20/10/2020
▓▓▓▒▒░░ আরবী ভাষা এবং কুরআনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ░░▒▒▓▓▓
আরবী ভাষার বৈশিষ্ট্যঃ
১) আরবী ভাষা হল ঊর্ধ্ব জগতের সরকারী ভাষা।
২) লাওহে মাহফুজের ভাষা আরবী।
৩) ফেরেশতাদের ভাষা আরবী।
৪) জান্নাত মানুষের আসল দেশ। সেখানে জান্নাতীদেরকে ফিরে যেতে হবে।
জান্নাতের ভাষাও হবে আরবী।
৫) জান্নাতে আদম (আঃ)-এর ভাষা ছিল আরবী [তাফসীরে কুরতূবী]।
৬) আদম (আঃ)-এর পৃথিবীতে অবতরন এবং তাওবা কবুলের আরবী ভাষা কিছুটা পরিবর্তিত হয়ে হয়ে সূরিইয়ানী ভাষায় রুপ পরিগ্রহ করে [তাফসীরে কুরতূবী]।
৭) আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিঃ) প্রমূখ বর্ণিত আছে যেঃ
আল্লাহতাআলা পয়গম্বরদের উপর যত কিতাব নাযিল করেছেন তার সবগুলোর আসল ভাষা ছিল আরবী। জিবরাইল (আঃ) আনীত কিতাবের আরবী ভাষাগুলোকে অনুবাদ করে পূর্ববর্তী পয়গম্বরদের ভাষায় করে দিয়েছেন যাতে করে পয়গম্বরগন তাদের নিজ নিজ ভাষায় উম্মতদেরকে বুঝানোর জন্য বর্ননা করতে পারেন এবং পয়গম্বরগন তাদের জাতীয় ভাষায় তাদের উম্মতদের কাছে পৌছে দিয়েছেন।
আল্লামা সূয়ূতী 'ইতক্বান' গ্রন্থে এবং অন্যান্য তাফসীরকারকগন ভাষার অনুবাদ বিষয়ে এই রকম রেওয়াতের কথাই বলেছেন।
মূল বিষয়বস্তু হল এই যেঃ
সব ঐশী গ্রন্থের মূল বা আসল ভাষাই আরবী। কিন্তু কুরআন ব্যতীত অন্যন্য সকল ঐশী গ্রন্থের ভাষা অনুবাদ করে দিয়েছেন জিবরাইল (আঃ)। কুরআন নাযিলের সময় আরবী ভাষা থেকে অনুবাদ করে দেওয়া হয়নি।
কারন, যার উপর কুরআন নাযিল হয়েছিল তিনিও (মুহাম্মাদ (সাঃ) ছিলেন আরবী ভাষাভাষী বা আরবী ছিল তার ভাষা।
ভাষা বিষয়ে মহান আল্লাহ বলেছেনঃ
"আমি সব পয়গম্বরকেই তাদের স্বজাতির ভাষাভাষী করেই প্রেরণ করেছি, যাতে তাদেরকে পরিষ্কার বোঝাতে পারে। অতঃপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা, পথঃভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা সৎপথ প্রদর্শন করেন। তিনি পরাক্রান্ত, প্রজ্ঞাময়।"
***সূরা ইবরাহীমঃ আয়াতঃ ১৪:৪।
আরবী ভাষার আরও বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলোঃ
দুনিয়াতে এবং জান্নাতে সালাম ও উত্তরঃ।যেমনঃ
১) আল্লাহ নবী মুহাম্মদ (সাঃ)-কে শিখিয়েছেনঃ
বিশ্বাসীদেরকে "সালামুন আলাইকুম" বলে অভিবাদন জানাবেন (সুরা আল-আনআমঃ আয়াতঃ ৬:৫৪)।
২) জান্নাতের রক্ষীরা জান্নাতীদেরকে "সালামুন আলাইকুম" বলে অভিবাদন জানাবে (সুরা যুমারঃ আয়াতঃ ৩৯:৭৩)।
৩) "সালামুন আলাইকুম" (সুরা আ'রাফঃ আয়াতঃ ৭:৪৬)।
৪) "সালামুন আলাইকুম" (সুরা রা'দঃ আয়াতঃ ১৩:২৪)।
৫) "সালামুন আলাইকুম" (সুরা আন-নাহলঃ আয়াতঃ ১৬:৩২)।
৬) "সালামু আলাইকুম" (সুরা আল-আহযাবঃ আয়াতঃ ৩৩:৪৪)।
৭) আল্লাহ নবী মুহাম্মদ (সাঃ)-কে সালামের উত্তর শিখিয়েছেন (সুরা নিসাঃ আয়াতঃ ৪:৮৬)।
