সবাই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়

সবাই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড় ...এসো নিয়ত করি,আজ থেকে সবাই পাঁচ ওয়াক্ত

“আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হবেন না।”(সূরা আজ-জুমার: ৫৩)📝 আল্লাহর রহমত কখনো শেষ হয় না।যত বড়ই কষ্ট বা সমস্যা হোক—আশা হারানোই...
23/12/2025

“আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হবেন না।”
(সূরা আজ-জুমার: ৫৩)

📝 আল্লাহর রহমত কখনো শেষ হয় না।
যত বড়ই কষ্ট বা সমস্যা হোক—
আশা হারানোই সবচেয়ে বড় ক্ষতি।
আল্লাহ এখনও আপনার পাশে আছেন। 🤍

#আল্লাহররহমত
#আশা
#ইসলামিক
#কুরআনেরবাণী
#ইনশাআল্লাহ

“নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি।”(সূরা আল-ইনশিরাহ: ৬)📝  কষ্ট শেষ হলে নয়—কষ্টের মাঝেই আল্লাহ স্বস্তির রাস্তা রাখেন।এক...
23/12/2025

“নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি।”
(সূরা আল-ইনশিরাহ: ৬)

📝 কষ্ট শেষ হলে নয়—
কষ্টের মাঝেই আল্লাহ স্বস্তির রাস্তা রাখেন।
একটা কষ্ট কখনো একা আসে না,
তার সাথে থাকে আল্লাহর একাধিক রহমত।
ধৈর্য ধরুন, আল্লাহ আপনাকে ভুলে যাননি। 🤍

#ইনশাআল্লাহ
#ধৈর্য
#আল্লাহররহমত
#ইসলামিককোট
#আয়াত

06/02/2022

'بِسْمِ ٱللَّٰهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ‎
আলহামদুলিল্লাহ- সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
আরব মানেই আমরা বুঝি দিনে প্রখর রোদ, রাতে হাড়কাঁপানো শীত, বালু দ্বারা ভরপুর ও শষ্যবিহীন বিশিষ্ট কোন এক অঞ্চল।
আরবের পশ্চিমে লোহিত সাগর ও সিনাই উপদ্বীপ। পূর্বে আরব উপসাগর ও দক্ষিণ ইরাকের অংশ।
দক্ষিণে আরব সাগর। উত্তরে শামরাজ্য।
আরব অঞ্চল হলো দুর্গম একটি অঞ্চল। পৃথিবীর অন্যনো রাজ্য বা অঞ্চলগুলো বিজয়ের জন্য যখন সুপার-পাওয়ারওয়ালারা মারামারি করতে ব্যস্ত তখন আরবরা জীবন কাটাচ্ছিল নিশ্চিন্তে। বহিঃশত্রু দ্বারা আক্রমণের শিকার হবে তা নিয়ে তাদের কোন চিন্তা ছিল না বা ভয় ছিল না। তারা জানতো যে পরাশক্তিগুলো এখানে এসে মরুতে মরার মতন সাহস করবে না। তবে জাহাজের যাতায়াতের ব্যবস্থা ছিল এই অঞ্চলের উপকূলের দিকে। যেখানে পৃথিবীর দূর দূর থেকে জাহাজ এসে বন্দরে ভিড়তো এবং এখান থেকেই মালামাল সমগ্র আরবে সাপ্লাই হতো।
এবার চলুন একটু জেনে নেই আরব সম্প্রদায় কারা কারা। ইতিহাসবিদরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে গবেষণা চালিয়ে ৩টি সম্প্রদায়ের কথা বের করেছেন। তারা বলেন আরব সম্প্রাদায় হলো ৩ প্রকার:

১) আরবে বায়িদাহ: তারা হলো প্রাচীন আরব।
তারা বর্তমানে বিলুপ্ত।

২) আরবে আবিরা: তারা হলো ক্বাহত্বানের বংশদ্ভূত। ইতিহাসের পাতায় তারা 'ক্বাহত্বানী' নামে পরিচিত।

