13/06/2025
-------------অনেকে পাহাড়ের সৌন্দর্য দেখেছেন, কিন্তু পাহাড়ের চোখ রাঙানি দেখেন নি----------------!
ফেসবুকে পার্বত্য অঞ্চলের প্রকৃতির সৌন্দর্য আর ঝর্ণার অপরুপ দৃশ্য দেখে যারা অ্যাডভেঞ্চার হেতু পাহাড়ে আসার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠেন,________ তাদের জানা দরকার....🤔
পাহাড়ের উঁচুনিচু পথ হেঁটে পাড়ি দেওয়ার মত আপনি শারিরীক ভাবে ফিট আছেন কিনা? পাহাড়ের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ( তীব্র দাবদাহ কিংবা বৃষ্টিতে) কতটুকু নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবেন? সেসব বিষয় ভেবে চিন্তে ভ্রমণ করা দরকার।
প্রতিবছর ভ্রমণ পিপাসু লোকজন পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণ করতে এসে কেউ স্টোকজনিত কারণে মারা যায়, কেউ পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে ভেসে গিয়ে মারা যায়, কেউ ঝিরিতে থাকা বড় বড় পাথরের সাথে ধাক্কা খেয়ে মারা যায়।
----মূল ঘটনায় আসা যাক--------
★গত ০৯/০৬/২০২৫ ইং তারিখ ৩৩ জনের একটা ট্যুর গ্রুপ আলীকদম হতে ক্রিসতং এবং রুংরাং পাহাড়ের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন। বিভিন্ন পাহাড়-পর্বত পাড়ি দিয়ে উনারা রাত ১১.০০ ঘটিকায় কেমচং পাড়ায় পৌঁছান। ওখানে আদিবাসী কোন একজনের বাড়িতে রাত্রীযাপন করেন। পরেরদিন ১০/০৬/২০২৫ ইং তারিখ বিভিন্ন পাহাড় এবং পাহাড়ে অবস্থিত আদিবাসীদের পাড়ায় ঘুরাফেরা শেষে পুনঃরায় কোন এক পাড়ায় রাত্রীযাপন করেন।
★ এর পরের দিন অর্থাৎ ১১/০৬/২০২৫ ইং তারিখ ৩৩ জন টুরিস্ট এর মধ্যে ১২ জন টুরিস্ট পাহাড়ের আরো গভীরে যাওয়ার জন্য আলাদা হয়ে যায়। বাকি ২১ জন টুরিস্ট আলীকদমে ফিরে আসার সময় পথিমধ্যে প্রকৃতির সুন্দর রুপ দেখতে দেখতে শামুক ঝর্নায় হাত- মুখ ধুয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় ২১ জনের মধ্যে ০৩ জন ছবি উঠানোর জন্য থেমে যায়।
★০৩ জন টুরিস্টদের মধ্যে ০১ জন টুরিস্ট ঢাকায় বেসরকারী কোন এক কোম্পানীতে জব করেন যার পাহাড় সম্পর্কে কোন ধারণা কিংবা অভিজ্ঞতা নেই বললেই চলে। নাম জুবাইরুল। বাড়ি নড়াইল জেলায়। বাকী ০২ জনের মধ্যে ০১ জন ট্যুরের কো-হোস্ট। নাম তার হাসান। বাড়ি ফেনী। অন্য জনের নাম স্মৃতি। ময়মনসিংহে বাড়ি। হাসান আর স্মৃতি একে অপরের বন্ধু। তাদের কাছে আইফোন থাকায় কো-হোস্ট হাসান এবং তার বান্ধবী স্মৃতির কিছু ছবি তুলে দিতে বললে উনারা ০৩ জন কিছুটা সময় ওখানেই পার করেন। ততক্ষণে বাকি ১৮ জন আস্তে আস্তে ঝিরি পথ ধরে এগিয়ে যেতে থাকে সামনের দিকে।
★একপর্যায়ে তুমুল ধারায় বৃষ্টি শুরু হয়। ১৮ জন হাঁটার গতি বাড়িয়ে দিয়ে একটা উঁচু জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে থাকে পেছনে থাকা ০৩ জনের জন্য। অপেক্ষা আর শেষ হয় না!
ততক্ষণে পাহাড় চোখ রাঙানি শুরু করে দেয়।
প্রায় ৩০ মিনিট বৃষ্টিতে ভিজে অপেক্ষা করার পরও ০৩ জন আসার কোন আভাস না পেয়ে ১৮ জন লোক হতে ৩/৪ জন লোক ওনাদের খুঁজতে যান এবং গিয়ে দেখেন যেখানে পায়ের গোড়ালী পর্যন্ত পানি ছিল সেখানে বুক সমান পানি এবং ০৩ জনকে দেখতে পাচ্ছে না, অনেক ডাকাডাকির পরও কোন সাড়া-শব্দ না পেয়ে পানি বেড়ে যাওয়ার কারণে ওরা ৩/৪ জন ফিরে যায় এবং জোঁকের কামড় সহ বিভিন্ন বিষাক্ত পোকামাকড় এর কামড় থেকে বাঁচতে একটা বড় পাথরের উপর আশ্রয় নেয়।
★প্লাবনে নিমজ্জিত কোন ব্যক্তি যেমন বৃক্ষকে আঁকড়ে ধরে বাঁচার চেষ্টা করে ঠিক তেমনি ওরা ১৮ জন একে অপরকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে পাথরের উপর বসে থাকে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে রাত আসে! এদিকে পাহাড়ি ঢলের তীব্রতাও বেড়ে যায়। চারিদিকে অন্ধকার! ঝিঁঝি পোকার শব্দ আর পাহাড় বেয়ে নেমে আসা শো-শো পানির শব্দ! তারা কোন পথ চিনে না। এদিকে কো- হোস্ট নিখোঁজ! প্রতি দশ মিনিট অন্তর-অন্তর তাদের হাতে থাকা লাঠি দিয়ে পানি পরিমাপ করতে থাকে। রাত যেন শেষ হতেই চায় না। “রাত বাড়ছে--- হাজার বছরের পুরনো সেই রাত”...........
অতঃপর, অজানা আশংকায় রাত কেটে যায়। ভোরের আলোর দেখা মিলে। পানিও ততক্ষণে কমে যায়।
পরে আরেকটা ট্যুর গ্রুপের সহায়তায় ওরা ১৮ জন আলীকদম চলে আসে।
আরো কিছুক্ষণ বৃষ্টি হলে পাথরের উপর দিয়ে হয়তো পানি চলে আসত! তখন ১৮ জনের সবাই ভেসে যেত😢 ভাগ্যিস! সৃষ্টিকর্তা সহায় ছিল!🤲
★১২/০৬/২৫ ইং তারিখ ভোরে মাতামুহরী নদীতে জুবাইরুল হকের লাশ পাওয়া যায়।
★১৩/০৬/২৫ ইং তারিখ স্মৃতি নামের মহিলাটিরও লাশ মাতামুহুরী নদীতে পাওয়া যায়।
এখনো পর্যন্ত ট্যুর গ্রুপের কো- হোস্ট হাসান নিখোঁজ।
হাসানকে খুঁজতে আলীকদম থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস,সেনাবাহিনী,বিজিবি সকলে সম্মিলিত চেষ্টা করে যাচ্ছে।
দেখা যাক সর্বশেষ নিখোঁজ ব্যক্তির ভাগ্যে কী আছে!😞