Rupak Gupta

Rupak Gupta Graphics designer | Politician

https://www.facebook.com/share/1AydHSziSD/
07/08/2026

https://www.facebook.com/share/1AydHSziSD/

আমরা সকলেই বর্তমান সময়ে কলকাতায় অবস্থিত পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সি. আই. ডি. ডিপার্টমেন্টের অন্যতম হেডকোয়ার্টার ভবানী ভবনের নাম জানি। কিন্তু কার নামে নামাঙ্কিত হয়েছে এই হেডকোয়ার্টার.. জানেন..? কি ছিল স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর অবদান..? আজ সেই মহান বিপ্লবীর কথাই বলবো..🔴🌻

🇮🇳 #স্বাধীনতার_গল্প পর্ব ~ ৫ 🇮🇳

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে সুভাষচন্দ্র বসু কর্তৃক গঠিত বি. ডি. বা বেঙ্গল ভলেন্টিয়ার্সের কথা বলে শেষ করা যায় না। ১৯২৮ সালে কলকাতা কংগ্রেস অধিবেশনকে সামনে রেখে তৎকালীন কংগ্রেস নেতৃত্ব সুভাষচন্দ্র বসুকে জি. ও. সি. ঘোষনা করে যে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন তৈরি করে, পরবর্তীকালে সেই সংগঠনই হয়ে ওঠে দুর্ধর্ষ বিপ্লবী সংগঠন বেঙ্গল। ভলেন্টিয়ার্স। তাবড় তাবড় বিপ্লবী নেতাদের নেতৃত্বে এবং ক্ষুরধার পরিকল্পনায় ব্রিটিশ সরকারের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছিলো বি.ভি.-র বিপ্লবীরা। বিনয়-বাদল-দীনেশ, যতীন দাস, উপেন্দ্রকিশোর রক্ষিত রায়, হেমচন্দ্র ঘোষ থেকে শুরু করে বি.ভি.-র বিপ্লবীদের কথা বলে শেষ করা যায় না। এই বি. ভি-র ই একজন অকুতোভয়, তরুণ বিপ্লবী ছিলেন শহীদ ভবানী প্রসাদ ভট্টাচার্য (ডাকনাম টুনা); যাঁর নামে আজকের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সি. আই. ডি. বিভাগের হেডকোয়ার্টারের নাম নামাঙ্কিত হয়েছে ❝ ভবানী ভবন ❞..🩷🇮🇳

ভবানীপ্রসাদের জন্ম হয় ১৯১৪ সালের ১০ই জুন, বরিশাল জেলার বাঁদরি গ্রামে। পিতার নাম বসন্ত ভট্টাচার্য। মাতা দময়ন্তী দেবী। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন সাহসী, প্রতিবাদী, অথচ ভদ্র ও শান্ত স্বভাবের। রীতিমতো শরীর চর্চা করতেন। গ্রামের কারো কোনো বিপদ হলেই এগিয়ে আসতেন ভবানী। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য তাঁর পিসতুতো ভাই ছিলেন। ভাওয়ালের রাজা রমেন্দ্রনারায়ণ রায় (সন্ন্যাসী রাজা)। তরুণ বয়সে সুভাষচন্দ্র বসুর অনুপ্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি বেঙ্গল ভলেন্টিয়ার্সে যোগদান করেন। ভারতে তখন ব্রিটিশ অত্যাচার চরমে উঠেছে। তবে বিপ্লবীরাও চুপ করে বসে ছিলেন না ❝মারের বদলা পাল্টা মার❞ নীতি নিয়ে তাঁরাও ব্রিটিশ শাসনের ভীত কাঁপিয়ে দিতে লাগলেন।

