05/07/2021
বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশনায় ১লা জুন ২০২১ থেকে ফেসবুক অতিরিক্ত ১৫% ভ্যাট কাটছে বিজ্ঞাপন খরচের ওপর যাদের BIN(Business Identification Number) বা ব্যবসা শনাক্তকরণ নম্বর এডস ম্যানেজারে যুক্ত করা নেই। তবে এটা সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। যাদের এডস ম্যানেজারে বিজনেস কান্ট্রি বাংলাদেশ লেখা আছে শুধু তাদেরকেই এটা প্রযোজ্য। এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক আদেশে ২০১৯ সালের ১লা জুলাই থেকে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো তাদের ইস্যু করা কার্ড থেকে ফেসবুকের বিজ্ঞাপন খরচের ওপর প্রত্যক্ষভাবে ১৫% ভ্যাট কেটে আসছে। এর ফলে যাদের বিন নেই তাদের ব্যাংক এবং ফেসবুক মিলে মোট ভ্যাট কাটা যাচ্ছে ৩২.২৫%। বিন ইস্যুতে কেউ কেউ লাভবান হচ্ছে আবার অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আমার এই প্রতিবেদন তৈরিতে আমার অভিজ্ঞতা, পর্যবেক্ষণ এবং কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং উদ্যোক্তার সংগে আলাপ করে তৈরি করেছি। আসুন এবার আমরা জেনে নিই এর প্রভাব সম্পর্কে।
১। বিন ইস্যুতে সবচে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং উদ্যোক্তারা। তারা না পারছে
৩২.২৫% ভ্যাট দিতে আবার না পারছে বিন তৈরি করতে। কেননা বিন করতে হলে ট্রেড লাইসেন্স লাগবে, মাসে মাসে ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিতে হবে। আবার ট্যাক্স রিটার্ন জমা না দিলে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানার বিধান আছে। শুধু তাই নয় এর সাথে আছে উকিলের খরচাপাতি এবং প্রতি বছর ট্রড লাইসেন্স নবায়ন করার ফি।
২। যারা বাইরের দেশের কার্ড দিয়ে ফেসবুকে বুস্ট সার্ভিস চালান তারা যদি বিন যুক্ত করেন তবে তাদের কে ১৫% ভ্যাট দিতে হবে না। তবে তারা কেন বাইরের দেশের পেমেন্ট মেথড ব্যবহার করছেন সেটার একটা কারণ দেখাতে হতে পারে সেই সংগে আসতে পারে কিছু আইনগত জটিলতা, আর এ কারণেই তারা বিনে আগ্রহী নয়।
৩। বিনে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়লেও আমার কাছে মনে হয় এটা সাময়িক। কেননা যারা বাইরের দেশের কার্ড ব্যবহার করে বিজনেস কান্ট্রি বাংলাদেশ লিখে ১৫% ভ্যাট দিচ্ছেন তারা পরবর্তীতে বিজনেস কান্ট্রি অন্য দেশ লিখা এডস ম্যানেজার ব্যবহার করবেন। এতে করে সরকারের রাজস্ব আয় কমে যাবে।
৪। যে সব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বা উদ্যোক্তারা নিজেরাই বুস্ট করতেন তারা এখন কম খরচে কীভাবে বুস্ট করা যায় সেই অপশনগুলো খুঁজে বেড়াচ্ছেন। এতে করে তারা প্রতারকের খপ্পরে পরতে পারেন। এর ফলে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সেই সঙ্গে তাদের মূল্যবান বিজনেস পেজ নস্ট হতে পারে। কেননা পলিসি ভংগের কারণে ফেসবুক পেজটা এড রেসট্রিকটেড করে দিতে পারে। এর কারণ হল বাটপাররা কুপন এবং বিলিং থেরাসহোল্ড ব্যবহার করে বুস্ট সার্ভিস প্রদান করে।
৫। ইতোমধ্যে কিছু ভুঁইফোঁড় অনলাইন ব্যবসায়ী তৈরি হয়েছে তারা বাইরের দেশের এডস ম্যানেজার বিক্রি করছেন। সেটাতে ভার্চুয়াল কার্ড এবং কুপন যুক্ত করা থাকে। এসব দিয়ে সাময়িকভাবে বুস্ট করা গেলেও কিছুদিন পর সেগুলো অকার্যকর হয়ে যায়। সেই সঙ্গে বুস্ট দেয়া আইডি এড রেসট্রিকটেড হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
৬। অতিরিক্ত ভ্যাট ইস্যুর কারণে বিভিন্ন এড এজেন্সি এবং বুস্টার তাদের ডলার রেট বাড়িয়ে দিয়েছে। এটার প্রভাব পড়ছে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ের ওপর।
৭। বিন না থাকায় ফেসবুক অতিরিক্ত যে ১৫% ভ্যাট কেটে নিচ্ছে সেটার পুরো টাকা বাংলাদেশ পাবে কিনা তা ধোঁয়াশার মধ্যেই থেকে যাচ্ছে। কেননা বাংলাদেশে ফেসবুকের নিজস্ব অফিস না থাকায় তাদের দায়বদ্ধ করা যাবে কিনা তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন অনেকে৷
ফেসবুকের মত জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ থেকে বিজ্ঞাপন বাবদ কত টাকা আয় করে তার সঠিক হিসাব আমাদের কারও জানা নেই। বাংলাদেশ থেকে ইস্যু করা কার্ড দিয়ে যারা এতদিন ফেসবুকে বুস্ট করে আসছেন সবাই ১৫% ভ্যাট দিয়েছেন বা দিচ্ছেন কিন্তু বিন যুক্ত করায় হিসাবটা অনেকটাই পাল্টে যাবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। এর ফলাফল জানতে আমাদেরকে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।