19/11/2025
রিয়াজ একজন তরুণ স্থপতি। তার প্রতিভা নিয়ে কেউ সন্দেহ করত না—কলেজে সে যেসব মডেল বানাত, সেগুলো শিক্ষকরা প্রদর্শনীতে রাখতেন।
কিন্তু চাকরি জীবনে এসে সে যেন অদৃশ্য হয়ে গেল।
কাজ করে, ডিজাইন পাঠায়, কিন্তু বড় কোনো ক্লায়েন্ট তার দিকে তাকায় না।
সে নিজের ব্যর্থতার দায় নিজের ওপরই চাপায়।
“হয়তো আমার কাজ ভালো না। হয়তো আমি ততটা মেধাবী নই।”
এক রাতে বাসায় পুরোনো ড্রয়ার ঘাঁটতে গিয়ে সে একটা অদ্ভুত নোট পেল—
এটি তার বাবার রেখে যাওয়া হাতে লেখা চিরকুট।
চিরকুটে লেখা—
“নকশা কখনো একা দাঁড়ায় না। নকশার চারপাশে গল্প থাকে—মানুষ সেই গল্পটাই দেখে।”
রিয়াজের মনে পড়ল—তার বাবা ছিলেন গ্রামের একজন কাঠমিস্ত্রি। সাধারণ কারিগর হলেও তার তৈরি প্রতিটি দরজা-জানালায় ছোট করে লেখা থাকত গল্পের নাম—“বসন্তের আলো”, “পথিকের দাওয়াত”, “প্রতীক্ষার জানালা”।
মানুষ সেই নাম শুনেই তার কাজে আগ্রহী হতো।
রিয়াজকে বেশ উৎফুল্ল দেখাচ্ছে, সে কিছু একটা খুঁজে পেয়েছে।
পরদিন সে পুরোনো একটি ডিজাইন তুলে নিল—একটি ছোট লাইব্রেরির নকশা।
এবার সে নকশার জন্য একটি গল্প লিখল:
“গ্রামের শিশুরা যাদের বইয়ের গন্ধ জানা নেই—এই ডিজাইনটি তাদের জন্য।”
তারপর সে গল্পসহ নকশাটি আর্কিটেক্ট কমিউনিটিতে পাঠাল, শুধু নিজের দক্ষতা নয়—ডিজাইনের উদ্দেশ্যের কথাও জানাল।
অবিশ্বাস্যভাবে—
তিন দিনের মধ্যে এক আন্তর্জাতিক এনজিও যোগাযোগ করল। তারা ঠিক এমন একটি ছোট লাইব্রেরি প্রকল্প চালু করতে চাইছিল।
রিয়াজকে তারা প্রধান ডিজাইনার হিসেবে নিয়োগ দিল।
রিয়াজ অবাক হয়ে বললেন—
“আমার নকশা তো সবসময়ই ভালো ছিল… পরিবর্তন হলো শুধু এটুকু যে এবার মানুষ দেখতে পেল।”
সেদিন রাতে বাবার পুরোনো চিরকুটটি আবার হাতে নিয়ে রিয়াজ বুঝলেন
"কাজ যতই নিখুঁত হোক, যদি মানুষের চোখে না পৌঁছায়, তবে সেটি কেবল ড্রয়ারে আটকে থাকা এক ভুলে যাওয়া নকশাই হয়ে থাকে।"
—
আপনার প্রতিষ্ঠানের গল্প তৈরিতে আমরা
আপনার সাথে আছি।
www.mdriyadhkaisar.com
01819-943867
Email: [email protected]