29/07/2026
পবিত্র গুরু পূর্ণিমা ভারতীয় সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতার এক গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। প্রাচীনকাল থেকেই আষাঢ় মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এই দিনটি পালন করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এই দিনেই মহর্ষি বেদব্যাস-এর জন্ম হয়েছিল। তিনি বেদ সংকলন, মহাভারত রচনা এবং পুরাণসমূহের সংকলনের জন্য শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয়। তাই গুরু পূর্ণিমা ব্যাস পূর্ণিমা নামেও পরিচিত।
ভারতীয় দর্শনে ‘গুরু’ শুধু শিক্ষক নন, তিনি জ্ঞানের আলোয় অন্ধকার দূর করে সঠিক পথের দিশা দেখান। এই দিনে শিষ্যরা তাঁদের গুরু, শিক্ষক ও জীবনের পথপ্রদর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা, শ্রদ্ধা ও প্রণাম নিবেদন করেন। আধ্যাত্মিক সাধকরা তাঁদের দীক্ষাগুরুর আশীর্বাদ গ্রহণ করেন এবং জ্ঞানচর্চার নতুন অঙ্গীকার করেন।
গুরু পূর্ণিমার মহিমা শুধু ধর্মীয় নয়, এটি ভারতীয় ঐতিহ্যে গুরু-শিষ্য পরম্পরার এক অনন্য প্রতীক। এই উৎসব আমাদের শেখায়, জ্ঞান, শিক্ষা, মূল্যবোধ ও মানবিকতার পথে যাঁরা আমাদের এগিয়ে নিয়ে যান, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাই জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কর্তব্য।
ভারতের প্রায় সব রাজ্যেই গুরু পূর্ণিমা পালিত হয়। বিশেষভাবে উত্তর প্রদেশ, মহারাষ্ট্র, গুজরাট, রাজস্থান, মধ্য প্রদেশ, কর্নাটক, তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ এবং বিহার-এ নানা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই পবিত্র দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হয়।
"গুরুই জ্ঞানের প্রদীপ, গুরুই জীবনের পথপ্রদর্শক। সকল গুরুর প্রতি জানাই আন্তরিক শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও প্রণাম।"