Yaqeen

Call Directions Contact the business

Yaqeen Qur'an • Sunnah • Timeless Wisdom
Authentic Islamic Translations & Reminders
From Trusted Scholars Around the World.
(1)

12/10/2026

পৃথিবীতে অনেক মানুষই আপনাকে ভালোবাসবে। কেউ আপনার সাফল্যে খুশি হবে, কেউ আপনার ভালো সময়ে পাশে থাকবে। কিন্তু বাবা-মায়ের ভালোবাসার জায়গাটা একটু আলাদা।

আপনি ভালো কিছু করলে তাঁরা যতটা খুশি হন, তার চেয়েও বেশি চিন্তিত হয়ে পড়েন যখন আপনি কোনো কষ্টে থাকেন। আপনার সামান্য অসুস্থতায় তাঁদের মন খারাপ হয়, আপনার ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁরা ভাবেন, আপনার ভালো থাকার জন্য নিজেদের অনেক ইচ্ছাও নির্দ্বিধায় ছেড়ে দেন।

অথচ বড় হতে হতে আমরা অনেক সময় তাঁদের এই ভালোবাসার গভীরতা বুঝতে পারি না। নিজেদের ব্যস্ততা, অভিমান কিংবা ছোটখাটো বিরক্তির কারণে তাঁদের সঙ্গে এমন আচরণ করে ফেলি, যা হয়তো তাঁরা কখনোই আমাদের সঙ্গে করেননি।

আল্লাহ তাআলা বাবা-মায়ের সঙ্গে সদাচরণের নির্দেশ দিয়ে বলেন—

“তোমার রব আদেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তিনি ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করবে না এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে। তাঁদের একজন অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হন, তবে তাঁদের ‘উফ’ বলো না এবং তাঁদের ধমক দিয়ো না; তাঁদের সঙ্গে সম্মানজনক কথা বলো।”— সূরা আল-ইসরা, ১৭:২৩

একটু ভেবে দেখুন, যাঁরা একসময় আপনার ছোট্ট একটি প্রয়োজন পূরণ করার জন্য কত কিছু করতেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁরাই হয়তো আপনার একটু সময়, দুটো ভালো কথা আর সামান্য যত্নের অপেক্ষায় থাকেন।

আমরা অনেক সময় বাবা-মায়ের জন্য বড় কিছু করার কথা ভাবি। কিন্তু সবসময় বড় কিছু করার প্রয়োজন হয় না। কখনো তাঁদের পাশে বসে একটু গল্প করা, নিজের ব্যস্ততার মাঝেও তাঁদের খোঁজ নেওয়া, তাঁদের কথা মন দিয়ে শোনা কিংবা কোনো প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানো—এসব ছোট ছোট কাজও তাঁদের অনেক আনন্দ দিতে পারে।

শায়খ মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আন-নিনাওয়ীর কথাটির মধ্যে আমার কাছে সবচেয়ে সুন্দর যে বিষয়টি মনে হয়েছে, তা হলো—পৃথিবীর সবাই আপনার চেয়ে ভালো হতে পারে, কিন্তু বাবা-মায়ের জায়গাটা কেউ নিতে পারবে না।

তাঁরা বেঁচে থাকতে তাঁদের ভালোবাসার মূল্য দিন। তাঁদের সঙ্গে সুন্দর ব্যবহার করুন। তাঁদের জন্য সময় রাখুন। কারণ জীবনের কিছু শূন্যতা আছে, যা তৈরি হয়ে গেলে আর কোনো কিছু দিয়েই পূরণ করা যায় না।

আল্লাহ আমাদের বাবা-মায়ের প্রতি যথাযথ দায়িত্ব পালন করার তাওফিক দিন। যাঁরা বেঁচে আছেন, তাঁদের সুস্থতা ও নেক হায়াত দান করুন। আর যাঁরা দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন, তাঁদের ক্ষমা করে জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করুন। আমিন।

© Mamun Uddin

12/10/2026

“রিজিকের বরকত ও প্রাচুর্যের জন্য প্রতিদিন চাশতের নামাজ আদায় করুন এবং সূরা আল-ওয়াকিয়া তিলাওয়াত করুন।” — শায়খ হাবীব উমর বিন হাফিয (হাফিজাহুল্লাহ)

