Fortnightly Banizzo Kotha

  • Home
  • Fortnightly Banizzo Kotha

Fortnightly Banizzo Kotha Banizzo Kotha is a Fortnightly Megazine about Banking & Insurance Sector. Editor:
S. M. Hossain

Su

07/10/2021
27/08/2015

বাংলাদেশ কৃষিভিত্তিক দেশ। শস্য চাষের সাথে পশু পালন দিন দিন আবশ্যিক হয়ে উঠছে। দেশে গরু, ছাগল, মহিষ, ভেড়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী লালন করা হয়। আর এরই অংশ হিসেবে প্রাণীজগতের অন্যতম নাম কুমির চাষ দেশে এখন ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এতদিন গার্মেন্টস শিল্প একচেটিয়া দখল করে ছিলো, এরপরে বিভিন্ন শিল্প ও কৃষিজ পণ্য, মৎস্যজাত ও ওষুধি দ্রব্য। কিন্তু এ ধারাবাহিকতার তালিকায় শ্রীঘ্রই ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে আসবে বাংলাদেশ ব্যবসায়িক ভিত্তিতে কুমির চাষ। মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই কয়েকগুণ মুনাফা আয় সম্ভব। ময়মনসিংহের ভালুকায় অবস্থিত “রেপটাইলস ফার্ম লি.” এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ। কয়েক বছর পরেই এ ছোট খামার থেকে বছরে প্রায় ১৫ কোটি টাকার চামড়া বিদেশে রপ্তানি সম্ভব।
ময়মনসিংহের মত কুমিরের এ রকম আরেকটি ফার্ম হচ্ছে আকিজ গ্রুপের আকিজ ওয়াইল্ড লাইফ ফার্ম লিমিটেড।নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদর থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে, ঘুমধুম ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা তুমব্রু গ্রামে এটি অবস্থিত। গ্রামটি মিয়ানমার সীমান্তের একেবারে কাছাকাছি। যেখানে কুমির দেখার পাশাপাশি পাহাড়চূড়া থেকে মিয়ানমারও দেখা যায়। কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের উখিয়া টিভি রিলে কেন্দ্রের সামনে দিয়ে গহিন অরণ্যের দিকে চলে যাওয়া আঁকাবাঁকা পথে গেলে কুমিরের এই বিচরণক্ষেত্র পরিদর্শন করা যায়।
৩০ একরের বেশি পাহাড় ঘিরে কুমিরের এই প্রজননকেন্দ্রটি স্থাপন করেছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আকিজ গ্রুপের আকিজ ওয়াইল্ড লাইফ ফার্ম লিমিটেড। ২০০৯ সালের মার্চে কুমির চাষের জন্য পাহাড়ের বিশাল অংশজুড়ে নির্মাণ করা হয় অবকাঠামো এবং বর্তমানে এর কার্যক্রম চলছে।
ব্যবসায়িকভাবে দেশে আগমন
ময়মনসিংহ শহরের অদূরে অবস্থিত ভালুকা একটি ছোট শহর। এর তীর ঘেঁষে মাত্র ১৫ একর জমির উপর গড়ে উঠেছে “রেপটাইলস ফার্ম লি.”। ২০০৪ সালে ডিসেম্বর মাসে মালয়েশিয়া থেকে ৭৫টি বয়স্ক কুমির নিয়ে মোস্তাক আহমেদ ও মেজবাউল হকের ব্যক্তিগত উদ্যোগে ও বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক সহযোগিতায় এই কুমির ফার্মের অগ্রযাত্রা শুরু হয়। এর মধ্যে ৭টি কুমির কিছু দিনের মধ্যে মারা যায় এবং বেঁচে থাকে ৬৯টি কুমির । এগুলোর মধ্যে ১৩টি পুরুষ ও ৫৪টি স্ত্রী কুমির। ২০০৪ সালে প্রথম প্রথম ৩টি বাচ্চা পাওয়া যায়। ২০০৭ সালে বাচ্চার সংখ্যা দাঁড়ায় ৪১টি। বর্তমানে এই সংখ্যা ১৩৯টি। তবে এ বছর ৪০০ বাচ্চা আশা করা হচ্ছে।
খাবার পদ্ধতি
বাচ্চাগুলো খুবই অনুভূতি প্রবণ, বদরাগী এবং অভিমানী। তাই মাত্র একজন ব্যক্তিকেই প্রতিদিন খাবার দিতে হয়। হঠাৎ ব্যক্তির পরিবর্তন হলে বাচ্চাগুলো খাবার খাওয়া বন্ধ করে দিবে এবং অনাহারে মারা যাবে। ছোট বাচ্চদের প্রতিদিন তাদের শরীরের ২০ ভাগ খাবর দিতে হয়। মুরগির মাংসকে কিমা করে বাচ্চাদের খাওযাতে হয়। বড় কুমিরদের সপ্তাহে একদিন ওজনের শতকরা ২০ ভাগ খাবার দিতে হয়। মাসের প্রথম ও দ্বিতীয় সপ্তাহে মুরগির মাংস, তৃতীয় সপ্তাহে গরুর মাংস এবং শেষ সপ্তাহে মাছ খাবার হিসেবে দিতে হয়।চাষ পদ্ধতি
প্রাথমিক খরচ কিছুটা বেশি হলেও সম্পূর্ণ নিরাপদে ও নিশ্চিন্ত পরিবেশে কুমির চাষ বাংলাদেশের আবহাওয়ার উপযোগী। কুমির চাষের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রজনন সময়ে কুমিরের প্রতি অধিক যত্মবান হওয়া যেন পুরুষ কুমিরের সাথে স্ত্রী কুমিরের প্রতিযোগিতা না হয়। একটি কুমির সর্বাধিক ৮০টি ডিম দেয় এবং বেশিরভাগ ডিম পাড়ে ঘাসে ও কাদাযুক্ত মাটিতে। ডিম ফুটার সাথে সাথেই তা সংগ্রহ করে ইনকিউবেটরে দেয়ার ব্যবস্থা করতে হয়। তবে এক্ষেত্রে আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পুরুষ কুমিরের উৎপাদন চামড়ার কদর বেশি তাই এক্ষেত্রে তাপমাত্রা বেশি দিয়ে পুরুষ কুমিরের চামড়ার কদর বেশি তাই এক্ষেত্রে তাপমাত্রা বেশি দিয়ে পুরুষ কুমিরের উৎপাদন বাড়ানো যায়। বাচ্চা কিছুদিন খুব যত্ম সহকারে ছোট পুকুরে রাখতে হবে। এ সময় খাবারের প্রতি ও ছত্রাক রোগের প্রতি যত্মশীল হতে হবে। কয়েক মাস বয়সের বাচ্চাদের পৃথক পৃথক পুকুরে স্থানান্তর করে নিয়মিত পরিচর্যা করলেই দুই বছরেই চামড়া সংগ্রহ করা যায়।
প্রজনন সময়
কুমির সাধারণত বর্ষাকালে প্রজননে মিলিত হয় এবং এর এক সপ্তাহের মধ্যে ডিম দেয়। একটি কুমির ২০-৮০ টি ডিম দেয়। তবে, ভালুকায় এখন পর্যন্ত গড় ডিম দেয়ার পরিমাণ ৬১ টি যা এ বছর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েচে ৯৪৪টি। ডিম ফুটে বাচ্চা বের হতে ৩২ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সময় লাগে ৮০ দিন। নিয়ন্ত্রিত আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা সম্পূর্ণভাবে থাকলে শতকরা ৮৫ ভাগ বাচ্চা বের হতে সময় বেশি লাগে। মজার বিষয় হলো, তাপমাত্রায় পার্থক্যের কারণে বাচ্চা পুরুষ বা স্ত্রী হতে পারে। তাপমাত্রা ৩১-৩২ ডিগ্রী সেলসিয়াস হলে পুরুষ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রী এর কম হলে স্ত্রী বাচ্চা বেশি পাওয়া যায়। কুমিরের জনগণের নাগালের বাইরে রাখতে হয়।
রোগ-বালাই
কুমিরের সাধারণত রোগবালাই হয় না বললেই চলে। ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা ভালো থাকলে সারা বছর বিনা চিকিৎসায় কুমিরকে সুস্থ রাখা সম্ভব। ছোট কুমিরের ছত্রাক জাতীয় রোগ বেশি হয়। তবে, এই দীর্ঘ ৫ বছরে এ ফার্মে এ ধরনের কোন রোগ দেখা যায়নি। প্রজনন মৌসুমে ও খাবার প্রতিযোগিতার সময় কুমির আহত হতে পারে। এছাড়াও খেয়াল রাখতে হবে যে, মানসিক ও শারীরিকভাবে ছাড়াও স্থানান্তর ও পরিবহনের সময় যাতে কুমিরের উপর কোন স্ট্রেস না পড়ে।
ব্যবসায়িক লাভ
১) ২০০৯ সালে কুমিরের চামড়া প্রথম বাংলাদেশ হতে রপ্তানি হয়। প্রথমদিকে রপ্তানির পরিমাণ কম হলেও ২০১২ সন নাগাদ এর পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ১২ কোটি টাকা।
২) বহির্বিশ্বে ২৫ ডলারে কুমিরের মাংস বিক্রি হয়।
৩) ১২ ডলার দামে বিক্রি হয় ১ বর্গ সে.মি চামড়া।
৪) কুমিরের চামড়া হতে বেল্ট ও লেডিস পার্টস তৈরি হয়।
৫) হাড় হতে পারফিউম তৈরি হয়।
৬) দাঁত হতে গহনা তৈরি হয়।
৭) পায়ের থাবা হতে চাবির রিং তৈরি হয়।
৮) কুমিরের মাংস বেশ সুস্বাদু ও পুষ্টিকর তাই দেশে ও বিদেশে চাহিদা প্রচুর।
চাষের এলাকা
বাংলাদেশের প্রায় সব জায়গাই কুমির চাষের উপযোগী। তবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জন্য কিছু লবণাক্ততা সহনশীল প্রজাতির কুমির রয়েছে। উত্তরবঙ্গের জন্য স্বাদু পানির কিছু কুমির পাওয়া যায়। তবে এই ফার্মে স্বাদু পানির কুমির চাষ করা হয।
বিশেষ সুবিধা
অন্যান্য কয়েক সেক্টরের বিভিন্ন ভাইরাল রোগের চরম আতঙ্ক থাকলেও এই সেক্টরে তা একেবারেই নেই। তাই অপার সম্ভাবনার এই শিল্পকে বাংলাদেশে জোরদার করে এবং চামড়া প্রক্রিয়াজাত করলে পোলট্রি ও গার্মেন্টস সেক্টরের মতো এই সেক্টর হতেও ব্যবসায়িকভাবে হাজার হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। তবে সরকারি ও বেসরকারি আর্থিক সহযোগিতা একান্ত কাম্য।
উল্লেখ্য, এ ফার্মে যে ইনকিউবেটর ব্যবহার হয়, তা বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক। ব্যবস্থাপনা ও পরিচর্যা খুব নিখুঁত হওয়ায় এখন পর্যন্ত তেমন রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটেনি। শীঘ্রই রেপটাইলস ফার্ম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে ও দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

