07/07/2021
“ক্রেতার সিদ্ধান্তই হবে মার্কেটিং ট্র্যাটেজি”
ক্রেতার সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া বা ধাপ ভালো করে বুঝতে পারলে ঠিক কোথায় কী ধরণের মার্কেটিং ট্র্যাটেজি প্রয়োজন তা নির্ধারণ করা খুবই সহজ।
🌟 কোনো পণ্য বা সেবা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ক্রেতা ৫ টি ধাপ অতিক্রম করে।
👉 প্রয়োজনঃ সামিন কেবল ষষ্ঠ শ্রেনীতে উঠল। নতুন স্কুল বাসা থেকে খানিকটা দূরে। তাই স্কুলে যাওয়া আসায় বেশ সমস্যা হচ্ছে। যাতায়াতের এই সমস্যা সমাধানে তার এখন একটি সাইকেল হলে ভালো হয়।
এখানে যখনই সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে তখনই সমাধানের জন্য চাহিদা/প্রয়োজন সৃষ্টি হয়েছে। এটা খুবই সাধারণ বিষয় যা আমরা সবাই জানি।
কিন্তু চাহিদা অনেক আগেই সৃষ্টী হয়েছে কিন্তু তা এখনো পূরণ হয়নি এমন ও হতে পারে। যেমন সামিনের বন্ধু নতুন সাইকেল কিনল তা দেখে তারও সাইকেল কিনার ইচ্ছে হলো। কিন্তু কোন কারণে কেনা হয়নি
(পছন্দের সাইকেলের দাম বেশি/তখন তার কাছে টাকা ছিলো না)। কিন্তু এখনো সাইকেলের কেনার প্রতি আগ্রহী আছে তবে তা সুপ্ত ভাবে আছে।
এক্ষেত্রে এই সুপ্ত চাহিদাকে জাগিয়ে তোলা যেতে পারে মার্কেটিং এর মাধ্যমে।
***মার্কেটিং টেকনিকঃ সাইকেলের আগ্রহী সামিন যদি কখনো লেটেস্ট সাইকেলের লঞ্চ বিজ্ঞাপন দেখে/সাইকেল ফেয়ার/স্টান্ট শো/বাইসাইকেল কন্টেস্ট ইত্যাদি সম্পর্কে জানে/দেখে তাহলে তার সুপ্ত চাহিদাটি আবার জাগ্রত হবে যা সাইকেল কেনার জন্য প্রয়োজনীয় একশন নিতে সাহায্য করবে।
মার্কেটিং এর মাধ্যমে আমরা সামিনের সুপ্ত চাহিদাকে এক্সটার্নালি ট্রিগার করে দিলাম।
কাস্টমারের সুপ্ত চাহিদাকে এক্সটার্নালি ট্রিগার করার জন্য সবচেয়ে এফোরডেবল মার্কেটিং মিডিয়া হচ্ছে ফেসবুক গ্রুপ মার্কেটিং/ফেসবুক পেইড মার্কেটিং/ অনলাইন ইভেন্ট আয়োজন/কন্টেস্ট আয়োজন।
বিঃদ্রঃ এখানে সাইকেল উদাহরণ হিসেবে ধরা হলো, এখান থেকে আপনি আইডিয়া পেলেন যা আপনি আপনার পণ্য/সার্ভিস অনুযায়ী সাজিয়ে নিয়ে প্রয়োগ করতে পারনে।
👉 তথ্য খোজাঃ এ স্টেপে কাস্টমার পণ্য সম্পর্কে জানার জন্য চেষ্টা করে (তথ্য খোজার বিষয়টি আসে যখন পণ্য টি দামী/অনিয়মিত ক্রয়/ দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না )। পণ্য সম্পর্কে জানার জন্য ইন্টারনেটে খোজ করে,বন্ধুবান্ধব কে জিজ্ঞাসা করে, এক্সপার্ট এর পরামর্শ নেয়।
তাহলে আপনি বলতে পারেন আমি কিভাবে এখানে মার্কেটিং করার সুযোগ পাবো ?