শায়খের এই উপদেশ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

হাবীব উমর বিন হাফিয আমাদের সময়ের একজন বিখ্যাত আলেম ও দাঈ। তাঁর উপদেশের বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি মানুষকে শুধু দুনিয়ার হিসাব নয়, অন্তরের সম্পর্ক ঠিক করার দিকে ডাকেন। এই একটি বাক্যে তিনি দুটি সহজ আমলের কথা বলেছেন। দুটোই প্রতিদিনের অভ্যাস হতে পারে।

বাণীর প্রথম অংশ: প্রতিদিন চাশতের নামাজ

শায়খ বলছেন "প্রতিদিন"। অর্থাৎ ধারাবাহিকতা। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল সেটাই, যা নিয়মিত করা হয়, তা অল্প হলেও।

— (সহীহ বুখারী, ৬৪৬৪; সহীহ মুসলিম, ৭৮৩)

চাশতের নামাজ সম্পর্কে সহীহ মুসলিমে (৭২০) আছে, দুই রাকাতই শরীরের প্রতিটি জোড়ার সদকার জন্য যথেষ্ট। দিনের শুরুতে কৃতজ্ঞতা জানানোর এর চেয়ে সহজ উপায় আর কী হতে পারে?

বাণীর দ্বিতীয় অংশ: সূরা আল-ওয়াকিয়া তিলাওয়াত

এই সূরায় আখিরাতের দৃশ্য ও আল্লাহর নিয়ামতের কথা আছে। এমনকি বৃষ্টি, শস্য ও পানির কথা বলে আল্লাহ প্রশ্ন করেছেন, এসব কি তোমরা সৃষ্টি করো, না আমি?

— (সূরা ওয়াকিয়া, ৫৬:৬৩-৭০)

এটি পড়লে মনে গেঁথে যায়, রিজিকের আসল মালিক আল্লাহ।

বাণীর মূল শিক্ষা: রিজিকের জন্য চেষ্টা আমাদের দায়িত্ব, আর বরকত দেওয়া আল্লাহর কাজ। তাই আল্লাহ বলেন, "যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য পথ বের করে দেন এবং এমন উৎস থেকে রিজিক দেন, যা সে কল্পনাও করে না।"

— (সূরা তালাক, ৬৫:২-৩)

আজ থেকেই শুরু করুন!
আগামীকাল সূর্য ওঠার ১৫-২০ মিনিট পর দুই রাকাত চাশত পড়ুন। দিনের একটা সময় ঠিক করে কয়েক আয়াত তিলাওয়াত করুন।

যা পাচ্ছেন তার জন্য "আলহামদুলিল্লাহ" বলুন!
আত্মজিজ্ঞাসা: শায়খের এই উপদেশের কোন অংশটা আজ থেকে আমি শুরু করতে পারি?

আল্লাহ আমাদের রিজিকে বরকত দিন ও আমলের তাওফীক দিন। আমীন।

শায়খ হাবীব উমর বিন হাফিযের বক্তব্য থেকে অনূদিত ও ডিজাইনকৃত।

© Mamun Uddin

11/10/2026

বিনয়: যে গুণ মানুষকে উঁচু করে

আমরা প্রায়ই ভাবি, নিজেকে বড় প্রমাণ করলেই সম্মান পাওয়া যায়। কিন্তু ইসলাম শেখায় উল্টো কথা। যে নিজেকে নত করে, আল্লাহ তাকে মর্যাদা দেন।

কুরআনের আলোকে:
আল্লাহ তাআলা বলেন, "রহমানের বান্দা তারাই, যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করে।"

— (সূরা ফুরকান, ২৫:৬৩)

লুকমান (আ.) তাঁর ছেলেকে উপদেশ দিয়েছিলেন, "অহংকারবশে মানুষকে অবজ্ঞা কোরো না এবং পৃথিবীতে দম্ভভরে চলো না।"

—(সূরা লুকমান, ৩১:১৮)

