07/03/2026
আজ সাহরীর আগে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিলাম—রান্নার কাজে অর্ধাঙ্গিনীকে একটু সাহায্য করব। বেচারি সারাদিন বাচ্চা সামলায়, সংসার সামলায়, আবার রাত জেগে সাহরীর রান্নাও করে! মানুষ হিসেবে আমার বিবেক একটু নাড়া দিল। ভাবলাম, আজ আর শুয়ে থাকবনা।
একটু ভাবসাব নিয়ে রান্নাঘরে প্রবেশ করলাম, যেন বহু বছরের অভিজ্ঞ রন্ধনশিল্পী। প্রথমে—তিনটা প্লেট আর দুইটা বাটি ধোয়া। হাতে ভীম নিয়ে শুরু করলাম ঘষামাজা। অর্ধাঙ্গিনীর মুখে তখন এমন চাপা হাসি, যেন তিনি অলৌকিক কোনো দৃশ্য দেখছেন। মনে হলো, আমার এই কর্মযজ্ঞ হয়তো তাঁর জীবনের তৃতীয় আশ্চর্যের মধ্যে একটা।
দুইটা প্লেট ধুয়ে রাখলাম। তৃতীয়টা হাতে নিতেই এমন এক সর্বনাশা হাসি এলো—প্লেটটা হাত থেকে ফসকে সোজা মাটিতে গিয়ে শহীদ হয়ে গেল।
অর্ধাঙ্গিনী রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে দৌড়ে রুমে গেলেন—ছেলের ঘুম ভাঙলো কি না সেটা আগে দেখতে। ভাগ্য ভালো, বাচ্চা তখনও ঘুমে। ফিরে এসে আমাকে আধা ডজন নাসিহা শুনিয়ে নিজেই বাকি বাসন ধোয়া শেষ করলেন।
সাহরীর তখন আর মাত্র ৪০ মিনিট বাকি।
এদিকে ছেলে ঘুম থেকে উঠে পড়েছে। তিনি ছেলেকে সান্ত্ব করতে রুমে গেলেন। যাওয়ার আগে আমাকে দায়িত্ব দিয়ে গেলেন—তরকারীটা নেড়ে দিবেন, তরকারীতে লবণ কম হলে একটু লবণ দিবেন। তারপর তরকারীটা নামিয়ে দুধটাও একটু গরম করে রাইখেন।
এই নির্দেশ শুনে আমি দায়িত্বশীল স্বামীর মতো কাজে নেমে পড়লাম। তবে একটি ছোট ভুল হয়ে গেল—লবণ চেক না করেই বাড়তি লবণ ঢেলে দিলাম।
ফলে তরকারির মধ্যে এমন লাল বাতি জ্বলে উঠল যে মনে হলো, সমুদ্রের লোনাজল আর এই তরকারীতে খুব বেশি পার্থক্য নেই।
এরপর দুধ চুলায় বসালাম। ঠিক সেই সময় মোবাইলে নোটিফিকেশন আসল, ইরানের হাইপারসনিক মি°সাইলের আপডেট। আন্তর্জাতিক রাজনীতির এই গুরুত্বপূর্ণ খবর উপেক্ষা করা কি সম্ভব?
খবর পড়তে পড়তেই দেখি দুধ গরম হয়ে উথলে উঠে অর্ধেক চুলায়, অর্ধেক মেঝেতে। তাড়াহুড়া করে চুলা বন্ধ করতে গিয়ে কনুইয়ের ধাক্কায় পাতিলটাও উল্টে গেল।
আল্লাহর অশেষ রহমত—গায়ে লাগেনি। আরকিছু না পেয়ে দ্রুত নিজের গেঞ্জি দিয়ে ফ্লোর মুছে কোনোমতে জীবন বাঁচালাম।
এদিকে সাহরীর সময় বাকি মাত্র ১৮ মিনিট।
আমি দ্রুত ভদ্র স্বামীর মতো ভাত-তরকারি টেবিলে সাজিয়ে রাখলাম। মনে হলো একটু তরকারি চেখে দেখি। এক চামচ মুখে দিতেই বুঝলাম—এটা তরকারি নয়, লবণের উপর সামান্য অত্যাচার করা হইছে।
আর কোনো উপায় না দেখে পাঞ্জাবি গায়ে দিয়ে মসজিদের দিকে হাঁটা শুরু করলাম।
বউ জিজ্ঞেস করল—“খেয়ে যাবেন না?”
আমি একটু ভাবসাব নিয়ে বললাম—“রান্নাঘরেই খেয়ে নিয়েছি।”
বাসা থেকে বের হওয়ার দুই মিনিট পরই হোয়াটসঅ্যাপে কল। রিসিভ করলাম। কিছুক্ষণ নাসিহা শোনার পর তিনি জিজ্ঞেস করলেন—“দুধটা কোথায়?”
বললাম—“খেয়ে ফেলছি।”
তারপর আবার প্রশ্ন—“বাচ্চার জন্য যে অল্প একটু পাউডার দুধ রাখা ছিল, সেটা?”
আমি আর কোনো উত্তর না দিয়ে ফোন কেটে দিলাম।
কারণ—বাচ্চার সেই পাউডার দুধ দিয়ে জীবন বাচানোর জন্য নতুন দুধ বানানোর চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু গরম পানিতে দিতেই সেটা চাকাচাকা হয়ে গেল। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত সেটাও বেসিনে বিসর্জন দিয়েছি।
এখন নামাজ শেষ করে মসজিদে বসে আছি। আর আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করছি—তিনি যেন রোজার বাকি দিনগুলো আমাকে সবরে জামিল দান করেন।
© -মুহাম্মদ এনাম
এই ঈদে আপনার অনলাইন কেনাকাটায় পাশে আছে - Al Wafi Shop-আল ওয়াফি শপ
পিক ফর এটেনশন। তবে ড্রেসটা এভেইলেবল আছে আলহামদুলিল্লাহ।