13/09/2026
*নন্দীগ্রাম মানে মেদিনীপুরের লড়াই, আর সেই লড়াইয়ের ছেলেটাই এবার কংগ্রেসের প্রার্থী*
আমরা মেদিনীপুরের লোক। আমরা বরাবর একটু অন্যরকম।
এই মাটি আপস করতে শেখায়নি। এই মাটি শিখিয়েছে ক্ষুদিরাম হতে, মাতঙ্গিনী হতে। ২০০৭ সালে যখন নন্দীগ্রামের মাঠে গুলির শব্দ, চারদিকে পুলিশের ব্যারিকেড, তখন গোটা বাংলা ভয় পেয়েছিল। কিন্তু এই মেদিনীপুরের ছেলেরাই বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিল।
আজ সবাই নন্দীগ্রামকে নিয়ে রাজনীতি করে। কেউ বলে আমি করেছি, কেউ বলে ও করেছে। কিন্তু আমরা যারা মাটিতে ছিলাম, তারা আসল সত্যিটা ভুলিনি।
সেদিন কলকাতা থেকে প্রথম যে মানুষটা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নন্দীগ্রামের ভেতরে ঢুকেছিলেন, তিনি ছিলেন প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি। দিল্লির মন্ত্রী। আর তাঁকে নিজের বাইকের পেছনে বসিয়ে, চেনা অলিগলি দিয়ে, মাঠের আল ধরে ঘুরিয়ে সবটা দেখিয়েছিল আমাদের সোনাচূড়ার ছেলে, তখনকার কংগ্রেসের পঞ্চায়েত মেম্বার - মিলন প্রধান।
হ্যাঁ, সেই মিলনদা। যে পরে ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে লাঠি খেয়েছে, মার খেয়েছে। তখন তো এত বড় বড় নেতাদের ছায়াও পড়েনি নন্দীগ্রামে।
আজ কংগ্রেস সেই মিলন প্রধানকেই নন্দীগ্রামের প্রার্থী করেছে। আর রেজিনগরে আবদুল্লাহিল কাফি।
সব থেকে বড় কথা, বাংলায় সবার আগে প্রার্থী ঘোষণা করেছে কংগ্রেস। তৃণমূল, বিজেপি এখনো প্রার্থী খুঁজছে, সিপিএম কাল ঘোষণা করেছে। আর কংগ্রেস প্রচার শুরু করে দিয়েছে। এটা শুধু প্রার্থী ঘোষণা নয়, এটা একটা বার্তা - কংগ্রেস এবার ২৯৪ আসনেই লড়তে তৈরি।
এই সাহসটা দেখানোর জন্য ধন্যবাদ জানাতেই হয় এআইসিসি সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে জি কে, রাহুল গান্ধী জি কে, বাংলার দায়িত্বে থাকা প্রকাশ যোশী জি কে আর আমাদের প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকারকে। ওঁরা বুঝেছেন মেদিনীপুরের মাটিকে সম্মান দিতে হয়।
আর এটা শুধু কাগজে কলমে ঘোষণা নয়। প্রকাশ যোশী জি আর শুভঙ্করদা নিজে নন্দীগ্রামে এসে কর্মীদের সঙ্গে বসেছেন, চা খেয়েছেন, কথা শুনেছেন। আর এখন ওখানেই পড়ে থেকে বুথের কাজ গোছাচ্ছেন শুভাশিস ভট্টাচার্য তাতা আর রণজিৎ মুখার্জি।
মেদিনীপুরের লোক হিসাবে একটা কথাই বলবো - এই ভোটে সরকার বদলাবে না ঠিকই, কিন্তু এই ভোট থেকেই আবার মেদিনীপুরের মাটি থেকে কংগ্রেসের ঘুরে দাঁড়ানোটা শুরু হবে।
নন্দীগ্রামের ছেলে নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়েছে। এর থেকে ভালো প্রার্থী আর কে হতে পারে?