হাদীসের আলোকে:
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, "যে আল্লাহর জন্য বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উচ্চ মর্যাদা দান করেন।"

—(সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৫৮৮-এর মর্মার্থ)

তিনি আরও বলেছেন, "যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহংকার আছে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।"

— (সহীহ মুসলিম, হাদীস ৯১)

নবীজির জীবনে বিনয়:
সবচেয়ে মর্যাদাবান হয়েও রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজের কাপড় নিজে সেলাই করতেন, ঘরের কাজে পরিবারকে সাহায্য করতেন, গরিব-মিসকিনের সাথে বসতেন। শিশুদেরও আগে সালাম দিতেন। বিনয়ের এর চেয়ে বড় উদাহরণ আর কী হতে পারে?

আমাদের জন্য শিক্ষা:
সাফল্য এলে কৃতজ্ঞ হই, অহংকারী নয়
ছোট-বড় সবার সাথে সমান আচরণ করি
ভুল হলে স্বীকার করার সাহস রাখি
অন্যের কাছ থেকে শেখার মানসিকতা ধরে রাখি

আত্মজিজ্ঞাসা: আজ কার সাথে আমার আচরণে অহংকারের ছাপ ছিল? নিজের কাছে এই প্রশ্নটা করতে দোষ কী?

আল্লাহ আমাদের সবাইকে বিনয়ী হওয়ার তাওফীক দিন। আমীন।

© Mamun Uddin

11/10/2026

আমরা প্রতিদিন কত কিছু নিয়ে ব্যস্ত থাকি। জীবিকার চিন্তা, পরিবারের দায়িত্ব, ভবিষ্যতের পরিকল্পনা—সবকিছুর ভিড়ে দিন কেটে যায়।

অথচ এই ব্যস্ততার মাঝেও এমন একটি আমল আছে, যার জন্য খুব বেশি সময়ের প্রয়োজন হয় না, কিন্তু যা আমাদের প্রিয় নবী ﷺ-এর সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্ককে বারবার স্মরণ করিয়ে দেয়। তা হলো দরূদ শরীফ।

শায়খ হাবীব কাজিম আস-সাক্কাফের এই বক্তব্যটি আমাকে একটি বিষয় ভাবতে শেখায়—আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে দরূদ পাঠকে কতটা গুরুত্ব দিই?

অনেক সময় আমরা কোনো প্রয়োজন পূরণের আশায় বিশেষ আমল খুঁজি। অথচ দরূদ শরীফ শুধু প্রয়োজনের মুহূর্তে পড়ার বিষয় নয়। এটি এমন একটি আমল, যা আমাদের প্রতিদিনের জীবনে জায়গা করে নেওয়ার যোগ্য।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

“নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি দরূদ পাঠ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি দরূদ ও সালাম পাঠ করো।”— সূরা আল-আহযাব, ৩৩:৫৬

রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি দরূদ পাঠ করা আল্লাহর নির্দেশ। আর রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি তাঁর প্রতি একবার দরূদ পাঠ করে, আল্লাহ তার প্রতি দশবার রহমত প্রেরণ করেন। (সহীহ মুসলিম, ৪০৮)

একবার ভেবে দেখুন, আমরা প্রতিদিন কতবার অপ্রয়োজনীয় চিন্তায় সময় ব্যয় করি, কতবার একই দুশ্চিন্তা নিয়ে ভাবি। সেই সময়ের সামান্য একটি অংশও যদি দরূদ পাঠের জন্য রাখি, তাহলে ধীরে ধীরে এটি আমাদের জীবনের নিয়মিত আমলে পরিণত হতে পারে।

শায়খের বক্তব্যে প্রতিদিন ৩০০ বার দরূদ পাঠের যে কথা এসেছে, সেটিকে একটি সুন্দর ব্যক্তিগত অভ্যাস গড়ে তোলার অনুপ্রেরণা হিসেবে নেওয়া যায়।