মাস্টারদার নেতৃত্বে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন ছিল ব্রিটিশদের উপর এক চরম আঘাত। মাস্টারদা এবং তারকেশ্বর দস্তিদারের ফাঁসি হয় ১২ই জানুয়ারি ১৯৩৪ সালে। ব্রিটিশ ভেবেছিল পীড়ন চালিয়ে আর বিপ্লবীদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে বাংলার বিপ্লবীদের দমন করা যাবে। কিন্তু তাদের এই নীতিকে অগ্রাহ্য করে বাংলার বিপ্লবীরা একের পর এক আঘাত হেনে যেতে লাগলেন। ফাঁসির মঞ্চ ও দড়ি চুম্বন করে দেশমাতৃকার জন্য হাসিমুখে শহীদ হয়ে এই দামালরাই ব্রিটিশ শাসনকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। বিভিন্ন সরকারি নথি থেকে জানা যায় কেবলমাত্র বাংলাতেই ৪১ জনকে ফাঁসিতে ঝুলানো হয়। তবে ব্রিটিশ বুঝতে পেরেছিল বাংলার বিপ্লবীদের রক্তে সর্বনাশের নেশা লেগেছে। ❝তোমায় মেরে আমি মরব ❞। এদের দমন করা সহজ নয়..🔥

ব্রিটিশ অফিসার জন এন্ডারসন অ্যায়ারল্যান্ডে থাকাকালীন সেখানকার বিপ্লবীদের উপর অকথা দমন-পীড়ন চালানোর জন্য কুখ্যাত হয়েছিল। বাংলায় বাড়তে থাকা বৈপ্লবিক কার্যকলাপে ভীত এবং সন্ত্রস্ত ব্রিটিশ সরকার বাধ্য হয়ে বাংলার দায়িত্ব তুলে দেয় এই এন্ডারসনেরই হাতে। অ্যায়ারল্যান্ডের মতো বাংলাদেশে এসেও এন্ডারসন একই রকম দমন-পীড়ন নীতি চালু করে। এই একই সময় বি. ভি.-র অন্যতম নেতা যতীশ গুহ ব্রিটিশ কারাগার থেকে মুক্তি পান। মুক্তি পাওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই অত্যাচারী অ্যান্ডারসনকে চিরকালের মতো পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য চার জন তরুণ বিপ্লবী সাথে তিনি একটি গোপন বৈঠক করেন । এই চারজন বিপ্লবীরা হলেন ভবানী প্রসাদ ভট্টাচার্য, রবিরঞ্জন ব্যানার্জি, মনোরঞ্জন ব্যানার্জি এবং উজ্জ্বল মজুমদার। এই চারজনকে একটাই নির্দেশ দেওয়া হয় — ❝ অত্যাচারী অ্যান্ডারসনকে উপযুক্ত শিক্ষা দিতে হবে তোমাদের..।❞🔴

পরিকল্পনা মতো চারজন এসে উপস্থিত হলেন দার্জিলিং-এ এন্ডারসনের তখন দার্জিলিং-এর লেবং-এর রেসকোর্সের এক অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা ছিল। দিনটা ছিল ৮ই মে ১৯৩৪। পূর্ব পরিকল্পনা মতো ওই চারজন বিপ্লবী সাহেবী পোষাকে সজ্জিত। হয়ে, দুটি দলে বিভক্ত হয়। টিকিট কেটে সাধারণ দর্শকের আসনে বসলেন তাঁরা। সাথে নিলেন একটা হারমোনিয়াম। কারণ ওই হারমোনিয়ামের মধ্যেই ছিল পিস্তল। এন্ডারসনকে ঘিরে রেখেছে পুলিশ ও মিলিটারি; একটা মাছি গলবারও জো নেই। ভবানীপ্রসাদ, রবিরঞ্জনকে বললেন — ❝যে ভাবে অ্যান্ডারসনকে পুলিশ, মিলিটারি ঘিরে রেখেছে একবারই গুলি করার সুযোগ পাবো। প্রথমে আমি গুলি চালাচ্ছি, তুই অন্য দিক থেকে গুলি কর।❞