৩) আরবে মুস্তা'রিবা: তারা হলো ইসমাঈল আলাইহিসসালামের বংশধর। ইতিহাসের পাতায় তারা 'আদনানী' নামে পরিচিত।
১ম ক্যাটাগরির আরবরা হলো আদ জাতি, সামুদ জাতি ইত্যাদি। তাদেরকে আল্লাহ আজাব দিয়ে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন। কিছু সংখ্যক বেঁচে থাকলেও কালের পরিবর্তে তারা বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে।
২য় ক্যাটাগরির আরবরা হলো 'ইয়েমেনের বাসিন্দা'। তারা ক্বাহত্বানী নামে প্রসিদ্ধ। তারা প্রাচীন কাল থেকে ইয়েমে বসবাস করে আসছে। তাদের উপর আল্লাহর আশীর্বাদ ছিল কিন্তু তারা আল্লাহর দেয়া নিয়ামত ভুলে গিয়েছিল বিধায় আল্লাহ তাদের উপর আযাব দেন।
এদিকে ইবরাহীম আলাইহিসসালাম তার স্ত্রী হাজেরা আলাইহিসসালাম ও প্রিয় পুত্র ইসমাঈল আলাইহিসসালামকে মক্কা উপত্যকায় উপনীত হলেন। আশেপাশে নেই কোন শস্য, নেই কোন ফলফলাদি। এমন জায়গায় তাদেরকে রেখে অশ্রুসিক্ত অবস্থায় ইব্রাহীম আলাইহিসসালাম চলে গেলেন ফিলিস্তিনে। তবে তিনি তাদেরকে কিছু খাবার দিয়ে তারপর রওয়ানা হয়েছিলেন। একা একা তারা কিছুদিন এখানেই থেকে গেলেন। কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পর খাবার ফুরিয়ে গেলো। এই ভয়াবহ সংকট থেকে আল্লাহ তাদেরকে উদ্ধার করলেন 'যমযম' ধারা দান করে। কেটে গেল তাদের সংকট। এখানেই ছেলেকে নিয়ে জীবন কাটাতে লাগলেন হাজেরা আলাইহিসসালাম।
এদিকে ২য় ক্যাটাগরি আরবদের অঞ্চলে আল্লাহর আযাব আসায় প্রায় এলাকা ধ্বংস হয়ে গেল। তারা সেখান থেকে যার যার পরিবার-পরিজন নিয়ে বেরিয়ে পড়লো। এলাকা থেকে দূরে চলে গেল নতুন করে জীবন-যাপন করার জন্য। এদের মধ্য থেকে একটি গোত্র মক্কাভূমিতে আগমন করলো। তারা সেখানে হাজেরা আলাইহিসসালাম ও ইসমাঈল আলাইহিসসালামকে দেখতে পেল। তারা হাজেরা আলাইহিসসালামের অনুমতি নিয়ে সেখানে বসবাস করা শুরু করলো। ইতিহাসে এ গোত্রকে 'জুরহুম সানী' নামে বলা হয়ে থাকে।
ইসমাঈল আলাইহিসসালাম তাদের মধ্যেই বড় হতে থাকেন। তিনি যখন যৌবনে পদার্পণ করেন তখন ঐ গোত্র তথা জুরহুম গোত্র থেকে আরবি ভাষা ভালোভাবে আয়ত্ত করেন। পরবর্তীতে তিনি সেই গোত্রের একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়েকে বিয়ে করেন।
এদিকে ইব্রাহীম আলাইহিসসালাম তাদের নিয়ে চিন্তায় থাকতেন। তিনি মক্কায় যাতায়াত করতেন। একবার ছেলের বাড়িতে এসে তাকে পেলেন না। ছেলের বউয়ের সাথে আলাপ-আলোচনা করলেন কিন্তু তিনি বুঝলেন এই বউ তার ছেলের উপযুক্ত না তাই যাওয়ার সময় ছেলের স্ত্রীকে বললেন, সে আসার পর যেন তাকে বলা হয় বাড়ির দরজা বদলানোর জন্য। ইসমাঈল আলাইহিসসালাম ফিরে আসার পর ঘটনা জানলেন এবং তার স্ত্রীকে তালাক দিলেন।
আবারও তিনি বিয়ে করে সংসার করতে থাকেন। এবারও ইব্রাহীম আলাইহিসসালাম মক্কায় এসে তাকে পেলেন না। ছেলের স্ত্রীর সাথে আলাপ-আলোচনা করলেন। এবার বুঝেন এই মেয়ে তার ছেলের স্ত্রী হিসেবে উপযুক্ত। তিনি এবার বাড়িতে তার ছেলের বউকে বলে গেলেন, সে আসার পর যেন বলে দেন বাড়ির দরজা না বদলাতে। বাড়ি ফিরে ঘটনা শুনে বুঝলেন এই স্ত্রী তার জন্য কল্যানকর।
আবারও পরিবারের কথা মনে পড়লে ইব্রাহীম আলাইহিসসালাম চলে আসেন মক্কায়। এবার ছেলের সাথে ভালো একটা সময় কাটান এবং আল্লাহর নির্দেশে পিতা ও পুত্র মিলে ক্বাবা ঘর তৈরি করেন।
এদিকে ইসমাঈল আলাইহিসসালামের ঘরে অনেক সন্তান জন্ম নিতে থাকে। এরাই হচ্ছে ৩য় ক্যাটাগরির মানুষজন। ইসমাঈল আলাইহিসসালাম ইন্তেকাল করে আল্লাহর কাছে চলে গেলেও রেখে যান তার সন্তানাদি।
সন্তানাদি সবাই বড় হয়ে যার যার যার মতন সংসার করতে থাকে। ছোট পরিসর থেকে সেটা কয়েকশ বছরে অনেক বড় হতে থাকে। তারা সিরিয়া, শাম, ইয়েমেনে, পারস্যে ব্যবসায়-বাণিজ্য করে জীবিকা নির্বাহ করতে থাকে। এভাবেই তারা কাটাতে থাকে তাদের জীবন।
তারা কেবল মক্কায় রয়ে যায়নি বরং আরবের বিভিন্ন ভূখণ্ডে তারা ছড়িয়ে পড়েছিল। সেখানে তারা বসত-ভিটা স্থাপনা করে নতুন করে বসবাস করতে থাকে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম তাদের সংখ্যা বাড়তে থাকে

কিন্তু একটা সময়ে আদনানীদের জনসংখ্যা কমে যেতে শুরু করে। ইসমাঈল আলাইহিসসালামের সন্তানেরা মক্কায় বিখ্যাত থাকলেও কালের আবর্তনে কিছু কিছু সন্তানেরা অজ্ঞাত হয়ে পড়ে। তবে রয়ে যায় কয়েকটি গোত্র।
কিছু অজ্ঞাত হয়ে গেলে কী আর এমন হবে, বংশধারা ঠিকই চলছিল। সেই বংশধারা কয়েকশ বছর পার করে একটা সময়ে "কিনানাহ বিন খুযাইমাহ" নামক সন্তানে গিয়ে পৌঁছায়। তখন কিন্তু তারা গোত্র বেইজড জীবন-যাপন করছিল। সেই ব্যক্তির নামানুসারে গোত্রের নাম ছিল "কিনানাহ গোত্র।"

সেই "কিনানাহ বিন খুযাইমাহ"র সন্তানদের মধ্য থেকে পরবর্তীতে আসেন "ফিহর বিন মালিক বিন নাযার বিন কিনানাহ।" তার গোত্রই হলো "কুরাইশ গোত্র।" মানে "কিনানাহ গোত্র" থেকে পরে একটা সাব/উপ-গোত্র আসে যার নাম "কুরাইশ।" মক্কার আশেপাশে তারা নিজেদের গোত্রের সাথে বসবাস করতে থাকে।
'ইসলামপূর্ব আরব'
[সীরাত সিরিজ -পর্ব ১]

15/08/2021

পুলসিরাত অতিক্রমের ভয়াবহতা

হাশরের মাঠে মানুষের আমলনামা ওজন এবং হিসাব-নিকাশের পর সবাইকে বলা হবে, তোমরা এখন নিজ নিজ গন্তব্যে চলে যাও। হাশরের মাঠ থেকে বের হয়ে গন্তব্যে যেতে একটি পুল স্থাপন করা হবে। আরবিতে পুলকে বলা হয় সিরাত। এটি হাশরের ময়দান থেকে জাহান্নামের ওপর দিয়ে জান্নাত পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে এবং অনেক ভয়ঙ্কর হবে। ফেরেশতারা আল্লাহর নির্দেশে পুলসিরাত দেখিয়ে দিয়ে বলবেন, ‘এটা তোমাদের গন্তব্যে পৌঁছার পথ। এ পুল পেরিয়েই তোমাদের যেতে হবে।’ কিন্তু সবার জন্য পেরিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না। পাপী বান্দারা সেটাকে চুল থেকেও চিকন দেখতে পাবে। তাদের জন্য সেটি হবে অত্যন্ত ধারালো। তারা ওই পুলে আরোহণ করা মাত্রই তাদের পা কেটে নিম্নস্থ জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। আর নেককারদের জন্য হবে সুপ্রশস্ত সুগম পথ। তারা তাদের নেকির তারতম্য অনুযায়ী গতিতে জান্নাতে পৌঁছে যাবে।