***মার্কেটিং টেকনিকঃ Be A Guide. আপনি সে পণ্য বা সার্ভিস নিয়ে কাজ করছেন তার এক্সপার্টিস শো করেন। বিভিন্ন ডিজিটাল প্লাটফর্ম (ফেসবুক/ইউটিউব/ব্লগ) এ এই বিষয় নিয়ে লেখালেখি করেন/ভিডিও তৈরি করেন/সরাসরি মানুষকে তথ্য দিয়ে সাহায্য করেন । তাতে আপনার এক্সপার্টিস শো হবে। কাস্টমার আপনার কাছ থেকে মূল্যবান ভ্যালু পাবার জন্য আপনার উপর ট্রাস্ট করবে।
👉 তুলনাঃ বাজারে পণ্য ও তার ধরনের অভাব নেই। এত অপশন থাকার কারনে ক্রেতা কনফিউড হয়ে যায়। তখন তারা বিভিন্ন ফ্যাক্টর এর উপর পণ্য/সেবার তুলনা করে।
এই কম্পিটিটিভ মার্কেটে টিকে থাকার জন্য আপনাকে ইউনিক ভাবে পণ্য/সেবা উপস্থাপন করতে হবে।
***মার্কেটিং টেকনিকঃ পণ্যে/সেবায় ইউনিক (কম্পটিটরা যা দিচ্ছে না) ভ্যালু যোগ করেন। ইউনিকনেস আপনার পন্যকে টপ অপ দ্যা লিস্ট রাখতে সাহায্য করবে। পন্যের ইউনিক ভ্যালু গুলো বার বার কাস্টমারের নিকট তুলে ধরুন এবং ইউনিক ভ্যালুর সুবিধা/ইম্পেক্ট তুলে ধরুন।
"It will help you to stand out from the crowd".
এক্ষেত্রে মনে রাখবেন, যারা ইতিমধ্যে আপনার পণ্য বা সার্ভিস সম্পর্কে জানে তাদের কাছে ইউনিক ভ্যালু সম্পর্কিত বিজ্ঞাপন বেশি প্রচার করুন।
👉 চূড়ান্ত সিদ্ধান্তঃ এই ধাপে কাস্টমার কোন পণ্য কিনবে তা ঠিক করে ফেলে। কিন্তু এখানেও কাস্টমার তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারে যদি সে কোন অবস্থার দ্বারা ইনফ্লুয়েন্সড হয়। যেমনঃ নিদিষ্ট ব্র্যান্ডের পন্যের দামের তারতম্য, আশে পাশের কোন ব্যক্তি/বস্তু/ঘটনা(বন্ধু “X” বাইক কিনলো আমি ও তাই কিনব) দ্বারা অনুপ্রাণিত হওয়া।
***মার্কেটিং টেকনিকঃ এখানে আপনি আপনার কাস্টমারকে ফলো-আপ এ রাখতে পারেন। কাস্টমারকে প্রয়োজন অনুসারে বিভিন্ন ভ্যালু এডেড অফার যেমনঃ ফ্রী শিপিং/ফ্রী ইন্সটল/ফ্রী সার্ভিসিং/ক্যাশব্যাক ইত্যাদি।
??? এখন আপনি বলবেন কারা আমার চূড়ান্ত কাস্টমার? কিভাবেই বা আমি তাদের খুজে পাবো?