ভবানীর গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হল। এন্ডারসন তার মহিলা স্টেনোগ্রাফারের পেছনে লুকিয়ে পরলো। ফলস্বরূপ গুলিবিদ্ধ হলেন সেই মহিলা স্টোনোগ্রাফার। এদিকে এন্ডারসনের দেহরক্ষী বাহিনীর গুলির আঘাতে আহত হলেন ভবানীপ্রসাদ। আহত ভবানীপ্রসাদ এবং রবিরঞ্জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। সেই সাথে ধরা পড়লেন অন্য দু'জন বিপ্লবী মনোরঞ্জন ব্যানার্জি এবং উজ্জ্বল মজুমদারও। বিচারের দুটি ধারায় ভবানীপ্রসাদ এবং রবিরঞ্জনকে মৃত্যুদণ্ড দিল আদালত। মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হল মনোরঞ্জনকেও। তবে উজ্জলকে যাবজ্জীবন দেওয়া হয়। পরে আদালত রবিরঞ্জন এবং মনোরঞ্জনের মৃত্যুদণ্ড তুলে নিয়ে তাঁদেরও যাবজ্জীবন দেয় । ভবানীপ্রসাদকে ব্রিটিশ সরকার বলেছিল — ❝ তুমি যদি ভুল স্বীকার করো, তবে তোমার মৃত্যুদণ্ড না হয়ে কম শাস্তি হবে।❞

উত্তরে এই অকুতোভয়, তরুণ বিপ্লবী বলেন — ❝সুযোগ পেলে ভারতমাতার সম্মান লুন্ঠনকারী, অত্যাচারী এন্ডারসনকে গুলি করে মারব।❞💥🔴

এরপর ১৯৩৫ সালের ৩রা ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার কেন্দ্রীয় কারাগারে 'বন্দেমাতরম্' ধ্বনী দিয়ে হাসিমুখে ফাঁসির মঞ্চে জীবনের জয়গান গেয়ে শহীদ হলেন ভারত মাতার এই বীর সন্তান। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের হাতে তাঁর দেহ জেল কর্তৃপক্ষ তুলে দিতে চাইলে ভবানীপ্রসাদের মা দময়ন্তী দেবী ব্রিটিশকে বলেছিলেন — ❝ ভবানী প্রসাদ শুধু আমারই সন্তান নয়, ভারত মাতার সন্তান। কাজেই ভবানী প্রসাদকে আমার হাতে ফেরত দিতে হবে না। ভারতবাসীই তাঁর সৎকার করবে...।❞🇮🇳

শহীদ ভবানী প্রসাদ ভট্টাচার্যের আগে অত্যাচারী এন্ডারসনের নামে ভবানী ভবনের নাম ছিল ❝এন্ডারসন হাউস❞। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর শহীদের পরিবারের আবেদনে ১৯৬৯ সালে এর নাম পরিবর্তন করে ❝ভবানী ভবন❞ রাখা হয়। ভাবতে সত্যিই অবাক লাগে যাঁর নাম ভগৎ সিং, ক্ষুদিরাম বসু, মঙ্গল পান্ডের সাথে একসাথে উচ্চারিত হওয়ার কথা আজ তিনি স্মৃতির অন্তরালে। অনেকেই জানেনা ইতিহাস থেকে হারিয়ে যাওয়া এই শহীদের ইতিহাস..💛🌿

সংকলনে ✒️ অর্নব বন্দোপাধ্যায়

♦️তথ্যসূত্রঃ আমি সুভাষ বলছি (শ্রী শৈলেশ দে), শ্রী ভবানী প্রসাদ ভট্টাচার্যের আত্মীয় শ্রী ফাল্গুনী ঘোষাল মহাশয়ের প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী

