12/10/2026
পৃথিবীতে অনেক মানুষই আপনাকে ভালোবাসবে। কেউ আপনার সাফল্যে খুশি হবে, কেউ আপনার ভালো সময়ে পাশে থাকবে। কিন্তু বাবা-মায়ের ভালোবাসার জায়গাটা একটু আলাদা।
আপনি ভালো কিছু করলে তাঁরা যতটা খুশি হন, তার চেয়েও বেশি চিন্তিত হয়ে পড়েন যখন আপনি কোনো কষ্টে থাকেন। আপনার সামান্য অসুস্থতায় তাঁদের মন খারাপ হয়, আপনার ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁরা ভাবেন, আপনার ভালো থাকার জন্য নিজেদের অনেক ইচ্ছাও নির্দ্বিধায় ছেড়ে দেন।
অথচ বড় হতে হতে আমরা অনেক সময় তাঁদের এই ভালোবাসার গভীরতা বুঝতে পারি না। নিজেদের ব্যস্ততা, অভিমান কিংবা ছোটখাটো বিরক্তির কারণে তাঁদের সঙ্গে এমন আচরণ করে ফেলি, যা হয়তো তাঁরা কখনোই আমাদের সঙ্গে করেননি।
আল্লাহ তাআলা বাবা-মায়ের সঙ্গে সদাচরণের নির্দেশ দিয়ে বলেন—
“তোমার রব আদেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তিনি ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করবে না এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে। তাঁদের একজন অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হন, তবে তাঁদের ‘উফ’ বলো না এবং তাঁদের ধমক দিয়ো না; তাঁদের সঙ্গে সম্মানজনক কথা বলো।”— সূরা আল-ইসরা, ১৭:২৩
একটু ভেবে দেখুন, যাঁরা একসময় আপনার ছোট্ট একটি প্রয়োজন পূরণ করার জন্য কত কিছু করতেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁরাই হয়তো আপনার একটু সময়, দুটো ভালো কথা আর সামান্য যত্নের অপেক্ষায় থাকেন।
আমরা অনেক সময় বাবা-মায়ের জন্য বড় কিছু করার কথা ভাবি। কিন্তু সবসময় বড় কিছু করার প্রয়োজন হয় না। কখনো তাঁদের পাশে বসে একটু গল্প করা, নিজের ব্যস্ততার মাঝেও তাঁদের খোঁজ নেওয়া, তাঁদের কথা মন দিয়ে শোনা কিংবা কোনো প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানো—এসব ছোট ছোট কাজও তাঁদের অনেক আনন্দ দিতে পারে।
শায়খ মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আন-নিনাওয়ীর কথাটির মধ্যে আমার কাছে সবচেয়ে সুন্দর যে বিষয়টি মনে হয়েছে, তা হলো—পৃথিবীর সবাই আপনার চেয়ে ভালো হতে পারে, কিন্তু বাবা-মায়ের জায়গাটা কেউ নিতে পারবে না।
তাঁরা বেঁচে থাকতে তাঁদের ভালোবাসার মূল্য দিন। তাঁদের সঙ্গে সুন্দর ব্যবহার করুন। তাঁদের জন্য সময় রাখুন। কারণ জীবনের কিছু শূন্যতা আছে, যা তৈরি হয়ে গেলে আর কোনো কিছু দিয়েই পূরণ করা যায় না।
আল্লাহ আমাদের বাবা-মায়ের প্রতি যথাযথ দায়িত্ব পালন করার তাওফিক দিন। যাঁরা বেঁচে আছেন, তাঁদের সুস্থতা ও নেক হায়াত দান করুন। আর যাঁরা দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন, তাঁদের ক্ষমা করে জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করুন। আমিন।
© Mamun Uddin