01/05/2026
১৯শ শতকের শেষভাগে Industrial Revolution-এর সময় ইউরোপ ও আমেরিকায় শিল্পকারখানার ব্যাপক প্রসার ঘটে। কিন্তু তখন শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত কঠিন—দিনে ১২–১৬ ঘণ্টা কাজ করতে হতো, খুব কম মজুরি ও নিরাপত্তার অভাব।‼️
এর প্রতিবাদে এবং "৮ ঘণ্টা কাজ, ৮ ঘণ্টা বিশ্রাম ও ৮ ঘণ্টা বিনোদন"—এই দাবিতে শ্রমিকরা ঐক্যবদ্ধ হতে শুরু করেন।✊
🟩১ মে, ১৮৮৬: শ্রমিক সংগঠনগুলোর ডাকে আমেরিকার শিকাগোসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে প্রায় ৩ লক্ষ শ্রমিক ধর্মঘটের ডাক দেন।
🟩৩ মে, ১৮৮৬: শিকাগোর 'ম্যাককরমিক রিপিং মেশিন কোম্পানি'র সামনে শ্রমিক সমাবেশে পুলিশ অতর্কিত হামলা চালায় এবং গুলিবর্ষণে বেশ কয়েকজন শ্রমিক নিহত হন।
🟩৪ মে, ১৮৮৬: পুলিশের এই বর্বরতার প্রতিবাদে শিকাগোর হে মার্কেটে এক বিশাল প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। সভার শেষের দিকে অজ্ঞাত পরিচয় কেউ পুলিশের ওপর একটি বোমা নিক্ষেপ করলে পুলিশ শ্রমিকদের ওপর বেপরোয়া গুলি চালায়। এতে অনেক শ্রমিক এবং ৭ জন পুলিশ সদস্য নিহত হন।
এই ঘটনার পর শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়। ১৮৮৭ সালের ১১ নভেম্বর প্রহসনের বিচারের মাধ্যমে চারজন শ্রমিক নেতা—অগাস্ট স্পাইজ, আলবার্ট পারসনস, অ্যাডলফ ফিশার এবং জর্জ এনজেলকে ফাঁসি দেওয়া হয়। লুই লিং নামে একজন কারাবন্দি অবস্থায় আত্মহত্যা করেন।
ফাঁসির মঞ্চে ওঠার আগে অগাস্ট স্পাইজ বলেছিলেন:
"আজ আমাদের এই কণ্ঠরোধ করে তোমরা আমাদের স্তব্ধ করতে চাও। কিন্তু আসবে এমন এক দিন, যখন আমাদের এই নীরবতা তোমাদের আজকের এই চিৎকারের চেয়েও শক্তিশালী হবে।"
✅১৮৮৯ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত 'দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক' (Second International) শ্রমিক সম্মেলনে শিকাগোর শ্রমিকদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানাতে ১ মে-কে 'আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস' হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
✅১৮৯০ সাল থেকে সারাবিশ্বে দিনটি পালিত হতে শুরু করে। পরবর্তীতে প্রায় সব দেশই দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের দাবি মেনে নেয়।
মে দিবস শুধুমাত্র একটি দিবস নয়—এটি শ্রমিকদের দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ এবং অধিকার প্রতিষ্ঠার ইতিহাস বহন করে।
#মেদিবস