নিজের সুবিধামতো নির্দিষ্ট সময় বেছে নেওয়া যেতে পারে—সকালে, কাজের বিরতিতে কিংবা ঘুমানোর আগে। সংখ্যার দিকে খেয়াল রাখার পাশাপাশি দরূদের অর্থ ও প্রিয় নবী ﷺ-এর প্রতি ভালোবাসার কথাও হৃদয়ে জাগ্রত রাখি।

আমরা আল্লাহর কাছে আমাদের প্রয়োজনগুলো চাইব। রিজিক, পরিবার, সুস্থতা, বিপদ থেকে মুক্তি—সবকিছুর জন্যই তাঁর কাছে দোয়া করব।

একই সঙ্গে দরূদ পাঠকে এমন একটি আমল হিসেবে ধারণ করব, যা শুধু চাওয়া-পাওয়ার হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং আমাদের নবীপ্রেমেরও প্রকাশ।

আল্লাহ আমাদের নিয়মিত দরূদ পাঠের তাওফিক দিন, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি ভালোবাসা আরও গভীর করুন এবং তাঁর সুন্নাহ অনুসারে জীবন গড়ার সুযোগ দিন। আমিন।

© Mamun Uddin

10/10/2026

মানুষের জীবনে কিছু প্রয়োজন থাকে, যা তাকে প্রতিনিয়ত ভাবিয়ে তোলে—নিজের একটি ঘর, ঋণমুক্ত জীবন, একটি কর্মসংস্থান কিংবা রিজিকে বরকত। এসব প্রত্যাশা পূরণের জন্য আমরা নানা উপায় অবলম্বন করি।

শায়খ হাবীব উমর বিন হাফিজের এই বাণী আমাদের সেই প্রচেষ্টার পাশাপাশি আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়া এবং ইবাদতের সঙ্গে নিজেদের জীবনকে সম্পৃক্ত করার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

ফজরের সালাতের পর সূরা ইয়াসিনের ৮২–৮৩ নম্বর আয়াত সাতবার পাঠ করার যে আমলের কথা শায়খ উল্লেখ করেছেন, তার অন্তর্নিহিত তাৎপর্য হলো—

নিজের প্রয়োজন ও অসহায়ত্ব নিয়ে আল্লাহর দরবারে ফিরে যাওয়া। মানুষ যখন নিজের সীমাবদ্ধতা উপলব্ধি করে আল্লাহর কাছে সাহায্য চায়, তখন তার অন্তরে আশা জাগে, ভরসা দৃঢ় হয় এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা তৈরি হয়।

সূরা ইয়াসিনের ৮২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টিশক্তির কথা ঘোষণা করেছেন—তিনি যখন কোনো কিছু ইচ্ছা করেন, তখন তাকে বলেন, ‘হও’, আর তা হয়ে যায়। পরবর্তী আয়াতে তাঁর সার্বভৌম কর্তৃত্ব ও প্রত্যাবর্তনের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এই আয়াতগুলো আমাদের শেখায়, আল্লাহর ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের ঊর্ধ্বে কিছুই নয়। মানুষের কাছে যা কঠিন, আল্লাহর কাছে তা অসম্ভব নয়।

আমরা যেন দুশ্চিন্তার মুহূর্তে হতাশ না হই, অভাবের সময় আশাহত না হই এবং নিজেদের প্রয়োজন পূরণের জন্য আল্লাহর রহমত কামনা করতে ভুলে না যাই। তাঁর কাছেই চাইব প্রশস্ত রিজিক, ঋণমুক্তির স্বস্তি, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং জীবনে কল্যাণের পথ।

আল্লাহ তাআলা আমাদের কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার, তাঁর ওপর আস্থা রাখার এবং তাঁর রহমত ও বরকত লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

© Mamun Uddin

10/10/2026

নজর লাগা বা কুদৃষ্টি এমন একটি সত্য বিষয়, যা মানুষের জীবন, পরিবার ও নিয়ামতে অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতি বা অমঙ্গল ডেকে আনতে পারে।

দৈনন্দিন জীবনে আমরা অনেকেই অজান্তে বা প্রকাশ্যে অন্যের কুদৃষ্টির শিকার হই। কিন্তু এই অশুভ প্রভাব ও অনিষ্ট থেকে আত্মরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায় কী?

