27/09/2025
গলি টার নাম "তিমির গলি",কারণ ওখানে দিনের বেলাতে আলো পৌঁছাতনা, আর সন্ধ্যা নামলেতো ঘনো অন্ধকারে দেখে যেতো গলিটি । ওই গলির শেষে একটি ছোট ঘরে থাকতো রোমা ।বয়স বেশী না হলেও জীবনের ভারে তার চোখদুটো ক্লান্ত থাকতো। রোমার জীবন ছিল তিমির গলির মতো অন্ধকারাচ্ছন্ন । তাঁর স্বামী থাকতেও স্বামীর সুখ সে পায়নি ছেলে টি যখন ছয় মাসের তখন তার স্বামী তাকে ছেড়ে চলে যায় এবং অন্য নারীর সাথে সংসার করে ।ছেলে ছাড়া আর কেউ ছিল না রোমার। তার একটা চায়ের দোকান আছে সেই গলি তেই যেটা থেকে মা ছেলে দুজনের দু বেলা অন্ন জোটে।
পূজো আসতো,শহরের বড় রাস্তার আলো রোশনাই পৌঁছাত না এই গলিতে । রোমা শুধু দূর থেকে ঢাকের আওয়াজ শুনতে পেত আর দীর্ঘশ্বাস ফেলত। তার ছোট পাঁচ বছরের ছেলে বায়না ধরতো নতুন জামা পরার প্যান্ডেল দেখতে যাওয়ার জন্য । রোমা তাকে শুধু বলতো "এখন নয় রে বাপ ,পরের বছর যাবো "।
কিন্তু এই বছর টা অন্য রকম
পাশের বড় এক ক্লাবের পুজোর প্যান্ডেলের কাজ শুরু হতেই তাদের এক কর্মী নাম তার শান্ত , হাসিখুশি একটি ছেলে এসেছিল রোমার চায়ের দোকানে চা খেতে সেই তিমির গলিতে। সে রোমা কে জিজ্ঞাসা করলো "মাসিমা আপনাদের গলিতে কি একটাও আলো লাগানো যায় না ?এত অন্ধকার"।
রোমা তাকে হেসে বললো "বাবা এই গলিতে তো চিরকালই অন্ধকার,এখানে আলো ঢোকেনা "।
এই শুনে শান্ত মনে মনে ঠিক করলো যে ক্লাবের সেক্রেটারিকে বলে আরো কিছু চাঁদা তুলে এই অন্ধকার গলিতে আলো জ্বলবেই।
পূজোর পঞ্চমীর সন্ধ্যায় রোমা তার চায়ের দোকানে বসেছিল । হঠাৎ তার ওই পাঁচ বছরের ছোট্ট ছেলেটি চিৎকার করে উঠলো -"মা দেখো ,আলো"
রোমা মুখতুলে দেখলো ,গলির মুখে যে কয়টি ল্যাম্পষ্ট ছিল ,তাতে ঝকঝকে রঙিন টুনি বাল্ব লাগানো হয়েছে।আর সেই রঙিন আলোর মেলা গলির সেই অন্ধকার তাড়িয়ে দিয়েছে । সেতসেতে শেওলা দেওয়াল টাও জানো প্রাণ ফিরে পেয়েছে । বাচ্চাদের ছোটাছুটি আর তাদের হাসির শব্দে গলিটা ভরে উঠেছে।শান্ত দাঁড়িয়ে হাসছে।
রোমা চেয়ার ছেড়ে উঠে দাড়ালো ,তার চোখে জল এসে গেলো। এ শুধু আলো নয় এ যেন আশা। তার মনে হলো এতকাল ধরে যে অন্ধকার তাকে আর তার ছেলে কে ঘিরে রেখেছিল ,আজ সেই অন্ধকারকেও হার মানানো গেলো।
সেদিন রাতে রোমার ছোটো পাঁচ বছরের ছেলে টি অপু তার মায়ের হাত ধরে প্যান্ডেল দেখতে বেরিয়ে ছিল এই প্রথমবার। তিমির গলির প্রতিটা মানুষ জানো আজ এই উৎসবের অংশীদার ।
রোমা শান্ত কে ডেকে বলেছিল, বাবা তোমরা শুধু এই গলিটাকে আলো দিয়ে সাজাওনি আমাদের মন টাকেও আলোয় আলোকিত করে দিয়েছো । এই বলে সে শান্ত কে আশীর্বাদ করলো।
শান্ত হেসে বলেছিল , মাসিমা আলোর উৎস শুধু বাইরে থাকেনা । কখনও কখনও চেষ্টা করলে নিজেদের মধ্যেও আলো জ্বালানো যায়।🌿🌿