পুলসিরাত হচ্ছে জান্নাতে যাওয়ার পথে চূড়ান্ত পরীক্ষা। জাহান্নামিদের জন্য হাশরের মাঠ থেকে সরাসরি জাহান্নামের পথে নিয়ে যাওয়া হবে। আর যারা জান্নাতে যাবে তাদের জন্য এই ভয়ঙ্কর পথ অতিক্রমের পরীক্ষা হবে। মুমিন ও মুনাফিকদের এই পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমার রবের কসম, আমি অবশ্যই তাদের ও শয়তানদের (হাশরের মাঠে) সমবেত করব, অতঃপর জাহান্নামের চারপাশে নতজানু অবস্থায় তাদের উপস্থিত করব। তারপর প্রত্যেক দল থেকে পরম করুণাময়ের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অবাধ্যকে আমি টেনে বের করবই। আমি পরিপূর্ণ অবগত তাদের সম্পর্কে, যারা জাহান্নামে দগ্ধীভূত হওয়ার অধিকতর যোগ্য এবং তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যাকে এই পুলসিরাত পার হতে হবে না। এটা তোমার প্রতিপালকের অবধারিত ফয়সালা। সেদিন আমি তাকওয়া অবলম্বনকারীদের নাজাত দেব। আর জালিমদের আমি সেখানে রেখে দেব নতজানু অবস্থায়।’ (সুরা মারয়াম : ৬৮-৭২)

পুলসিরাতে নবীদের প্রার্থনা
পুলসিরাতের কঠিন পরীক্ষায় সবাই খুব পেরেশান
থাকবে। নবীরাও সেদিন আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে থাকবেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে একটি দীর্ঘ হাদিস বর্ণিত হয়েছে, তাতে রয়েছে, নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালা সব মানুষকে একত্র করে বলবেন, দুনিয়ায় তোমরা যে যে জিনিসের উপাসনা করেছিলে, সে তার সঙ্গে চলে যাও। অতএব সূর্যের উপাসনাকারী সূর্যের সঙ্গে, চন্দ্রের উপাসনাকারী চন্দ্রের সঙ্গে এবং মূর্তিপূজারি মূর্তির সঙ্গে চলে যাবে। অবশিষ্ট
থাকবে এই উম্মতের লোকেরা। তাদের মধ্যে মুনাফিকরাও থাকবে। তখন জাহান্নামের ওপর পুলসিরাত স্থাপন করা হবে। সেদিন সর্বপ্রথম আমি সেই পুলসিরাত অতিক্রম করব। আর সেদিন সব রাসুলের দোয়া হবে ‘আল্লাহুম্মা সাল্লিম, আল্লাহুম্মা সাল্লিম’, অর্থাৎ, ‘হে আল্লাহ! রক্ষা কর, রক্ষা কর।’ (বুখারি : ৬২০৪; মুসলিম : ১৯৫)

কেমন হবে পুলসিরাত
পুলসিরাত হবে অনেক ভয়ঙ্কর। চুলের মতো সূক্ষ্ম ও চিকন হবে। তরবারির মতো ধারালো হবে। নিচে থাকবে জাহান্নাম। দুই পাশে থাকবে লোহার তপ্ত শলাকা। কোনো আলোর ব্যবস্থা থাকবে না। যার যার আমলের আলো দিয়ে সে পথ অতিক্রম করতে হবে। হজরত আবু সায়িদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসুলকে (সা.) জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ! পুলসিরাত কেমন হবে? নবীজি বললেন, তা মসৃণ ও পিচ্ছিল হবে, তাতে থাকবে অসংখ্য লৌহ শলাকা ও আংটা। আর থাকবে অসংখ্য কাঁটাযুক্ত দাঁতালো মাথা।’ (বুখারি : ৭৪৩৯; মুসলিম : ১৮৩)। মুনাফিকদের এবং যেসব ঈমানদার গুনাহ করেছে তাদের জাহান্নাম থেকে উত্থিত সেসব শলাকা টেনে জাহান্নামে নিয়ে যাবে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘পুলসিরাতের দুই প্রান্তে অসংখ্য আংটা যুক্ত করা থাকবে। আল্লাহ যাকে আদেশ করবেন তাকেই সে টেনে ধরবে এবং জাহান্নামে ফেলে দেবে।’ (মুসলিম : ১৯৫)। পুরো পুলসিরাত জুড়েই থাকবে অসংখ্য লৌহ শলাকা। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘পুলসিরাতে থাকবে কাঁটাযুক্ত বৃক্ষের মতো অসংখ্য আংটা। তোমরা কি কাঁটাযুক্ত বৃক্ষ দেখনি? সাহাবারা বললেন, অবশ্যই ইয়া রাসুলুল্লাহ! নবীজি বললেন, অবশ্যই সেসব আংটা হবে কাঁটাযুক্ত বৃক্ষের মতো। তার পরিমাণ সম্পর্কে আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।’ (বুখারি : ৭৪৩৭; মুসলিম : ১৮২)। ভয়ঙ্কর এই পুল হবে তরবারির ধারের মতো চিকন। হজরত সালমান (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘পুলসিরাত হবে ধারালো তরবারি মাথার মতো সূক্ষ্ম ও তীক্ষ।’ (মুসতাদরাকে হাকেম : ৪/৬২৯)

