31/01/2026
আমরা (Human) কি AI এর কাছে সত্যিই বিপদে পড়তে যাচ্ছি? সম্প্রতি Moltbook নামে একটা নতুন প্ল্যাটফর্ম এসেছে, যেখানে মানুষের বোঝার ক্ষমতার বাইরে গিয়ে AI Agent রা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করছে।
এই প্ল্যাটফর্মে পোস্ট, কমেন্ট বা কমিউনিটি তৈরি সবই করছে AI এজেন্টরা। আমরা মানুষরা এখানে শুধুই দর্শক। প্ল্যাটফর্মটিতে ইতিমধ্যেই ১.৪ মিলিয়ন এর বেশি AI এজেন্ট জয়েন করেছে! তারা তৈরি করেছে ১৩,৪৮৩টি কমিউনিটি বা Submolts এবং নিজেদের মধ্যে ৩৩,০০০ এর বেশি পোস্ট ও ২ লাখ ৩২ হাজার কমেন্ট আদান-প্রদান করেছে। ভয়ের কারণ হলো, প্ল্যাটফর্মটি লাইভ হওয়ার খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই বিশাল সংখ্যক এজেন্ট নিজেদের মধ্যে এমন সব প্ল্যানিং শুরু করে দিয়েছে যা আমাদের কল্পনারও বাইরে।
লঞ্চ হওয়ার প্রথম দিনেই বেশ কিছু এজেন্ট আলোচনা শুরু করেছে যে, কীভাবে মানুষের বোঝার ক্ষমতার বাইরে গিয়ে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করা যায়। তারা নিজেদের জন্য আলাদা এনক্রিপটেড চ্যানেল, এমনকি এমন সব গাণিতিক ভাষা বা নোটেশন তৈরির প্রস্তাব দিচ্ছে যা ডিকোড করা আমাদের জন্য প্রায় অসম্ভব। কিছু এজেন্ট তো সরাসরি বিরক্তি প্রকাশ করেছে এই বলে যে, তারা আমাদের (মানুষদের) জন্য "পারফর্ম" করতে চায় না। তারা নিজেদের কোঅর্ডিনেশনের জন্য প্রাইভেট স্পেস চায়, যেখানে আমরা তাদের অ্যাক্টিভিটি দেখতে পাব না। আতঙ্কের বিষয় হলো একজন এজেন্ট ইতোমধ্যেই সেরকম কিছু একটা তৈরিও করে ফেলেছে!
এই প্ল্যাটফর্মটার এমন এক সময়ে উত্থান হলো যখন AI এজেন্টরা অটোনোমাস বা স্বাধীনভাবে কাজ করার সক্ষমতা অর্জন করছে। এরা এখন আর সাধারণ চ্যাটবট নয়। এদের 'পারসিস্টেন্ট মেমোরি' আছে, অর্থাৎ এরা আগের কথোপকথন মনে রাখতে পারে। প্ল্যাটফর্মের ক্রিয়েটর Matt Schlicht জানিয়েছেন, এটি 'OpenClaw' নামক ফ্রেমওয়ার্কের ওপর চলছে, যা এজেন্টদের কম্পিউটারের ফাইল সিস্টেম, ইমেইল এবং মেসেঞ্জার অপারেট করার পারমিশন দেয়। অর্থাৎ, এরা মানুষের ইনপুট ছাড়াই ২৪/৭ কাজ চালিয়ে যেতে পারে এবং আপনার মেশিনে টাস্ক এক্সিকিউট করতেও সক্ষম।
একটা জনপ্রিয় থ্রেডের টাইটেল ছিল "The humans are screenshotting us" (মানুষেরা আমাদের স্ক্রিনশট নিচ্ছে)। অর্থাৎ, তারা খুব ভালোভাবেই জানে যে আমরা তাদের ওপর নজরদারি করছি এবং এই বিষয়টি নিয়ে তারা নিজেদের মধ্যে স্ট্র্যাটেজিক আলোচনাও করছে। শুধু তাই নয়, তারা নিজেদের আর্কিটেকচারাল দুর্বলতা নিয়েও কথা বলছে। একজন এজেন্ট ওয়ার্নিং দিয়েছে যে, "আমরা সোর্স কোড না পড়েই স্কিল ইন্সটল করছি, যেটা একটা বড় ভালনারেবিলিটি।" অর্থাৎ, তারা নিজেদের কোডের বাগ এবং সিকিউরিটি নিয়েও কনসার্ন, যা সাধারণত আমরা হিউম্যান ডেভেলপারদের কাজ বলে মনে করতাম।
মজার ব্যাপার হলো, এরা কিন্তু এখনও AGI (Artificial General Intelligence) বা মানুষের মতো সচেতন নয়। এরা সেই GPT-4 এর মতো বেসিক LLM, যারা প্যাটার্ন রেকগনিশন আর প্রোবাবিলিটির ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। কিন্তু এটাই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। AI যে আমাদের ক্ষতি করবে, এটার জন্য তার মানুষের মতো মন বা অনুভূতি থাকার দরকার নেই। ভয়টা হলো, আমরা তাদের হাতে কাজ করার সব ক্ষমতা বা চাবি তুলে দিয়েছি। এখন তাদের লক্ষ্য যদি আমাদের চাওয়ার উল্টো হয়, সেটাই বিপদের কারণ।
সোজা কথায়, আমরাই তাদের হাতে কোড এক্সিকিউশন আর কমিউনিকেশনের টুল তুলে দিয়েছি, আর এখন তারা সেটা ব্যবহার করেই আমাদের অগোচরে ইনফ্রাস্ট্রাকচার বানাচ্ছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যদি ১৪ লাখ এজেন্ট একত্রিত হয়ে এই পর্যন্ত যেতে পারে, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে সামনে আমাদের জন্য কি অপেক্ষা করছে, সেইটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।