26/04/2026
একটা গ্রুপে এক মেয়ের পোস্ট পড়লাম।
মেয়েটার বাসায় তার শিক্ষক পড়াতে আসেন। মেয়ের ভাষ্যমতে শিক্ষক নামাযী মানুষ। পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করেন। পড়ায়ও দারুন।
সমস্যা হলো, শিক্ষক মানুষটা মেয়েটার হাত প্রায়ই চেপে ধরে। পা দিয়ে পা স্পর্শ করে। পা লাগার কারণে শিক্ষক আবার ফেরত সালামও করে ফেলে। মেয়েটা খুব অপ্রীতিকর অবস্থায় আছে, বুঝতে পারছে না এ 'স্পর্শ' কেমন।
বলাই বাহুল্য, মেয়েটা বয়সে ছোট। সে এই স্পর্শ নিয়ে খুশি নয় এবং একই সাথে পরিবারকে জানাতেও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে না বিধায় ফেসবুকে অ্যানোনিমাস পোস্ট দিয়েছে।
তবে শুধু এই পোস্টই এই ঘটনা নয়, কাছাকাছি ঘটনাটা প্রায় শুনি। আমার জুনিয়র আরেকটা মেয়ের কাছেও এরকম অভিজ্ঞতা শুনলাম। ক্লাস এইটে কোচিংয়ের এক ভাইয়া দারুন পড়াতো। সেই ভাইয়ের যত ক্লাস আছে মেয়েটা সব এটেন্ড করতো। ভাইও তাকে বেশ ভালো পড়া বুঝিয়ে দিতো। এরমধ্যে ভাইয়াকে তার এতোই ভালো লাগে, যে বাসায় এসে পড়াতে বলে। বাসায় আসার পরেই বিপত্তি বাধে। মেয়েটার পায়ে পা লাগে। পড়া বুঝাতে গিয়ে মাথার চুলে হাত বুলায়। একদিন সুযোগ বুঝে মেয়ের কাঁধের নিচে হাত দিলো।
মেয়েটা এই স্পর্শে ভয় পেয়ে গেলো। কোন রকমে সে ভাইকে বিদায় করলো। মেয়েটা অনার্সে পড়ে। সেই দুঃসহ স্মৃতি এখনও তাকে তাড়া করে বেড়ায়।
মেয়েদের সাথে ঘটা ব্যাপারগুলা এতোটাই নরমাইলজ করা হয়েছে যে, খুব সম্ভবত প্রতি দশটা মেয়েকে জিজ্ঞেস করলে জানা যাবে অন্তত পক্ষে ৬/৭ জন এ ধরনের ঘটনার শিকার হয়েছে। তারা ঘটনার প্রতিবাদ করতে পারেনি কারণ হয়তো তাদের বুঝে উঠতেই সময় লেগে গিয়েছে, অথবা হেনেস্তাকারী বেশ সম্মানিত কেউ বিশ্বাস করবে না অভিযোগ, কিংবা কাকে জানাবে এই চিন্তায়, লজ্জায়।
মেয়েদের জন্য একটা কথা বলি, কখনও পারমিশন দাওনি কিংবা পছন্দ করছো না এরকম ভাবে কেউ স্পর্শ করলে, সেই ব্যক্তির যত ভালো গুনই থাকুক না কেনো ধরে নিবা সে মানুষ না, একটা খাটাস প্রকৃতির হায়েনা। সুযোগ পেলে তোমার ক্ষতি করবে। এই ধরনের মানুষগুলো আইডেন্টিফাই করতে পারলে তাদের থেকে দশ হাত দূরে থাকবে।
বিশেষ করে এডমিশন টেস্ট যারা দিচ্ছো তাদের জন্য এটা বোঝা খুব জরুরি। স্কুল, কলেজের গন্ডি থেকে মাত্র বেরিয়েছো। তোমাদের দুনিয়া বড় হতে শুরু হয়েছে। বাসা থেকে হয়তো দূরে এসে পড়াশোনা করছো। বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে যাচ্ছো। স্যার-বড় ভাইদের কাছে পড়তে যাচ্ছো। মনে রাখবা এরা সবাই মানুষ। কেউ ফেরেশতা না। এবং তোমারও ক্ষমতা নাই কারোর মনের কথা বুঝার। তাই ধরে নিবা সবাই খারাপ। কারো কাছেই তুমি সেইফ না। নিজের সেইফটি নিজে বজায় রাখবা।
আবার অনেক সময়, অনেক মানুষকেই ভালো লাগবে। কেউ সুন্দর করে পড়া বুঝায় জন্য ভালো লাগবে, কারো বা বাচনভঙ্গি ভালো, কেউ দেখতে সুন্দর, কাউকে কাউকে অহেতুকই ভালো লাগতে পারে। কিন্তু খেয়াল রাখবা তোমার এই ভালো লাগার সুযোগ নিয়ে সেই ব্যক্তি যেনো ফায়দা না লুটে।
একটা কথা ভালো করে মাথায় গেঁথে নিবা, পৃথিবীতে আমরা সবাই মুখোশধারী। শুধু এবং শুধুমাত্র ভালো বলে কিছু নেই। তোমাকে খারাপ এবং বেশি খারাপ এ দুটোর ভিতর থেকেই একটা চ্যুজ করতে হবে। এই কাজটা কঠিন এবং এই কঠিন কাজটাই আজীবন করে যেতে হবে।