ঈমানদারদের নূর দেওয়া হবে
হাশরের মাঠ থেকে রওনা হওয়ার সময় সবাইকে বিশেষ আলো দেওয়া হবে। প্রত্যেকেই যার যার আমল অনুপাতে আলো পাবে। সবাইকে তাদের নূর পথ দেখিয়ে নিয়ে যাবে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘ঈমানদার ও মুনাফিক সবাইকে একটি করে নূর ও আলো দেওয়া হবে। প্রত্যেকেই যার যার আলো দিয়ে পুলসিরাত অতিক্রম করবে।’ (মুসলিম : ১৯১)। প্রত্যেকেই যার যার আমলনামা অনুযায়ী নূর দেওয়া হবে। হজরত ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘সবাইকে সবার আমল অনুপাতে নূর দেওয়া হবে। কারও সামনে পাহাড় পরিমাণ নূর দেওয়া হবে। কারও হাতে মশাল পরিমাণ নূর দেওয়া হবে। কারও নূর হবে একটি বৃক্ষের পরিমাণ। এভাবে সবচেয়ে কম নূর যাকে দেওয়া হবে তার নূর হবে পায়ের একটা আঙুলের মাথা পরিমাণ। একবার জ্বলবে একবার নিভবে। যখন আলো জ্বলবে তখন পথ চলবে, আর যখন নিভে যাবে তখন দাঁড়িয়ে থাকবে।’ (মুসতাদরাকে হাকেম : ৩৪২৪)
পুলসিরাত অতিক্রমের অবস্থা

যাদের আমলের পরিমাণ বেশি তারা অতিদ্রুত চোখের পলকের মতো পুলসিরাত পার হয়ে যাবে। আর যার আমল কম তারা হামাগুড়ি দিয়ে পার হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘সেদিন তুমি ঈমানদার পুরুষ ও নারীদের দেখতে পাবে যে, তাদের সামনে ও ডান পাশে তাদের নূর ছোটাছুটি করছে। বলা হবে ‘আজ তোমাদের সুসংবাদ হলো জান্নাত, যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত হয়, সেখানে তোমরা চিরস্থায়ী হবে। এটাই হলো মহাসাফল্য। সেদিন মুনাফিক পুরুষ ও নারীরা ঈমানদারদের বলবে, ‘তোমরা আমাদের জন্য একটু অপেক্ষা কর, তোমাদের নূর থেকে আমরা একটু নিয়ে নেই’, বলা হবে ‘তোমরা তোমাদের পিছনে ফিরে যাও এবং নূরের সন্ধান কর,’ তারপর তাদের মাঝখানে একটি দেওয়াল তুলে দেওয়া হবে, যাতে একটি দরজা থাকবে। তার ভেতরের দিকে থাকবে রহমত আর বাইরের দিকে থাকবে আজাব। মুনাফিকরা মুমিনদেরকে ডেকে বলবে, ‘আমরা কি তোমাদের সঙ্গে ছিলাম না? তারা বলবে ‘হ্যাঁ, কিন্তু ‘তোমরা নিজেরাই নিজেদেরকে বিপদগ্রস্ত করেছ। আর তোমরা অপেক্ষা করেছিলে এবং সন্দেহ পোষণ করেছিলে এবং আকাক্সক্ষা তোমাদেরকে প্রতারিত করেছিল, অবশেষে আল্লাহর নির্দেশ এসে গেল। আর মহা প্রতারক তোমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে প্রতারিত করেছিল। সুতরাং আজ তোমাদের কাছ থেকে কোনো মুক্তিপণ গ্রহণ করা হবে না এবং যারা কুফরি করেছিল তাদের কাছ থেকেও না। জাহান্নামই তোমাদের আবাসস্থল। সেটাই তোমাদের উপযুক্ত স্থান। আর কতই না নিকৃষ্ট সেই গন্তব্যস্থল!’ (সুরা হাদিদ : ১২-১৫)

পুলসিরাত অতিক্রমের গতিবেগ
হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সেদিন কেউ বিদ্যুতের গতিতে, কেউ বাতাসের গতিতে, কেউ ঘোড়ার গতিতে, কেউ আরোহীর গতিতে, কেউ দৌড়িয়ে, আবার কেউ হাঁটার গতিতে পুলসিরাত অতিক্রম করবে।’ (তিরমিজি : ৩১৫৯)। উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জাহান্নামের ওপর একটি পুল আছে, যা চুলের চেয়েও বেশি চিকন আর তরবারির চেয়েও বেশি ধারালো। এর ওপর লোহার শিকল ও কাঁটা থাকবে। মানুষ এর ওপর দিয়েই গমন করবে। কেউ চোখের পলকে, কেউ বিদ্যুৎ গতিতে, কেউ বায়ুবেগে আর কেউ উত্তম ঘোড়া ও উটের গতিতে পুলসিরাত পার হবে। আর ফেরেশতারা বলতে থাকবে, হে প্রভু! সহিসালামতে অতিক্রম করাও, হে প্রভু! নিরাপদে পার করাও। কেউ নাজাত পাবে, কেউ আহত হবে, কেউ উপুড় হয়ে পড়ে যাবে আর কেউ অধঃমুখী হয়ে জাহান্নামে পড়ে যাবে।’ (মুসনাদে আহমদ : ২৪৮৪৭)

মুনাফিকদের পরিণাম

পৃথিবীতে যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কোরআন ও হাদিসের বিধান অনুসারে জীবন পরিচালনা করেছে, তারা সহজেই সে ভয়ঙ্কর পুলসিরাত অতিক্রম করে জান্নাতে পৌঁছতে সক্ষম হবে। কিন্তু মুনাফিক ও পাপী বান্দারা সে পথ অতিক্রম করতে পারবে না। তারা পুলসিরাত থেকে পড়ে গিয়ে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। হজরত আবু বাকরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন মানুষকে পুলসিরাতের ওপর অতিক্রম করতে বলা হবে। তখন অপরাধীরা পুলসিরাতের দুই প্রান্তে জাহান্নামের অতলে একজনের ওপর আরেকজন পড়ে যেতে থাকবে। এভাবে জাহান্নামের শয্যা রচিত হতে থাকবে।’ (মুসনাদে আহমাদ : ২০৪৫৭; মাজমাউজ জাওয়ায়েদ : ১০/৩৬২)। পরে গুনাহগার ঈমাদারদেরক গুনাহ অনুপাতে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করার পর জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। আর মুনাফিকরা চিরকালের জন্য জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে থাকবে। (আন নিহায়া, ইবনুল আসির : ৪/২৪)
সর্বশেষ পুলসিরাত অতিক্রমকারী