ইয়েমেনের প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ও সুফি সাধক শায়খ হাবীব উমর বিন হাফিয দিকনির্দেশনা দিয়েছেন—রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি অধিক পরিমাণে দরুদ শরীফ পাঠ করা।

হাদীসের রেফারেন্স:

এ বিষয়ে হযরত উবাই ইবন কা'ব (রা.) থেকে একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও প্রসিদ্ধ হাদীস বর্ণিত রয়েছে। তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে নিবেদন করেছিলেন, “হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার ওপর অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করে থাকি। এখন আমার দোয়ার কতটুকু অংশ আপনার ওপর দরুদ পাঠের জন্য নির্ধারণ করব?”

রাসূলুল্লাহ ﷺ বিভিন্ন স্তরের পর এক পর্যায়ে তাকে বললেন, “তাহলে তোমার সব দুশ্চিন্তা ও সংকট দূর করার জন্য এটিই যথেষ্ট হবে এবং তোমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করা হবে।”

— (সুনানে তিরমিযী, হাদীস: ২৪৫৭; ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে ‘হাসান সাহীহ’ বলেছেন)

দরুদ শরীফ শুধু আত্মিক প্রশান্তি ও সওয়াব অর্জনের মাধ্যম নয়, বরং তা বান্দার চারপাশে আল্লাহর রহমত ও নিরাপত্তার এক শক্তিশালী ঢাল তৈরি করে।

আসুন, যেকোনো অনিষ্ট ও বদনজর থেকে বাঁচতে প্রতিদিনের আমলে বেশি বেশি দরুদ শরীফ পাঠের অভ্যাস গড়ে তুলি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে সকল প্রকার অশুভ প্রভাব থেকে হিফাজত করুন। আমীন।

© Mamun Uddin

10/10/2026

দাম্পত্য জীবনে ভালোবাসার পাশাপাশি জ্ঞানচর্চাও হোক একে অপরের উন্নতির পথ।

একটি সুন্দর দাম্পত্য সম্পর্ক শুধু পারস্পরিক ভালোবাসা ও বোঝাপড়ার ওপর গড়ে ওঠে না। একে অপরকে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করার মধ্য দিয়েও এর সৌন্দর্য প্রকাশ পায়।

আল্লাহ বলেন—

“বলুন, যারা জানে আর যারা জানে না, তারা কি সমান?”

—সূরা আয-যুমার, ৩৯:৯

জ্ঞান মানুষের চিন্তাকে প্রসারিত করে, দৃষ্টিভঙ্গিকে পরিণত করে এবং সত্যকে বোঝার ক্ষমতা বাড়ায়।

তাই জীবনসঙ্গীর জ্ঞান অর্জনের আগ্রহকে উৎসাহিত করা, নতুন কিছু শেখার সুযোগ করে দেওয়া এবং ভালো কাজে সহযোগিতা করা দাম্পত্য জীবনের মূল্যবান একটি দিক।

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

“আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করেন।”

—সহিহ বুখারি, ৭১; সহিহ মুসলিম, ১০৩৭

শায়খ হাবীব উমর এর এই শিক্ষা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, দ্বীনি জ্ঞান অর্জন ও তা জীবনে বাস্তবায়নের গুরুত্ব অপরিসীম। স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে উপকারী জ্ঞান অর্জনে উৎসাহিত করলে তাদের ব্যক্তিগত উন্নতির পাশাপাশি পারিবারিক জীবনও সমৃদ্ধ হতে পারে।

একটি সুন্দর সম্পর্কের পরিচয় শুধু একসঙ্গে পথচলায় নয়। একে অপরকে সঠিক পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করার মধ্যেও।

জীবনসঙ্গী এমন হোক, যার সঙ্গে ভালোবাসা ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথেও এগিয়ে যাওয়া যায়। আল্লাহ আমাদের এমন জীবনসঙ্গী দান করুক। আমিন!!