মহান আল্লাহ বলেছেনঃ
"আর যখন তারা আপনার কাছে আসবে যারা আমার নিদর্শনসমূহে বিশ্বাস করে, তখন আপনি বলে দিনঃ তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। তোমাদের পালনকর্তা রহমত করা নিজ দায়িত্বে লিখে নিয়েছেন যে, তোমাদের মধ্যে যে কেউ অজ্ঞতাবশতঃ কোন মন্দ কাজ করে, অনন্তর এরপরে তওবা করে নেয় এবং সৎ হয়ে যায়, তবে তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, করুণাময়।"
***সুরা আল-আনআমঃ আয়াতঃ ৬:৫৪।
মহান আল্লাহ আরও বলেছেনঃ
"যারা তাদের পালনকর্তাকে ভয় করত তাদেরকে দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। যখন তারা উম্মুক্ত দরজা দিয়ে জান্নাতে পৌছাবে এবং জান্নাতের রক্ষীরা তাদেরকে বলবে, তোমাদের প্রতি সালাম, তোমরা সুখে থাক, অতঃপর সদাসর্বদা বসবাসের জন্যে তোমরা জান্নাতে প্রবেশ কর।"
***সুরা যুমারঃ আয়াতঃ ৩৯:৭৩।
মহান আল্লাহ আরও বলেছেনঃ
"উভয়ের মাঝখানে একটি প্রাচীর থাকবে এবং আরাফের উপরে অনেক লোক থাকবে। তারা প্রত্যেককে তার চিহ্ন দ্বারা চিনে নেবে। তারা জান্নাতীদেরকে ডেকে বলবেঃ তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। তারা তখনও জান্নাতে প্রবেশ করবে না, কিন্তু প্রবেশ করার ব্যাপারে আগ্রহী হবে।"
***সুরা আ'রাফঃ আয়াতঃ ৭:৪৬।
মহান আল্লাহ আরও বলেছেনঃ
"বলবেঃ তোমাদের সবরের কারণে তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আর তোমাদের এ পরিণাম-গৃহ কতই না চমৎকার।"
***সুরা রা'দঃ আয়াতঃ ১৩:২৪।
মহান আল্লাহ আরও বলেছেনঃ
"ফেরেশতা যাদের জান কবজ করেন তাদের পবিত্র থাকা অবস্থায়। ফেরেশতারা বলেঃ তোমাদের প্রতি শাস্তি বর্ষিত হোক। তোমরা যা করতে, তার প্রতিদানে জান্নাতে প্রবেশ কর।"
***সুরা আন-নাহলঃ আয়াতঃ ১৬:৩২।
মহান আল্লাহ আরও বলেছেনঃ
"যেদিন আল্লাহর সাথে মিলিত হবে; সেদিন তাদের অভিবাদন হবে সালাম। তিনি তাদের জন্যে সম্মানজনক পুরস্কার প্রস্তুত রেখেছেন।"
***সুরা আল-আহযাবঃ আয়াতঃ ৩৩:৪৪।
মহান আল্লাহ আরও বলেছেনঃ
"আর তোমাদেরকে যদি কেউ দোয়া করে, তাহলে তোমরাও তার জন্য দোয়া কর; তার চেয়ে উত্তম দোয়া অথবা তারই মত ফিরিয়ে বল। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ব বিষয়ে হিসাব-নিকাশ গ্রহণকারী।"
***সুরা আন-নিসাঃ আয়াতঃ ৪:৮৬।
ভাষা বিষয়ে মহান আল্লাহ বলেছেনঃ
"পরম করুণাময়, তিনি শিক্ষা দিয়েছেন কুরআন, তিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষ, তিনি তাকে শিখিয়েছেন ভাষা।"
***সূরা আর-রহমানঃ আয়াতঃ ৫৫:১-৪।
মহান আল্লাহ আরও বলেছেনঃ
"আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে আসমান ও জমিনের সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের ভিন্নতা। নিশ্চয় এর মধ্যে জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে।"
