়ে মিটার পরীক্ষা, রিডিং যাচাই ও বিলের লেজার পর্যালোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। একজন নাগরিকের সেবা ব্যাহত হলে প্রতিবাদ করার অধিকার থাকলেও তা অবশ্যই শালীন ভাষা ও আইনসম্মত পদ্ধতিতে হওয়া উচিত।

বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বক্তব্য বা আবেগের চেয়ে মিটারের রিডিং, ব্যবহৃত ইউনিট এবং কাস্টমারের লেজার ও বিলের তথ্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

তথ্যসূত্র: K M Nazmul Haque, Press Secretary, Prime Minister’s Office (PMO)। #বিদ্যুৎবিল #বিদ্যুৎ #সিফাতআব্দুল্লাহ #বিদ্যুৎবিলঅভিযোগ #গাজীপুর #গাজীপুরপল্লীবিদ্যুৎ #পল্লীবিদ্যুৎ #বিদ্যুৎমিটার #বিদ্যুৎবিলতদন্ত #সত্যউদঘাটন #তথ্যযাচাই #ভাইরালভিডিও #বাংলাদেশ #গাজীপুরনিউজ #জনতারদৃশ্যপট

Adresse

New York
Brittnau
10001

Telefon

+41762515835

Webseite

Benachrichtigungen

Lassen Sie sich von uns eine E-Mail senden und seien Sie der erste der Neuigkeiten und Aktionen von People Views24-জনতার দৃশ্যপ্ট erfährt. Ihre E-Mail-Adresse wird nicht für andere Zwecke verwendet und Sie können sich jederzeit abmelden.

Service Kontaktieren

Nachricht an People Views24-জনতার দৃশ্যপ্ট senden:

Verknüpfungen

Teilen