12/08/2026
কোরআন শরীফ
শব্দ ও আয়াতের পুনরাবৃত্তির রহস্য
কোরআনে অনেক জায়গায়ই একের সংগে অন্যের তুলনা উপস্থিত করা হয়েছে। এ তুলনা উপস্থিত করার ব্যাপারে একটি অবিশ্বাস্য মিল লক্ষ্য করা গেছে এবং তা হচ্ছে, সে দু'টি নাম অথবা বস্তুকে আল্লাহ তায়ালা তাঁর কিতাবে সমান সংখ্যাতেই উল্লেখ করেছেন। যেমন কোরআন শরীফে সূরা 'আলে ইমরান'-এর ৫৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, 'আল্লাহ তায়ালার কাছে ঈসার তুলনা হচ্ছে আদমের মতো।'
এটা যে সত্য তা আমরা বুঝতে পারি। কারণ, এদের কারোরই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় জন্ম হয়নি। আদম (আ.)-এর মাতাও ছিলো না, পিতাও ছিলো না এবং ঈসা (আ.)-এরও পিতা ছিলো না। এখন এই তুলনাটি যে কতো সত্য তার প্রমাণ পাওয়া যায় যখন আমরা কোরআন শরীফে এ দু'টি নামের মোট সংখ্যা অনুসন্ধান করি। দেখা যাচ্ছে, কোরআন শরীফে ঈসা (আ.) নামটি যেমন পঁচিশ বার এসেছে, তেমনি আদম (আ.) নামটিও এসেছে পঁচিশ বার। কোরআনের বাণীগুলো যে মানুষের নয় তা বোঝা যায় এ দু'টি নামের সংখ্যার সমতা দেখে। আল্লাহ তায়ালা যেহেতু বলেছেন, এ দুটো একই রকম। তাই সেগুলোর সংখ্যা গণনাও ঠিক একই রকমের রাখা হয়েছে।
এ তুলনার ক্ষেত্রে আরেকটি অলৌকিক বিষয় হলো, যেখানে তুলনাটি অসম সেখানে সংখ্যা দুটিকেও অসম রাখা হয়েছে। যেমন, কোরআনে বলা হয়েছে, 'সুদ' এবং 'বাণিজ্য' এক নয়। আমরা দেখতে পাচ্ছি, এ শব্দ দু'টির একটি কোরআনে এসেছে ছয় বার এবং অন্যটি এসেছে সাত বার। বলা হয়েছে, 'জান্নাতের অধিবাসী ও জাহান্নামের অধিবাসী সমান নয়'। জান্নাতের সংখ্যা হচ্ছে আট, আর জাহান্নামের সংখ্যা হচ্ছে সাত। কিন্তু 'জান্নাত' ও 'জাহান্নাম' শব্দ দুটো কিন্তু একই রকম এসেছে, মোট ৭৭ বার করে। ঠিক তেমনিভাবে 'কাজ'-এর পরিনাম হচ্ছে 'বিনিময়', তাই এই দুটো শব্দ এসেছে ১০৭ বার করে। কাউকে ভালোবাসলে তার আনুগত্য করা যায়, তাই এ দুটো শব্দও কোরআনে সমান সংখ্যক অর্থাৎ ৮৩ বার করে উল্লেখ করা হয়েছে।
'নারী ও পুরুষ'- যে আল্লাহ তায়ালার কাছে সমান তা কোরআনের এই শব্দ দুটোর সমান সংখ্যা থেকেই আমরা বুঝতে পারি। কোরআনে এ দুটো শব্দ এসেছে ২৪ বার করে। আরেকটি অদ্ভুত বিষয় হচ্ছে, নর নারীর সম্মিলিত 'এগ' ও 'স্পারম' দিয়ে মানব শিশুর যে ক্রোমোজম তৈরী হয় সে বিষয়টি, এর মোট সংখ্যা ৪৬। (২৩ নারী ও ২৩ নর মিলে এর সংখ্যা হয় ৪৬)
সূরা 'আরাফ'-এ, এক আয়াতে আছে 'যারা আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে তাদের উদাহরণ হচ্ছে কুকুরের মতো'। বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যেতে হয় যখন