17/01/2015

বাংলাদেশে রাজনৈতিক
সংঘাত বৃদ্ধির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ
জানিয়েছে জাতিসংঘের
মানবাধিকার-বিষয়ক হাইকমিশন।
সংস্থাটি সব রাজনৈতিক
দলকে এখনই সংঘাত বন্ধ করার আহ্বান
জানিয়ে বলেছে, এরই
মধ্যে সংঘাতে অনেক হতাহতের
ঘটনা ঘটেছে এবং তা আরও
বাড়তে পারে বলে তারা শঙ্কিত,
যেমনটা দেখা গিয়েছিল গত
নির্বাচনের আগে।
গত বৃহস্পতিবার এক
বিবৃতিতে জাতিসংঘের
মানবাধিকার-বিষয়ক হাইকমিশনের
কার্যালয়ের মুখপাত্র
রাভিনা শামদাসানি বলেন, ৫
জানুয়ারির নির্বাচনের
বর্ষপূর্তিতে বিএনপি দেশজুড়ে অবর
ডাক দেওয়ার পর থেকে চলমান
সংঘাতের শুরু। দলটির চেয়ারপারসন
ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের প্রতিবাদ
কর্মসূচিতে যোগ দিতে বাধা দেয়
সরকার। এরপর থেকে সহিংসতায় এক
ডজনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
বিরোধী দলের অনেক বড়
নেতাকে আটক করা হয়েছে।
একের পর এক যানবাহনে হামলার
ঘটনাকে বিশেষভাবে উদ্বেগজনক
উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, গত
মঙ্গলবার
একটি যাত্রিবাহী বাসে দেওয়া
(পরে হাসপাতালে একজন
মারা যাওয়ায় সংখ্যাটি এখন পাঁচ)
মৃত্যু হয়েছে। একই দিন বিএনপির এক
জ্যেষ্ঠ নেতা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন
এবং তাঁর গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।
পরদিন গাজীপুরের
কালিয়াকৈরে বাসে দেওয়া আগুন
একজন।
এই পরিস্থিতিতে সংযম প্রদর্শন
এবং এখনই সংঘাত বন্ধের উদ্যোগ
নিতে সব রাজনৈতিক দলের
প্রতি আহ্বান জানায়
জাতিসংঘের সংস্থাটি। একই
সঙ্গে হত্যার ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ
তদন্ত করতে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান
জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়,
বিরোধী নেতাদের
যে উদ্দেশ্যমূলকভাবে গ্রেপ্তার
করা হচ্ছে না,
সেটা সরকারকে নিশ্চিত
করতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে
পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তা-ও
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের
সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। এ
ছাড়া শান্তিপূর্ণ সমাবেশ, চলাচল ও
বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত
করতে হবে।
এক দিন আগে বুধবার ঢাকায় নিযুক্ত
বিদেশি কূটনীতিকেরাও চলমান
রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উদ্বেগ
জানিয়েছিলেন। একই
সঙ্গে বিএনপির চেয়ারপারসনের
উপদেষ্টা ও সাবেক পররাষ্ট্র
প্রতিমন্ত্রী রিয়াজ রহমানকে গুলির
ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও
নিন্দা জানিয়েছিল মার্কিন
পররাষ্ট্র দপ্তর, যুক্তরাজ্য হাইকমিশন ও
ইইউ দূতাবাস। পৃথক
বিবৃতিতে তারা এই হামলায় জড়িত
ব্যক্তিদের যথাযথ তদন্তের
মাধ্যমে বিচারের আওতায়
আনতে সরকারকে অনুরোধ
জানিয়েছে।
ইইউ রাষ্ট্রদূত রাজনৈতিক ক্ষেত্র
‘সংকুচিত’ হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ
করে সহিংসতা রোধের তাগিদ
দেন। তাঁর মতে, শান্তি ও
স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার
পদক্ষেপগুলো মানুষের সমাবেশ,
চলাচল ও বক্তব্যের অধিকার হরণের
বিনিময়ে হওয়া উচিত নয়।

17/01/2015

আওয়ামী লীগের
নেতারা যে ভাষায়
কথা বলছেন
তাতে পুলিশ
এবং র্যাবের
মাধ্যমে শক্তি প্রয়োগ
করে বিরোধী দলের
আন্দোলন দমন
করতে চাইছে।
একটি সরকারের উপর
জনগণের সমর্থন
না থাকলে যা হয়।
কিন্তু আওয়ামী লীগের
বুঝা উচিত
শক্তি প্রয়োগ
করে কখনো রাজনৈতিক
সংকটের সমাধান
করা যায় না।

02/02/2013

হ্যালো টুডে ডট কম: পার্বত্য চট্টগ্রামের অনাবাদি পাহাড় - টিলায় অয়েল পামগাছ লাগানোর মাধ্যমে তরল সোনা উৎপাদনের সম্ভাবনা উকি দিচ্ছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো গেলে অদূর ভবিষ্যতে অয়ের পাম উৎপাদনে পার্বত্য চট্টগ্রাম হবে দ্বিতীয় মালয়েশিয়া। খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায় ইতিমধ্যে ব্যক্তি উ...

