13/04/2026
বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজারের দিঘিতে কুমিরের মুখে কুকুরের চলে যাওয়ার ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
গত ৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকে নেটিজেনদের মধ্যে নানা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
আমরা না জেনে অনেক ধরনের মন্তব্য করেছি, ফেসবুকে শেয়ার করেছি মানুষ যাতে নিজেকে মহৎ মনে করে। আমাদের দেশে পূর্বে -বর্তমানেও অনেক লোককে মব সৃষ্টি করে মারা হচ্ছে প্রকাশ্যে। তা নিয়ে মানুষ এত সমালোচনা করেনি। একটি কুকুরকে কুমিরের খাওয়া নিয়ে যে আলোচনা-সমালোচনা করা হয়েছে।
মাজারের খাদেম, প্রত্যক্ষদর্শী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রকৃত ঘটনাটি নিচে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হলো:
মাজার এলাকায় অবস্থানরত একটি কুকুর বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ বা অস্বাভাবিক আচরণ করছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন কুকুরটি মাজার প্রাঙ্গণে আগত দর্শনার্থীদের ওপর আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। এটি এক শিশুকে কামড়ে দেয় এবং স্থানীয় কয়েকজনের ওপর হামলা করে। এমনকি কয়েকটি মুরগিও মেরে ফেলে। এর ফলে উপস্থিত লোকজন এবং দোকানিরা কুকুরটিকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে এবং তাড়ানোর চেষ্টা করে।
মানুষের তাড়া খেয়ে কুকুরটি দিঘির নারীদের ঘাট থেকে মূল ঘাটের দিকে দৌড়ে যায়। সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ফোরকান হাওলাদার নামে এক কর্মীর পায়েও কুকুরটি আঁচড় দেয়। ফোরকান তার পা ঝাড়া দিলে কুকুরটি ভারসাম্য হারিয়ে দিঘির পানিতে পড়ে যায়। ঠিক সেই মুহূর্তে দিঘির ঘাটের কাছে ওত পেতে থাকা স্ত্রী কুমিরটি দ্রুত এসে কুকুরটিকে কামড়ে ধরে পানির নিচে নিয়ে যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার যে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে, সেখানে কেবল শেষ অংশটি (কুমির কুকুরটিকে নিয়ে যাচ্ছে) দেখা যায়। এর ফলে অনেক নেটিজেন অভিযোগ করেন যে, কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কুকুরটির পা বেঁধে কুমিরের খাবার হিসেবে পানিতে ফেলে দিয়েছে।
তবে প্রত্যক্ষদর্শী এবং মাজার কর্তৃপক্ষ এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা জানান, কুকুরটি কোনো বাঁধন ছাড়াই পানিতে পড়েছিল এবং অসুস্থ হওয়ার কারণে সে নিজেকে রক্ষা করতে পারেনি।
ঘটনাটি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় বাগেরহাট জেলা প্রশাসন একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটি ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছে।
তদন্তের অংশ হিসেবে মাটিচাপা দেওয়া কুকুরটির মৃতদেহ তুলে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এর মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে যে কুকুরটি জলাতঙ্ক বা অন্য কোনো মারাত্মক রোগে আক্রান্ত ছিল কি না।
মাজার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দিঘিতে বর্তমানে একটি স্ত্রী কুমির রয়েছে। এটি খানজাহান আলী (রহ.)-এর আমলের সেই আদি কুমির নয়; ২০০৫ সালে ভারত থেকে আনা হয়েছিল। পূর্ণিমার সময় ডিম দেওয়ার কারণে কুমিরটি বর্তমানে কিছুটা বেশি হিংস্র বা আক্রমণাত্মক অবস্থায় ছিল। বর্তমানে স্থানীয় প্রশাসন ও মাজার কর্তৃপক্ষ দর্শকদের আতঙ্কিত না হওয়ার এবং যেকোনো তথ্য প্রচারের আগে যাচাই করে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।
সূত্র: বিবিস রিপোর্ট, বিভিন্ন পত্রিকা---