© Mamun Uddin

09/10/2026

আবেগ দুর্বলতা নয়, তবে আবেগের সঠিক পরিচালনা জরুরি।

মানুষের অনুভূতি তার মানবিক সত্তারই অংশ। আনন্দ, দুঃখ, মায়া, ভালোবাসা কিংবা সহমর্মিতা—এসব অনুভূতি আমাদের সম্পর্কগুলোকে গভীরতা দেয়। তাই আবেগ থাকা দুর্বলতার প্রমাণ নয়। আবেগকে কীভাবে পরিচালনা করছি, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

কোরআনে আল্লাহ মায়ের গর্ভধারণ ও সন্তান জন্মদানের কষ্টের কথা বিশেষভাবে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন (সূরা লুকমান, ৩১:১৪)। এটি আমাদের নারীর ত্যাগ, মাতৃত্ব ও অভিজ্ঞতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শেখায়।

তবে আবেগপ্রবণতা কেবল নারীর বৈশিষ্ট্য নয়, আর সব নারীও একইভাবে অনুভূতি প্রকাশ করেন না। প্রত্যেক মানুষের অনুভূতি ও ব্যক্তিত্ব আলাদা।

আল্লাহ আমাদের অনুভূতির সৌন্দর্য উপলব্ধি করতে এবং একে অপরের প্রতি সহমর্মী হতে সাহায্য করুন। আমিন।

— Mamun Uddin

09/10/2026

রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি ভালোবাসা কেবল মুখের দাবি নয়! তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ এবং তাঁর শেখানো আদর্শে জীবন গড়ার মধ্য দিয়েও এই ভালোবাসার সত্যতা প্রকাশ পায়।

আল্লাহ বলেন—
“বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমার অনুসরণ করো; আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন।”

—সূরা আলে ইমরান, ৩:৩১

নবীজি ﷺ-এর প্রতি দরুদ পাঠ ভালোবাসা ও সম্মান প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল।

আল্লাহ নিজেই মুমিনদের তাঁর প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠের নির্দেশ দিয়েছেন। — সূরা আল-আহযাব, ৩৩:৫৬

তবে ভালোবাসার গভীরতা কেবল আবেগে নয়—তা আমাদের চরিত্র, আমল ও রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর আদর্শ অনুসরণের মধ্যেও প্রতিফলিত হওয়া উচিত।

আল্লাহ আমাদের অন্তরে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সত্যিকারের ভালোবাসা দান করুন এবং তাঁর সুন্নাহ অনুসরণে অবিচল রাখুন। আমিন।

© Mamun Uddin

08/10/2026

ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয়, নাকি আল্লাহর ওপর ভরসা?

আমরা ভবিষ্যৎকে নিশ্চিত করতে গিয়ে অনেক সময় বর্তমানের শান্তিটাও হারিয়ে ফেলি। অথচ জীবনের সবকিছু আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই, আর সব প্রশ্নের উত্তর জানাও আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

আল্লাহ বলেন—
“আর যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার জন্য তিনিই যথেষ্ট।” —সূরা আত-তালাক, ৬৫:৩

মনে রাখতে হবে, জীবনের প্রতিটি পরিকল্পনা আমাদের ইচ্ছামতো পূরণ না হলেও আমাদের দায়িত্ব হলো সঠিক পথে অবিচল থাকা। কারণ দুনিয়ার সাফল্যই জীবনের চূড়ান্ত সাফল্য নয়।

ভবিষ্যতের সব উত্তর জানা জরুরি নয়। সুতরাং, উত্তর অজানা থাকলেও আল্লাহর ওপর আস্থা রেখে সঠিক পথে চলতে শেখাই গুরুত্বপূর্ণ।

দুনিয়া আমাদের সফর, আর আখিরাত আমাদের চিরস্থায়ী গন্তব্য। তাই ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তার পাশাপাশি আখিরাতের প্রস্তুতিকেও গুরুত্ব দিই।

আল্লাহ আমাদের তাওয়াক্কুল, প্রশান্তি ও নেক আমলের জীবন দান করুন। আমিন!!

© Mamun Uddin

Address

Chattogram
Chittagong

Telephone

+8801820075044

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Yaqeen posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Yaqeen:

Shortcuts

Share