🇮🇳 জয়হিন্দ 🇮🇳
✊ বন্দেমাতরম ✊

© এক যে ছিলো নেতা

| ে_ছিলো_নেতা |

#স্বাধীনতা_আন্দোলনের_অচেনা_নায়ক #স্বাধীনতা #বাংলা #বিপ্লবী

📌 ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে দাঁড়িয়ে ে_ছিলো_নেতা পেজে আসতে চলেছে স্বাধীনতার নেপথ্য নায়কদের ৩০টি নির্বাচিত সত্য গল্প যা হয়তো আপনাদের কাছে আজও অজানা। এমন আরো গল্প জানতে Like ও follow করতে ভুলবেন না..😊

সংগৃহীত তথ্য যাচাই করা নয়।https://www.facebook.com/share/p/1GqwyTE8KV/
02/08/2026

সংগৃহীত
তথ্য যাচাই করা নয়।
https://www.facebook.com/share/p/1GqwyTE8KV/

সেকালের সুতানুটি অঞ্চলে কোনো বড়ো রাস্তা ছিল না। কেবলমাত্র হালিশহর থেকে বড়িশা পর্যন্ত প্রসারিত একটি তীর্থযাত্রাপথ ছিল। এই পথেরই একটি অংশে পরবর্তীকালে চিৎপুর রোড (অধুনা রবীন্দ্র সরণি) নির্মিত হয়। চিৎপুর রোড শ্যামবাজারের পার্শ্ববর্তী বাগবাজার ও চিৎপুর অঞ্চলের উপর দিয়ে প্রসারিত ছিল। ঊনবিংশ শতাব্দীতে রাস্তাঘাট নির্মাণ শুরু হওয়ার পর থেকেই শ্যামবাজার অঞ্চলের সমৃদ্ধি ঘটতে শুরু করে। লটারি কমিশন (১৮১৭) ও পরবর্তীকালে লটারি কমিটি (১৮৩৬) সালে পুরনো কলকাতার দেশীয়-অধ্যুষিত অঞ্চলগুলির রাস্তাঘাট নির্মাণের দায়িত্ব পায়। চৌরঙ্গী-চিৎপুর রাস্তাটির সমান্তরালে কলকাতার উত্তর থেকে দক্ষিণে প্রসারিত প্রধান রাস্তাটি এই সময়ই নির্মিত হয়।

১৭৪২ সালে মারাঠা দস্যুদের সম্ভাব্য কলকাতা আক্রমণ প্রতিহত করার লক্ষ্যে তিন মাইল দীর্ঘ মারাঠা খাত খনন করা হয়। কিন্তু মারাঠারা কলকাতা আক্রমণ করেনি। ১৭৯৯ সালে এই খাতটি বুজিয়ে সার্কুলার রোড নির্মিত হয়। এই রাস্তাটি শ্যামবাজার থেকে ময়দান পর্যন্ত প্রসারিত ছিল। ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে এটিকে পাকা রাস্তায় উত্তীর্ণ করা হয়। একই সময় লটারি কমিটি উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার সংযোগরক্ষাকারী আরও কতকগুলি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা নির্মাণ করে। এগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য: উড স্ট্রিট (যার একটি অংশ বর্তমানে ড. মার্টিন লুথার কিং সরণি নামে পরিচিত), ওয়েলেসলি স্ট্রিট (বর্তমান নাম রফি আহমেদ কিদোয়াই স্ট্রিট), ওয়েলিংটন স্ট্রিট (বর্তমান নাম নির্মল চন্দ্র স্ট্রিট), কলেজ স্ট্রিট ও কর্নওয়ালিস স্ট্রিট (বর্তমান নাম বিধান সরণি)। ব্যারাকপুর পর্যন্ত একটি নতুন রাস্তা (যা বর্তমানে ব্যারাকপুর ট্রাঙ্ক রোড বা বিটি রোড ও বিধান সরণির কিয়দাংশ) ও আর. জি. কর রোডও এই সময়েই নির্মিত হয়েছিল। ১৯১১ সালে ক্যালকাটা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট সেন্ট্রাল অ্যাভেনিউ-এর একটি প্রসারিত অংশকে (যার শ্যামবাজারের দিকের অংশটির নাম ভূপেন বোস অ্যাভেনিউ) শ্যামবাজারের সঙ্গে যুক্ত করে। এইভাবে পাঁচটি রাস্তা একত্রিত হয়ে গড়ে ওঠে শ্যামবাজারের বিখ্যাত পাঁচমাথার মোড়; যা বর্তমানে কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত মোড়।

