13/04/2026
রোহিঙ্গা মুক্তির আড়ালে মাদক সাম্রাজ্য: আরাকান আর্মি ও আরসার ভয়াবহ মাদক সিন্ডিকেটে সংকটে বাংলাদেশ।
প্রিয় দেশবাসী...
ভয়ংকর ড্রাগ ডিলার 'আরসা' কোনো 'মুক্তিকামী' সংগঠন নয়, বরং তারা শরণার্থী ক্যাম্পসমূহ ও পুরো বাংলাদেশকে মাদকের নরকে পরিণত করার মূল কারিগর।
আজ সময় এসেছে আবেগ সরিয়ে নির্মম বাস্তবতাকে দেখার। যে সন্ত্রাসীদের অনেকে ভুল করে রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধি ভেবেছিলেন, তারা আসলে নিজ জাতির পিঠে ছুরি মারা একদল পথভ্রষ্ট অপরাধী ও আন্তর্জাতিক মাদক সিন্ডিকেটের ভাড়াটে চক্র।
সবাইকে বুঝতে হবে, আরসা কোনো আদর্শিক লড়াই করছে না। তাদের মূল লক্ষ্য এখন মিয়ানমার জান্তা এবং সন্ত্রাসী আরাকান আর্মির (AA) ড্রাগ ডিলার হিসেবে কাজ করা।
সাম্প্রতিক এক ভয়াবহ তথ্য এই আঁতাতকে বিশ্ববাসীর সামনে নগ্ন করে দিয়েছে। মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযানে ১১.৭ বিলিয়ন কিয়াত মূল্যের প্রায় ৭.৮ মিলিয়ন ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে।
আমাদের প্রাপ্ত তথ্য মতে, মাদকের এই বিশাল চালানটি আরাকান আর্মি (AA) নিয়ন্ত্রিত এলাকায় পৌঁছানোর কথা ছিল, যেখান থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত হয়ে এটি সরাসরি আরসার হাতে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, আরসা এবং আরাকান আর্মি বাহ্যিকভাবে শত্রু হওয়ার নাটক করলেও পর্দার আড়ালে তারা গভীর ব্যবসায়িক অংশীদার। বাংলাদেশের ৯৬ শতাংশ মাদকের উৎস এই আরাকান আর্মি, আর আরসা হলো তাদের স্থানীয় ডিস্ট্রিবিউটর।
ন্যাক্কারজনক বিষয় হলো, আরাকান আর্মির সমর্থক মিডিয়া নেটওয়ার্ক ও প্রচারণা সেলগুলো এই বিশাল মাদক জব্দের ঘটনাটিকে ধামাচাপা দিতে এবং ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে মরিয়া হয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
বাস্তবতা হলো, নিজেদের মাদক ব্যবসা চাঙ্গা রাখতে আরসা সাধারণ রোহিঙ্গাদের রক্ত চোষা টাকা তুলে দিচ্ছে আরাকান আর্মির হাতে।
আর এই টাকা দিয়ে কেনা অস্ত্রই আজ আরাকানে রোহিঙ্গাদের নিশ্চিহ্ন করতে ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি কেবল অপরাধ নয়, এটি রোহিঙ্গা জাতির সাথে শতাব্দীর চরম মুনাফেকি।
আরসা এখন রোহিঙ্গা জাতির জন্য এক মরণব্যাধি। তারা একদিকে মাদকের নেশায় তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংস করছে, অন্যদিকে ক্যাম্পের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে সাধারণ রোহিঙ্গাদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে।
আমরা প্রশাসনের কাছে এই অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে আপোষহীন এবং কঠোর অ্যাকশন নেওয়ার জোরালো দাবি জানাচ্ছি। একইসাথে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান আরাকান আর্মি ও আরসার এই গোপন 'মাদক সখ্যতা' চিনে রাখুন।
যারা নিজ স্বার্থে শত্রুর সাথে হাত মিলিয়ে মাদকের বিষ ছড়ায়, তারা কখনোই কোনো জাতির প্রতিনিধি হতে পারে না।
রোহিঙ্গা মুসলিমদের প্রকৃত নিরাপত্তা তখনই সম্ভব, যখন এই ভেতরের মুনাফিক ও মাদক কারবারিদের সমূলে উপড়ে ফেলা হবে।