30/11/2025
পীর-মুর্শিদের সাথে মুরিদের রূহানী সম্পর্ক তৈরির উপায় ও মহান আল্লাহ পাক পর্যন্ত পৌঁছানোর অতি সংক্ষিপ্ত রাস্তা!
পীর-মুর্শিদের সাথে মুরিদের রূহানী সম্পর্কের তিনটি স্তর রয়েছে, যথাঃ
★এক- তাসাউরে শায়েখঃ সবসময় পীরের চেহারা মুবারক ধ্যান করা। এটার মাধ্যমে মুরিদের ক্বলবে পীরের প্রতিচ্ছবি মজবুত হয় এবং রূহানী স্তরে উন্নতি লাভ করে।
গাউসে জমান আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ কেবলা (রা.) বলেন,
❝শায়খ বা পীর মুর্শিদের প্রতিচ্ছবি মুরীদের হৃদয়ে যতবেশি মজবুত হবে, রূহানী স্তরসমূহ ততবেশি দ্রুত অতিক্রম করবে।❞
★দুই- রাবেতায়ে শায়েখঃ পীরের অনুপস্থিতিতে মুরীদ তাজিম ও মহব্বতসহকারে তাঁর গুনাবলীকে সামনে রেখে ধ্যান করা। এটার মাধ্যমে পীরের উপস্থিতিতে যে ফায়দা হাসিল হয়, অনুরূপভাবে অনুপস্থিতিতেও একই ফায়াদা হাসিল করা সম্ভব হয়।
প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ হযরত শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দেস দেহলভী (রা.) বলেন,
❝পীরের ধ্যান করতে হবে। রাবেতায়ে শায়খ মানে হলো পীর সাহেব যখন মুরিদ থেকে দূরে থাকেন তখন মুরিদ তাজিম ও মহব্বতে তাঁর গুণাবলিকে সামনে রেখে পীরের ধ্যান করলে তাঁর সোহবতে থাকার ন্যায় ফয়েজ ও বরকত লাভ করতে সক্ষম হয়।❞
★তিন- ফানাফিশ শায়েখঃ মুরিদ তার চাল চলন ও যাবতীয় সবকিছুতে পীরের নির্দেশ ও সন্তুষ্টির প্রতি পরিপূর্ণ আনুগত্য প্রকাশ করে। মুরিদ পীরের সত্ত্বায় বিলীন হয়ে যায় এবং মুরিদের মধ্যে পীরের প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠে।
কুতুবুল আউলিয়া আল্লামা সৈয়্যদ আহমদ শাহ সিরিকোটি (রা.) বলেন,
❝ফানা ফিশ্ শায়খ’র স্তর অত্যন্ত প্রিয় ও তরীকতপন্থীর অভীষ্ট লক্ষ্যও। কামিল শায়খ (পীর)'র স্থান জাবারূত স্তরে উন্নীত। ওই স্তরে কামিল পীর মহান আল্লাহর গুণাবলীর জুব্বা পরিধান করে থাকেন। হ্যাঁ, ঐ স্তরের কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছেন হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম’র মহান সত্ত্বা। অর্থাৎ তিনি আল্লাহর প্রথম নূর, অন্যসবকিছু তাঁর নূরের অনুকণা।❞
তিনি আরো বলেন,
❝যতক্ষণ ফানাফিশ শায়েখ এর মক্বাম অর্জিত হবে না, ততক্ষণ হুজুর পাক ﷺ'র নৈকট্য অর্জন এবং হুজুর করিম ﷺ'র দিদার লাভ করাও অসম্ভব।❞
গাউসে জমান আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ কেবলা (রা.) উপরোক্ত বানীর ব্যাখ্যায় বলেন,
❝ফানাফিশ শায়েখের মক্বামের সাথে ফানাফির রাসুলের মক্বাম আর এর সাথে হচ্ছে ফানাফিল্লার মক্বাম। (আল্লাহ তা'আলাকে পাওয়ার) এটা অতি সংক্ষিপ্ত রাস্তা।❞
সূফিদের আদর্শ প্রতীক মাওলানা জালাল উদ্দিন রুমী (রা.) বলেন,
❝ছোঁ কেহ্ জাতে শায়খ রা করদী কবূল
দা’ খোদা দর জাতশ আমদ হাম রসূল।❞
অর্থাৎ যে ব্যক্তি পীরের সত্ত্বাকে কবূল করেছে, (পীরের সত্ত্বায় নিজেকে বিলীন করেছে) তাঁর সত্ত্বায় আল্লাহ্ ও তাঁর প্রিয় রসূলের ফয়েজ তার প্রতি বর্ষিত হবে।
মোটকথা, পীর মুর্শিদের সোহবতে থেকে তাসাউরে শায়খের মাধ্যমে রাবেতায়ে শায়েখের মক্বামে পৌঁছে ফানাফিশ শায়েখের মক্বাম হাসিল করতে হবে। ফানাফিশ শায়েখ হওয়ার মাধ্যমে ফানাফির রাসুলের মক্বাম আর ফানাফির রাসুলের মাধ্যমে ফানাফিল্লার মকাম হাসিল করা সম্ভব হবে। মহান আল্লাহকে পাওয়ার অসংখ্য মাধ্যম রয়েছে, এরমধ্যে আল্লাহ পাক পর্যন্ত পৌঁছানোর এটাই অতি সংক্ষিপ্ত রাস্তা। মহান আল্লাহ পাক আমাদেরকে সেই মহান মক্বাম হাসিল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।