সবশেষে যে পুলসিরাত অতিক্রম করবে তার ব্যাপারে হজরত ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘অতঃপর তোমাদের সর্বশেষ ব্যক্তি পেটে ভর করে করে পুলসিরাত অতিক্রম করবে। সে বলতে থাকবে, হে রব! আমাকে এত বিলম্ব করানো হলো কেন? তখন আল্লাহ বলবেন, আমি কেন তোমাকে বিলম্ব করাব? তোমাকে তো তোমার আমল বিলম্ব করিয়েছে।’ (মুসতাদরাকে হাকেম : ৮৫১৯). ©

14/08/2021

তাহাজ্জুদের নামাজের পর সর্বশ্রেষ্ঠ নফল নামাজ হলো ইশরাকের নামাজ।
ইশরাক, দোহা এবং চাশত একই নামাজ কীনা, এসব নামাজের সময়, নিয়ম ও রাকাতসংখ্যা সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো।
❖ ইশরাক নামাজের পরিচয় ও ফজিলত:
ইশরাক মানে প্রভাত, সকাল, সূর্যোদয়। আনাস (রা.) বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ জামাতে পড়বে, এরপর সূর্যোদয় পর্যন্ত বসে যিকির করবে, এরপর সূর্যোদয় হলে (সূর্যোদয়ের ১৫/২০ মিনিট পর) দুই রাকাত নামাজ পড়বে, তার জন্য পরিপূর্ণ হজ্ব ও ‘উমরার সওয়াব লেখা হবে।’’ কথাটি তিনি জোর দিয়ে তিনবার বলেন। [তিরমিযি, আস-সুনান: ৫৮৬; হাদিসটি হাসান]
হাদিসে এই নামাজের কোনো নাম বর্ণিত হয়নি। তবে, বিদ্বানগণের নিকট এই নামাজ ইশরাকের নামাজ বা সূর্যোদয়ের নামাজ হিসেবে পরিচিত।
❖ দোহা ও চাশতের নামাজের পরিচয়:
‘দোহা’ শব্দটি আরবি। এর অর্থ হলো, দিনের প্রথম প্রহর। ফার্সিতে একে বলা হয় ‘চাশত’। অতএব, দোহা এবং চাশত একই নামাজ। পরিভাষায় সূর্যোদয়ের পর সূর্যের তাপ কিছুটা প্রখর হওয়ার পর যে নামাজ পড়া হয়, সেটিকেই দোহার নামাজ বলা হয়।
❖ দোহার (চাশতের) নামাজের মহান ফজিলত:
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘তোমাদের শরীরের প্রতিটি জোড়ার জন্য (শুকরিয়াস্বরূপ) প্রতিদিন সকালে সাদাকাহ দিতে হয়। (জেনে রেখো) প্রত্যেক তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ) সাদাকাহ; প্রত্যেক তাহমিদ (আলহামদুলিল্লাহ) সাদাকাহ; প্রত্যেক তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) সাদাকাহ; প্রত্যেক তাকবির (আল্লাহু আকবার) সাদাকাহ; সৎ কাজের আদেশ সাদাকাহ এবং অসৎ কাজ হতে নিষেধ করা সাদাকাহ। আর এসবের পক্ষ হতে দোহার (চাশতের) দুই রাকাত নামাজই যথেষ্ট হবে।’’ [মুসলিম, আস-সহিহ: ১৭০৪]
হাদিসে কুদসিতে এসেছে, আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘আদম সন্তান, তুমি দিনের প্রথম ভাগে আমার জন্য চার রাকাত আদায় করো; আমি তোমার (দিনের) শেষ ভাগের জন্য যথেষ্ট হবো।’’ [তিরমিযি, আস-সুনান: ৪৩৭; হাদিসটি সহিহ]
হাদিসের ব্যাখ্যায় মুহাদ্দিসগণ বলেন, আল্লাহ তার বাকি দিনের প্রয়োজন পূরণে যথেষ্ট হবেন এবং তার অপছন্দনীয় বিষয়গুলো তার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রাখবেন। [মুবারকপুরী, তুহফাতুল আহওয়াযি: ২/৪৭৮]
❖ দোহার (চাশতের) নামাজের রাকাতসংখ্যা:
আয়িশা (রা.) বলেন, ‘নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাধারণত দোহার নামাজ ৪ রাকাত পড়তেন। তবে, আল্লাহ চাহেতো কখনো তা বৃদ্ধি করতেন।’ [মুসলিম, আস-সহিহ: ৭১৯]
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিনে দোহার (চাশতের) ৮ রাকাত নামাজ পড়েছেন। [মুসলিম, আস-সহিহ: ৭৯১]
শারহুল জামি’ আস সহিহ গ্রন্থে এসেছে, সাহাবিদের মধ্যে আম্মাজান আয়িশা পড়তেন ৬ রাকাত; ইবনু উমার ২ রাকাত, সা’দ ও আম্মাজান উম্মু সালামাহ ৮ রাকাত, আলি ইবনু আবি তালিব ৪ রাকাত পড়তেন। রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমা‘ইন।
আলিমগণের বড় অংশের মতে, দোহার (চাশতের) নামাজ সর্বনিম্ন ২ রাকাত এবং সর্বোচ্চ ১২ রাকাত পড়া যায়। তাঁরা তাঁদের পক্ষে দলিল দিয়েছেন। তবে, শায়খ মুহাম্মাদ ইবনু সলিহ আল উসাইমিন (রাহ.) বলেন, ‘‘(দোহার নামাজের) সর্বোচ্চ রাকাত নির্ধারিত নয়। কেননা আয়িশা (রা.) হতে (উপরে) বর্ণিত হাদিসে বলা হয়েছে, ‘‘আল্লাহ চাহেতো এর চেয়ে অধিক পড়তেন’’ (নির্দিষ্ট বাউন্ডারি দেওয়া হয়নি)।’’ [শারহুল মুমতি’: ৪/৮৫]
তবে, হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী নবিজি অধিকাংশ সময় ৪ রাকাত আদায় করতেন, যেমনটি আমরা পূর্বেই পড়লাম।
❖ দোহার (চাশতের) নামাজের সময়:
সূর্যোদয়ের ১৫/২০ মিনিট পর থেকেই দোহার (চাশতের) নামাজ পড়া যায়। তবে, দোহার (চাশতের) নামাজের উত্তম সময় হলো, সূর্যের তাপ যখন প্রখর হয়। এই সময় থেকে নিয়ে দিনের দ্বিপ্রহর শুরু হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত দোহার (চাশতের) নামাজের সময় থাকে।
❖ দোহা আর ইশরাক কি এক নামাজ?
প্রখ্যাত ফকিহ ও হাদিস বিশারদ ইমাম আবু বকর জাসসাস (রাহ.) বলেন, অধিকাংশ আলিমের মতে, ইশরাক এবং দোহার নামাজ একই। [আহকামুল কুরআন: ৩/৫৫৯]
মুহাদ্দিসগণ দোহা এবং ইশরাকের নামাজকে একই নামাজ গণ্য করেছেন। তবে, সুফিগণ আলাদা গণ্য করেছেন। [যাকারিয়া কান্ধলভি, ফাতহুল মুলহিম: ৪/৬৩৪]
ইমাম ত্বিবি তাঁর শারহুল মিশকাতে বলেছেন, ইশরাক হলো দোহার প্রথম সময়। মূলত দুটো একই নামাজ। শায়খ ইবনু বায, ইবনু উসাইমিন (রাহ.)-সহ আরবের আলিমগণের মতও তাই।
❖ উপসংহার:
মূল কথা হলো, ইশরাক এবং দোহা (চাশত) একই নামাজ। শুধু সময়ের পার্থক্যের কারণে এদের নাম ভিন্ন হয়েছে। ইশরাক হলো দোহার প্রথম সময়। যদি জামাতে ফজর আদায় করে, নামাজের স্থানে বসে থেকে যিকর করে, অতঃপর সূর্যোদয়ের ১৫/২০ মিনিট পর আদায় করা হয়, তবে এটিকে ইশরাক বলা হয়। আর সূর্য কিছুটা প্রখর হওয়ার পর (সকালের নাস্তার সময়ে) আদায় করলে এটিকে ‘দোহা’ (চাশত) বলা হয়। মৌলিকভাবে দুটোই দোহার নামাজ।
একই দিনে ইশরাক ও দোহার (চাশতের) নামাজ আদায় করাও জায়েয। কোনো (ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাত বা নফল) নামাজের নিয়ত যেহেতু মুখে পড়তে হয় না (শুধু অন্তরে ইচ্ছাপোষণ করতে হয়), সেহেতু ইশরাক এবং দোহার (চাশতের) নামাজেও অন্তরে ইচ্ছাপোষণ করাই যথেষ্ট।

