22/04/2026
সিআরবি থাকুক তার ঐতিহ্য নিয়ে ; বৃক্ষ আচ্ছাদিত প্রাকৃতিক মৌনতায়
খুব বেশীদিন আগে নয় ! আমাদের সময়কালের করুণ গাঁথা! চোখের সামনেই দেখলাম লন্ডভন্ড হচ্ছে এশহর ! প্রাচের রানী নাকি আখ্যা ছিল এ শহরের। Zaytoon Premium Spices-জাইতুন প্রিমিয়াম মসলা
৬০ দশকেই শুরু কথিত য়থেচ্ছ উন্নয়ন! দেখলাম বুলডোজার, এক্সেভেটর, ড্রিলিং , লোডারের মতো দৈত্যকায় যানগুলো সাবাড় করছে একের পর এক পাহাড় টিলা! অভিজাত কুলশি হিলস্ , নাসিরাবাদ ও আর নিজাম রোডের দু’পাশ সমতল করে ফেলল্লো! ১৯৬৮ সালে আমি নিজ ক্যামেরায় নাসিরাবাদে স্কেভেটারে পাহাড় কাটার ছবি তুলেছি, ঘাটাঘাঁটি করলে হয়তো ব্ল্যাক এন্ড হোয়াটে তোলা ১২০ মিমি ২/১ টি ছবিও পেয়ে যাবো!
১৯৫৮ তে মার্শাল ল’ জারীর পর আয়ুব খানের শাসনামলের প্রায় শুরুতেই ( ১৯৫৯) চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ( সিডিএ) যাত্রা। স্বৈরশাসকদের ঐ একই রব! উন্নয়নের ধাপ্পা, ‘উন্নয়ন দিচ্ছি মুখ বন্ধ রাখ’! সেই শুরু চট্টগ্রামে ম্যাসিভ পাহাড় কাটা! কুলশি নাসিরাবাদ থেকে বায়েজিদ বোস্তামী ছেড়ে জালালাবাদ হিলস হয়ে হাটহাজারী পর্য়ন্ত। মুক্তিযুদ্ধের পর আবার শুরু !
হাঁ করে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখলাম , মেহদি বাগের সংলগ্ন কমনওয়েলথ ওয়ার সেমিস্ট্রীর ওপার (পশ্চিম ) মনমোহন সেগুন বাগান সাবাড় করে নিলো (১৯৭৬-৭৮। নিজ কর্ণে পাশের সেনাকল্যান সংস্থার ভবন থেকে হরিণের ডাক শুনতাম। এর মধ্যে বিচ্ছিন্ন শোর উঠলো ; যথেচ্ছভাবে পাহাড় কর্তন ঠেকানো হোক! পরে সম্ভবত ৮৪ সালে দৈনিক ইত্তেফাকে আমার একটি বিশেষ রিপোট ও তার উপর সম্পাদকীয়ের ভিত্তিতে সংসদে পাহাড় কাটা নিয়ে কথা উঠে । এরই পরিপ্রেক্ষিতে ভূমি মন্ত্রনালয় প্রথমে এসআরও জারী করে এবং পরে সংসদে আইন পাশ হয়। কিন্তু তা সত্বেও প্রশাসনের প্রতি বৃদ্ধংগুষ্টি দেখিয়ে সমানে চলে পাহাড় নিধন যজ্ঞ । তৎসময়ে চট্টগ্রাম শহর বক্ষে অন্যতম সুদৃশ্য সড়ক এলাকা ছিল,সার্সন রোড, বাদশা মিয়ারোড এবং চট্টেশ্বর রোড। সড়কগুলোর মাঝে মেডিকেল কলেজ হোস্টেল ঘেঁষে ‘ গোয়াছি বাগান’ থেকে ফিনলে হিলস । এই পাহাড়ী ও উঁচুভূমি গুলো নিমেষেই ( ১ পক্ষকালের কম সময়ে) ছাফ ছুফ করে দেয় । তেমনি খুব অল্প দিনের মধ্যে সিডিএ’র অনুমতিতে তা প্লট ভিত্তিক অভিজাত হাউজিং হয়ে উঠে মার্কিনি নামে। বেভারলি হিলস হাউজিং এস্টেট।
এসব কোন প্রাগৈতিহাসিক ঘটনা নয় । আজ যারা আমরা সিআরবি নিয়ে সোচ্চার তাদেরই তারুণ্য বা সক্ষম সময়ের হাল ঘটনা।
আমরা চোখ একদিকে নিবন্ধ রেখেছি! কিভাবে শহরের উত্তর পশ্চিমে কিভাবে পাহাড়- পরিবেশ নিয়ে দস্যিপনা চলছে , মধ্যান্চল ও পূবে ঢালু - সমতলে নালা নর্দমা , খাল বিল .পুকুর দীঘি ভরাট - দখল অবিলিলীক্রমে চলেছে তা তো তেমন কারো নজরে আসেনি । পরিবেশবাদীদের মৌন ভূমিকায় বিস্মিত ছিলাম ।
সে সব প্রতিকারে এমনকি একটা মিছিল - সমাবেশ হয়েছে _এমন নজির কই ! মাঝে ৯০ দশকে অবশ্য বিচ্ছিন্নভাবে কেবল চাক্তাই খাল নিয়ে কিছু হাঁকডাঁক হয়েছিলো । তারপর সব নিশ্চুপ।
শেষ কথা ঃ সিআরবি তার ঐতিহ্য নিয়ে থাকুক । বৃক্ষ আচ্ছাদিত প্রাকৃতিক মৌনতায় ! যে বিশাল নান্দনিক স্থাপনা রয়েছে তার যুক্তিযুক্ত ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হোক । মেলা- খেলা , ভ্যান বাজার, হকার মার্কেট নয়!
লেখক : —ওসমান গনি মনসুর
ছবি: Kamal Maashad