বরানগরের মানুষের আওয়াজ বিধানসভায় পৌঁছে দিতে কাস্তে হাতুড়ি তারা চিহ্নে ভোট দিয়ে বিপুল ভোটে জয়ী করুন।
16/03/2026

বরানগরের মানুষের আওয়াজ বিধানসভায় পৌঁছে দিতে
কাস্তে হাতুড়ি তারা চিহ্নে ভোট দিয়ে বিপুল ভোটে জয়ী করুন।

15/03/2026

২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন
২ দফায় নির্বাচন
প্রথম দফা ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
দ্বিতীয় দফা ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
৪ মে ২০২৬ গণনা।

31/12/2025
Angel Chakma was a 24-year-old MBA student from Tripura, India, who tragically died in December 2025 following a brutal ...
30/12/2025

Angel Chakma was a 24-year-old MBA student from Tripura, India, who tragically died in December 2025 following a brutal racial attack in Dehradun, Uttarakhand.His father is a BSF jawan (border security force soldier).

WE WANT JUSTICE. STOP RECISIM.

দিল্লি দূষণ - আরাবল্লী - মোঘলাই খানা======================2022 এর আগষ্ট মাসে আমেরিকন সংস্থা Health Effects Institute পৃথ...
24/12/2025

দিল্লি দূষণ - আরাবল্লী - মোঘলাই খানা
======================
2022 এর আগষ্ট মাসে আমেরিকন সংস্থা Health Effects Institute পৃথিবীর 7000 শহরে বায়ু দুষণ নিয়ে একটি সমীক্ষা করে । সেই সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী দিল্লী পৃথিবীর সবথেকে ক্ষতিকারক শহর হিসাবে চিহ্নিত হয় । 2019 এর 25 নভেম্বর দেশের সর্বোচ্চ আদালত দিল্লীর বায়ু দূষণ প্রসঙ্গে মন্তব্য করে, "দিল্লীর অবস্থা নরকের থেকেও খারাপ ।" আরোও কঠিন ভাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, "এর থেকে বিস্ফোরক এনে সবাইকে মেরে ফেলা ভালো । '
2018 সালের অক্টোবরে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূ বিজ্ঞান মন্ত্রক একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করে জানায়, যে দিল্লীর দূষণের 41% ঘটে যানবাহনের ধোঁয়ার কারণে । 21. 5% ঘটে ধূলোর কারণে আর 18% ঘটে শিল্পজনিত দূষণের কারণে । দিল্লীর বায়ু গুণমান সূচক, Air Quality Index সাধারণতঃ থাকে 51 থেকে 100 র মধ্যে । অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারির এই সূচক বেড়ে 400 - 500 হয়ে যায় । এর কারণ প্রধানতঃ বিজয়া দশমীর সময় কুশপুত্তলিকা পোড়ানো, দীপাবলির সময় আতশবাজি ফাটানো, জাতীয় রাজধানী অঞ্চলে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ধোঁয়া নিঃসরণ, দিল্লী লাগোয়া কৃষি অঞ্চলে খড় পোড়ানো, রাস্তার ধুলো, যানবাহন দূষণ ও ঠান্ডা আবহাওয়া এবং রাজস্থানের থর মরুভূমির বালিকণা মিশ্রিত শুষ্ক হাওয়া ।