বীমা পেশা ও একান্ত ভাবনাবাবু অজিত চন্দ্র আইচজীবন বীমা কর্পোরেশনে একজন ফিল্ড অফিসার হিসেবে বীমা জগতে আমার কর্মজীবন শুরু ...
13/01/2013

বীমা পেশা ও একান্ত ভাবনা
বাবু অজিত চন্দ্র আইচ
জীবন বীমা কর্পোরেশনে একজন ফিল্ড অফিসার হিসেবে বীমা জগতে আমার কর্মজীবন শুরু হয়। অতএব জীবন বীমা কর্পোরেশন সম্পর্কে একটি ধারনা এখানে তুলে ধরতে চাই। একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে আর্জিত হলো আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ। মুক্ত স্বদেশ গড়তে হবে। বিধ্বস্থ বাংলাদেশকে পূণর্গঠন করতে হবে। পাকিস্তানীদের ফেলে যাওয়া কলকারখানা, ব্যাংক বঅমা প্রতিষ্ঠান গুলোকে আবার সচল করে জাতীয় অর্থনীতির গতিকে বেগবান করা প্রয়োজন। তৎকালীন সরকার ১৯৭২ সালে সকল বেসরকারী পরিত্যাক্ত বীমা কোম্পানীগুলোকে নিয়ে পাঁচটি কর্পোরেশন করার ঘোসণা দিল।
১৯৭২ সালের ৮ ই আগষ্ট রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বলে বীমা কোম্পানীগুলোকে জাতীয় করণ করে জাতীয় বীমা কর্পোরেশন, তিস্তা বীমা কর্পোরেশন, কর্ণফুলী বীমা কর্পোরেশন, সুরমা বীমা কর্পোরেশন ও রূপসা বীমা কর্পোরেশন-এ পাঁচটি কর্পোরেশন গঠন করে।
বীমা কার্যক্রমকে আরো সুগঠিত করার জন্য সরকার ১৯৭৩ সালের ১৪ মে পূর্বের পাচটি কর্পোরেশনকে বাতিল করে জীবন বীমা কর্পোরেশন ও সাধারণ বীমা কর্পোরেশন গঠন করে। এভাবেই গড়ে উঠলো জীবন বীমা জগতে একমাত্র সরকারী বীমা প্রতিষ্ঠান জীবন বীমা কর্পোরেশন। পাকিস্তান আমলে এখানে ৪৯টি বীমা কোম্পানী ছিল। জীবন বীমা কর্পোরেশন ৩৭টি জীবন বীমা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে তাদের অ্যাসেট ও লায়াবিলিটিস নিয়ে ১৯৭৩ সালের ১৪ই মে যাত্রা শুরু করে। ১৯৭৩ সালে জীবন বীমা কর্পোরেশনের লাইফফান্ড ছিল মাত্র ২১.৮৩ কোটি টাকা। ঐ সময়ে জেবিসির অ্যাসেট ও লায়াবিলিটিস (Assets & Liabilities) ছিল ১৫.৭০ কোটি টাকা।
সত্তরের দশক এবং আশির দশকে জীবন বীমা কর্পোরেশন একক ভাবেই জীবন বীমা ফিল্ডে কাজ চালিয়ে গেছে। যদিও এসময়ের আলিকো ছিল, পোষ্টাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান ছিল। ভারতে যেমন জীবন বীমা প্রতিষ্ঠান বলতে লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন বা এলআইসি কে (LIC) বলা হয় তেমনি বাংলাদেশেও জীবন বীমা প্রতিষ্ঠান বলতে এক সময় জেবিসিকেই বুঝানো হতো।
তাছাড়া সরকারি প্রতিষ্ঠান হওয়ায় জেবিসির একটি আলাদা গুরুত্ব ছিল। বীমা প্রতিষ্ঠান সরকারি হওয়ার মানুষের মধে সঞ্চয় করার প্রবনতা দেখা যায়। এ প্রতিষ্ঠান মানুষকে বীমা গ্রাহক হতে আগ্রহী করে তোলে।। ১৯৮৫ তে জেবিসিতে যোগদান কালেই আমার মনে হয়েছে বীমা বীমা একটা সম্ভাবনাময় পেশা। আমি নিশ্চিত হলাম, এ দেশে বীমার দ্রুত বিকাশ ঘটবে।
জীবন বীমা কর্পোরেশনে বিচিত্র অভিজ্ঞতা
সত্তর এবং আশির দশকে ব্যাপক জনগোষ্ঠির বীমা সম্পর্কে কোন ধারণা ছিল না। শিক্ষিত শ্রেণীর একটি অংশ সচেতন ছিল। তবে আলিকো আমেরিকান বা বিদেশী কোম্পানী হওয়ায় অনেকে জেবিসির চেয়ে আলিকোকে বেশী গুরুত্ব দিত। বিশেষ করে শিক্ষিত ব্যবসায়ীরা এবং চাকরিজীবিরা আলিকোকে বেশি প্রধান্য দিত। আলিকে তাদের কর্মকান্ডে একটি উচ্চমান বজায় রাখতো। তাদের অফিস ব্যবস্থাপনা, উন্নত প্রশিক্ষণ, পরিকল্পিত প্রোগ্রাম এবং সবকিছুতে একটা আধুনিকতার ছোয়া লক্ষ্য করা যেতো।
জীবন বীমার উপকারিতা ঃ
১. বীমার মাধ্যমে সঞ্চয় নিরাপদ ও লাভজনক।
২. জীবন বীমা প্রিমিয়াম আয় কর মুক্ত।
৩. বীমা মানুষকে হিসাবি হতে সাহায্য করে।
৪. পরিবারের জরুরী অবস্থা মোকাবেলায় জীবন বীমা সহায়ক।
৫. অকাল মৃত্যুতে অসহায় পরিবারের পাশে বীমার মৃত্যু দাবী বন্ধুর মতো ভূমিকা পালন করে।
যাহোক, জীবন বীমা কর্পোরেমনে পাঁচ মেশালী নানা রকমের স্কিম বা পরিকল্পের সাথে পরিচিত হলাম। মেয়াদী বীমা, তিন কিস্তি বীমা, পেনশন বীমা, শিশু বীমা, এসব নানা নামের বীমা পরিকল্পের সাথে পরিচিত হলাম। শিশু বীমাকেই আমরা ছেলেদের জন্য শিক্ষা বীমা এবং মেয়েদের জন্য বিবাহ বীমা হিসেবে চালিয়ে দিতাম।