***সূরা আর-রূমঃ আয়াতঃ ৩০:২২।
মহান আল্লাহ আরও বলেছেনঃ
"আর আমি প্রত্যেক রাসূলকে তার কওমের ভাষাতেই পাঠিয়েছি, যাতে সে তাদের কাছে বর্ণনা দেয়, সুতরাং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা সঠিক পথ দেখান। আর তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।"
***সূরা ইবরাহীমঃ আয়াতঃ ১৪:০৪।
মহান আল্লাহ আরও বলেছেনঃ
"আর আমার ভাই হারূন, সে আমার চেয়ে স্পষ্টভাষী, তাই তাকে আমার সঙ্গে সাহায্যকারী হিসেবে প্রেরণ করুন, সে আমাকে সমর্থন করবে।"
***সূরা আল-কাসাসঃ আয়াতঃ ২৮:৩৪।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাই বলেছেনঃ
'নিশ্চয় ভাষাশৈলিতে জাদু রয়েছে।'
***বুখারীঃ ৫১৪৬।
অর্থাৎ ভাষার যে জাদুকরি প্রভাব রয়েছে তা অনস্বীকার্য।
জান্নাতে মহান আল্লাহর ভাষা হবে আরবী এবং ফেরেশতাদের ভাষা হবে আরবী।
যেমন, সালামুন আলাইকুম।
কুরআনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলঃ
এর ভাষা আরবী। আর আরবী হল ঊর্ধ্ব জগতের সরকারী ভাষা। ঊর্ধ্ব জগতের সরকারী ভাষা আরবী থেকেই সরাসরি আল্লাহ কর্তৃক মানুষ ও জ্বিনের জন্য কুরআন নাযিল হয়েছে। পূর্ববর্তী যত নবী-রাসুল (মহান আল্লাহ তাদের রুহের উপর অবিরাম শান্তি বর্ষন করুন) ছিল তারা সবাই এবং তাদের উম্মতরাও তাদেরই স্বজাতীয় ভাষাভাষাী ছিল।
তাই তাদের উপর স্বজাতীয় ভাষাতেই বিধান নাযিল হয়েছি। ফলে তাদেরকে অনুবাদের শ্রম স্বীকার করতে হয়নি।
কারন, পূর্ববর্তী নবী-রাসুলগন (মহান আল্লাহ তাদের রুহের উপর অবিরাম শান্তি বর্ষন করুন) জিবরাইল (আঃ) মারফত তাদের উপর নাযিলকৃত কিতাব আরবী থেকে অনুবাদ করে পেতেন।
পূর্ববর্তী নবী-রাসুলগনের (মহান আল্লাহ তাদের রুহের উপর অবিরাম শান্তি বর্ষন করুন) উপর নাযিলকৃত কিতাব তাদের উম্মতদের দ্বারা বিকৃত হয়ে গিয়েছিল বা গেছে এবং মহান আল্লাহ সেগুলোকে প্রত্যাহার করে নিয়ে শেষ কিতাব হিসাবে কুরআনুল কারীম বা কূরআন হাক্বীম নাযিল করেছেন শেষ নবী ও রাসুল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর বিশ্ববাসীর জন্য।
কূরআনুল কারীম অবিকৃত থাকবে কিয়ামত অবধি এবং এটা মহান আল্লাহর চ্যালেঞ্জ।
মহান আল্লাহ স্বয়ং কুরআনের সংরক্ষক হিসাবে চ্যালেঞ্জ করে বলেছেনঃ
"আমি স্বয়ং এ উপদেশ গ্রন্থ অবতারণ করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক।"
***সূরা হিজরঃ আয়াতঃ ১৫:৯।
উল্লেখ্য যে, পৃথিবীতে অবতরণের পর আদম (আ:)-এর ভাষা ছিল সুরিয়ানী। তবে, তার তাওবাহ কবুলের দু'আ ছিল আরবী। যেমন,
মহান আল্লাহ আদম ও তার স্ত্রীর তাওবাহর দু'আ কুরআন মাজীদে কোড করেছেন এইভাবেঃ
"রব্বানা যালামনা আনফুসানা ওয়া ইল্লাম তাগফিরলনা ওয়া তারহামনা লা'না কুনান্না মিনাল খাসিরীন।"
[সূরা আরাফ; আয়াত: ৭:২৩]
মহান আল্লাহ অধিক ভালো জানেন।