2019 সালের সেপ্টেম্বরে নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত United Nations Convention to Combat Desertification (UNCCD) এর Conference of Parties (COP14) এর সম্মেলনে দিল্লীর মানুষকে বাঁচাতে পরিবেশবিদরা চীনের 'The Great Green Wall' এবং আফ্রিকার "The Great Wall of Sahara'-র অনুকরণে " The Green Wall" এর প্রস্তাব দেন ।
2005 সালে African Union এর উদ্যোগে সাহারা মরুভূমির গ্রাস থেকে আফ্রিকা মহাদেশকে রক্ষা করতে সাহারা মরুভূমি বরাবর 7775 কিলোমিটার লম্বা 15 কিলোমিটার চওড়া এলাকা জুড়ে গাছের দেওয়াল তৈরী হওয়া শুরু হয় । এটিই “The Great Wall of Sahara” নামে পরিচিত।
চীনে গোবি ও টাকলামাকান মরুভূমির ছড়িয়ে পড়া আটকাতে 4428 কিলোমিটার লম্বা এবং 1448 কিলোমিটার চওড়া অঞ্চল জুড়ে বৃক্ষরোপনের মধ্য দিয়ে 'The Great Green Wall' নামে কৃত্রিম জঙ্গল তৈরীর কাজ শুরু হয় । এটি বর্তমানে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ কৃত্রিম জঙ্গল হিসাবে চিহ্নিত । 2020 সালে BBC-র একটি রিপোর্ট অনুযায়ী এই জঙ্গল চীনের কার্বন নিঃসরণ অনেকাংশেই কমাতে সাহায্য করেছে।
ভারতে পরিবেশবিদদের প্রস্তাব অনুযায়ী “The Green Wall" হল গুজরাটের পোরবন্দর থেকে হরিয়ানার কুরুক্ষেত্র পর্যন্ত আরাবল্লী রেঞ্জ বরাবর 1600 কিলোমিটার লম্বা 5 কিলোমিটার চওড়া গাছের দেওয়াল, যা প্রাকৃতিক ভাবে দিল্লীসহ উত্তর ভারতের গাঙ্গেয় অঞ্চলকে পরিবেশগত ভাবে রক্ষা করবে এবং দূষণকে সহ্যের মধ্যে নিয়ে আসতে সাহায্য করবে । এর মধ্যে 670 কিলোমিটার ব্যাপী আরাবল্লী এবং বাকিটা শিবালিক রেঞ্জের মধ্যে পড়ে । কেন্দ্র সরকার 1400 কিলোমিটার পর্যন্ত এই প্রস্তাবে সম্মতি জানায় । প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী "এক পেড় মা কে নাম" বলে গাছ লাগানোর আহ্বান জানায়।
আরাবল্লী রেঞ্জ দিল্লীর কাছাকাছি শুরু হয়ে রাজস্থানের মধ্য দিয়ে গুজরাটের আহমেদাবাদ পর্যন্ত বিস্তৃত । ভারতবর্ষের সবথেকে প্রাচীন এই ভঙ্গিল পর্বতমালা বেশ কয়েকটি নদীর উৎসভূমি, বহু প্রজাতির গাছ, পশুপাখির আবাসস্থল । অন্ততঃ 22 টি অভয়ারণ্য, বেশ কিছু জীব বৈচিত্র্য পার্ক, অসংখ্য জলাশয়, বেশ কিছু নদীর উৎসস্থল এই আরাবল্লী পর্বত শৃঙ্খলা । এর পাশাপাশি আরাবল্লী রেঞ্জ দিল্লীসহ উত্তর ভারতের গাঙ্গেয় অঞ্চলকে থর মরুভূমির প্রকোপ থেকে রক্ষাকারী ঢাল হিসাবে কাজ করে । রক্ষা করে পরিবেশকে । আরব সাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্পকে আটকে রাজস্থানে বৃষ্টিপাত ঘটায় এবং তার পূর্ব দিকে যাওয়া আটকে হিমালয়ের দিকে ঠেলে দেয় ।