এখানে বলে রাখা ভাল, জেবিসিতে ঐ সময়ে কোন ক্ষুদ্র বীমা ছিল না। আমরা একক বীমার কাজ করতাম। বীমা অংক ছিল বেশির ভাগ পলিসির ক্ষেত্রে ৩০,০০০ বা ৫০,০০০ টাকা। অনেকে দীর্ঘ মেয়াদী পলিসি করতো। বীমা অংক, মেয়াদ এবং বয়স আনুযায়ী বার্ষিক, ষাষ্মাষিক বা ত্রৈমাসিক প্রিমিয়াম নির্ধারণ হতো। এক্ষেত্রে তখনকার নিয়ম এবং এখনকার নিয়মের মধ্যে তেমন কোন পার্থক্য নেই। একক বীমার রেট চার্ট অতীতে এবং বর্তমানে প্রায় একই। একক বীমাতে তখন মাসিক কিস্তির কোন সুযোগ ছিল না। সাপ্তাহিক কিস্তির তো প্রশ্নই আসে না। প্রিমিয়াম সংগ্রহ হতো নগদে বা চেকের মাধ্যমে। পুরা প্রিমিয়াম অফিসে যথাযথভাবে জমা এবং পরীক্ষার পর কেন্দ্রীয় কার্য্যালয় বা আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে মাস শেষে কমিশন বাবদ প্রাপ্য টাকা পাওয়া যেতো। তখন নিয়ম ছিল, প্রিমিয়ামের টাকায় হাত দেয়া যাবে না। এক টাকাও প্রিমিয়াম থেকে খরচ করা যাবে না। জেবিসিতে এস,এস,সি পাশের নিচে কাউকে ফিল্ড অফিসার নিয়োগ করতে আমি দেখিনি। বি,এ এম,এ পাশ লোকেরা হরহামেশা বীমা পেশায় আসতো। সোজা কথা, তখনকার সময় ফিল্ড লেবেলে শিক্ষিত লোকেরা কাজ করত। আবার শিক্ষিত শ্রেণীর লোকেরা বীমা গ্রাহক হতো। ফলে ঐ সময় বীমা ফিল্ডে অনিয়ম, অনাচার তেমন ছিল না বললেই চলে।
পূর্বেই বলেছি, এটিএম জাফরউল্লাহ চৌধুরী আমার বীমার জীবনের শুরুতে শিক্ষাগুরু। তারই আহ্বানে এবং তার দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে আমি এ পেশায় আসি। ক্লাইন্ট খুঁজে বের করা শুরুতে বেশ কঠিন হলেও জাফর উল্লাহ স্যারের সর্বাত্মক সহযোগিতায় এবং তার কাছ থেকে কৌশল সমূহ রপ্ত করে আমি সফলতার দিকে এগিয়ে যাই। বীমা পেশায় কাজ শুরুর পর বুঝতে পারলাম, বীমা একটি স্বাধীন পেশা। এটা একটি সেবামূলক পেশা।
আসলে পেশা দু ধরনের। অকুপেশন (Occupation) এবং প্রফেশন (Profession)। অকুপেশন হলো নির্ধারিত কাজ এবং নির্ধারিত বেতন। অন্যদিকে প্রফেশন হলো Unlimited work, unlimited income এবং সেবা। প্রফেশনে সেবা নির্ধারিত আছে কিন্তু অকুপেমনে সেবা নির্ধারিত নেই। বেকারত্ব দূরীকরণ, মানুষকে সঞ্চয়মুখী করা, অর্থনীতিকে গতিশীল করা সব মিলিয়ে বীমা পেশাকে আমার পছন্দ হয়েছে। এটাকে শ্রেষ্ঠ পেশা মনে হয়েছে।