প্রশ্নটা স্বাভাবিক!!! ছোট বা মাঝারি ব্যবসায় কাস্টমারকে ট্র্যাক করা সম্ভব হয় না।
আর এই সমস্যা সমাধান করে ডিজিটাল মার্কেটিং ট্র্যাটেজি। ডিজিটাল মার্কেটিংর মাধ্যমে অল্প খরচ ও সল্প সময়ের মধ্যেই ছোট বা মাঝারি ব্যবসায়ও সহজেই কাস্টমারের ডাটা সংগ্রহ ও ট্র্যাক করতে পারবে।
ডাটা থাকলেই তো কাস্টমারের বিহেবার বুঝতে পারবেন এবং তারা কোন স্টেজ এ আছে্ তা নির্ধারণ করে সেই অনুযায়ী ভ্যালু এড করতে পারবেন।
👉 বিক্রয় পরবর্তি আচরণঃ পছন্দের ফোন কিনার কিছুদিন পর দেখলেন হ্যাং করছে/ব্যাটারি তেমন ব্যাকাপ দিতে পারছে না/ক্যামেরার পারফরমেন্স ডাউন। তাহলে কি করবেন? অবশ্যই এই ব্র্যান্ডের ফোন কাউকে কেনার জন্য সাজেস্ট করবেন না। অথবা কেউ কিনতে চাইলে তাকে না কিনার জন্য পরামর্শ দিবেন। কিন্তু সেই ব্র্যান্ডের ফোন যদি আপনাকে সেটেইসফাই করতে পারে। তাহলে আপনার কাছের মানুষ ফোন কিনার সময় আপনি ওই ব্র্যান্ডটি সাজেস্ট করবেন। খুবই সহজ বিষয়।
তাহলে এখানে মার্কেটিং টেকনিক টা কি তাহলে? পণ্য বিক্রয়ের পর পরই মার্কেটিং এর কাজ শেষ হয়ে যায় না। এখানেই খেলা শুরু।
***মার্কেটিং টেকনিকঃ পণ্য বা সার্ভিস ডেলিভারী দেওয়ার সময় যত পারেন আপনার ব্র্যান্ডের ছোয়া রাখুন। কাস্টমারের অর্ডারকৃত পন্যের সাথে ছোট খাটো কোন কিছু সারপ্রাইজড গিফট হিসেবে দিয়ে দিন। পন্যের সাথে শুভেচ্ছা লেটার দিন যাতে কাস্টমারের নাম থাকবে।পণ্য প্যাকেজিং ছাড়া ও ডেলিভারি প্যাকেজিং এ আপনার ব্র্যান্ডের ছোয়া রাখুন। দামি পন্যের ক্ষেত্রে স্পেশালাইজড ডেলিভারী সিস্টেম রাখতে পারেন। বিক্রয়ের পর কাস্টমারের ফিডব্যাক নিন। আপনার পণ্য সম্পর্কিত যেকোনো সমস্যায় সাহায্য করুন।
এই ছোট খাটো বিষয়গুলো অনেক বেশি ইকফেক্টিভ যা কাস্টমারকে ব্যতিক্রম অভিজ্ঞতা দেয়।কাস্টমার ভালো অভিজ্ঞতা লাভ করলে সে আপনার পণ্য বা সার্ভিসের প্রমোটার হয়ে ওঠবে।
বিঃদ্রঃ এখানে আমি বার বার কাস্টমারের পছন্দ অনুযায়ী ট্রীট করার কথা বলছি। কারণ, কাস্টমার পারসোনালাইজড অভিজ্ঞতা পছন্দ করে। এটা কিন্তু কাস্টমারের বিহেবার দেখে বুঝা সম্ভব ।
আপনার কাস্টমারের বিহেবার ডাটা থাকলে আপনি তাকে সে অনুযায়ী সার্ভিস/পন্য/কন্টেন্ট/বিজ্ঞাপন সার্ভ করতে পারবেন।
▶️ তাই ডিজিটাল মাধ্যমের কোন বিকল্প নেই।
সো, আশা করি আর্টিকেলটি পড়ে আপনার মাথায় অনেক মার্কেটিং আইডিয়া 🤔 ঘুরপাক খাচ্ছে।
👍 এই রকম ইফেক্টিভ কন্টেন্ট পেতে আমাদের সাথে থাকুন আর ধৈর্য্য রাখুন 😍