03/10/2026
চট্টগ্রামে ইসলামের মুল পতাকা উড্ডয়ন করেছেন বারো আউলিয়া। যদিও উনাদের আগে বেশ কিছু সুফি চট্টগ্রামে ইসলাম প্রচার করেছেন।। বারো আউলিয়ার সর্দার হচ্ছেন বদর শাহ আউলিয়া রঃ। বারো আউলিয়ার অন্যতম হচ্ছেন শাহ মোহসেন আউলিয়া, শাহ চান্দ আউলিয়া, শাহ পীর আউলিয়া, শাহ ওমর রাঃ ইত্যাদি।। এরপরের দিকের বিখ্যাত আউলিয়া কেরাম হচ্ছেন শাহ গরীবুল্লাহ, মিসকিন শাহ, শাহ আমানত, শাহ আহমদউল্লাহ মাইজভান্ডারী রাঃ ইত্যাদি।। এছাড়া বহু আউলিয়া কেরামের মাজার দরগাহ রয়েছে চট্টগ্রামে।। কিন্তু বিগত পঞ্চাশ ষাট বছরে চট্টগ্রামে উৎপত্তি হয়েছে পাকিস্তানি পীর শাহ সিরিকোট দরবারের জামেয়া মাদ্রাসা।। এই জামেয়া মাদ্রাসায় যারা পড়াশোনা করে আলেম হয়েছে তাদের অধিকাংশের মিলাদ কিয়ামে বিশেষ করে কিয়ামের সালাম পাঠ কালে পূর্বের এতো এতো বিখ্যাত আউলিয়া কেরামের নাম নেওয়া হয় না। শুধুমাত্র সিরিকোট দরবারের বিভিন্ন পীরের নাম নেওয়া হয়।। ফলে মসজিদের মিলাদেও দেখেছি অনেকের মন ক্ষুণ্ন হতে।। আমরা তো চট্টগ্রামের কেউ না। কিন্তু চুয়েটে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সময় আমি চট্টগ্রামের আনাচে কানাচে বিভিন্ন দরগাহ জিয়ারত করেছি। মিলাদের সময় দেখেছি সিরিকোট দরবারের পীরদের নাম নেওয়া হয়।। অন্যান্য বিখ্যাত আউলিয়াদের নাম নেওয়া হয় না।। সমস্যাটা এখানেই। সিরিকোটের নাম নেওয়া নিয়ে কোন আপত্তি নেই। আপত্তি হচ্ছে চট্টগ্রামে সিরিকোট দরবারের আবাদের আগেই তো চট্টগ্রামে ইসলাম কায়েম হয়েছে বিখ্যাত সব আউলিয়া কেরামের দ্বারা তাদের নাম নেওয়া হয় না কেন? চট্টগ্রামে মিলাদের সমস্যা এখানেই। মিলাদে নিজ পীরের নাম যত বার নেওয়া হয়, ঠিক ততবার নবী পাক ও আহলে বাইতের নাম নেওয়া হয় না।। আর এই জামেয়াপন্থিরা অন্যান্য আউলিয়া কেরামের নাম তো নিতেই চায় না।। সমস্যাটা এখানেই।।
মিলাদে নিজ পীরের গুণগাণের চেয়ে নবী ও আহলে বাইতের নাম বেশি বেশি নিলে অনেক সাধারণ মানুষও মিলাদে বসবে। কিন্তু নিজ পীরের নামে গুণগাণ খুব বেশি গাইলে সাধারণ মানুষ তো দুরের কথা খোদ বিভিন্ন তরিকার মুরিদেরাও মিলাদে বসবে না।। জামেয়াপন্থিরা আশা করি এটা মনে রাখবেন।।
লেখক ও গবেষক
প্রকৌশলী তফিজ উদ্দিন