জীবন বীমার নানা সফলতা
আজকের তুলনায় ২৫ বছর আগে মানুষের মধ্যে বীমা সচেতনতা এত বেশি ছিল না। অনেক সামাজিক বাধা, অন্ধ বিশ্বাস এসব ছিল। একবার আমি জাফরউল্লাহ স্যার সহ একজনের কাছে বীমা করার জন্য যাই। তিনি সব কিছু শুনে বলে উঠলেন, বীমা একটি হারাম কাজ। আমার তখন কিছু বলা কঠিন হয়ে দাড়ালো। কিন্তু জাফরউল্লাহ স্যার পবিত্র কোরআনের আয়াত এবং ধর্মীয় মূল্যবান ব্যাখ্যা দিয়ে তাকে বুঝালেন। দুর্দিনে সঞ্চয়ের কথা ইসলাম ধর্মে আছে একথা তিনি সুন্দর ভাবে বুঝিয়ে বললেন। তিনি ধর্মীয় ভাবে বিষয়টি বুঝিয়ে বললেন, তখন ভদ্রলোক ইতিবাচক সনোভাব দেখালেন এবং সেখানে আমরা দশলক্ষ টাকা বীমা অংকের পলিসি করতে সমর্থ হলাম। আসলে চমৎকার বিক্রয় শৈলী, উপস্থাপনা কৌশল, বুদ্ধিমত্তা ইত্যাদি বিষয় বীমা পেমায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
এ পেশা ধৈর্যশীল পেশা। কিন্তু মানুষ সুদ মনে করে বীমা করেনা। ধর্মীয় ভাবে এদের বুঝিয়ে একটা চমৎকার আবহাওয়অ সৃষ্টি করে যে কোন নেতিবাচক পরিবেশ ইতিবাচক করা ইত্যাদির জন্য প্রচন্ড ধৈর্যের প্রয়োজন হয়। ১০০% নিগেটিভ মানুষকেও পজেটিভ করা যায়। জাফর উল্লাহ স্যারের থেকে আমি এটা শিখেছি।
যা হোক, জেবিসিতে ১৯৮৫ সালের মে মাসে কাজ শুরু করে প্রথম মাসেই বেশ ভাল সফলতা পেলাম। আমার বীমা কর্মজীবনে অর্থাৎ জীবনের প্রথম পলিসি হোল্ডার হচ্ছেন চট্টগ্রামের বারিক বিল্ডিং বাংলা বাজার এলাকায় এস.এম তাহের। তিন বার প্রোগ্রাম করার পর পাঁচ লক্ষ টাকা বীমাঅংক দিয়ে তার বীমাটি ক্লোজ করি। বার্ষিক প্রিমিয়াম হয় ৩০ হাজার টাকা এবং ১৮ বছর মেয়াদী।
আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষাগুরু জনাব এটিএম জাফর উল্লাহ চৌধুরী যিনি ঐ সময়ে ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার হিসেবে জেবিসিতে কর্মরত ছিলেন, তার অসাধারণ বিক্রয় শৈলী দেখে সে দিন আমি মুগ্ধ হয়েছিলাম। বলতে গেলে তার বিক্রয় শৈলী কৌশলের কারনে আমার জীবনে প্রথমেই পাঁচ লক্ষ টাকার একটি বীমা বিক্রি করতে সক্ষম হই। নিজে থেকে অযাচিতভাবে মানুষের কুশলাদি বিনিময় করাটা প্রথম দিকে অনভিজ্ঞতার কারণে আমি মুগ্ধ হতাম।
অচেনা মানুষকে ভালবেসে আপন করে নেয়া, তার সাথে মিশে একটা আত্মীয়তা সম্পর্ক গড়ে তোলা অর্থাৎ আন্তরিকতার হাত দশ দিকে প্রসার করতে পারলে বীমা পেশায় সফলতা অনিবার্য। শত্র“ হোক মিত্র হোক সবাইকে আপন করে নেয়ার কৌশল অর্জন করতে হবে। বিশ্বকবি রবীন্দ্র নাথ বলেছেন, সবারে বাসরে ভাল, নইলে মনের কালি ঘুচবে নারে।
পল্লীকবি জসীমউদ্দিন মানুষকে আপন করে নেওয়ার চন্য তার কবিতায় বলেছেন,
আমার এঘর ভাঙ্গিয়াছে যেবা
আমি বাঁধি তার ঘর
আপন করিতে খুঁজিয়া বেড়াই
যে মোরে করেছে পর।
জেবিসিতে ফিল্ড অফিসার হিসেবে প্রথম মাসেই সাত হাজার টাকা কমিশন পেলাম। পাঁচ লাখ টাকার বীমা ছাড়াও আরও দু তিনটি বীমা বিক্র করেছিলাম। আমি তো আনন্দে আত্মহারা। এত টাকা কমিশন। তাও আবার প্রথম মাসে। ১৯৮৫ সালে চালের কেজি ছিল বড়জোর চার-পাঁচ টাকা। এসময় সাত হাজার টাকা মানে অনেক টাকা। কমিশনের টাকা পেয়ে বন্ধদের আপ্যায়িত করলাম, ভাবাকে একটি গিফট্ কিনে দিলাম। আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনাতেও কিছু টাকা ব্যায় করলাম। তখন আমাকে আর পায় কে। কাজের উৎসাহ বেড়ে গেল।
জেবিসেতে পেশাগত জীবনে ছয় মাসের মধ্যে আমার জীবনে প্রথম একটি মৃত্যুদাবীর চেক হস্তান্তর করি। বীমা গ্রাহক আনোয়ার হোসেন লোহাগড়া থানার আধুনগর গ্রামের বাসিন্দা ছেলেন। তার ৫০ হাজার টাকার বীমা ছিল। তার মৃত্যুতে তিন জন এতিম বাচ্চা এবং বিধবা স্ত্রী তথা এ পরিবারে দুঃখ এবং দারিদ্রের কালো ছায়া নেমে আসে।
মরহুম আনোয়ার হোসেনের তিন জন এতিম বাচ্চা ও তার বিধবা স্ত্রীর হাতে ৫০ হাজার টাকা বীমা দাবীর চেক তুলে দেয়ার মুহুর্তটি আমার জীবনে স্মরনীয় ঘটনা। জীবন বীমা পেশা যে পৃথিবীর মহান ও সর্বশ্রেষ্ঠ পেশা হৃদয়ে এদিন আমার দাগ কেটে যায়। চেক হস্তেন্তর অনুষ্ঠানে ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার এটি এম জাফরউল্লাহ চৌধুরী সহ পটিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল উপস্থিত ছিলেন।
বিষয়টি এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করে। কারন ১৯৮৫ সালে একটি গ্রামে একজন ব্যক্তি বীমা প্রতিষ্ঠান থেকে ৫০ হাজার টাকা মৃত্যু দাবীর চেক পেতে পারেন এটা ছিল একটি অবিশ্বাস্য ঘটনা। মানুষ মরে গেলে তার লাশেল কোন মূল্য নেই। দুুর্দিনে শান্তনা দেয়া ছাড়া কেউ আর্থিক সাহায্যে বিশেষ করে এত বড় অংকের আর্থিক সাহায্যে এগিয়ে আসার ঘটনা বিরল।
মরহুম আনোয়ার হোসেনের অকাল মৃত্যুতে তার অসহায় পরিবার বর্গের পাশে এসে দাড়িয়েছে জীবন বীমা কর্পোরেশনের ম্যানেজার ও অফিসাররা। এরাই বিপদের বন্ধু। এদিন থেকে আমি মনে মনে শপথ নেই, এ পেশার মাধ্যমে মানুষের সেবা করবো এবং গ্রামে গঞ্জে ও শহরে সমাজে বেকার ছেলে মেয়েদের কর্মসংস্থান করবো। সর্বোপরি শ্রমজীবী মানুষের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক বুনিয়াদ গড়ে তুলবো।
দিনে দিনে আমার কাজে অগ্রগতি হতে থাকল। ফিল্ড অফিসার থেকে কাজের মধ্যে দিয়ে আমি একসময় ডেভেলপমেন্ট অফিসার হয়ে গেলাম। অনেক ফিল্ড অফিসার এখন আমার অধীনে থেকে কাজ করছে। জেবিসির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে, সম্মেলনে কাজের স্বীকৃতি বাবদ পুরস্কার পেলাম। এ সময় জীবন বীমা কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন জনাব মুস্তাফিজুর রহমান।
বীমা জগতে একটি বহুল আলোচিত এবং জনপ্রিয় বই, যে ব্যবসা সম্মানের, যে ব্যবসায় মূলধন লাগেনা বইটির লেখক জনপ্রিয় এবং সুনাম খ্যাত বীমা ব্যক্তিত্ব এম. এ সামাদ। ঢাকায় কেন্দ্রীয় কার্যালয় আয়োজিত একটি পুরষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে বীমা ব্যক্তিত্ব জনাব এম. এ সামাদ স্যারের কাছ থেকে পুরষ্কার নিলাম। তিনি তখন বিজিআইসি এর প্রতিষ্ঠাতা এম,ডি। স্যারের সাথে আমার পরিচয় হলো। পুরষ্কার নেওয়অর সময় স্যার আমাকে বললেন, কনগ্রাচুলেশন, গো আ্যহেড (Congratulation, go ahead)| । এখানে সম্মানিত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মুস্তাফিজুর রহমান স্যারের সাথে পরিচিত হলাম। তিনি ও আমার কাজের প্রশংসা করলেন। কাজের প্রশংসা কে না চায়। তার জন্য তো কাজ করা চাই। পরিশ্রম করতে হবে, কঠোর পরিশ্রম। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করা চাই।

দেশীয় পন্যের চাহিদা বাড়ছেবিদেশি পণ্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দিন দিন বাড়ছে দেশীয় পণ্যের চাহিদা। দেশে উৎপাদিত ইলেকট্রনিক পণ্য...
31/12/2012

