10/08/2021
বাংলাদেশের বেকারত্ব সমস্যা ও প্রতিকারঃ
বেকারত্ব কি?
বেকার সমস্যা বলতে আমরা বুঝি কোন দেশের জনশক্তির তুলনায় কর্মসংস্হানের কমতির ফলে সৃষ্ট সমস্যা।দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বেকারত্বের হার বাংলাদেশেই বেশি। ২০১০ সালের পর থেকে প্রতিবেশী দেশ শ্রীলঙ্কা এবং ভুটান এ হার কমিয়ে এনেছে কিন্তু ভারতে স্থিতিশীল রয়েছ , তবে বেড়েছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও নেপালে।
কেন এই বেকারত্ব?
আসুন আমরা জানার চেষ্টা করি বেকারত্ব নামের এই অভিশাপের পেছনে লুকিয়ে থাকা কারণ গুলো।
১.জনসংখ্যা বৃদ্ধিঃ
আমাদের দেশের আয়তনের তুলনায় জনসংখ্যার হার খুব বেশি। আর সেই তুলনায় কর্ম-সংস্থানের ততোটা সুব্যবস্হাও নেই । যার কারণে অনেক সময় আমাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা বা কারিগরি শিক্ষা থাকা সত্ত্বেও কাজের সুযোগ হয়ে ওঠে না।
২.প্রযুক্তির উন্নয়নঃ
বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তির বিশ্ব।পৃথিবী যতো এগোচ্ছে তার সাথে এগোচ্ছে প্রযুক্তির উন্নয়ন। আর মানুষকে করে ফেলছে অলস। যখন কোনো একটা কাজ করতে ৫ জন বা ১০ জন মানুষের প্রয়োজন হতো ,প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে সেই কাজ এখন ১ জন বা ২ জন করতে পারেন । এবং পুর্বের থেকে কম সময় ব্যয় করে। যার কারনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা কলকারখানায় জনবল কম প্রয়োজন হয় আর বেড়ে যায় বেকারত্বের সংখ্যা।
৩.দুর্নীতিঃ
যেকোনো দেশের উন্নয়নের পথের একমাত্র বাধা হচ্ছে দুর্নীতি। বাংলাদেশে দুর্নীতি হল একটি চলমান সমস্যা।
এছাড়াও বাংলাদেশ ২০০৫ সালে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল কর্তৃক প্রকাশিত তালিকায় পৃথিবীর তৎকালীন সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে স্থান লাভ করে এবং যার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩ তম।
এ অবস্থায় কোন একটা চাকরির জন্য প্রতিযোগিতা করতে গেলে তাতে মোটা অংকের টাকা তথা ঘুষ প্রদান করতে হয়। এক্ষেত্রে যাদের টাকা আছে তাদের হয়তো চাকরি হচ্ছে যোগ্যতার হিসাব ব্যতীত আর যাদের যোগ্যতা আছে কিন্তু টাকা নেই তাদের চাকরি হচ্ছে না।
যেই দেশের ২০ শতাংশের বেশি মানুষ দারিদ্র সিমার নিচে বসবাস করে তাদের জন্য ঘুস দিয়ে চাকরি পাওয়াটা ও অনেক কষ্টের। আর এই টাকা না দিতে পারলে তার নাম চলে যায় বেকারের খাতায়।
৪.রাজনৈতিক অস্থিরতাঃ
বেকারত্বের পিছনে রাজনৈতিক অস্থিরতা খুব বিরূপ প্রভাব ফেলে। দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্হা যদি সুষ্ঠ না থাকে তাহলে দেশে কলকারখানা ঠিক মতো গড়ে ওঠেনা । যার ফলে বেকারত্বের সৃষ্টি হয় এবং বিদেশি বিনিয়োগ কমে যায় ও বিদেশি কোম্পানি গুলো কাজ করতে অনার্গহ দেখায়। ফলে কর্মসংস্হানের অভাবে মানুষ বেকার বসে থাকে। আর এই পরিস্থিতি দিন দিন বেড়েই চলছে।
৫.মূলধনের অভাবঃ
আমাদের দেশে দারিদ্র্য সিমার নিচের মানুষের হার ২০.৫ শতাংশ। যার মধ্যে ১০.৫ শতাংশ মানুষ অতি দারিদ্র্য সিমার নিচে বসবাস করে। আমাদের দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় খুব কম। যার কারনে সঞ্চয়ের হার ও খুব কম।মুলধন সংগ্রহ না হওয়ার দরুন যুবসমাজ উদ্যোগ গ্রহন করতে পিছিয়ে যায় আর যার ফলে চাপ পড়ে চাকরির বাজারে। মুলধন সংগ্রহ না করতে পারাটাও বেকারত্বের অন্যতম কারন।
আর এই বেকারত্বের প্রভাব দিনে দিনে বৃদ্ধির ফলে অসামাজিক ও অনাচার এবং যৌতুক প্রথার রীতিনীতি বহু গুণ বেড়ে যাচ্ছে।
প্রতিকারঃ
সমস্যা যেটাই হোক না কেন প্রতিটা সমস্যারই সমাধান আছে । হয়তো সেটা একদিনেই আসবে না কিন্তু চেষ্টা করলে অচিরেই সমাধান আসবে এই সমস্যার।
১. শিক্ষা ব্যবস্থাঃ
শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে হবে।যাতে শিক্ষার্থীরা আধুনিক এবং কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারে।
২.আত্মনির্ভরশীলঃ
শিক্ষিত বেকার যুবকদের প্রশিক্ষনের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলা যেতে পারে এবং তাদের মুলধনের জন্যে সরকারি ও বেসরকারি ঋণের ব্যবস্হা করা যেতে পারে।
৩. কর্মসংস্থান সৃষ্টিঃ
ভূমির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে নতুন নতুন শিল্প এলাকা গড়ে তোলা যেতে পারে। যার ফলে বেকার যুবকদের কর্মসংস্হানের সুযোগ হবে।
৪. প্রশিক্ষণঃ
বিভিন্ন সরকারি কিংবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এর মাধ্যমে শিক্ষিত বেকার যুবকদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কৃষি ও কুটিরশিল্পের উপর, গবাদিপশু পালন,মৎস চাষ ইত্যাদি বিষয়ে সেমিনার ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
সর্বপরি বলা যেতে পারে সরকারি বেসরকারি এবং সর্বস্তরের মানুষের উদ্যোগ গ্রহন এবং সচেতনতাই পারে আমাদের এই সমস্যার হাত থেকে পরির্তান দিতে।