07/01/2026
ফিরে দেখা ২০২৫
গতকাল রাতে কাজ শেষ করে যখন ঘুমাতে যাব, তখন হঠাৎ একজনের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট সামনে এলো। তিনি ২০২৫ সালে কী কী করেছেন, তাঁর প্রাপ্তি আর ব্যর্থতার হিসেবগুলো তুলে ধরেছেন।
তখনই হঠাৎ মনে হলো আরে, ২০২৫ তো শেষ! আজ ২০২৬ সালের ৬ জানুয়ারি। নিজের অজান্তেই নিজেকে প্রশ্ন করলাম,
“গত একটা বছর আমি কী করলাম?”
পেছন ফিরে তাকিয়ে উপলব্ধি করলাম, ২০২৫ ছিল আমার জীবনের অন্যতম ব্যস্ততম, প্রোডাক্টিভ এবং চ্যালেঞ্জিং একটি বছর। লার্নিং আর ছোট ছোট সাফল্যের ভিড়ে এটি ছিল এক চরম মানসিক চাপের বছর।
অফিস ও টেকনিক্যাল জার্নি: নিজেকে ভেঙে গড়া
২০২৪ সালে ক্যারিয়ার শুরু করার পর থেকে দিনের ৮-৯ ঘণ্টা অফিসের পিছনে কেটে যায়। এই ২০২৫-এর শুরুতে যখন HR প্রজেক্ট নিয়ে কাজ শুরু করলাম, তখনই প্রথম বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লাম। Fingerprint Machine Integration করতে গিয়ে ঘাম ঝরাতে হয়েছে। অফিসের নেটওয়ার্কিং সেটআপ ছিলো Mikrotik-এ। অনেক প্যারা খাইছি এটা নিয়ে।
তারপর শুরু হয় deployment।
শুরুর দিকে দেওয়া হয় shared server
পোর্ট ব্লক, CPU limitation, নানা বাধা।
তারপর VPS server-এ।
এই জগৎটা তখন আমার জন্য পুরোপুরি নতুন ছিল।
কিছুই জানতাম না।
আর না জানার জায়গা থেকেই শুরু হয় সবচেয়ে বড় শেখাটা
VPS deployment, Docker, Nginx, CI/CD pipeline
নিজে নিজে রিসার্চ করে সব শিখেছি।
Server & deployment is a completely different world.
And once you enter, you never see software the same way again.
এরপর এলো অটোমেশন সফটওয়্যারের কাজ। ২০২১ সালে শেখা পাইথন আবার নতুন করে ঝালিয়ে নিলাম। Django-এর পাশাপাশি ফেসবুক, লিঙ্কডইন, ইনস্টাগ্রাম ইন্টিগ্রেশন এবং AI Chatbot Development-এর মতো অ্যাডভান্স সব কাজ হাতে-কলমে শিখলাম। Next.js, React, Prisma, Django , N8N, React Native এই সবকিছুর মিশেলে কাটল প্রজেক্টের পর প্রজেক্ট।
জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রুটিন ছিল অমানুষিক। সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা অফিস, এরপর বাসায় ফিরে একটু বিশ্রাম নিয়ে রাত ৮টা থেকে ১টা /২টা পর্যন্ত চলত Codex Devware -এর কাজ। ২০২৫ সালটি Codex-এর জন্য আশীর্বাদ ছিল। আমরা ভালো ক্লায়েন্ট প্রজেক্ট পেয়েছি, তৈরি করেছি School Management এবং POS Software + আর কয়েক একটা প্রোডাক্ট । তবে সবচেয়ে বড় তৃপ্তি দিয়েছে Clearance Software-টি, যা চট্টগ্রাম পলিটেকনিকে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ক্লিয়ারেন্স প্রক্রিয়া সহজ করে দিয়েছে।
নিজের শেখার আগ্রহ থেকে কিছু Product নিয়ে কাজ করেছি, যার মধ্যে Health Timeline প্রজেক্টটি খুব শীঘ্রই সামনে আসবে।
অ্যাকাডেমিক প্রেসার ও বর্তমান বাস্তবতা :
এর মাঝেই শুরু হলো ইউনিভার্সিটি লাইফ। সেখানে ভর্তির পর যেন শান্তির ইতি ঘটল! অ্যাসাইনমেন্ট শেষ হতেই ক্লাস টেস্ট, সেটা শেষ হতে না হতেই প্রেজেন্টেশন, তারপর মিড-টার্ম আর ফাইনাল। একের পর এক প্রেসারে মাথা পাগল হওয়ার দশা! পরীক্ষা শেষ হলো, রেজাল্টও দিল পাসও করলাম।
মনের কোণে জমে থাকা কিছু হাহাকার🙃
সব তো হলো। ক্যারিয়ার, পড়াশোনা, লার্নিং সবই তো ঠিক আছে। কিন্তু দিনশেষে আয়নার সামনে দাঁড়ালে একটা বিশাল শূন্যতা অনুভব করি।
আমার আসলে বয়স কত? এই তো ঘুরার বয়স, জীবনকে উপভোগ করার বয়স। অথচ পুরো বছরটা কাটল চার দেয়ালের ভেতর কোডিং আর সার্ভারের সাথে যুদ্ধ করে। পুরো বছরে একটা ভালো ট্যুর পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। ঢাকায় গিয়েছিলাম, তাও কাজে।
মাঝে মাঝে মনে প্রশ্ন জাগে—এই সময়গুলো কি আমি আর ফিরে পাব? নাকি শুধু পড়াশোনা, চাকরি, ক্যারিয়ার জীবনের আসল সাকসেস? মনের এক কোণে খুব আক্ষেপ হয়—সবই তো পাচ্ছি, কিন্তু নিজেকে দেওয়ার মতো সময়টুকু কি হারিয়ে ফেলছি না তো?
পোস্টটা অনেক লম্বা, তাও টাইমলাইনে রেখে দিলাম নিজের জন্য। ২০২৬ এর শেষে আবার মিলিয়ে দেখবো।