দেশীয় পন্যের চাহিদা বাড়ছে

বিদেশি পণ্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দিন দিন বাড়ছে দেশীয় পণ্যের চাহিদা। দেশে উৎপাদিত ইলেকট্রনিক পণ্যসামগ্রী ফ্রিজ, মোটরসাইকেল, পাট পণ্য, প্লাস্টিক পণ্য, দেশীয় শাড়ি, পাদুকাশিল্প, হস্তশিল্পসহ নানা ধরনের পণ্যের এখন রমরমা চাহিদা।
দেশে রিফ্রেজারেটরের (ফ্রিজ) চাহিদা পাঁচ লাখ, যার পুরোটা মেটানো হতো আমদানি করে। এ ক্ষেত্রে নামীদামি প্রতিষ্ঠানের উন্নতমানের ফ্রিজের পাশাপাশি বাজারে প্রবেশ করেছে নিম্নমানের ফ্রিজ। এরকম অবস্থায় চাহিদার কিছুটা অভ্যন্তরীণভাবে মেটানের জন্য উন্নতমানের ফ্রিজ প্রস্তুত ও বিপণন করছে দেশীয় আরবি গ্র“প। তাদের ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাষ্ট্রিজ এ ফ্রিজ তৈরি করছে। রাজধানীর অদূরে কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রায় এ জন্য স্থাপন করা হয়েছে কারখানা। বিদেশ থেকে আমদানি করা উন্নতমানের কাঁচামাল দিয়ে বাংলাদেশের আবহাওয়া উপযোগী করেই তৈরি হচ্ছে এসব ফ্রিজ। স্বয়ংক্রিয় এ কারখানায় প্রতিদিন উৎপাদন হচ্ছে প্রায় দুই হাাজর ফ্রিজ। উৎপাদন শুরু হয়েছে ২০০৮ সাল থেকে। মাত্র এক বছরে বাজারে ওয়ালটনের ফ্রিজের ব্যপক সাড়া পড়েছে বলে জানান এ কোম্পানীর কর্মকর্তারা।
দেশীয় শিল্প-উদ্যোক্তারা বলছেন, দেশীয় পণ্যের চাহিদা বাড়ার একিট কারণ হলো মানুষ দেশ সম্পর্কে আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন হচ্ছে। বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্মের তরুণ তরুণীরা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। আরেকটি বড় কারণ বিদেশি পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে দেশীয় পণ্যের মান বজায় রাখতে হচ্ছে। এটা আগে ছিল না। বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য এখন দেশীয় কোম্পানীগুলো ন্যূনতম মান বজায় রেখে পণ্য উৎপাদন করচে। কোম্পানীগুলোর ব্যবসায় মূলনীতি হচ্ছে থিংক গ্লোবালি ইউজ লোকালি। যখন ক্রেতারা দেখতে পাচ্ছে একই দােিম দেশীয় পণ্যটি আরো বেশি ভালো মানের, তকন ভোক্তা শ্রেণী দেশয়ি পণ্যের দিকে আকৃষ্ট হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে সব দেশেই সচেতন মানুষ তার দেশীয় পণ্যটিই কিনে থাকে। বাংলাদেশে প্রথমদিকে যেসব উদ্যোক্তা ছিলেন তারা যেহেতু খালি মাঠে ছিলেন এবং তাদের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বি ছিল না, তাই তখন তারা ভাবতো কতো বেশি পরিমান লাভ করা যায়, তবে এখন যেসব উদ্যোক্তা শ্রেণী আসছে তারা হলো দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ প্রজন্মের, তারা চিন্তা করছে বেশি লাভের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসা করতে। তারা গ্রাহকের ক্রয়ক্ষমতা অনুযায়ী পণ্য উৎপাদন করছে। এ কারণে দেশীয় পণ্যের গুণগত মান বাড়ছে, উৎপাদন খরচ কম হচ্ছে এবং ক্রেতারা পণ্য কিনতে আকৃষ্ট হচ্ছে। দেশীয় উদ্যোক্তা শ্রেণীর আরেকটি দৃষ্টিভঙ্গি হলো গ্রাহকরা কী ধরনের পণ্য কী দামে চাচ্ছে বা চাহিদা আছে সেদিকে খেয়াল রেখে উৎপাদন করছে। বিদেশি পণ্য যতোই উন্নতমানের হোক সে ক্ষেত্রে কিছু কিছু গ্রহাক সন্তুষ্ট হলেও বেশির ভাগ গ্রাহকই এখন ওইসব পণ্য বিমুখ হচ্ছে। এর অন্যতম কারণ হেলা বিদেশি পণ্যের বেলায় বিক্রয়-উত্তর সেবা গ্রাহকরা পুরোপুরি পাচ্ছেন না। ইলেকট্রটিক পণ্যে বিশেষ করে টিভি-ফ্রিজের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিক্রয়-উত্তর সেবা। এখন দেশীয় কোম্পানীগুলোকে তাদের বিভিন্ন পণ্যের ক্ষেত্রে পাঁচ থেকে সাত বছরের ওয়ারেন্টি দিচ্ছে যা বিদেশি কোম্পানীগুলো দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।
এ বিষয়ে ফিনান্সিয়াল ইকোনমিষ্ট ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী বলেন, দেশীয় পণ্যের বিক্রি বা চাহিদা বাড়লে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়বে। আর উৎপাদন ক্ষমতা বাড়লে কর্মসংস্থান বাড়বে। আর তাতে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং সেটা অন্য খাতে ব্যয় করা যাবে। ফলে আমদানি খরচ কমে যাবে। লোকাল প্রোডাক্টের চাহিদা বেড়ে যাবে। ফলে ধেির ধীরে দেশে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে এবং দেশ বিনিয়োগ উপযোগী হবে। ফলে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হারও বাড়বে। এ ক্ষেত্রে ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী আগামী বাজেটে দেশের রাজস্ব নীতিকে আরো দেশীয় উদ্যোক্তারা যাতে বিনিযোগ সুবিধা পায়। দেশীয় পণ্য উৎপাদনে এবং বাজারজাতকরণে যেন নতুন কোনো করারোপ না হয় সেদিকে সরকারকে লক্ষ্য রাখার পরামর্শ দেন তিনি। ফিনান্সিয়াল এ ইকোনমিস্ট আরো বলেন- আমদানি ক্ষেত্রে সরকার বেশি কর পেতে পারে, সেটা হচ্ছে ক্ষণস্থায়ী। এতে দেশের মানুষের আয়প্রবাহ বাড়ছে না। আয়কর বাড়ছে না। দেশীয় পণ্যের বিকাশ হলে কর্মসংস্থঅনের পাশঅপাশি আয়করদাতার সংখ্যা বেড়ে যাবে। সারাবিশ্ব এখন আমদানি কীভাবে কমানো যায় সে পলিসির দিকে ঝুঁকছে। সরকারের রাজস্ব আয় দরকার হচ্ছে ব্যয় করার জন্য। দেশীয় পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে যদি প্রাইভেট সেক্টরে কর্মসংস্থান তৈরি হয়, যদি আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি হয়, বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়, ভোগ্যপণ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পায় তা হলে সরকারেরও ব্যয়ের খাত কমে যাবে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশীয় শিল্প বিকাশে বেশ কিছু উলেলখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রথম কথা হলো দেশীয় শিল্প বিখাশ ঘটাতে হলে অবকাঠামো খাতের উন্নয়ন ঘটাতে হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে হবে। সুষম করের ব্যবস্থা করতে হবে এবং যেসব ক্ষেত্রে আমদানি বিকল্প শিল্প গড়ে উঠবে সে ক্ষেত্রে সরকারকে কর-অবকাশ সুবিধা দিতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা হলো সরকারকে ঠিক করতে হবে কি পণ্য আমদানি হবে এবং কি পণ্য উৎপাদন করতে হবে। সরকার এটা করতে পারলে মানুষ যে বিদেশি পণ্যের দিকে ঝুঁকছে এ প্রবণতা আর থাকবে না। সরকারের গবেষণা করতে হবে, আমরা দেশীয়ভাবে কী কী পণ্য উৎপাদন করলে স্থানীয়ভাবে লাভবান হবে। বিশেষ করে দেশীয় উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার জন্য প্রচারমাধ্যগুলো মাধ্যমে দেশীয় পণ্য ব্যবহারের সুফল তুলে ধরতে হবে।
মিজানুর রহমান জানান, জনগণকে সচেতন করে তুলতে হবে। দেশে ফ্রিজ, মোটরসাইকেল উৎপাদন করছে দেশীয় একমাত্র প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন। গত কয়েক বছর ধরে তারেদ উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা ব্যপক হারে বেড়েছে। ফলে সৃষ্টি হয়েছে কয়েক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান। সরকার পাচ্ছে কোটি টাকার রাজস্ব। এতেকরে দেশীয় শিল্পবিপ্লব ঘটছে বলে মনে করেন তিনি। এর দুটো কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, তা হলো পণ্য গুণগত মানসম্পন্ন এবং দামে সাশ্রয়ী ও সর্বোপরি বিক্রয়-উত্তর সেবার ওয়ারেন্টি। ব্যাপক এ সফলতার কারণে কোম্পানিটি দেশে নতুন করে টিভি এবং এয়ার কন্ডিশনার (এসি) কারখানার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ওয়ালটন।

জীবন ও সম্পত্তির ঝুঁকিপরিবেশের প্রতিকুলতার বিরুদ্ধে সংগ্রামে জয়লাভ করিয়া মানুুষ ভবিষ্যতের সোনালি দিনগুলির সূচনা করিয়াছিল...
31/12/2012