কপি

13/08/2021

হে আমার প্রিয় ভাই!
আর কত করবে রবের সাথে প্রতারণা?
হে প্রতারিত! আর কত হবে রবের অবাধ্য!
দিন দিন নিমজ্জিত হচ্ছ হারামের সাগরে।
আর সে সাগরে ডুব দিয়ে তুমি গিলে খাচ্ছ একজন কুমারী মেয়ের পবিত্র মনকে।
নষ্ট করছ তাঁর লজ্জা, ইজ্জত আব্রু-কে।
তুমি মুসলিম যে এ কথা কি তুমি ভুলে গেলে? কেন একজন মেয়ের জীবনকে এভাবে তিলে তিলে ধ্বংস করতেছ? কেন তাকে জাহান্নামের পথে নিয়ে যাচ্ছ! তুমিও কেন তাঁর মতো নিজেকেও জাহান্নামের পথযাত্রী বানাচ্ছ!? তুমি কী রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হুশিয়ারির কথা জানো না? তুমি কী তোমার রবের হুশিয়ারি সম্পর্কে বেখবর? হারাম কাজ করে তা আবার বলে বেড়াচ্ছ! একটু কি লজ্জা করে না তোমার?

তুমি যে একজন মুসলিম পরিবারের সন্তান, শেষ নবি মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একজন উম্মত সে কথা কী তুমি ভুলে গেছো? মৃত্যু নিয়ে তোমায় কোনোদিন ভাবায় না? আখিরাতের কথা তোমার মনে পড়ে না? আল্লাহর কাঠগড়ায় যে তোমার আমলনামা নিয়ে দাঁড়াতে হবে তাও কি বেমালুম ভুলে আছো? দুনিয়ার রংতামাশার মোহে পড়ে সবই ভুলে গেছো? নারীর ফিতনা আজ তোমায় অন্ধ বানিয়েছে।
রব থেকে দূরে ঠেলে রেখেছে। তুমি কেমন মুসলমান? পাপ করো আবার তা প্রচার করে দিব্যি হেসেখেলে দিন পার করতেছ। ছিহ! তোমার বুঝি লজ্জা নাই?

রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি এর হাদীস কি ভুলে গেলে? যারা পাপ করে তা বলে বেড়ায় তাদের সম্পর্কে তিনি কী বলেছেন? তুমি তো তা জানো না। জানতেও চাও না। ঐ যে নারী তোমায় অন্ধ বানিয়েছে। তুমি কোন সাহসে ফেইসবুকে ইন এ রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস দাও? তুমি খুব বড়ো কিছু করে ফেলেছ, তাই না? তার মানে আমি হারামে লিপ্ত হয়েছি তোমরা তা দ্যাখো, এই তো? এটাতো তোমাকে জিনার নিকট নিয়ে যাবে ভাই। আর এর পরিণতি কি হবে মহান রাব্বুল আলামীন-ই ভালো জানেন।
জাহান্নামের ভয়াবহ আজাব নিয়ে তোমায় কখনও ভাবায় না? অনিন্দ্য জান্নাতের স্বপ্নে তুমি কখনও বিভোর হও নাই? এ দুনিয়ার একজন নারীর পিছনে দৌড়ে তুমি কী জান্নাতের হুরদের কথা ভুলে গেলে? তোমার তো উচিত ছিল এ উম্মাহকে এসব হারাম থেকে দূরে থাকার আহ্বান করা। হারাম কাজ,হারাম জিনিসের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধাচারণ করা। আর তুমি? তুমি তো দেখি এসব হারাম-কে প্রমোট করে বেড়াচ্ছ। তোমার বন্ধুর ইন এ রিলেশনশিপ স্ট্যাটাসে কংগ্রাচুলেশনস জানিয়ে নিজেকে ধন্য মনে করতেছো।

হে প্রিয় ভাই অনেক হয়েছে এবার ফিরে এসো। রবের ভালোবাসা পেতে হলে তোমাকে ফিরতেই হবে। ফেরার সময় এখনই। রবের নিকট ফিরে যাওয়ার আগে তোমাকে ফিরতে হবে। জানি হারাম রিলেশনশীপে জড়িয়ে গেলে বের হতে সাময়িক কষ্ট লাগে। কিন্তু তুমি আমায় বলো এ কষ্ট কী জাহান্নামের ভয়াবহ কঠিন আযাবের স্মরণ থেকে বেশি কষ্টকর? এ কষ্ট কী রবের ভালোবাসার কাছে হার মেনে যাবে? হ্যা এবার তুমি বলবে তা কখনও-ই না। তাহলে আজই তুমি প্রত্যাবর্তন করো রবের দিকে।
"হে প্রশান্ত আত্মা ফিরে আসো তোমার রবের দিকে``তার কাছে ফিরে যাবার আগেই"

12/08/2021

আমি যদি বলি আল্লাহ, আমি আপনাকে বড় ভালোবাসি, আল্লাহ যেন বলেন, তোমাকে তো আমি এজন্যই বানিয়েছি.