কয়েক দশক থেকেই অবৈধ খনি, পাথর খাদান, অপরিকল্পিত শহরায়ন, নির্বিচারে গাছ কাটা, দুটি পাহাড়ের খাঁজে আবর্জনা স্তুপীকরণের মধ্যে দিয়ে আরাবল্লী পর্বতশৃঙ্খলা প্রভূত ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
2021 সালে আদলত রায় দেয় যে, আদালতের অনুমতি ছাড়া আরাবল্লী রেঞ্জ অঞ্চলে কোনোও খনি চালানো যাবে না । কিন্তু তা কার্যকর হয় না ।
আরাবল্লী রেঞ্জে অবৈধ খনি চলার বিরুদ্ধে 2024 সালে সুপ্রীম কোর্টে T N GODAVARMAN THIRUMALPAD কেন্র সরকারের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন । সুপ্রীম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে আরাবল্লী রেঞ্জে খনি চালানো সঠিক কিনা ? তা পরীক্ষা করতে বলে । তার সাথে এও বলে যে বিভিন্ন রাজ্যে আরাবল্লী পর্বত শৃঙ্খলার বিভিন্ন সংজ্ঞার সুযোগে আইনের আড়ালে পাথর খাদান, অবৈধ খনি পরিচালিত হচ্ছে । আদালত কেন্দ্রীয় সরকারকে একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি গড়ে তাদেরকে সব রাজ্যের জন্য আরাবল্লীর একটি সাধারণ সংজ্ঞা নিরুপণ করার নির্দেশ দেয় । 2025 সালের 3 অক্টোবর কমিটি কেন্দ্রীয় সরকারের ‘পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে’র মাধ্যমে তাদের রিপোর্ট আদালতে জমা দেয় ।
সেই রিপোর্টে তারা আরাবল্লী পাহাড় (Aravalli Hill) এবং পর্বত শৃঙ্খলার (Aravalli Range) সংজ্ঞা নিরুপণ করে জানায়, আরাবল্লীর যে কোনোও পাহাড়ের ক্ষেত্রেই পাহাড় শুরুর জায়গা থেকে চূড়া পর্যন্ত 100 মিটারের উচ্চতা সম্পন্ন কোনোও পাহাড়কেই পাহাড় হিসাবে চিহ্নিত করা যাবে এবং 100 মিটার বা তার বেশী উচ্চতাসম্পন্ন দুটি পাহাড় যদি 500 মিটার বা তার কম দূরত্বে অবস্থান করে তবেই তাকে পর্বত শৃঙ্খলা হিসাবে ধরা হবে ।
বিষয়টা আপাত ভাবে সরল । কিন্তু একটু তলিয়ে দেখলে এর ভেতরের খেলাটা বেরিয়ে আসবে । প্রথমত পাহাড়ের উচ্চতা পরিমাপ হয় সমুদ্র পৃষ্ঠ (Sea Level) থেকে । এক্ষেত্রে তা হয়নি । Forest Survey of India-র তথ্য অনুযায়ী আরাবল্লী পর্বতমালার মোট পাহাড়ের সংখ্যা 12081 এবং এর মধ্যে মাত্র 1048 টি অর্থাৎ 8.7 % পাহাড়ের উচ্চতা 100 মিটার বা তার বেশী । অর্থাৎ 11,033 টি (প্রায় 91. 3 শতাংশ পাহাড়) নতুন সংজ্ঞা অনুযায়ী আর পাহাড় হিসাবে গণ্য হবে না । অর্থাৎ প্রথমে 100 মিটারের কম উচ্চতা সম্পন্ন পাহাড়গুলি ধ্বংস হবে তার পর 500 মিটারের গেরোয় পড়ে বাকি 8.7 শতাংশ 100 মিটারের থেকে উঁচু পাহাড়গুলিও ধ্বংস হবে ।