জীবন ও সম্পত্তির ঝুঁকি
পরিবেশের প্রতিকুলতার বিরুদ্ধে সংগ্রামে জয়লাভ করিয়া মানুুষ ভবিষ্যতের সোনালি দিনগুলির সূচনা করিয়াছিল। সংগ্রাম ও সাধনার এই ধারাই হইতেছে মানব ইতিহাস। আগুন জ্বালাইতে শিখিয়া মানুষ একদিন সভ্যতার উদ্বোধন করিয়াছিল। তবু হাজার প্রতিকূলতার মোকাবিলায় মানুষকে সতত সজাগ থাকিতে হইতেছে। “মানুষ গড়িতেছে আর ঈশ্বর ভাঙ্গিতেছে”- এই নীতি প্রচলনের সাথে মানুষের পরিচয় নিত্যকালের। বিংশ শতাব্দীর বহুমুখী বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি অনেক অসাধ্য সাধন করিয়াছে। বিজ্ঞান মানুষকে গুহা হইতে বাহির করিয়অ চাঁদে পৌছাইয়াছে। সর্বোপরি ইহা মানুষের জীবনকে করিয়াছে আরামদায়ক, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও অনেকাংশে নিরাপদ। কিন্তু তবু মানুষ পারে নাই মৃত্যুকে জয় করিতে পারে নাই আকস্মিক দুর্ঘটনা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগকে প্রতিহত করিতে। তাইত এখন দেখা যায় যেকোনো মূহূর্তে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটি পরিবারের সবাইকে আর্থিক দুর্ভাবনায় ফেলিয়া মৃত্যু বরণ করে; যে কোনো সময় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বহু মূল্যবান দালান-কোঠা ভস্মীভূত হয়, গভীর সমুদ্রে জাহাজ ও পণ্য বিনষ্ট হয়; মোটর, রেল ও কলকারখানায় অহরহ আকস্মিক দুর্ঘটনায় অনেকে অঙ্গ হারায় এবং সাইক্লোন, গর্কির মতো প্রকৃতিক দুর্যোগে মানুষ সর্বহারা হয়। এইরূপে মানবজাতির সংগ্রামের ইতিহাস শুধুমাত্র জয়ের বার্তাই বহন করিয়া আনে নাই। সহস্র প্রতিবন্ধকতা এখনও আমাদের সামনে পর্বত প্রমাণ বাধা হইয়া রহিয়াছে।
মানব জীবনের এই অনিশ্চয়তা ও অসহায়তা যুগে যুগে কবি ও দার্শনিকদের উপজীব্য বিষয় হইয়া উঠিয়াছে। জন্মলগ্ন হইতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করা পর্যন্ত মানুষকে এক অনিশ্চয়তার মধ্যে বাস ও কাজ করিতে হয়। এমনকি খুব সতর্ক মানুষও জীবনে এই অনিশ্চয়তাকে এড়াইতে পারে না। সৃষ্টির আদিকাল হইতে অদ্যাবধি মানুষের ইতিহাস পর্যালোচনা করিলে দেখা যায় যে, সেকালে যেমন মানুষের জীবন কিংবা সম্পত্তির কোনো নিরাপত্তা ছিল না, আজও তেমনি জীবন ও সম্পত্তির খুব বেশি নিরাপত্তা নাই। যে কোনো সময় যে কোনো দুর্ঘটনায় মানুষ সবকিছু, এমনকি তাহার মূল্যবান জীবন পর্যন্ত হারাইতে পারে। অবশ্য পরিমাণ অনুযায়ী দুর্ঘটনাজনিত এই ক্ষতির প্রকারভেদ আছে। যেমন একজন যদি সামান্য একটি পেন্সিল হারায়, তবে উহাতে তেমনি কিছু যায় আসে না, কিন্তু কোনো ব্যক্তির একমাত্র বাসভবন বা গুদামজাত পণ্য যদি আগুনে ভস্মীভূত হয় কিংবা কোনো ব্যবসায়ীর পণ্যবাহী জাহাজ যদি সমুদ্রে নিমজ্জিত হয়, তাহা হইলে এই অত্যধিক আর্থিক লোকসানে উক্ত ব্যক্তির নিঃসম্বল হইয়া পড়ার সম্ভাবনা থাকে। ক্ষতির এই বাস্তবতা অনতিক্রমনীয় এবং প্রতিবছর ক্ষতির এই ব্যাপকতা মর্মম্পর্শী। তাহা ছাড়া ইহা কখন, কোথায়, কাহার উপর সংঘটিত হয় তাহা সম্পূর্ণ অনিশ্চিত। বিগত দুই এক শতাব্দী হইতে বিভিন্ন দেশে শিল্পায়নের সঙ্গে সঙ্গে জটিলতর সামাজিক পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন ও সম্পত্তি আরও নিরাপত্তাহীন হইয়া পড়িতেছে। অকাল-মৃত্যু, ভূমিকম্প, বন্যা, চুরি-ডাকাতি, হ্যাইজাক-রাহাজানি, রোগাক্রমণ, দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড, সাইক্লোন গর্কি, বেকারত্ব, অসাধুতা, গাফিলতি ইত্যাদির ফলে কোনো রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি বিশেষের জীবন বা সম্পত্তির যে ক্ষতি ঘটে, তাহা যদি টাকার হিসাবে প্রকাশ করা হয় তাহা হইলে উহা একটি বিরাট অঙ্ক হইয়া দাঁড়াইবে। তাই এই সমস্ত ঝুঁকির বাস্তবতা স্বীকার করিয়া ইহাকে এড়াইতে বা কমাইতে সর্বাত্মক ও সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা গ্রহন করা সাঞ্ছনীয় এবং উক্ত ঝুঁকি হইতে উদ্ভুত মানুষের সর্বনাশ ও ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো বর্তমান প্রগতিশীল সমাজের দায়িত্ব বলিয়া গণ্য করা হইয়াছে।
দার্শনিকদের মতে বিশ্বের সমস্ত কাজই নিয়মাধীন। তাঁহাদের চিন্তাধারায় দৈবের কোনো স্থান নাই। যে সমস্ত ঘটনাকে সম্পূর্ণ আকস্মিক বলিয়া মনে হয়, উহা সংঘটনের আভাস পূর্বেই পাওয়া যায়। মানুষের সামগ্রিক অসামর্থ্যরে জন্যই দুর্ঘটনা ঘটে। মানুষ এই সম্পর্কীয় সমস্ত পূর্বশর্ত বা সমস্ত নিয়মকানুন জানে না বলিয়া কোনো বিশেষ ঘটনাকে তাহাদের নিকট দৈব বলিয়া মনে হয়। এই অর্থে মানব জ্ঞানের অপরিপক্বতা হইতে উদ্ভূত পূর্বধারণাতীত কিছুর নিছক আবির্ভাবই দৈব। ইহা বহিঃপ্রকৃতির স্বাভাবিক গতির কোনো অংশ হিসাবে চিহ্নিত নয়। যাহ হউক, প্রকৃতি বিষয়কে জ্ঞানের অসম্পূর্ণতার জন্য মানুষ পদে পদে অনিশ্চয়তার সম্মুখীন হয় এবং অনিশ্চয়তা থাকিলেই ঝুঁকির প্রশ্ন আসে। অন্য কথাই অনিশ্চয়তাই ঝুঁকি এবং এই অনিশ্চয়তা মানব জীবনের আনুষঙ্গিক বিষয়। প্রকৃত বিষয়ে মানুষের জ্ঞান বৃদ্ধি এবং সেই শক্তিকে আয়ত্তাধীন করার সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকি নিরোধ করার উপায়ও মানুষ বাহির করিয়াছে। কিন্তু তবু যতদিন মানুষের জীবন অনিশ্চয়তা থাকিবে ততদিন মানুষের অনিরাপত্তাবোধও দূর হইবে না। এই নিরাপত্তা বা ঝুঁকি নিরোধ মানুষের মৌল কামনা এবং ইহার সন্ধানও তাহাদের বহু দিনের। নানা অভিজ্ঞতার মাধ্যমে পরীক্ষা নিরীক্ষার পর মানুষ উপরোক্ত ঝুঁকি রোধ করার বিবিধ পন্থা বাহির করিয়াছে।
