01/11/2025
বাংলাদেশে কোনো ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ভবন ধস বা শিল্প দুর্ঘটনার পর কখনো কি কোনো মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, মেয়র, প্রকৌশলী বা সরকারি কর্মকর্তাকে জবাবদিহিতার কাঠগড়ায় দেখা গেছে? আমরা ভুলে যাই, নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা কোনো দয়া নয়— এটা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব।
উন্নত দেশে সরকারি কর্মকর্তা বা আমলাদের দেখা হয় রাষ্ট্রের গোলাম হিসেবে। কিন্তু আমাদের দেশে অনেক কর্মকর্তা নিজেদেরকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যান, যেন তারা “আউলিয়া”!
তুরস্কের একটা সাম্প্রতিক ঘটনা বলি। দেশটির একটি জনপ্রিয় স্কি রিসর্ট হোটেলে গত জানুয়ারিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৭৮ জন নিহত ও ১৩৩ জন আহত হওয়ার পর রাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।
ঘটনাটির তদন্ত শেষে মোট ৩২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। আনাদোলু এজেন্সি ও বলু পাবলিক প্রসিকিউটরের ৯৮ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে দেখা যায়, ১৩ জনের বিরুদ্ধে ‘সম্ভাব্য অভিপ্রায় নিয়ে হত্যা বা আহত করার’ অভিযোগ, যার শাস্তি সর্বোচ্চ ১,৯৯৮ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড! আর বাকি ১৯ জনের বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যু বা আঘাতের অভিযোগ, যার শাস্তি সাড়ে ২২ বছর পর্যন্ত কারাবাস হতে পারে।
সরকার এই মামলাকে এতো গুরুত্ব দেয় যে, শহরটির একটি স্পোর্টস সেন্টারকে ৭০০ আসনের আদালতে রূপান্তর করে বিচার শুরু করা হয়েছে।
এবার আসি সবচেয়ে মজার অংশে। বিচারের মুখোমুখি কারা হচ্ছেন, জানেন? হোটেলের মালিক বিখ্যাত টারকিশ ব্যবসায়ী হালিত এরগুল, তার স্ত্রী ও কন্যাসহ বোর্ডের সদস্য, ব্যবস্থাপক, দেশটির শীর্ষ সরকারি ব্যক্তিবর্গ, সেই অঞ্চলের ডেপুটি মেয়র, ডেপুটি ফায়ার চিফসহ ক্ষমতাবান আরো অনেকে। অর্থাৎ সেখানে কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা প্রভাবশালী ব্যক্তি দায় এড়িয়ে যেতে পারেননি।
বাংলাদেশে আমাকে এমন একটা উদাহরণ দেখান।
© Dawood Arman