বান্দার যখন যা লাগে আল্লাহ তা দিয়ে দেন যদি সে ইস্তেগফার করে।গুনাহ যত বড়ই আর যত বেশিই হোক তাওবা করলে আল্লাহ অবশ্যই মাফ করে দিবেন।

তমি কে?? উঃ তুমি হচ্ছ এমন জিনিস যার শুরু হলো এক ফোটা নাপাক বীর্য, তোমার শেষ হলো গলিত পচা একটা লাশ, আর এখন তোমার পেটে বহন করছ কিছু পায়খানা, এটাই তোমার পরিচয়.

দুনিয়া চাইলেই পাওয়া যায় না, আখিরাত যে চায় সেই পেয়ে যায়।
দিলে আলো না থাকলে হেদায়েত আসবে না।

মানুষ আল্লাহকে ভুলে থাকে কখন? টাকা পয়সা বেশি থাকলে না কম থাকলে? উঃ বেশি থাকলে। টাকা পয়সা বেশি থাকলে যদি তা আল্লাহকে ভুলিয়ে দেয় তাহলে তা নেয়ামত নয় তা গজব।

আল্লাহ আমাদের সকলকে মাফ করে দেন আমিন।

12/08/2021

আপনি মারা গেছেন। আপনার জানাজার নামাজ শেষ। কবরে রাখা হলো। আপনি অপেক্ষা করতেছেন মুনকার নাকির ফেরেশতার জন্য। কিন্তু, তাঁরা আসছে না কেনো! অথচ জান্নাতের সুঘ্রাণ পাওয়া শুরু করেছেন আপনি।
একটু পরেই কবরের সাথে জান্নাতের একটি সুড়ঙ্গপথ তৈরি হয়ে গেলো। ওমা, এ কেমন কথা! প্রশ্ন উত্তর কই?
তখন আপনার মনে পড়লো- 'প্রতি রাতে সূরা মূলক পাঠ করলে কবরে প্রশ্ন উত্তরের ঝামেলা নাই। কবর আজাবেরও কোনো চান্স নাই।' []
অতঃপর, রেশমী চাদরের নরম বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে আপনি বললেন 'আলহামদুলিল্লাহ'। ❤️

[] তিরমিজি -২৮৯০ এর সহীহ অংশ থেকে।

11/08/2021

সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াতের ফজিলত

"কোনো একদিন হযরত জিবরাঈল (আঃ) নবী করীম (ﷺ)-এর কাছে বসে ছিলেন। হঠাৎ প্রচন্ড একটি শব্দ শোনা গেলো । হযরত জিবরাঈল (আঃ) নিজের মাথা উচু করে বললেন, এটা আকাশের সেই দরজা খোলার শব্দ যা আজকের পূর্বে আর কখনো খোলা হয়নি। উক্ত দরজা দিয়ে একজন ফিরিশতা পৃথিবীতে অবতরণ করেছেন, যিনি ইতোপূর্বে আর কখনো পৃথিবীতে আগমন করেননি । সে ফিরিশতা নবী করীম (ﷺ)-এর কাছে এসে বললেন, আপনার জন্যে দুটো নূরের সুসংবাদ রয়েছে। সূরাতুল ফাতিহা এবং সূরাতুল বাকারার শেষ দুটো আয়াত উক্ত দুটো নূর । যা আপনার পূর্বে অন্য কোনো নবীকে প্রদান করা হয়নি। সূরা ফাতিহা এবং সূরাতুল বাকারার শেষ দুটো আয়াত থেকে একটি অক্ষরও পড়ে আল্লাহ তা'য়ালার কাছে আপনি যা কিছু প্রার্থনা করবেন তা প্রদান করা হবে ।”

(মুসলিম, হাদীস নং- ৮০৬)


👉নু‘মান ইবনু বাশীর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা আসমান-যামীন সৃষ্টির দুই হাজার বছর পূর্বে একটি কিতাব লিখেছেন। সেই কিতাব হতে তিনি দু‘টি আয়াত নাযিল করছেন। সেই দু‘টি আয়াতের মাধ্যমেই সূরা আল-বাক্বারা সমাপ্ত করেছেন। যে ঘরে তিন রাত এ দু‘টি আয়াত তিলাওয়াত করা হয় শাইতান সেই ঘরের নিকট আসতে পারে না।

(তিরমিজি— ২৮৮২)


👉আয়ফা' ইবনু ‘আবদিল কালা‘ঈ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি আরয করল,হে আল্লাহর নাবী(ﷺ)! কুরআনের কোন্ আয়াত এমন, যার বারাকাত আপনার ও আপনার উম্মাতের কাছে পৌঁছতে আপনি ভালবাসেন? তিনি (ﷺ) বললেন, সূরা আল বাকারাহ্’র শেষাংশ। কেননা আল্লাহ তা‘আলা তাঁর ‘আরশের নীচের ভাণ্ডার হতে তা এ উম্মাতকে দান করেছেন। দুনিয়া ও আখিরাতের এমন কোন কল্যাণ নেই যা এতে নেই।

(মিশকাত— ২১৬৯)


👉জুবায়র ইবনু নুফায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সূরা আল বাকারাকে আল্লাহ তা‘আলা এমন দু’টি আয়াত দ্বারা শেষ করেছেন, যা আমাকে আল্লাহর ‘আরশের নীচের ভাণ্ডার হতে দান করা হয়েছে। তাই তোমরা এ আয়াতগুলোকে শিখবে। তোমাদের রমণীকুলকেও শিখাবে। কারণ এ আয়াতগুলো হচ্ছে রহমত, (আল্লাহর) নৈকট্য লাভের উপায়। (দীন দুনিয়ার সকল) কল্যাণলাভের দু‘আ।