কেন এমন সংজ্ঞার সূত্রায়ন ? ধান্ধার ধনতন্ত্রের (Crony Capitalism) যুগে পুঁজিবাদীরা সরকারের মধ্যে নিজেদের বন্ধু খুঁজে নেয় । ভারতবর্ষে বর্তমানে সরকারগুলিই পরিচালিত হচ্ছে ধান্দার ধনতন্ত্রী (Crony Capitalist) কর্পোরেটদের নিয়ন্ত্রণে । তাদের দরকার মুনাফা - আরো মুনাফা । তার জন্য জল, জঙ্গল, নদী, পাহাড় সব কিছুকেই গ্রাস করতে বিন্দু মাত্র দ্বিধা করে না ।
দস্তা, তামা, সীসা, (সোনা, টাংস্টেনের থাকার সম্ভাবনাও আছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে) প্রভৃতি খনিজ এবং মার্বেল (বিশেষ করে গোলাপী রঙের কোয়ার্টজ), চুনাপাথর, গ্রানাইট, বেলেপাথর, জিপসাম, সাবানপাথর, সিলিকা বালি, মাইকা, শিলা ফসফেট, পাইরোফাইলাইট, অ্যাসবেস্টস, কায়ানাইট, বেরিল ইত্যাদি প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর আরাবল্লী রেঞ্জ এখন তাদের লক্ষ্য । সেই লক্ষ্যকে পূরণ করার উদ্দেশ্যেই "মাকে নাম এক পেড়" শ্লোগান ভূলে আরাবল্লীর নতুন সংজ্ঞায়ন । তাতে দিল্লীসহ গাঙ্গেয় উপত্যকার পরিবেশ ধ্বংস হলেই বা ক্ষতি কি ? আর সফল হলে পড়ে রইল দেশের অন্য অঞ্চল, ভবিষ্যতের মুনাফার জন্য । আন্দামান নিকোবর অপেক্ষা করছে লাইনে |
তবে দিল্লীর সরকার বসে নেই । দিল্লীর দূষণকে কমানোর জন্য তাদের পদক্ষেপ জারি আছে । ‘দিল্লি পলিউশন কনট্রোল কমিটি’ দূষণের মূল কারণ খুঁজে বের করেছে । তাদের হিসাবে দিল্লির মূল কারণ হল মোঘলাই ও তন্দুর খানা তৈরীর জন্য ব্যবহৃত কয়লার আগুন থেকে তৈরী হওয়া ধোঁয়া । আদেশ জারি হয়েছে অবিলম্বে কয়লার বদলে গ্যাস বা এয়ার ফ্রাইয়ারের ব্যবহার । অন্যথায় 5 হাজার টাকা থেকে 2 লক্ষ টাকা পর্যন্ত ফাইন ।
পুরানো দিল্লী প্রধানতঃ লাল কেল্লা, জামা মসজিদ সংলগ্ন এলাকা পৃথিবীর রসনাপ্রিয় মানুষের কাছে অত্যন্ত প্রিয় মোগলাই খাবার আর তন্দুর বা কাবাবের জন্য । কাবাব এবং তন্দুরের স্বাদ এবং গন্ধ আসে কাঠ-কয়লার আঁচে রান্না হওয়ার কারণে । কয়লার বদলে গ্যাস বা এয়ার ফ্রাইয়ারে তৈরী তন্দুর, কাবাব বা অন্যান্য খাবারে এই স্বাদ গন্ধ থাকবে না | ফলে চাহিদা কমবে | মার খাবে ব্যবসা | এই ব্যবসায় প্রধানত যুক্ত মুসলমান সম্প্রদায় এবং পাঞ্জাবিরা | দূষণের নামে আমিষকে আটকানোর নতুন পদ্ধতির উদ্ভব হল | ওই সম্প্রদায়ের ব্যবসায়ীদের আর্থিকভাবে আঘাত করাও সম্ভব হল | মেরুকরণও হল | দূষণ বিরোধী পদক্ষেপের প্রচারও হল |

বন্ধু তত্ত্বিক পারভেজ রহমান এর লেখা।
আজকের দিনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ টপিক।

21/12/2025

মতাদর্শ যার যার, দেশ সবার।

Address

Kolkata

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Rupak Gupta posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share