16/03/2026
কোনো সন্দেহ নেই, এটা গণতন্ত্রের প্রহসন হচ্ছে। ভোটের ঠিক আগে রাজ্যপাল বদল হয়েছে। এসআইআর চলাকালীনই কার্যত দখল করে ফেলার চেষ্টা হয়েছে রাজ্যকে। কেন্দ্রীয় বাহিনী বোঝাই করে ফেলা হয়েছে। এবার ভোট ঘোষণার ঠিক পরেই মধ্যরাতে বদলে দেওয়া হল রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবকে। ভারতবর্ষে প্রথমবার। এর ঠিক আগে, প্রধানমন্ত্রী দলীয় সভায় এসেছেন না সরকারি, বোঝা যায়নি, সেই ব্যবধানটুকুও মুছে ফেলা হয়েছে। এবং তাঁর জনসভার দিন গোলমালে কেন কেন্দ্রীয় বাহিনী নামেনি, এই নিয়ে কমিশন জবাবদিহি চেয়েছে। ফলে রাজ্যপাল, সচিব এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী, এই ত্র্যহস্পর্শে নির্বাচন হবে বোঝাই যাচ্ছে। এর চেয়ে সোজা করে বললেই হত, রাজ্য সরকার ব্যপারটাই আর রাখার দরকার নেই, ফালতু ঝামেলা। মাথার উপর চন্দ্র-সূর্য আছে, দিল্লিতে উনিজি, বঙ্গে সুবাদার রাজ্যপাল, ঢাকের বাঁয়া নির্যাতন কমিশন, আর দিল্লির কেন্দ্রীয় বাহিনী। ওই দিয়েই চলে যাবে।
শুধু সরকার না, পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিরও বিশেষ দরকার নেই। কারণ ১ কোটি ২০ লক্ষ তো এমনিই ঝুলে। অর্ধেক বাদ, অর্ধেক লাইন দিয়েও 'বিচারাধীন', তার মধ্যেই নির্বাচন ঘোষণা হয়ে গেল। এতদিন পর্যন্ত নির্বাচকরা শাসক নির্বাচন করতেন, পৃথিবীর ইতিহাসে বোধহয় এই প্রথম সরকারের ঢাকের-বাঁয়ারা ঠিক করে দিচ্ছে কারা তাদের নির্বাচন করবে। এটা যে কী হচ্ছে, সে ভাষায় প্রকাশ করা মুশকিল।কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে আপাতত ৬ কোটি ৪৪ লক্ষ ভোটার। ২০২৪ এ ছিল ৭ কোটি ৬০ লক্ষ। ২০২১ এ ছিল ৭ কোটি। ২০১৬তে ছিল ৬ কোটি ৫৫ লক্ষ। অর্থাৎ, গত ১০ বছরে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার সংখ্যা কমে গেছে।
২০১৬কে আদৌ টপকানো যাবে কিনা, সেটা নির্ভর করছে আরেক কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা, আদালতের হাতে। সে হিসেবও অতি চমৎকার। এখনও পর্যন্ত ১০ লক্ষ বিচারাধীনের নাকি নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। কী হয়েছে কেউ জানেনা। বাকি অন্তত ৫০ লক্ষ। বিচারবিভাগীয় আধিকারিক মোটামুটি ৭০০ জন। প্রত্যেকের ঘাড়ে তাহলে রইল ৭ হাজার কেস। হাতে সময় ২১ দিন। ছুটিছাটা সব বাদ দিয়ে দিলেও দিনে ৩৩৩ টা কেস। গড়ে ৮ ঘন্টা কাজ হবে ধরলে ঘন্টায় ৪১টা। এক-একটি কেসের জন্য দেড় মিনিট করে বরাদ্দ। সহজ অঙ্কের হিসেব। এতে করে কী 'বিবেচনা' হবে, তাও অর্ধেক অবাঙালি লোক নিয়ে, সে নিজেরাই ভাবুন। এরপরে আছে অ্যাপিল, ট্রাইবুনাল, মান্যবর উকিলদের সেবার জন্য পয়সা খরচ। সে কবে হবে কেউ জানেনা।
সব মিলিয়ে যা দাঁড়াল, রাজ্যের নির্বাচক দরকার নেই, সরকার দরকার নেই। শাসনটা রাজ্যপাল, কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়েই চলে যাবে। আর শাসিত হিসেবে নির্ঘাত আনা হবে গোবলয়ের অনুগত প্রজাদের। এতে লাভ দুটো। হিন্দুস্তানের আগ্রাসন পাকাপোক্ত হবে। আর সামনেই আসছে ডিলিমিটেশন। পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যা কমে গেলে আসন কমবে। গোবলয়ের আধিপত্যের বন্দোবস্তো চিরস্থায়ী হবে।
রাজাকারদের কথা ছেড়ে দিন, তারা এই বাজারেও কেউ সোজা বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন, কেউ ঘুরিয়ে সেটিং এর ঢাক বাজাচ্ছেন। কিন্তু বাদবাকি যারা নাকে তেল দিয়ে ঘুমোচ্ছেন, ঘুমোবেন না। যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাটাই ধ্বংসের মুখে কিন্তু। তৃণমূল-সিপিএমের চেয়ে অনেক বড় সেটা। এরা কতদূর যেতে পারে, সে নিয়ে কোনো ধারণা থাকলে এই সুনামির মধ্যে কেউ মনের আনন্দে নিদ্রা দিতে পারেনা।