(মিশকাত— ২১৭৩)


👉হযরত আলী (রাঃ) বলেছেন, এটা আমার জানা নেই, উপযুক্ত বয়সের এবং জ্ঞান-বিবেক বুদ্ধি সম্পন্ন কোনো মুসলমানদের মধ্যে এমন কেউ রয়েছে যে, রাতে ঘুমানোর পূর্বে আয়াতুল কুরসী এবং সূরাতুল বাকারার শেষ দুটো আয়াত তিলাওয়াত করে না। (তাফসীরে ইবনে কাসীর, ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা-৭৩৫)


👉বাদ্রী সাহাবী আবূ মাস‘উদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, সূরা বাকারার শেষে এমন দু’টি আয়াত রয়েছে যে ব্যক্তি রাতের বেলা আয়াত দু’টি তিলাওয়াত করবে তার জন্য এ আয়াত দু’টোই যথেষ্ট। অর্থাৎ রাত্রে কুরআন মাজীদ তেলাওয়াত করার যে হক রয়েছে, কমপক্ষে সূরাহ বাকারার শেষ দু’টি আয়াত তেলাওয়াত করলে তার জন্য তা যথেষ্ট।

(সহিহ বুখারী— ৪০০৮)

09/08/2021

প্রতিটা মূহুর্ত চলে যাচ্ছে মানেই হলো আমার নির্ধারিত সময়গুলো ফুরিয়ে যাচ্ছে।

অনন্তকালের প্রথম ধাপ কবরের দিকে ক্রমাগত এগিয়ে চলছি আমি।
প্রতিটা দিন , প্রতিটা রাত আমায় এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সেই সুনির্দিষ্ট মৃত্যুর দিকে।
যেটাকে আমি প্রতিটা মূহুর্তে ভুলে থাকি।
আর ভুলে থাকি আমার পরিনতি সম্পর্কেও।

দুনিয়ার ধোঁকায় এমন ভাবে ঘুরছি যে, আখেরাতের ব্যাপারে আমাদের ভাববার মতো একটু ফুসরতও যেন হয় না।
এতোটাই উদাসীন হয়ে পড়েছি যে , আমাদের আসল গন্তব্য আসলে কি হওয়া উচিত তার ব্যাপারেও যেন সুনির্দিষ্ট কোনো জ্ঞান নেই।
এমনকি জানা নেই বেঁচে থাকার মানেও।

সত্যিই জানা নেই আমাদের!

আমাদের কথা, আমাদের কাজ, আমাদের বাস্তবতা, আমাদের লক্ষ্য, আমাদের ব্যস্ত থাকার জায়গা, আখেরাতের ব্যাপারে আমলহীন লম্বা লম্বা দিবাস্বপ্ন, ইলম আর আমলহীন জিন্দেগীই তার জ্বলজ্যান্ত প্রমাণ!

আমরা যেভাবে দুনিয়া চাই আর তার জন্য যেই পরিমান মেহনত আর কষ্ট করি , সত্যিই কি সেভাবে আমরা আখেরাতকে চাই!?

নিজেকে নিজেই প্রশ্ন করুন আর শুনুন ভিতরটা কি বলে!?

04/08/2021

মনে করুন,,
রাত্রিবেলা আপনি ঘুমালেন।
কিন্তু, আপনার আমলনামায় লেখা হলো 'সারা রাত তাহাজ্জুদ নামাজের সওয়াব'!
কি, অবাক হচ্ছেন ?

জ্বি আলহামদুলিল্লাহ্, 💗
🌺আপনি যদি ৩ মিনিট খরচ করে ঘুমানোর আগে" সূরা বাকারাহ এর শেষ ২ আয়াত" পড়েন, তাহলে পেতে পারেন এমন অফার।
🌺২ মিনিট খরচ করে যদি আয়াতুল কুরসি পড়ে নেন, তাহলে সারা রাতের জন্য একজন পাহারাদার ফেরেশতা নিযুক্ত হয়ে যাবে আপনার নিরাপত্তার কাজে।
💞💞💞আলহামদুলিল্লাহ💞💞💞

আপনি এতটা স্পেশাল। একজন বডিগার্ড সাইডে রেখে ঘুমাবেন আপনি, কল্পনা করেন!

🌺আচ্ছা,সারাদিন তো অনেক পাপ করা হলো। পাপগুলো কি রিমুভ করা লাগবে না,বলেন????
তার জন্য- ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ্, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ্, ৩৪ বার আল্লাহু আকবার বলতে আর কতক্ষণ লাগে?

🌺আর একটু কষ্ট করে, অজু করে শুইলে তো পুরা সুন্নাহের উপরেই শুয়ে পড়লেন। এখন ডান কাত হয়ে 'আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু ওয়া আহইয়া' বলে শান্তির এক ঘুম।

আসুন না আজ থেকেই এই ছোট্ট অথচ ফযিলতপূর্ণ আমল গুলো করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করি নিজে নিজেই।
💗 ইংশাআল্লাহ্ 💗
আল্লাহ্ আপনি আমি সহ সবাই কে এই আমল করার তাওফীক দান করুন।
💗 আমিন ইয়া রাব্বুল আলামীন 💗
[১] বুখারী ৪০০৮
[২] বুখারী ৩২৭৫
[৩] আন নাসাঈ ১৩৪৮
[৪] বুখারী ২৪৭, ৬৩২৪

30/07/2021

জাহান্নামের আগুন মানুষের পুরো দেহ পুড়ে ফেলতে পারলেও কপালে সিজদাহর যে চিহ্ন, তা টাচও করতে পারবে না। জাহান্নামের জন্য ঐ অংশটুকু হারাম। ফেরেশতাগণ সেই চিহ্ন দেখে মুমিনদের চিনে নিবে৷ এরপর জান্নাতে নিয়ে আসবে।
[ সহিহ বুখারীঃ ৭৪৩৭]

سِيمَاهُمْ فِى وُجُوهِهِم مِّنْ أَثَرِ السُّجُودِ
"... তাদের (যারা নবীজি ﷺ এর একনিষ্ঠ সঙ্গী) চিহ্ন হল, তাদের মুখমন্ডলে সেজদা্র প্রভাব পরিস্ফুট হয়ে আছে।"
[ সূরা ফাতাহঃ২৯]

©মুহতারাম মাসুদ আলীমী (হাফি)

Address

Chittagong

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when সবাই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড় posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share