ঝুঁকি পরিহার পদ্ধতি
(ক) ঝুঁকি অনুুধাবন
ঝুঁকি অনুধাবন অনিশ্চয়তা রোধের ন্যূনতম পন্থা। অজ্ঞ বা ইচ্ছাকৃতভাবেও তাহা করা যায়। আলোবিহীনভাবে বা একাধিক আরোহী লইয়া সাইকেল চালনা আইনত দণ্ডণীয়, কিন্তু বহু সাইকেলধারী ইচ্ছাকৃতভাবে অনেক শহরে এই ঝুঁকি গ্রহন করিয়া থাকে। কোনো কোনো যাত্রী স্কুল-কলেজগামী ছাত্র বিনা টিকেটে রেলগাড়িতে ভ্রমণ করিয়া থাকে। অবৈধ সঞ্চয় বা নিছক খেয়ালের জন্য তাহরা এই অভ্যাস অব্যাহত রাখে এবং দৈবাৎ ধরা পড়িয়া জরিমানা প্রদান করে। তবে অধিকাংশ ব্যক্তিই ব্যাক্তিগত এবং সামাজিক কারণে এই পন্থা অবলম্বন করিতে ইচ্ছুক নয়। ঝুঁকির মাত্রা অধিক বলিয়া ইহা বিশেষভাবে ব্যয়বহুলও বটে।
(খ) সঙ্কটকালীন তহবিল সৃষ্টি
এই তহবিলে সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণ করার জন্য কিছু অর্থ জমা করিয়া সংরক্ষিত রাখা হয়। এই পদ্ধতি উপরোক্ত পদ্ধতি হইতে ভিন্ন। ক্ষতি সংঘটিত হইলে ক্ষতিগ্রস্থ বা নষ্ট সম্পত্তিগুলিকে পুনঃস্থাপনের বিশেষ উদ্দেশ্য লইয়া নিয়মিতভাবে টাকা জমা রাখিয়া এই তহবিল গঠন করা হয়। অনাদায়ী দেনা হইতে উদ্ভূত ক্ষতি মিটাইবার জন্য অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যে অনাদায়ী দেনা তহবিল (নধফ ফবনঃ ৎবংবৎাব) গঠন করে ইহা অনেকটা সেইরূপ। কিন্তু এই ব্যবস্থার কিছু দোষক্রুটি আছে। সাধারণত তহবিলের আকার ও আয়তন প্রভৃতি অভিজ্ঞতা ভিত্তিক বৈজ্ঞানিক নীতি অপেক্ষা অনেকাংশে ব্যক্তিগত মতামত ও নগদ অর্থে নির্ধারিত হইয়া থক্ েঅধিকন্তু তহবিলের প্রথমিক অবস্থার ক্ষতি সংঘটিত হইলে সেই তহবিল হইতে ক্ষতি মিটানো সম্ভব হয় না। তবু এই পদ্ধতি প্রথমোক্ত পদ্ধতি হইতে অনেকটা উন্নত এবং অন্য পন্থা লাভজনক না হইলে ক্ষতি মিটানোর ইহাই শ্রেষ্ঠ পন্থা।
(গ) ক্ষতির হ্রাস ও নিবারণ
ঘরবাড়ি ও দালান কোঠা নির্মাণে জমাট বস্তু ও ইস্পাত দ্রব্যাদি ব্যবহার করিলে এইগুলি ইঁদুর, অগ্নি ইত্যাদি দ্বারা ক্ষতি হইলে রক্ষা পায়। একটি সুসংগঠিত পুলিশ বাহিনী তৎপর থাকিলে চুরি-ডাকাতি কমিয়া যায়। দক্ষ দমকল বাহিনী এবং দালান তৈয়ারির সুষ্ঠু নীতিপালনে অগ্নি-উদ্ভূত ক্ষতি হ্রাস পায়। কারখানার যথাযথ নিয়মকানুন পালন করিলে দুর্ঘটনা কম হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের আগ্রগতি সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বিভিন্ন দেশে বহু রোগ নিরোধ করিয়াছে। আগ্নি নির্বাপক যন্ত্র বা স্বয়ংক্রিয় অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা থাকিলে তাহা অগ্নি সংযোগ পুরাপুরি বন্ধ করিতে না পারিলেও ইহার ভয়াবহতা কমায়। তবে কোনো নির্দিষ্ট পন্থা দ্বারা সমস্ত ক্ষতি দূরীভূত করা সব সময় সম্ভব হয় না। অধিকন্তু অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ হইতে নিরোধিত ক্ষতি অপেক্ষা নিরোধ ব্যবস্থার ব্যয় যদি বেশি হয়, তাহা হইলে উহা পরিত্যজ্য।
(ঘ) ঝুঁকির স্থানান্তর
আত্মরক্ষার্থক চুক্তি উপচুক্তি, জামিনদারী প্রতিজ্ঞাপত্র ও সীমাবদ্ধ দায়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গঠন ইত্যাদি পদ্ধতির দ্বারা ঝুঁকি অন্যজনের কাছে স্থানান্তরিত করা যায়। এই পদ্ধতিতে তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে চুক্তি করিয়া ঝুঁকি হ্রাস করা হয়। তবে ব্যক্তি বিশেষের আয়ভুক্ত প্রভূত একক মুনাফার সম্ভাবনা তখন সেই অনুপাতে কমিয়া যায়।
(ঙ) বীমার মাধ্যমে ক্ষতি বিতরণ
বীমা হইল দুই পক্ষের মধ্যে এমন একটি চুক্তি, যাহার মাধ্যমে একপক্ষ অপরপক্ষকে প্রিমিয়াম হিসাবে টাকা প্রদান করে এবং ইহার বিনিময়ে অপরপক্ষ প্রথম পক্ষের কোনো দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতিপূরণ প্রদান করিতে স্বীকৃত হয়। এখানে বিশেষ ঝুঁকিগ্রস্ত ব্যক্তি অনুরূপ ঝুঁকিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহিত মিলিত হইয়া ঝুঁকির মাত্রা অনেকটা হ্রাস করিয়া ফেলে। একই শ্রেণীল ঝুঁকিগুলি যখন একত্রিত করা হয়, তখন ক্ষতির সম্ভাবনা অধিকতর নিশ্চিত হইলে ব্যক্তি বিশেষের ঝুঁকি কমিয়া আসে। এই ক্ষেত্রে ক্ষতির কত অংশ প্রিমিয়াম আকারে পরিশোধ করিতে হইবে দলের সদস্যগণ তাহা জানিতে পারে। এইরূপে কোনো ব্যক্তি বীমা কোম্পানিকে সামান্য অর্থ প্রিমিয়াম আকারে প্রদান করিয়া তাহার বড় রকমের অনিশ্চয়তা হস্তান্তর করিতে সক্ষম হয়। নিম্নোক্ত উদাহরণ হইতে ইহা আরও পরিষ্কার করিয়া বুঝা যাইবে। মনে করা যাক, সমুদ্রগামী কোনো একটি জাহাজে ৫০ হাজার টাকার পণ্য বোঝাই রহিয়াছে এবং পণ্য মালিক উক্ত টাকার পণ্যের জন্য নৌবীমা কোম্পানির নিকট হইতে প্রিমিয়াম প্রদান করিয়া উক্ত টাকার নৌবীমা গ্রহণ করিল এবং এমতাবস্থায় সমুদ্র পাড়ি দিবার সময় এই পণ্যবাহী জাহাজ সামুদ্রিক কোনো দুর্ঘটনায় সমুদ্রগর্ভে নিমজ্জিত হইল এবং উহার ফলে সমস্ত পণ্যাদি বিনষ্ট হইয়া গেল। এই ক্ষেত্রে বীমাগ্রহীতা উক্ত বিনষ্ট পণ্যের মূল্য হিসাবে বীমাকৃত ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করিতে পারিবে এবং বীমা কোম্পানিও উক্ত চুক্তি অনুযায়ী বীমাকৃত ৫০ হাজার টাকা বীমাগ্রহীতাকে দিতে বাধ্য থাকিবে। এন এস সিদ্দিকি

Address


Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Fortnightly Banizzo Kotha posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

  • Want your business to be the top-listed Advertising & Marketing Company?

Share